বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাসমণির কাহিনী—১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " রাসমণির কাহিনী " বাণী রায় ------------------- (পর্ব ১) আঠারাে নং শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটে যখন ছিলাম একবার যে সাংঘাতিক বিপদে পড়েছিলাম, সে কথাই তোমাদের শোনাব। আমরা পূর্ববঙ্গের ছোটোখাটো জমিদার। দেশে পালাপার্বণ সবই হয় ৷ তবে, আমাদের ভাই বোনদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্যে বাবা মা কলকাতায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বারােমাস থাকেন। আমরা স্কুলের গণ্ডি পার হলে যে যার মতো হষ্টেলে থাকব, ও'রা দেশে চলে যাবেন। কিংবা আমরা সবাই বাড়ি করে একসঙ্গে থাকব ঝি চাকর নিয়ে ৷ ওঁদের আর আগলাতে হবে না। পাড়াগাঁয়ে বাড়ি যাদের, তারা তো একঘেয়ে শহরে পড়ে থাকতে পারে না। দেশের বিষয়সম্পত্তির তদারকে ছিলেন আমার কাকা-কাকিমা। ও'দের বড়ো বড়ো ছেলেপিলে, যারা গ্রামের স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে, তারাও কলকাতায় থাকত। সব ভাই বোনদের মধ্যে বড়ো ছিলাম আমি। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা দিয়েছি। বড়দি আমি সবাইকার। দু জায়গায় সংসার হওয়ায় মাঝে মাঝে বাবা মাকে বিব্রত হয়ে পড়তে হত। সেবার গরমের ছুটির মাসখানেক আগে একটা গোলমাল বেঁধে গেল। দেশ থেকে আমার বাবার নামে তার এল যে কাকা হঠাৎ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে ৷ গাঁয়ের ডাক্তারেরা হালে পানি পাচ্ছেন না৷ বাবা যেন এক্ষুনি ডাক্তার সঙ্গে নিয়ে চলে আসেন। কাকাকে কলকাতায় নিয়ে আসতে হবে কি না সেটাও বাবার দেখা দরকার। বাবার একটি মাত্র ছোট ভাই খুব আদরের। অজপাড়া গাঁয়ে চিকিৎসাপত্রের ভালো ব্যবস্থা নেই। বাবা সকালে তার পরেই বিকালের গাড়িতে দেশে যাওয়া ঠিক করে ফেললেন ৷ মা বললেন, “আমিও যাই তোমার সঙ্গে ৷ অত বড়ো রুগী পড়ে ৷ ছোটো বউ একা কি রোগীর সেবা, ঘরকন্না, ছোটো ছেলেপিলে নিয়ে চালাতে পারে!” বাবা বাধা দিলেন, “না, সে কী করে হবে? এরা সবাই একা একা কী করে থাকবে কলকাতায়? স্কুল-কলেজ বন্ধের দেরি আছে। রুবির কলেজ খোলা। এদের খাওয়াদাওয়া দেখবে কে ? সংসার চালাবে কে ?" মা ব্যাকূল হয়ে বললেন, “ সে ব্যবস্থা আমি করে দিচ্ছি। একটি ভালো দেখে পোক্ত ঝি রেখে যাচ্ছি। ঘর সংসার সেই দেখবে। পুরোনো দরোয়ান কানাই সিং রইল। ঠাকুর চাকর আছে কোনো অসুবিধা হবে না। কদিন পরেই তাে ওদের স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে।” বাবা ইতস্তত করতে লাগলেন, ‘‘ দেখো, বিদেশ বিভূঁই, রুবির বয়স কম। ওর দায়িত্বে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া কি ভালো হবে? আর এক্ষুনি ভালো বিশ্বাসী ঝি তুমি পাবে কোথায় ? কলকাতা ভীষণ জায়গা। এখানের ঝিরাও ভালো হয় না, জান তো ?” মা বললেন, “তুমি আজ চলে যাও, আমি কালকের মধ্যে সমস্ত গুছিয়ে, ঝি রেখে সরকারমশাইকে নিয়ে রওনা হব।” বাবা বললেন, “সরকারমশাইকেও নিয়ে যাবে? তাহলে এরা থাকবে কী করে? ও'র যথেষ্ট বূদ্ধিসুদ্ধি আছে। ও'র হাতে এদের রাখা চলত ৷ নাহ্, তোমার যাওয়া হয় না ৷” মা কেঁদে বলতে লাগলেন, ‘ ‘তুমি অমত কােরাে না। ছোটো তো শুধু তোমার ভাই নয়, আমিও তো ওকে হাতে করে মানুষ করেছি। ওর অসুখ শুনলে আমার কেমন লাগে ? সরকারমশাই আমাকে পৌছেই ফিরে আসবেন। তুমি আর অমত কোরো না।” বাবা বাধ্য হয়ে চুপ করলেন ৷ বাবা চলে গেলেন বিকালবেলার গাড়িতে। সন্ধ্যার মুখে চাকর রামনিধিয়া একটি ঝি নিয়ে এল। আধাবয়সি, রং ময়লা, মুখ ঢাকা ঘোমটায়। জড়সড় ভাবে দাঁড়িয়ে রইল দালানের থামের আড়ালে। আমি নীচে নামছিলাম তখন। হঠাৎ ঝিয়ের দিকে নজর পড়ামাত্র আবছা আলোয় ওর আবছা মূর্তি দেখে কেমন এক অজানা অস্বস্তিতে মনটা ভরে উঠল। কেন জানি না। ভাবলাম, কাকার অসুখ, মা বাবা চলে যাচ্ছেন, তাই মনটা খারাপ হয়েছে। আমাকে দেখামাত্র ঝিটা যেন কেমন করে গা দুলিয়ে সরে এল পায়ে পায়ে আমার দিকে ৷ ওর বচনচ্ছটা ও রামনিধিয়ার ওকালতিতে তখন আমার ভালোমানুষ মা ওকে কাজে বহাল করে ফেলেছেন। মা আমাকে দেখিয়ে বললেন, “এই যে বড়ো দিদিমণি রুবি, বাড়ির গিন্নি এখন। রাসমণি, তুমি দিদিমনির কথা শুনে চলবে ৷ সর্বদা দিদিমণির দিকে চোখ রাখবে ৷” ঝিটা আবার অদ্ভুত ধরনের গা দুলিয়ে মাথা হেলাল। আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, “অমন মুখ ঢেকে আছ কেন ? মুখ খোলাে না!" মাও বললেন, "হ্যা বাছা। মাথার কাপড় তােলো না।” ইনিয়েবিনিয়ে ঝিটা “বলল, “বড়ো লজ্জা লাগে, মা।” কিন্তু মুখ সে খুলল। সাধারণ রোগা কালো চেহারা ৷ মুখের হাঁ টা কিন্তু বেখাপ্পা মতো। ঠোট দুটো যেন কে সাঁড়াশি দিয়ে টেনে তুলে সরু চােঙার মতো করে রেখেছে ৷ মুখ যেন নয়, একটি চােঙা। সে ঠোট আবার টকটকে লাল, বোধহয় পান জরদা খাবার দারুণ নেশা আছে। এক জোড়া জোঁক যেন রক্ত শুষে লাল হয়ে আছে ৷ সেদিন ঝিটাকে দেশে এত কথাই অকারণে আমার মনে হয়েছিল। রাসমণি ঝি বহাল হল গোটা একটা দিন যা তাকে দেখে বিকালের গাড়িতে দেশে চলে গেলেন। কাজকর্মে ঝি খুব পটু, আচার ব্যবহারে বিনয় আছে ৷ আজকালকার বাজারে এমন ঝি পাওয়া ভাগ্যের কথা সন্দেহ নেই। কিন্তু, হায়, তখন কে জানত ভাগ্যের চক্রান্ত। মা যাবার আগে আমাকে ডেকে সব বুঝিয়ে দিলেন ৷ উড়ে চাকর রামনিধিয়া বিশ্বাসী হলেও কানাই সিং পুরনো লোক। তার হাতে আমাদের সবাইকে রেখে মা রওনা হয়ে গেলেন। অবশ্য ঠিক রইল, আমার মেসোমশাই রোজ রাতটা এখানে কাটিয়ে যাবেন। কাল সরকারমশাই ফিরে আসবেন। তাড়াতাড়ি হলেও পাকাপাকি ব্যবস্থা না করে মা নিশ্চিত হলেন না। আড়ালে মা বললেন, “ দেখ রুবি, নতুন লোক রেখে গেলাম রাসমণিকে। মেয়ে না হলে সংসার চলে না। ওর দিকে চোখ রাখিস কিন্তু। ” আমি পাকা গিন্নির মতো ঘাড় দুলিয়ে আশ্বাস দিলাম, “তোমরা অত ব্যস্ত হচ্ছ কেন ? দেখেশুনে সংসার চালিয়ে নেব আমি। ভারী তো কটা দিন থাকবে না!” “আমি তোর কাকাকে একটু ভালো দেখলেই চলে আসব ৷ একটা দিন রাসমনি না হয় তোর ঘরের মেঝেতে শোবে।" “নূতন লোককে শূইয়ে দরকার কী, মা ?" আমার কথায় মা জিভ কেটে বললেন, “নারে ও তেমন নয়, ভদ্ৰঘরের মানুষ। আমাকে বলেছে যেখানে যেখানে আমরা কাজ নিই না, মা। যেখানে পোষায় সেখানেই নিই৷" আমার মনের মধ্যে কেমন করে উঠল আবার। ‘পােষানো' মানেটা কী? কেন বেছে বেছে আমাদের বাড়ি এল ও ? আকাশে একটা ঝোড়াে বাতাস খেলে গেল হঠাৎ। চৈত্র মাসের কালবৈশাখি ৷ মা ব্যস্ত হয়ে বললেন, “তাহলে স্টেশনে যাওয়াই ভালো। ঝড় উঠে আসছে ৷” তারপর এদিক-ওদিক তাকিয়ে মা বললেন, “রাসমণির সবই ভালো, কিন্তু একটা কী ধরন আছে যেন। একদিনে বুঝলাম না ঠিক ৷ একটু লোভী ধরন ৷ খাওয়দাওয়ার দিকে লোড আছে সাবধানে থাকিস, রুবি ৷" মা গাড়িতে উঠে গেলেও আমি চাতালে অনেকক্ষন ধরে একা দাঁড়িয়ে রইলাম। আমার চারপাশে সন্ধ্যার অন্ধকার। মন খারাপ ৷ মা যেন আমাকে অথৈ জলে ভাসিয়ে দিয়ে গেলেন ৷ নিজেকে সামলে নিয়ে দােতলায় উঠবার উপক্রম করতেই দেখলাম, সিঁড়ির আড়ালে কে যেন চট করে সরে গেল। লক্ষ করে দেখলাম নূতন ঝি রাসমণি। স্পষ্ট বোঝা গেল ও মায়ের সঙ্গে আমার কথাগুলো গা ঢাকা দিয়ে শূনেছে। কী স্পর্ধা ওর ৷ রুক্ষ গলায় বললাম, ‘ ‘তুমি ওখানে কী করছ চুপিচুপি দাঁড়িয়ে ?" র্সিড়ির আড়াল থেকে রাসমণি আলোতে চলে এল। আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ও। বিরক্ত হয়ে বললাম, “হা করে আমাকে কী দেখছ?” সে তক্ষুনি মাথা নামিয়ে নিল, ঠোটের উপর দিয়ে জিবটা বূলিয়ে চাপা সুরে উত্তর দিল, “রাগ করবেন না, দিদিমণি। আপনারে দ্যাখতে আমার ভালাে লাগে ৷” সঙ্গে সঙ্গে চাকরদের ঘরের দিকে অদৃশ্য হয়ে গেল ও। খুশি হলাম ৷ ঝিটার মনে ভয় ভয় আছে। আমার ধমকে ভয় পেয়ে মুখ শুকিয়ে গিয়েছিল। জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে নিল তাই। বাঙাল দেশের লোক, পাকিস্তানি ব্যাপারে পরের বাড়ি এসে পড়েছে। না, লােকটা নস্র আছে। তবে, কেন জানি না ও বাড়িতে পা দেবার সঙ্গে সঙ্গে আমার মন খারাপ হয়ে উঠেছে। ওকে লক্ষ রাখতে হবে৷ কেটে গেল রাত। দেশে কিন্তু অবস্থা সুবিধার হল না। কাকার অসুখ এত বেড়ে গেল যে সরকারমশাই পর্যন্ত আটকে গেলেন। তবু আমরা আশা করতে লাগলাম যে কোনোদিন মাকে নিয়ে হয়তো চলে আসবেন উনি। দিন দুই পরে কানাই সিং এসে আমাকে বলল, “হামি ওই লতূন ঝিটারে পছন্দ করি না, দিদিমণি। ও আচ্ছা শয়তান আছে ৷ রাত দোপহরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে গেল কাল। হামি ভাবলাম, ও বুঝি চােরের দলের আদমি আছে, দলকে ডাকতে গেল তাই হামি ওর পিছনে পিছনে গেলাম ৷ যেয়ে দেখি রামাে, রামো৷” কানাই সিং ঘেন্নায় নাকমুখ শিটকে বললে, “দেখলাম ও পাড়ার ডাস্টবিনের সামনে ময়লার মধ্যে বসে পড়ল একটো মরা কুকূরের সামনে ৷ হামার আর সহ্যি হোল না। হামি ওকে বললাম , ‘কেমন আওরত তুমি। ভদ্দর আদমির বাড়ি কাম করছো তা এমন ময়লার মধ্যে কেন ? ও হামাকে পাঁচ কথা শুনিয়ে দিল। হামার মালুম হয় ও চোরের লোক আছে। হামি পেছু আসছি টের পাইয়ে ডাস্টবিনের সামনে বসে পড়লো। ওকে তাড়ই দিন, দিদিমণি।’’ আমি চিন্তিত হয়ে বললাম, “মা রেখে গেছেন ওকে … তিনি না ফিরে এলে আমি তো তাড়াতে পারিনে ৷ বিনা দোষে তাড়াবই বা কেন ? ডাস্টবিনের সামনে যেয়ে বসে থাকাটা ঘেন্নার কথা হলেও, দোষ বলে শাস্তি দেওয়া চলে না।" কানাই সিং উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘‘হামি বলছি ও লোক ভালো না। কেমন চাউনি ওর, দেখেন না ?” আমি বললাম, ‘ রামনিধিয়া কি চোর বা খারাপ লোক দেবে ? ওই তো এনেছে রাসমণিকে।” কানাই সিং চটে উঠল, “ও বুড়ার কথা ছাড়িয়া দেন। ও তো চব্বিশ ঘণ্টাভর পানের দোকানে আছে। যে উনকাে পান জরদা খিলাবে ও তারই তারিফ করবে ৷” আমি রামনিধিয়াকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলাম। রামনিধিয়া হাউমাউ করে যা বলল তার মর্ম হচ্ছে যে, প্রায় একবছর হল রামনিধিয়া রাসমণিকে চেনে ৷ পাড়রে পানের দোকানে যাতায়াত ছিল রাসমণির ৷ ভদ্রঘরের বউ, পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে পেটের দায়ে লোকের বাড়ি ঝি বৃত্তি করছে। কিন্তু কোথাও টিকতে পারেনি বেচারি। তবে, যেখানেই যাক ওই পানের দোকানের পাতার গুড়াে রাসমণির চাই৷ পান না খেলেও পানের দোকানের নেশা আছে ওর। অবাক হয়ে ভাবলাম পান খায় না, তবু ঠোট তো লালে লাল। উড়ে চাকর রামনিধিয়া পানের দোকানের বাঁধা খদ্দের ৷ সেই দোকানের যােগাযােগে রাসমণি এসেছে। রামনিধিয়া বললেন, ‘‘দিদিমণি, ম কি মিছা বলিব ? রাসমণি বড়া ভালা মনিষ আছে। এক পয়সা ছোঁয় না মনিবের। ম কে কতো আবার পান খাওয়ায়। এই দরােয়ানজিকে দিয়ে ব্রেত করাবে বলছে।" কানাই সিং নরম হয়ে বললে, “তবে, হামি একটা বাত তোমাকে জিগাই ৷ ও তো ভালা আওরাত আছে, তবে বেলা ও রাতমে মরা কুকুরকা পাশ গিয়াছিল?" আমার মনের মধ্যের অস্বস্তি আবার মাথা তুলল, “ঠিক কথা বলেছে কানাই সিং। রাসমণিকে ডাকো! তাে ৷’ ’ আধঘোমটা মাথায় রাসমণি আস্তে আস্তে এসে দাঁড়াল। আমাদের অভিযোগ শূনে সে খানিকক্ষণ উজ্জ্বল চোখে আমার দিকে চেয়ে রইল। আমি আবার বিরক্ত হলাম ৷ হলই বা পাড়া গাঁয়ে মানুষ ৷ ঝি সর্বদা মনিবের দিকে চেয়ে থাকবে কেন ? ধমক দিয়ে বললাম, ‘ ‘রাত বিরেতে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও কেন? মরা কুকুরের কাছে বসবার কী আছে? জ্যান্ত মানুষ বুঝি ভালো লাগে না ?” আমার কথা শূনে কানাই সিং হোহাে করে হেসে উঠল। রামনিধিয়া তার আনা মানুষের বিরুদ্ধে হাসতে না পেরে মাথা নামিয়ে রইল ৷ রাসমণি কেমন বাঁকানো ভাবে আমার দিকে চেয়ে, কেমন বাকানো গলায় বলল, ‘ ‘না, দিদিমণি, জ্যান্ত মানুষ থাকতি মরা কুকুর লয়ে কী করব ? তবে, ও কুকুর আমার হাতে মানুষ। আমার মনিববাড়ির কুকুর,রামনিধিয়ারে পুছেন না?” রামনিধিয়া জানাল যে, সত্যিই রাসমণির আগের মনিবের কুকুর কাল মারা গেছে। ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। রাসমণি হঠাৎ চোখে আঁচল দিয়ে ডুকরে উঠল, “ওই কুকুরডারে লয়ে দিনরাত থাকতাম বইল্যা আমারে ছাড্যায়ে দিল৷ সেই কুকুরটিরে চোখের দেখা দেখৰার গিছিলাম দিদিমণি, রাত্তিরের আধারে লুক্যায়ে।” রাসমণির কোমল মনের মায়া মমতার পরিচয় পেয়ে আমি গলে গেলাম। সকলের চোখে রাসমণি বেশ অনেকটা উঁচুতে উঠে গেল। (ক্রমশ) ---------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রাসমণির কাহিনী—১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now