বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাত তিনটা দশ

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ফোনের রিংটোনের সাথে স্কিনে মেয়েটার নাম দেখে এক ঝাটকায় ঘুম তাড়িয়ে উঠে বসে পড়লাম। মেয়েটা কাঁদছে। কান্নার কারন জানতে চাওয়ার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে মেয়েটা কেঁদেই চলছে। যতবার থামাবার চেষ্টা করছি ততবারই কান্নার শব্দটা ভারি হচ্ছে। আমি মেয়েটার পাগলামী সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানি, তাই থামাবার ব্যর্থ চেষ্টাটুকুও আর করলাম না। যদিও মেয়েটার কান্নার শব্দ আমাকে স্বজন হারানো শোকের বুলেটের মত বুকটাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করছে তবুও মেয়েটাকে কাঁদতে দিচ্ছি। জানি এমনিতেই কিছুক্ষণ পর কান্না থেমে যাবে, তবে কান্নার মাঝে কথা বললে কান্নাটা বাড়বেই। মেয়েটা সম্ভবত কোন দুঃস্বপ্ন দেখে ভীষণ ভয় পেয়েছে। আমি পাশে থাকলে এতক্ষণে ওর চুলে বিলি কেটে ঘুম পাড়িয়ে দিতাম। কিন্তু দুরত্ব এমন একটা নাগপাশ যা সম্পর্কের সাথে সাথে ইচ্ছেগুলোকেও পিষে মারে। ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে বুকের প্রকষ্ঠে টেনে নিয়ে পরম মমতায় চোখটাকে মুছিয়ে দিয়ে বলি- ধুর পাগলী! এভাবে কেউ কাঁদে? আমি আছি না! কিন্তু মানুষের চাওয়া-পাওয়ার সীমাবদ্ধতা কখনো-সখনো মৃত্যুর থেকেও নির্মম হয়। একজোড়া আদুরে হাতও একটা কষ্টের সমুদ্র সেঁচে ফেলতে পারে। আর প্রয়োজনের সময় সেই হাতই যদি পাশে থেকেও বিকলাঙ্গ থাকে তবে এর থেকে দুঃখের আর কিছুই হতে পারে না! যে মেয়েটার ফুচকার ঝাল খেতে খেতে চোখ ছলছল করে উঠলেও আমার বুকটা কেঁপে উঠতে সেই মেয়েটা আজ প্রায় এক বছর পর আমাকে ফোন দিয়ে অনবরত কেঁদে যাচ্ছে, অথচ আমি থামাতে পারছি না! আমার কাছে এর থেকে বড় কষ্টের দিন আর এসেছিলো কিনা স্মরণ করতে পারছি না। মেয়েটা যেদিন আমার জীবন থেকে চলে গিয়েছিলো সেদিনও এতটা কষ্ট পেয়েছিলাম কিনা মনে করতে পারছি না। সম্ভবত পাইনি। মেয়েটা শব্দ করে কাঁদছে, অথচ আমার চোখ থেকে অশ্রুধারা বয়ে চললেও শব্দ করতে পারছি না, পাছে মেয়েটা বুঝতে পারে যে আমি কাঁদছি! নিঃশব্দের কান্নায় যন্ত্রনা বেশী। তাই যন্ত্রনা আমাকে খানিকটা বেশী পোড়াচ্ছে! . কান্নার শব্দ ক্রমশ কমে আসছে। আমিও চোখ মুছে খানিকটা স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করলাম। -- কেমন আছো? কান্নাজড়িত সেই কন্ঠস্বর মুহুর্তেই আমাকে কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ করে ফেললো। মূহুর্তেই ফিরে গেলাম চার বছর আগের স্মৃতিতে। মেয়েটার সাথে প্রথম পরিচয়ে ঠিক এই প্রশ্নটাই করেছিলো। কলেজের নবীনবরনে চেনা-জানাহীন জুনিয়রের থেকে হঠাৎ "তুমি" সম্মোধনটা সেদিনও আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলো। কিন্তু ঘুরে তাকাতেই মেয়েটাকে দেখে থ খেয়ে গিয়েছিলাম। এমনকি মেয়েটাও! কারন মেয়েটা তার একটা বন্ধুকে ভেবে আমাকে প্রশ্নটা ছুড়েছিলো। এর পর ঠিক কখন আমরা কাছাকাছি চলে এসে প্রণয়ের সূতোয় আটকা পড়েছিলাম তা আমার থেকে সম্ভবত কলেজের মাঠ, আমতলা, কৃষ্ণচুড়ার চলা আর কলেজের সামনের কাকার ফুচকার দোকানই ভালো বলতে পারবে। -- জানো আমি না একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি একটা, তেলাপোকা আমার গায়ে হেঁটে উঠেছে। কি যে ভয় পেয়েছিলাম! তোমার ঘুমের ডিষ্টার্ব করলাম কিছু মনে করো নি তো? মেয়েটার কথা শুনে অন্যকেউ হলে নিশ্চিত হেসে ফলেতো, কিন্তু জানি মেয়েটা মিথ্যে বলছে। কারন স্পষ্ট মনে আছে, এই মেয়েটা তেলাপোকাকে ভয় পায় না। ------******------ লেখাঃ প্রসেনজিৎ রায়


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তখন রাত তিনটা
→ ভয়ংকর কিছু প্রশ্ন - রাত তিনটায় Siri-র সাথে কথা
→ রাত তিনটা দশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now