বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেলে দেখি নতুন বউ পাশে নাই।একি কালকে বিয়ে করলাম,আর নতুন বউ কে সকালে উঠে দেখি পাশে নাই।বউ কি পালাইলো নাকি?জলদি করে ঘুম থেকে উঠলাম আমি।মা কে ডাক দিলাম মা,মা।মা কই থেকে যেন বলছে অনিক এই আমি।আমার বিয়ে হয় লাবণ্য এর সাথে।বাবা-মায়ের পছন্দতেই বিয়ে হয়।
.
এদিক ওদিক আর খাটের নিচে খুঁজেও যখন বউকে পাওয়া গেলো না তখন বাধ্য হয়েই খাট থেকে নেমে বউকে খুঁজতে লাগলাম।ওয়াস রুম,মায়ের ঘর সব খুঁজেও যখন না পেয়ে রান্না ঘরে গিয়ে দেখি আমার নতুন বউ রান্না ঘরে আর মা পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
.
মা কে ডাক দিতেই মা,আর নতুন বউ দুইজনেই তাকালো।মা বলতে লাগল দেখ অনিক বৌ-মা সকাল সকাল এসেই নিজে রান্না করছে।আমিও তো মনে মনে বলি কই আনার নতুন বউ আমার পাশে থাকবে তা নয় আজকেই সে রাঁধতে চলে এসেছে।
.
অবশেষে নাস্তা তৈরি।সবাইকে টেবিলে যেতে বলে।বাবা যখন নাস্তার টেবিলে লাবণ্যর রান্নার প্রশংসা করছিলো আর আম্মুর রান্নার দুর্নাম করছিলো তখন মা আর বাবার একটু ঝগড়া লেগে যায়।বাবা এই বয়সেও মাকে ক্ষেপীয়ে মজা পায়।যাক অবশেষে নতুন বউ রান্না করতে পারে এইটাই ভালো।কত বউ তো রান্নাই জানেনা শুনে এসেছি।
.
খাওয়া শেষ করে অফিসের জন্য তৈরি হচ্ছি।প্রতিদিনের মত টাই বাধার জন্য মাকে ডাকছি।কিন্তু আজকে এত ডাকার পরেও মা আসছেন না। একটু পর ই লাবণ্য টাই নিয়ে আসলো।আমার হাতে দিয়ে বলল এই নেও।আমি টাই হাতে দাঁড়িয়ে আছি,কি করে বলি বউ আমি টাই বাধতে পারিনা।বউ হয়ত বুঝতে পারে আমি টাই বাধতে পারিনা।বউ কত যত্ন করে টাইটা বেধে দিলো।
.
ইচ্ছা করছিল বউকে একটু জড়িয়ে ধরি,কিন্তু তা আর হলো না মায়ের ডাকে।মা ডাক দিয়ে বলে কিরে বিয়ের পরের দিন ই অফিসে যাবি নাকি।তোর বাবাই যাবেন আমি বলে দিয়েছি।আর হ্যাঁ বউ মা কে নিয়ে ঘুরে আয়।আহারে আমি তো মনে মনে খুশিই। মা আমার মনের কথা বলে দিয়েছে।
.
বউ এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম কই যাবে?সে না করলো পরে রাজি হলো কক্সবাজার যাবে।অবশেষে ওইদিন রাতেই রওয়ানা দিলাম বউকে নিয়ে।নিজের এই সংসার জীবনের রোমান্টিক জীবনের ইতিহাসের সাক্ষী আর কাউকে করব না বলে নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করছিলাম।লাবণ্য আমার ঘাড়ে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে।
.
নিজেই মাঝে মাঝে লাবণ্যের লাবণ্যময় মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবছি বাবা মায়ের পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করে মনে হয়না ঠকেছি।খুব ভালোবাসে আর সারাজীবন আমিও এমন করে ভালোবাসতে চাই।গাড়ির হঠাৎ ব্রেকে ঘুম থেকে জেগে উঠে লাবণ্য। বলে কি হলো,আমি বললাম কিছু না তুমি ঘুমাও আমি গাড়ি চালাচ্ছি।লাবণ্য আবার আমার ঘাড়ে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো।
.
আমি একটু দম নিয়ে আবার গাড়ি চালাতে শুরু করলাম।কিন্তু মনে হচ্ছে একটু আগের হালকা ছায়া দেখে গাড়ি ব্রেক করলাম সেই ছায়াটা আমার পিছু নিয়েছে।আমি মনে সাহস নিয়ে আর মিষ্টি বউয়ের দিকে তাকিয়ে এক-বুক সাহস নিয়ে আবার গাড়ি চালাতে শুরু করলাম আর মনে মনে আল্লাহ্ এর নাম নিচ্ছি।
.
ভয়টা কেটে গেলো যখন দেখলাম বউ ঘুম ভেঙে গেছে।আস্তে আস্তে বউ বলতে শুরু তার জীবনের একটি ঘটনা।একদিন এমন এক রাত্রে তার বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার যাচ্ছিলাম।খুব হই হুল্লোড় করেই কাটাচ্ছিলাম।লাবণ্যের কথা গুলি আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম।লাবণ্য যখন বলতে বলতে বলে আমাদের গাড়িটা এখানেই এক্সিডেন্ট করেছিলো।আমি গাড়ির ব্রেক কষলাম।
.
লাবণ্য বলল কি হলো গাড়ি থামালে যে?আমি বললাম না এক্সিডেন্ট এ কোন ক্ষতি হয়েছিলো?লাবণ্য বলে আচ্ছা আসো একটু নিচে নামী।আমি বলি এত রাত্রে?লাবণ্য বলে কেনো ভয় করছে?আমি বলি না কই ভয় করবে।আমি গাড়িটা সাইড করে দাড়াই।লাবণ্য একটু সামনেই হাঁটছে আমি তার পিছনে।মোবাইলের ফ্লাশে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি লাবণ্যের ড্রেসটা।
.
কিন্তু হঠাৎ করেই ফ্লাশের আলো অফ হয়ে যায়।আমি বলি লাবণ্য ভয় পেওনা দাড়াও দেখি লাইটে কি হলো।মোবাইলের পাওয়ার বাটন চাপ দিয়ে আবার দেখি লাবণ্য সামনে নেই।আমি অবাক হয়ে যাই।ভাবলাম আমার সাথে মজা করছে।জোরে ডাক দেই কিন্তু কোন আওয়াজ নেই।একটু ভয় পেয়ে গেলাম।ফ্লাশ লাইট জালিয়ে খুঁজতে থাকি। একটু সামনে এগুতেই কিছু একটা সাথে পায়ে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাই।
.
মোবাইলটা ছিটকে পড়ে যায় আমি উঠে মোবাইলটা হাতে নিতে গিয়ে পাশে লাবণ্য কে দেখতে পাই।ধাক্কা দিতেই বুঝতে পারি লাবণ্য বেচে নাই।আমি লাবণ্যের হাত পায়ের দিকে ফ্লাশ এর আলো ধরতেই বুঝতে পারি তার শরীর পচে গেছে।কিন্তু এ কি করে সম্ভব।আমার ভয়ে শরীর ঠান্ডা হয়ে আসতে থাকে।দ্রুত মায়ের নাম্বারে ফোন দিতে চেষ্টা করি কিন্তু নেটওয়ার্ক পাচ্ছেনা।
.
গাড়ির কাছে দৌড়ে যাই। গাড়িতে বসে গাড়ি স্টার্ট দিতেই গাড়ির ইঞ্জিন শব্দ করেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।আমি কি করবো বুঝতে পারিনা।আমার সাথে এই গুলি কি হচ্ছে বুঝতে পারছি ভৌতিক কিছু হচ্ছে।যখন গাড়ির হেডলাইটের আলোতে দেখতে পাই বাইরে থেকে লাবণ্যের মত আর অনেক সাদা শাড়ী পড়া মেয়েরা ভেসে ভেসে আসছে তখন ভয়ে আমার সারা শরীর থেকে ঘাম ঝড়ে পড়ছে।
.
গাড়ির দরজা খুলতে গিয়েও পারছি না,আবার গাড়িও স্টার্ট নিচ্ছেনা।যখন ওই সাদা শাড়ী পড়া মেয়ে গুলি আর লাবণ্যের শরীরটা আমার দিকে আসতে শুরু করে চোখ বুঝে ভয়ে মা মা বলে চিৎকার শুরু করি।হঠাৎ করে অনুভব করি কেউ ধাক্কা দিচ্ছে আমায়।চোখ খুলে দেখি মা আমার বিছানায় বসে আছে।বলছে কিরে কি হইছে খারাপ কিছু স্বপ্নে দেখছিস?
.
আমি রুমের এদিক ওদিক তাকিয়ে বুঝতে পারি আমি স্বপ্ন দেখতে ছিলাম।আর বউ পাব কই আমার তো বিয়েই হয়নি।মা গত কয়দিন ধরে বিয়ে বিয়ে করছিলো তাই হয়ত এই দুঃস্বপ্ন। মাকে বলি না মা কিছুনা।মা বলে আচ্ছা দেখত এই মেয়েটাকে পছন্দ হয় কিনা বলেই ছবিটা এগিয়ে দেয়।
.
আমি ছবিটা হাতে নিতেই চমকে উঠি?বলি মা আমি লাবণ্যকে বিয়ে করব না।ও ভুত মা প্লিজ আমি ওকে বিয়ে করব না।মা আমার দিকে ভ্রু-কুঁচকিয়ে বললেন তুই মানে লাবণ্য কে আগেই চিনিস।যাক আমিও চিনি আমার বান্ধবীর মেয়ে।আর একেই বিয়ে করতে হবে।আমি যতই না বলি মা ততই জেদ করে।অবশেষে মায়ের জীদের কাছে হেরে যাই আমি,ঠিক হয় ১সপ্তাহ পর আমার আর লাবণ্যের বিয়ে।জানিনা আমার স্বপ্নটা সত্য কিনা তবে মন থেকে চাই কখনো যেন সত্য না হয়।তবে আজো আমি ভেবে পাইনা আমার স্বপ্নটার রহস্য।হয়ত লাবণ্য এর সাথে বিয়ের পরেই রহস্যটা জানতে পারব।সেইরকম রহস্যের কিছু হলে,সেকথা না হয় আরেকদিন বলবো।
(কল্পনিক)
#স্টাইলিশ_কিং
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now