বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক দিন সকাল ৭ টায়। বসের ফোন।
-তপু
-জ্বী বস
-কোথায় তুমি?
-এইত বস বাসায়। কোন দরকার?
-হ্যাঁ আজকে একজনকে ফায়ার করতে হবে। আর ইউ রেডী?
কাউকে খুন করবে ভেবেই তপু কেমন যেন চঞ্চল হয়ে উঠল। শেষ খুন করেছে ১৭ দিন আগে। আর তপু রেডী কিনা এই প্রশ্নটা ওকে করা একেবারেই অবান্তর। ও সবসময় তৈরী।
- এনিটাইম বস।
- গুড। অ্যাড্রেসটা লিখে নাও।
বস অ্যাড্রেস বলায় তপু সেটা লিখে নিলো। লিখতে লিখতে তপুর মনে হল এই ঠিকানাটা ওর বহুদিনের চেনা। কিন্তু ঠিক মিলিয়ে নিতে পারলনা। এই মুহুর্তে ওর মাথায় শুধু একটা বুলেটের চিন্তা।
-তপু আর ইউ দেয়ার?
বসের কথায় নিজেকে ফিরে পেলো তপু।
-হ্যাঁ বস বলেন।
- ভদ্রলোকের নাম নাসের চৌধুরী। তোমাকে ওর পুরো ফ্যামিলিকে মার্ডার করতে হবে, আর লোকটা বেশ ধুরন্ধর, সো বি কেয়ারফুল।
নাসের চৌধুরী, নামটা শুনতেই তপুর কানে জ্বালা ধরে গেল। একারণেই ঠিকানাটা ওর এত পরিচিত লেগেছিল। ফোন রেখে তপু ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়ল। এ কোন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হলো ওকে?
এতগুলো লোককে মার্ডার করেছে তপু। কিন্তু আজ তপু কার পুরো ফ্যামিলিকে মার্ডার করতে যাচ্ছে সেটা ভাবতেই মাথা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ওর।
নাসের চৌধুরী, মুমুর বাবা। দেশের নাম করা বিজনেসম্যানদের একজন। টাকা পয়সার পরিমাণ অকল্পনীয়। তাকে খুন করতে হবে পুরো ফ্যামিলিসহ। এটা তপুর কাছে কোন ব্যাপারই না। কিন্তু তাহলে যে মুমুকেও খুন করতে হবে। তপু সেটা কখনোই পারবেনা। তপু একবারের জন্যেও কখনো ভাবেনি যে মুমুর বাবারও অনেক শত্রু থাকতে পারে। তাদেরই কারো কাজ করার জন্য তপুকে বলা হয়েছে। কিন্তু এই মার্ডারটা তো ওর করা সম্ভব না। মুমুকে কিভাবে নিজ হাতে খুন করবে ভাবতে গিয়ে চোখ ভেঙ্গে জল এল ওর। তপুর মত হিংস্র একটা খুনির আজ সব দুঃসাহস ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে।
অনেকক্ষণ ওভাবে বসে থেকে তপু উঠে বাথরুমে গেল। শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে ভিজল অনেকক্ষণ। আর মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিল। মুমুকে সব জানিয়ে দেবে ও। তারপর মুমুর বাবাকে অনুরোধ করবে যেন যত তাড়াতাড়ি পারে দেশ ছেড়ে চলে যেতে। এখানে থাকলেই হয়ত তপু না, অন্য কেউ তাদের শেষ করে দিবে।
তপুর আসল পরিচয় জানার পর মুমু ওর সাথে থাকবে কিনা তপু জানেনা। কিন্তু তবুও মুমু যদি সেফ থাকে তাহলেই ওর শান্তি।
নিজের পরোয়া করেনা ও। জানে ওর জীবনের শেষ পরিণতি কী হবে। এই কাজটা কমপ্লিট না করলে বস নিজেই তপুকে খুন করে হারিয়ে দেবে চিরতরে সেটাও সে মেনে নিতে রাজি, কিন্তু মুমুকে খুন করা ওর পক্ষে সম্ভব না।
সদর দরজায় তালা লাগিয়ে দিল তপু। আর বাসায় ফেরা হবে কিনা জানেনা।বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। কাঁধে একটা ব্যাগ। যেখানে ওর প্রিয় রিভলভারটা রাখা। আজই হয়ত এটার শেষ দিন ওর সাথে। তারপর বস এটা অন্য কারো হাতে তুলে দিবে।
মুমুর বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ালো তপু। মনের সাথে আরো একটু বোঝাপড়া করে কলিং বেলে চাপ দিল। ১ মিনিট হতে না হতেই মেইড এসে দরজা খুলে দিল।
-কাকে চাই?
-আঙ্কেল আর মুমুকে ডাকো।
বলো তপু এসেছে।
বলতে বলতে ভেতরে ঢুকে পড়লো তপু। মেইড চেঁচামেচি করতে লাগলো। ওর গলার আওয়াজ শুনে মুমু ওপর থেকে নেমে এলো। তপুকে দেখে ভীষণ শক খেয়েছে।
-তপু তুমি এখানে?
-তোমার বাবাকে ডাকো। জরুরী কথা আছে। জলদি মুমু। আমার হাতে সময় নেই, অনেক কাজ বাকি আমার।
- আচ্ছা ডাকছি।
মুমু ভাবল হয়ত তপু বিয়ে কথা বলতে এসেছে। প্রায় দৌড়ে গিয়ে বাবাকে ডাকলো।
মিনিট পাঁচেক পর। তপু মুমু আর ওর বাবা সামনাসামনি বসে আছে।
-বলো ইয়ং ম্যান, কি বলতে চাও।
প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর মানুষটা।
-আঙ্কেল আমি আপনার মেয়েকে অনেক বেশি ভালোবাসি। ওকে বিয়েও করতে চাই কিন্তু আমি আজকে এখানে সেসব কথা বলতে আসিনি।
"তো কি বলতে এসেছ?"
বেরসিকের মত বলে উঠলো মুমু।
-আহ, মুমু ওকে বলতে দে। বলো ইয়ং ম্যান।
-আঙ্কেল আমি একজন মার্ডারার। টাকার বিনিময়ে মানুষকে খুন করা আমার এক নিমিষের কাজ। আমার এই পরিচয়টা গোপন রেখে আমি মুমুর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছি। সেটা ভুল ছিলো আমার। মুমু আমাকে মাফ করে দিয়ো।
তপুর এই কথা গুলো শুনে বাবা মেয়ে স্ট্যাচু হয়ে গেল যেন।
-কি বলতে চাইছ তুমি?
- এখনো কিছুই বলিনি আঙ্কেল। এবার বলব। আপনি কি জানেন এই শহরে আপনার কত শত্রু?
-হ্যাঁ জানি। আই ডোনট কেয়ার।
- বাট ইউ হ্যাভ টু কেয়ার। কারণ ওরা আপনাকে মারার চেষ্টা করছে।
আর আপনাকে আপনার পুরো ফ্যামিলিসহ মার্ডার করার জন্য আমাকে বলা হয়েছে। বিশ্বাস না হলে এই দেখুন রিভলভার।
আঙ্কেল আপনাকে মার্ডার করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আপনার যায়গায় যদি অন্য কেউ হত আমি চোখ বন্ধ করে তাকে খুন করে আসতাম। কিন্তু আপনাকে আর মুমুকে হত্যা করা আমার পসিবল না।
তাই আঙ্কেল আমি অনুরোধ করছি আপনাকে প্লিজ আজ বিকালের মধ্যেই আপনি মুমুকে নিয়ে অ্যাব্রোড চলে যান। রাতে আমার খুন করার কথা।
থ মেরে এতক্ষন তপুর কথা শুনল দুজন। একজন কিলার সামনে বসে বলছে আজ রাতে নাকি ওরা মার্ডার হবে। কি ভয়ঙ্কর। রিয়াক্ট করল মুমু। কেঁদে উঠল।
-ইয়ং ম্যান, তুমি যা বলছ তা কি সত্যি?
-আজ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন সেটা যাচাই করার জন্য। আমি না মারলে অন্য কেউ মারবে। মারবেই।
-কি করা যায়?
-যেটা বল লাম সেটা করেন। বিকেলের মধ্যে ফ্লাইট ধরেন। যেভাবে হোক।
আর আমার কথা বিশ্বাস না হলে সেটা দুঃখজনক হবে।
"আর আমার কি হবে?" মুমু বলল।
এই কথার জবাব দিলোনা তপু। উঠে চলে আসল। পেছনে মুমু অনেক ডাকলো। কিন্তু তপুর সেদিকে কান নেই। ফিরতে হবে ওকে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now