বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত ১ টা বেজে ৫৩ মিনিট।ঘড়ির কাটার টিক টিক আওয়াজ বেজে
যাচ্ছে।রহিম সাহেব একটি নোংরা ময়লা অপরিচ্ছন্ন স্টোর রুমের
নড়বড়ে কাঠের একটি চেয়ারে বসে আছেন।সমস্ত দেয়াল
ঝুরে মাকরশার জাল রয়েছে।ঠিক দরজার পাশেই ধূলো বালি
জমে পড়ে আছে একটি ক্যালেন্ডার।রহিম সাহেব এর এক
হাতে সিগেরেট অন্য হাতে ধারালো একটা ছুরি।রুমের ঠিক
মেঝেতেই হাত-পা বাধা,মুখটা রুমাল দিয়ে বেধে দেওয়া একটি
ছেলে পড়ে আছে।মেঝেতে যে ছেলেটি পড়ে
আছে তার নাম ফাহিম,
বড় লোকের ছেলে।
মানুষ রূপী একটা জানোয়ার।রহিম সাহেব অগ্নিবর্ন চোখে এক
দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে ফাহিম এর দিকে।
রহিম সাহেব চেয়ার থেকে উঠে এক পা -দুই পা এগিয়ে দরজার
পাশ থেকে ধূলো বালি জমে পরে থাকা ক্যালেন্ডার টা উঠালেন
আর তারিখ গুলো দেখতে থাকলেন আর ভাবতে থাকলেন
পিছনে ফেলে আসা দিন গুলোর কথা।
রহিম সাহেব একজন চাকরিজীবী।বিয়ে ও এখনো করা হয়নি।তার
আপন বলতে এই দুনিয়াতে ছোট বোন নিদি ছাড়া আর কেউ
ছিলো না।নিদি ক্লাস টেনে পড়ে।
বছর ৪ এর এক,আগে তার বাবা-মা দুই জন এই একটি সড়ক দূর্ঘটনায়
মারা যায়।
বড় ভাই আর ছোট বোন মিলে বেশ ভালোই যাচ্ছিল দিন।রহিম
সাহেব তার বোন কে খুব ভালোবাস তো সব চাওয়া পাওয়া,মা-বাবার
শূন্যতা বুঝতেই দিতো না,সব ব্যস্তার মাঝে ও অনেক সময়
দিতো।
রহিম সাহেব অফিস থেকে প্রতিদিন বিকাল ৫ টায় বাসায় আসেন
মাঝে মাঝে এর আগেও আসেন।
কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছেন নিদি সব সময় মন খারাপ করে থাকে
দেখতে ভালো দেখায় না মা-বাবা তো আর নেই,না ফেরার
দেশে চলে গেলো,এই আদরের বোন টাকে সব দিক
থেকে আমাকেই দেখতে হবে।
→নিদি কি হয়েছে কদিন ধরে দেখি মন খারাপ রহস্য কি?
→না ভাইয়া,কিছু না।জানো ভাইয়া আজ তুৃমার জন্য ফায়েস
বানিয়েছি,নিজ হাতে।
→তাই নাকি,তাহলে দেরি কেনো করছিস যা জলদি পায়েস নিয়ে
আয়।
→এই নাও পায়েস খাও।
→বেশ মজা হয়েছো তো।
→হুম বুঝলাম,
ভাইয়া সারা দিন বাসায় একা থাকতে হয়,আমার একটা লক্ষী ভাবি চায় খুব
তারাতারি,এনে দাও না,আমি তুমার বউ কে ভাবি বলবো না বউ মনি
বলবো।
→ বউ মনি দিয়ে কি করবি,যেমন আছি এমন এই ভালো।
→আমি বলছি তাই আনবে বেশ,রাগি সুরে।
→ আছা আছা আনবো,রাগ করিস না তো।
এখন বল পড়াশুনার খবর কি?রফিক স্যারের কচিং যাস ঠিক মত।
→ভাইয়া কিছু দিন ধরে যায় না।
→কেনো,কি সমস্যা?
→মাথা নিচু করে!ওই যে ইংলিশ গলিটা দিয়ে কচিং যাওয়ার সময় এই
এলাকার ফাহিম নামের বখাটে ছেলেটা টিচ করে,আমাকে
প্রেমের অফার ও দিয়েছে আর বলেছে রাজি না হলে ক্ষতি
করে দিবে,তাই ভয়ে যায় না।
→আমি দেখছি বিষয়টা,লক্ষী বোন আমার।ঠিক মত পড়াশুনা
কর,আর কাল থেকে কচিং যাস কেমন।
→ঠিক আছে ভাইয়া।
রহিম সাহেব মনে মনে ভাবছে,বিষয়টা তো দেখি খুব খারাপ,কিছু
একটা করতে হবে।
হঠাৎ হাত থেকে ছুরিটা পড়ে যাওয়াতে তার ভাবনার জগৎ থেকে
বেরিয়ে আসতে হলো।
চোখ থেকে এক ফোটা অশ্রু টুপ করে ক্যালেন্ডার এর
উপর পড়লো।
ছুরিটা নিচ থেকে উঠিয়ে আবার চোখ দিলো ক্যালেন্ডারে
আবার আগের সুখের দিন গুলোর মাঝে ডুব দিলো।
দিনটা ছিলো রবিবার।
রহিম সাহেব অফিস থেকে বাসায় এসে দেখে নিদি গুটিশুটি
মেরে শুয়ে আছে বিছানায়
→এই নিদি কি হলো তোর,নিদি
,শুনতে পাছিস না।
অবাক করা বিষয়,রহিম সাহেব কাছে গিয়ে কপালে হাত দিয়ে দেখা
গা পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।
→ভাইয়া কখন আসলে তুমি,করুন সুরে।
→ মাএ আসলাম,এতো জর আসলো গায়ে একটা ফোন দিতে
পারলি না।
→তেমন কিছুই তো হয়নি।
→চুপ একদম,রহিম সাহেব একটা কাপড় ভিজিয়ে কপালে জল পঠি
দিতে থাকলেন।
রাতে নিজে হাতে নিদি কে খাইয়ে দিলেন,সারা রাত জেগে নিদির
পাশে বসে ছিলেন।
সকালে নিদি উঠে দেখে তারপাশে ভাইয়া ঘুমিয়ে আছে পাশে
পানির মগ,নিদির চোখে জল চলে আসলো আমার ভাইয়া এতো
ভালোবাসে আমায়।
নিদি অনমনা হয়ে ভাবতে থাকায় হঠাৎ করে কিভাবে জানি মগ টা বিছানা
থেকে পড়ে যাওয়ার শব্দে রহিম সাহেব ও জেগে উঠেন।
→নিদি এখন উঠলি তুই শুয়ে থাক আমি তোর জন্য নাস্তা করে
নিয়ে আসি।
→ভাইয়া শুনো বলেই নিদি কেঁদে উঠল নিদি।
→ আরে কি হলো,ভাইয়া তুমাকে খুব ভালোবাসি।মা-বাবার শূন্যতা
কখনো বুঝতেই পারিনি।
→আরে বোকা মেয়ে আমি জানি তো আমার লক্ষী বোনটা
আমাকে খুব ভালোবাসে।
এমনি করে সুখ-দুঃখে দিন যাছিলো,দুই ভাই-বোন এর পবিত্র
ভালোবাসায়।
ক্যালেন্ডার থেকে চোখ ফিরিয়ে ফাহিম এর দিকে হেঠে
গেলেন,
রহিম সাহেব এর চোখ দুটো যেনো আগুনের মতো লাল
হয়ে উঠলো।
ক্যালেন্ডারে দেখলেন আজ ১১ তারিখ,ঠিক গত দুই মাস আগে
১১ তারিখে তার বোন নিদি কে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।এই ফাহিম
জানুয়ারটার দেওয়া ভালোবাসা নিবেদন গ্রহন করেনি বলে নিদি কে
ধর্ষন করে খুন করে।
১১ তারিখ কচিং যাওয়ার সময় একা পেয়ে নিদি কে উঠিয়ে নিয়ে যায়
ফাহিম,রেফ করে নির্মম ভাবে হত্যা করে।
রহিম সাহেব,নিদির জানাজা পড়ে,দাফন শেষ করে প্রতিজ্ঞা করেন
আমার বোন যতটা না যন্ত্রণা পেয়ে মৃত্যু হয়েছে তার থেকে
হাজার গুন যন্ত্রণা দিয়ে মারবো নিজ হাতে খুন করবো।
যতদিন না ফাহিম কে শাস্তি দিচ্ছে,রহিম সাহেব এর কোনো শান্তি
নেই।
রহিম সাহেব এর চোখে নিদির নিস্পাপ মুখটা ভেসে উঠছে।
রহিম সাহেব চেয়ারে বসে ফাহিম এর মুখের বাধন টা খুলে
দিতেই,
করুন সুরে পানি পানি একটু পানি,
রহিম সাহেব মাছের ময়লা পানি ফ্লোরে ঢেলে খেতে
দিলেন।
হাত-পা বাধা থাকায় উপুর হয়ে
কুকুরের মত চেটে চেটে পানি খেতে লাগলো ফাহিম।
আমার বোনটা কি ক্ষতি করেছিলো তোর,কেনো মারলি,কি
আপরাধ ছিলো বল।কেনো মারলি কেনো?তদের মত দেহ
লোভী মানুষের জন্য মেয়ে/মহিলারা রাস্তায় নিরাপদে হাটতে
পারে না,ভয়ে থাকতে হয় সব সময়,
তর বাসায় কি মা-বোন নেই।
এমন একটি ঘৃনিত কাজ করার সময় তাদের কথা একটি বার ও মনে
পড়েনি,বিবেকে বাধেনি।
আমার বোনটার সাথে কেনো এমন করলি
রহিম সাহেব এর হাতে থাকা ছুরিটা এমনি করে ফাহিম এর গালে
বসিয়ে দিলেন।
রক্ত গাল বেয়ে ফ্লোরে পড়তে থাকলো টপটপ করে
অসর্হ ব্যাথায় চিৎকার করতে থাকলো।
ভাইয়া আমাকে ছেড়ে দিন মাফ করে দিন,মাফ করে দিন,আকুতি
মিনতি করতে করতে বলছে ফাহিম।
তরে মাফ করবো অট্টট্ট হাসিতে মেতে উঠেছে রহিম
সাহেব,
হাতে ছুরিটা দিয়ে হাটুর মাঝ দিয়ে ডুকিয়ে দিলো কান ফাটা চিৎকারে
আর্তনাদে মৃত্যুর একটু একটু অসর্হ যন্ত্রণায় ছটফট করছিলো।
রহিম সাহেব এর চোখে-মুখে উজ্জ্বল হাসি।
ছুরিটা এবার ডান চোখে ডুকিয়ে দিলো,চোখের ভেতর তরল
পদার্থ আর লাল রক্তে একাকার হয়ে গেছে।
কোনো আমার বোনটা কে মারলি বল তো,আমার দুনিয়াতে
বোন টা ছাড়া আর কেউ ছিলো না আর তুই আমার থেকে আমার
আদরের বোন কে কেড়ে নিলি,তদের মতো মানুষের জন্য
প্রতিনিয়ত ধর্ষন হছে,হাজারো পরিবার প্রিয় মানুষ গুলো কে
হারাছে,
ধারালো ছুরিটা দিয়ে বাম হাতের রাগটা কেটে দিলো পিনকি দিয়ে
রক্ত বের হয়ে সারা ফ্লোর রক্তে ভেসে যাছে।
বুকের মাঝ দিয়ে ছুরিটা ডুকিয়ে বুকটা ছিড়ে দিলো।একটা একটা
করে হাতের আঙুল গুলো কেটে দিয়েছে,
গলা থেকে মাথা কেটে আলাদা করে ফেলেছে।
রহিম সাহেব এর সাদা শার্ট লাল রক্তে ভিজে গেছে তার মুখে
রূপালী হাসি,কতদিন প্রান খুলে হাসা হয় না,এখন তিনি প্রান খুলে
হাসছেন
বোনের হত্যার প্রতিশোধ নিতে পেরেছে এর থেকে
শান্তি আর কি আছে।
সমস্ত রুম জুরে থমথমে বিরাজ করছে,বাইরে ঝিঝি পোকার
আওয়াজ আর রুমের ভিতর রহিম সাহেব এর সুখের হাসি।
রহিম সাহেব রুমের এক কোণে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে
পকেট থেকে একটা সিগেরেট বের করে সিগেরেট
ফুকতে থাকলেন আর মনের আনন্দে বলছেন,
নিদি দেখ আমি পেরেছি,দেখ না নিদি ফাহিম এর শরীল টা ছুরি
দিয়ে কেটে কি করেছি,তুই খুশি তো,একটু একটু করে খুচিয়ে
খুচিয়ে মেরেছি।
মৃত্যুর প্রতিটা মিনিট-সেকেন্ড হারে হারে টের পেয়েছে।
রহিম সাহেব অনেকটা কান্ত হয়ে গেছে,ফাহিম এর সারা শরীল
এর অঙ্গ-প্রতঙ্গ রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে মেঝেতে পড়ে
আছে।
রহিম সাহেব বসে থাকা থেকে উঠে দাড়ালেন হাতে থাকা জলন্ত
সিগেরেট টা ফাহিম এর কাটা ছেড়া মুখটায় ছুড়ে মারলেন
রহিম সাহেব রক্ত ভিজা শার্ট খুলে তার ব্যাগ থেকে অন্য
আরেকটা শার্ট পড়লেন।
রুমের দরজা টা খুলে বের হওয়ার সময় পিছে ফিরে থাকালেন
আর একটা অট্টট্ট হাসি দিয়ে বলেন,তদের মত মানুষ রুপি
জানোয়ারের শাস্তি এটা।
রহিম সাহেব একা হাটছেন রাস্তায় সোডিয়াম আলোর নিচ দিয়ে।
হেটে যাওয়ার সঙ দিছে রাতের নিরব হয়ে যাওয়া শহর,নিয়নের
আলো,মাথা উচু সব দালান,আকাশে ঝুলন্ত একটি চাদ।
রহিম সাহেব রাস্তার বসে পড়লেন তার শরীলটা আর যেনো
চলছে না।
আকাশের দিকে তাকিয়ে কি জানি খুজছে হয় তো তার বোন নিদি
কে রাতের আকাশের অনাদিত তারকার ভিড়ে খুজছেন।
আজ অনেক খুশি,পাশে থাকা ব্যাগ থেকে নিদির একটি ছবি বের
করে বুকের সাথে লাগিয়ে চোখের অশ্রুর কনার ঝড়ে
উঠেছে।
রাইটার,তুহিন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now