বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--পথ আগলে দারিয়ে আছিস কেন? কিছু বলবি? (মেয়ে)
----আমি পথ আটকে দারিয়ে আছি? না তুইই দাড়ালি? সড় যেতে দে……… (ছেলে)
----এত তাড়া কিসের? চল না একটু বসে গল্প করি।
----দেখ, আমরা আর ছোট নেই। এখন লোকে দেখলে কথা বলে, অনেক কিছু মনে করে।
----করুক গে, তাতে আমার কি? তুই এখন আমার সাথে বসে গল্প করবি ব্যাস……
----তোর কিছু না! আমার অনেক কিছু।
বলেই ছেলেটা ওকে ফাকি দিয়ে দৌড়ে চলে যায়।
-
কথা হচ্ছিল রাজ আর রিফার ভিতরে। রিফার বাবা গ্রামের চেয়ারম্যান। আর রাজের বাবা রিফাদের বাসায় কাজ করে। বলা চলে পারিবারিক চাকর! গত দু পুরুষ হল এমনই হয়ে আসছে। অবশ্য রাজ এবার অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। চেয়ারম্যনের বাড়িতে ছোট বেলা থেকেই যাতায়াতের সূত্র ধরে রাজ ও রিফা বন্ধুত্ব। দুজন একক্লাস আগে পিছে। একই কলেজে পড়াশোনা করছে। তাই ওদের বন্ধুত্বটা খুব গভীরের এবং কাছের। খুব ভালো একটা সম্পর্ক। কিছুদিন আগে চেয়ারম্যান রাজকে ডেকে নিয়ে সাবধান করে দিয়েছে, সে যেন আর রিফার সাথে না মিশে। তাই নিজের কষ্ট হলেও, রাজ এখন রিফাকে এড়িয়ে চলে। ওকে দেখলেই কেন যেন পথ পাল্টিয়ে চলে। সবসময়ই দূড়ে দূড়ে থাকে।
এটা মোটেও ভাললাগে না রিফার। সে অনেক কষ্ট পাই। নিজে থেকে বারবার রাজের কাছে যায়। কিন্তু কোন কাজ হয়না। সে বুঝতে পারেনা কেন রাজ তার সাথে এমন করছে?
-
একদিন কলেজে রিফা সবার সামনে রাজের হাত ধরে একটা গাছের নিচে নিয়ে যায়। অবশ্য কেউ কিছু মনে করে না! কারণ, সবাই জানে ওরা ছোটবেলা থেকেই ভালো বন্ধু।
----আচ্ছা, তোর কি হয়েছে? আমাকে কেন বারবার এড়িয়ে চলছিস?
----কই কিছু নাতো……
----দেখ, তোর আচরণে কিন্তু আমি খুব কষ্ট পাই। কেন এমন করছিস?
----আমাকে মাফ করে দিস। আমি আর তোর সাথে মিশতে পারব না।
রাজের চোখটা কিছুটা লাল। পানি টলমল করছে। সে দৌড়ে চলে যায়।
-
ধীরে ধীরে ওদের সম্পর্কের দুরুত্ব বেড়ে চলে। রিফা আর আগের মত চঞ্চল নেই। সবসময়ই ঘরে বন্দী থাকে। মাঝেমধ্যে একাই কাদে। সে বুঝতে পারে, ও রাজকে ভালবেসে ফেলেছে। যদিও সেটা অনেক আগে থেকেই! কিন্তু ইদানিং এর অবহেলাই সেটা হারে হারে টের পাই সে।
রাজও রিফাকে ভালবাসে। কিন্তু বলতে পারে না। সে গরীব। তার বাবা ওদের বাড়ির চাকর। কেউ মেনে নিবে না এ সম্পর্ক।
-
এর কিছুদিন পরে রিফার বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের আর মাত্র ২ দিন আছে। রাজকে অনেকবার খোজ দেয়ার পরেও সে তার সাথে দেখা করে না। অবশেষে চিঠিতে সরাসরি লিখে দেই, এবার দেখা না করলে ও নিজেকে শেষ করে দিবে!!
সেদিন রাতে রাজ দেখা করতে আসে। ওদের প্রিয় নদীর ধারের শিমুল গাছটার তলায়………
----এ কয়দিন দেখা করলি না কেন?
----এমনি,
----জানিস আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে!...
----হুম,
----তবুও বসে আছিস?
----কি করব?
----বুঝিস না?
----না, বুঝতে চাই না………
----দেখ, আমি তোকে অনেক ভালবাসি……
----আমি বাসি না।
----তবে এখানে আজ এলি কেন?
----জানিনা,
----মিথ্যা বলবি না, দেখ সত্যিই তোকে ছাড়া আমি বাচব না।
কান্না জোড়ানো কণ্ঠে বলেই রাজকে জড়িয়ে ধরে রিফা।
----দেখ, আমাদের ভালবাসা কেউ মেনে নিবে না।
----চল পালায়……
ঠিক তখনই চেয়ারম্যান চলে আসে। সাথে ২-৩ জন সাঙ্গ-পাঙ্গ। যাদের হাতে লাঠি। রিফাকে জোর করে নিয়ে যায়। রাজকে পিটিয়ে আহত করে ফেলে। আধমরা করে ফেলে রেখে যায় নদীর ধারে।
-
রাজ ২ দিন হাসপাতালে পড়ে থাকে। আর সেখান থেকেই খবর পাই রিফার আত্নহত্যার কথা। যে রাতে বিয়ে হওয়ার কথা? সে রাতেই আত্নহত্যা করে সে। রাজ নির্বাক। আধমরা শরীরে কোন নড়াচড়া নেই। সুধু চোখের দু-কোণ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে……
-
লেখায়: Ovronil Adi (দুঃখ-কষ্ট)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now