বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হঠাৎ কান্নার আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল মৌ এর। চোখ কচলাতে কচলাতে পাশের ঘরে গিয়ে দেখে মা বিছানায় শুয়ে আছে আর নানু, বড় খালা, এলিন আপু আর ছোট মামা পাশে বসে চিৎকার করে করে কাঁদছে। কি হয়েছে সে ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। বরং খানিকটা অবাক হলো বটে। কারণ ঘুমাতে যাওয়া আগে বাসায় এতো মানুষ তো ছিল না! শুধু মা আর নানু ছিল। তার চেয়েও অবাক করা বিষয় হলো মা’র পাশে বসে সবাই এতো জোরে কাঁদছে যে ও পাশের ঘর থেকে উঠে এসেছে। অথচ, মা দিব্যি ঘুমোচ্ছে!?!
——
প্রায় বাইশ বছর হতে চলেছে মা চলে গেছেন। মৌ বাবার চেহারা ঠিক মনে করতে পারে না। বাবা যখন ওকে আর ওর মাকে রেখে নেদারল্যান্ড চলে যায় তখন ওর বয়স সবে সাড়ে চার বছর। আর এখন তো ওর দু’বছরের একটা মেয়ে আছে। স্বভাবতই, মনে থাকার কথাও নয়। তার উপর মা মারা যাবার পর নানু বাবার কথা তেমন বলতও না কখনও!
তাই সামনের লোকটাকে তার একদমই পরিচিত ঠেকছে না। এবং খুব অস্বস্তিও লাগছে। সেই কখন থেকে লোকটা ওর সামনে বসে অপলক তাকিয়ে আছে, কিন্তু কিছুই বলছে না। মৌ একবার ভাবলো নীরবতা ভেঙ্গে বলেই ফেলবে নাকি, “দেখুন, আমার অস্বস্তি লাগছে। ওভাবে তাকাবেন না আমার দিকে।”
তবে ও কিছু বলার আগে, সামনের মানুষটাই বলে উঠলো, “তুমি অনেক বড় হয়ে গেছো মামণি।” কথাটা কেমন যেন একটু কাঁপা কাঁপা শোনাচ্ছে। মৌ চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাচ্ছে না আর। তাই মুখ নিচু করেই রইল।
লোকটা আরও কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নিজে থেকেই বলে উঠল, “আসার পর থেকে তোমার মুখে একটা কথাও শুনিনি। আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না বুঝি? আমি জানি, আমি তোমাদের অপরাধী। তোমার মায়ের খবরটা শুনেছিলাম কিন্তু তোমার মাকে শেষবারের মত দেখতে আসতে পারিনি। আসলে কোন সাহসে আসতাম বল? তুমিও নিশ্চয় তোমার মায়ের আত্মহত্যার জন্য আমাকেই দোষ দাও!?!”
“এসব কথা তোলা থাক। আপনার শরীর দেখে তো মনে হচ্ছে না একা চলা ফেরা করতে পারেন। আপনি কি একা এসেছেন নাকি কেউ দিয়ে গেছে?” অবশেষে মৌ মুখ খুলল।
‘না, তোমার ছোট ভাই নামিয়ে দিয়ে টিকিট করতে গেছে। এক ঘন্টা পর আবার নিতে আসবে। এরপর আমায় উত্তরায় তোমার দাদা বাসায় নামিয়ে দিয়ে আজ রাতের ফ্লাইটেই ও নেদারল্যান্ড যাবে। ওখানে তোমার মা আবার একা আছে তো!’
মৌ এর মেজাজ প্রচন্ড বিগড়ে গেল। প্রথমত, এই ভদ্রলোক তার স্ত্রীর জায়গায় অন্য এক নারীকে খুব সহজেই আসন দিয়ে দিয়েছে। তার উপর এখন জোড় খাটিয়ে, সেই নারীকে তার ‘মা’ এর স্থানে বসাচ্ছে। এখন আর মৌ রাগ আটকাতে পারল না।
প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়েই বলল, “দেখুন, আমার কোন ছোটভাই-টাই নেই। এবং সে মহিলা আপনার স্ত্রী হতে পারে কিন্তু আমার মা নন! আমার মায়ের স্থান তাকে দেয়ার অধিকার আপনাকে কে দিল? আজকে, এতোদিন পরে কি নিতে এসেছেন তাই বলুন?!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now