বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাস্তায় ভবঘুরে হয়ে হাঁটলেই কেউ হিমু হয়ে যায় না কিংবা মদের বোতলে বুদ হয়ে থাকলেও কেউ দেবদাস হতে পারে না। সবকিছু মনের স্বাধীনতার ওপর বিরাজ করে। আর এই স্বাধীনতার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে আগ্রহ। যে জিনিসে তোমার আগ্রহ নেই তারওপর মেধা অপচয় করা মানে অনধিকার চর্চাকে প্রশ্রয় দেয়া। অনধিকার চর্চা করে জীবনের মানে কে হারিয়ে ফেলার কী দরকার? স্বকীয়তা বজায় রেখে চলো, সর্বোপরি নিজেকে খোঁজো। তাহলেই বুঝবে তুমি কী চাও। অযাচিত চাওয়াকে প্রাধান্য দিলে তুমি সেটা হতে পারবে না বরং সেরকমটি সাজতে পারবে। পাগলের মত হন্যে হয়ে তখন নখদর্পনে তুমি নিজের ছায়া খুঁজতে থাকবে, পাবে না খুঁজে। কারণ ততক্ষণে স্বকীয়তা হারিয়ে তুমি নানাবিধ চরিত্রের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছ। হয়ে গেছ ছিনাথ বহুরূপী।
**
মানুষের জীবনে দুঃখ নিত্যসঙ্গী, কিন্তু সেটা পুঁজি করে রাখার বস্তু নয়। দুঃখ হল সেই পরশপাথর যা থেকে আমরা শিক্ষা পাই। মানুষের ভেতরেই যে মানুষ থাকে তাকে জাগানোর জন্য দুঃখ অপরিহার্য। এ নিয়ে ডিপ্রেশনে ভূগে জীবনটাকে নিমের রসের মত তেতো করে ফেলার মানে হয় না। পালতোলা নৌকা যেমনি যেদিক থেকে বাতাস পায় সেদিকে ছুটে যায় ডিপ্রেশনও তেমনি অধঃপতনের দিকে নিয়ে যায়। স্ট্যাটিস্টিক্য
ালি প্রমাণিত যে অধিক লোক ডিপ্রেশনে ভূগেই সুইসাইড করে। তাই ডিপ্রেশনকে মনের যত রঙ আছে সেসব রঙে রাঙিয়ে তোলার দায়িত্ব তোমারই। নিজের ভেতরে আকাঙ্ক্ষা গড়ে তোলো। তবে অধিক আকাঙ্ক্ষার ফল সুপ্রসন্ন হয় না বরং চরিত্র নষ্ট করে।
***
মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিকতা মানুষের জন্য অপরিহার্য। কেন অপরিহার্য সেটা একটা গল্প বলে বোঝাচ্ছি। একদিন স্যার আইজ্যাক নিউটন একটা গোয়ালঘর তৈরী করলেন, যার দুটি দরজা। একটা ছোট, আরেকটি বড়। তার মিস্ত্রি যখন এর কারণ জানতে চাইলো তখন তিনি জানালেন, ছোটটা দিয়ে ছাগল এবং বড়টা দিয়ে গরু ঢুকবে। অবাক মিস্ত্রি বলল, বড়টা দিয়েই তো দুটাই ঢুকতে পারবে। স্যার আইজ্যাক নিউটন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, ইউ আর রাইট। এরপর তিনি ভাবলেন, আমি যত বড়ই বিজ্ঞানী হই না কেন বাস্তব জ্ঞান আমার নেই। তাই তিনি প্রায়ই মিস্ত্রির শরণাপন্ন হতেন কিছু শেখার আশায়। সুতরাং কাউকে তুচ্ছ ভেবে এড়িয়ে যাবে না। এ সমাজে সবারই প্রয়োজন আছে। আর একাকীত্ব মানুষকে সামাজিকতা থেকে দূরে রাখে। কিন্তু সবকিছুরই যেমন নেগেটিভ এফেক্ট আছে তেমনি পজিটিভ এফেক্টও আছে। এক গবেষণায় পাওয়া গেছে একাকী মানুষ সৃজনশীল হয়। কেউ তোমার সাথে মিশতে চায় না বা তুমি কারও সাথে মিশতে পারছ না---এ নিয়ে হা হুতাশ না করে নিজের সৃজনশীল সত্তাকে হাতে-কলমে জাগিয়ে তোলো। তবেই তুমি জীবনকে উপলব্ধির খাতায় তুলে আনতে পারবে। স্বয়ং আইনস্টাইন নিঃসঙ্গ থাকতে পছন্দ করতেন। এমনকি তিনি কারও সাথে খেলাধুলাও করতেন না। রুবিক কিউব, জিগস পাজল এসব মেন্টাল গেম তার পছন্দ ছিল। কারণ এতে মেধার চর্চা হয়। তিনি ছিলেন নিরামিষভোজী এবং অলস। দশ ঘন্টা ঘুমাতেন। এদিক থেকে বোঝা যায় যে, অলসরাও কাজ পারে। তারা বরং গাধার খাটুনিকে হেয় করে কঠিন কাজকে সহজে কনভার্ট করতে পারে। আমি অলসদের স্তুতি গাইছি না, তাদের একটা পজিটিভ দিক দেখালাম জাস্ট। সুতরাং হতাশ হবার কিছু নেই, তুমি যে অবস্থাতেই থাকো না কেন আগ্রহ এবং চেষ্টার পরম্পরায় নিজের লক্ষ্যে ঠিকই পৌছতে পারবে।
.
লেখাঃ ক্ষুদ্র লেখক
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now