বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"রামকিঙ্করবাবুর সিন্দুক"
সা গ্নি ক র ক্ষি ত
----------------------
রামকিঙ্করবাবুর পুরনো সিন্দুকটা তাঁর বড় প্রিয়। আজকালকার দিনে প্রায় কেউ বাড়িতে সিন্দুক রাখেন না। তবে রামকিঙ্করবাবুর ব্যাপারটা আলাদা। কোনও জিনিস অনেকদিন ব্যবহার করলে সেটার প্রতি তাঁর বড্ড মায়া পড়ে যায়। তা সেই পেপারওয়েটই হোক বা পুরনো ঘড়ি। আর এই সিন্দুকটা তো তাঁর ছেলেবেলার বন্ধু। রামকিঙ্করবাবুর মনে পড়ে, তিনি যখন ক্লাস ফোরে পড়েন, তখন তাঁর বাবা শখ করে আহিরীটোলার নগেনবাবুর দোকান থেকে এই মস্ত সিন্দুকটি কিনেছিলেন। সেই থেকে এই সিন্দুক পরিবারেরই একজন। কত কী যে সে দেখেছে আর কত কী যে তার মধ্যে রাখা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। রামকিঙ্করবাবুর স্কুলজীবন, কলেজ, প্রথম চাকরি, বিয়ে, বুম্বা আর বনির জন্ম, তাঁর জীবনের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী এই সিন্দুকটি। তার কলকবাজাতেও বিন্দুমাত্র জং পড়েনি।
রামকিঙ্করবাবুর বাবা কালীকিঙ্করবাবু ছিলেন, যাকে বলে, ইয়ে একটু অতিরিক্ত হিসেবি প্রকৃতির মানুষ। নিন্দুকেরা বলত কিপটে কিঙ্কর। তিনি তাঁর জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ওই সিন্দুকেই গচ্ছিত রাখতেন।
কালীকিঙ্করবাবু মারা যাওয়ার পর রামকিঙ্করবাবুরা সিন্দুক থেকে টাকা পয়সা সরিয়ে রাখেন। সিন্দুকটা ফাঁকাই পড়ে থাকে। খানিকটা যেন অবহেলিত। সমস্যার সূত্রপাত তখন থেকেই। এমনিতে কোনও অসুবিধে নেই, দিব্যি আছে বহাল তবিয়তে, শুধু কাছে গেলে কেমন খুঁটিখাট-ঠুংঠাং করে। ভূতুড়ে রকমের আওয়াজ হয়। মনে হয় সিন্দুকের ভিতরে যেন গোটাকুড়ি ইঁদুর দৌড়ে বেড়াচ্ছে, জিনিষপত্র লন্ডভন্ড করছে। তবে রামকিঙ্করবাবুর কাছে ওসব শবদটব্দ কোন ব্যাপারই নয়। এমনিতেই তিনি ঘোর নাস্তিক মানুষ, ভূতপ্রেতকে তোয়াক্কাই করেন না। আর পিতৃদত্ত সিন্দুক বলে কথা, তাকে বেচার কোনও ইচ্ছেও তাঁর নেই। তা ছাড়া একটু-আধটু শব্দ করা ছাড়া তো দোষের মধ্যে আর কিছু নেই সিন্দুকটার। খামোকা কেনই বা বেচতে যাবেন।
এদিকে রামকিঙ্করবাবুর স্ত্রীর আবার বেজায় ভুতের ভয়। রামকিঙ্করবাবু যতই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করুন না যে ওসব স্রেফ বুজরুকি, ভবি ভোলার নয়।
রামকিঙ্করবাবুর স্ত্রীর বদ্ধমূল ধারণা, ওই সিন্দুকটার উপর তাঁর শ্বশুরের আত্মা ভর করেছে। প্রথম কয়েকদিন তিনি সিন্দুকের আওয়াজটা অত খেয়াল করেননি। রামকিঙ্করবাবুও ভেবেছেন যাক বাঁচা গেল, সিন্দুকটার ফাঁড়া কেটে গেল। হঠাৎ একদিন রোববার সকালে লুচি ভাজতে-ভাজতে রামকিঙ্করবাবুর স্ত্রী বললেন, “কাল দুপুরে একটা অদ্ভুত কান্ড হল জান?”
“কী হল আবার?” রামকিঙ্করবাবু জিজ্ঞেস করলেন।
“দুপুরে খেয়েদেয়ে রোজকার মতো একটু শুয়েছি। সবে একটু তন্দ্রা মতো এসেছে। হঠাৎ সিন্দুকের ঘর থেকে একটা বিশ্ৰী আওয়াজ। মনে হল কেউ যেন চাপা গলায় উঁ-উঁ করে আওয়াজ করছে। মুখে বালিশচাপা দিয়ে চিৎকার করলে যেমন হবে, কতকটা সেই রকম। তবে বেশ জোরে। আমি তো চমকে উঠেছি। পাশের ঘরে গিয়ে দেখলাম কেউ কোথাও নেই, সব চুপচাপ। কী ব্যাপার কিছুই বুঝতে পারলাম না। আমার বাপু কেন জানি না মনে হয়। ওই সিন্দুকটা থেকেই ওসব ভূতুড়ে আওয়াজ হচ্ছিল।”
গিন্নির কথা শুনে হো-হো করে হেসে উঠলেন রামকিঙ্করবাবু। বললেন, “ও কিছু নয়। তোমার মনের ভুল। বাড়ির ঠিক সামনেই একটা বিড়াল বাচ্চা দিয়েছে দেখোনি? সারাদিন মিউমিউ করে চলেছে। ওটা তাদেরই আওয়াজ হবে। আসলে মনের গতি-প্রকৃতি বোঝা যে শিবেরও অসাধ্য! কোন ঘটনা থেকে মন কী ঠাউরে নেয়। তার কোনও ঠিক নেই। এই আমাদের আপিসের মনতোষের কথাই ধরো। একদিন রাতে সে নিজের বিছানায় শুয়ে ঘুমোচ্ছিল। হঠাৎ মনে হল তার মেজমামা যেন চুলে বিলি কেটে দিচ্ছেন। ভাবল স্বপ্ন হবে বুঝি। আরামে তার ঘুম আরও গাঢ় হয়ে এল। তবে মেজমামা যখন বাজাখাই গলায় বলে উঠলেন, কী রে মনা, আর কত পড়ে-পড়ে ঘুমাবি, ভোর হয়ে এল যে, এক ঝটকায় তার ঘুম ভেঙে গেল। উঠে দেখে বিকট অন্ধকার, মেজমামা কোথ্থাও নেই, সব ভোঁ ভাঁ। ভয়ে দরদরিয়ে ঘামতে-ঘামতে সে আলো জ্বালল। হঠাৎ মনতোষের মনে পড়ল, মেজমামা তো হাসপাতালে শয্যাশায়ী, প্রায় গেল-গেল অবস্থা। মনটা বডড কু ডাকছিল তার। কী ভেবে সে মেজমামার খোঁজ নেওয়ার জন্য হাসপাতালে একটা ফোন করে বসল। সেখান থেকে খবর পেল...”
রামকিঙ্করবাবুকে থামিয়ে তাঁর স্ত্রী বললেন, “যে মনতোষের মেজমামা ঠিক তার মিনিটপাঁচেক আগেই পরলোকগমন করেছেন, এই তো?”
“একদমই না,” রামকিঙ্করবাবু বললেন, “মনতোষ খোঁজ নিয়ে জানল তার মেজমামার অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে। বিপদের আশঙ্কা এখন আর নেই বললেই চলে।”
শুনে কিছুটা দমে গেলেন রামকিঙ্করবাবুর স্ত্রী।
রামকিঙ্করবাবু বলে চললেন, “তাই বলছি। এসব তোমার মনের ভুল। মাঝে-মাঝে আপাত অর্থহীন ঘটনার উপরে আমরা খেয়ালের বশে অনেকটা রং চড়িয়ে নিই। ভূতের গল্পের আসল ব্যাপারটাও তাই। ওসব আত্মাফাত্মা বলে কিস্যু হয় না।”
এই পৰ্যন্ত বলে যেই না রামকিঙ্করবাবু বেগুনভাজায় কামড় বসাতে যাবেন, অমনি পাশের ঘর থেকে আওয়াজ এল ঘংঘং, ঘটাং-ঘটাং, ঘড়াং-ঘ্যাঁক। দৌড়ে গিয়ে রামকিঙ্করবাবু দেখলেন কোথাও কেউ নেই। ব্যাপারস্যাপার দেখে রামকিঙ্করবাবুর স্ত্রীর তো ভয়ে আত্মারাম খাঁচাছাড়া। বললেন, “আমি বলেছিলুম তোমার সাধের সিন্দুক থেকেই আমন বিচ্ছিরি আওয়াজ আসছে, তুমি পাত্তাই দিলে না। আমার মনে হয় তোমার বাবা এখনও সিন্দুকের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি। তিনিই মাঝে-মাঝে এইভাবে তাঁর অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন। তুমি যত তাড়াতাড়ি পার ওই ভূতুড়ে সিন্দুককে বিদেয় করো, নইলে কবে যে কী অঘটন ঘটবে।”
তাই তো, এ তো তাঁর স্ত্রীর মনের ভুল নয়, রামকিঙ্করবাবু যে নিজের কানে শুনলেন আওয়াজটা। এবং ওটা যে সিন্দুক থেকেই এসেছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ও ঘরে অমন আওয়াজ করার মতো আর কোনও আসবাব নেই। আর এটা নিশ্চয়ই বিড়ালের বাচ্চার ডাক নয়। খানিক কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থেকে রামকিঙ্করবাবু বললেন, “ঠিকই বলেছ, এবার মনে হচ্ছে সিন্দুকটাকে বেচেই দিতে হবে। নেহাত পুরনো আমলের জিনিস, তাই অ্যাদিন টিকল! এখনকার আলমারির মতো খেলো নয় এসব, বুঝলে!”
তবে সিন্দুক বেচার কথাটা ক’দিনের মধ্যেই বেমালুম ভুলে গেলেন রামকিঙ্করবাবু। আর এর মধ্য থেকে তেমন কোনও অদ্ভূতুড়ে আওয়াজ না হওয়ায় তাঁর স্ত্রীও সেভাবে কথাটা পাড়লেন না। একদিন সন্ধেবেলা রামকিঙ্করবাবুর শ্যালক সুবিমল সস্ত্রীক তাঁদের বাড়িতে এসেছে। অতিথিদের জন্য রামকিঙ্করবাবুর স্ত্রী গলদা চিংড়ির মালাইকারি রেঁধেছেন। এটা তিনি বেড়ে রাঁধেন। এই চমৎকার রান্নার হাতের জন্যই তো রামকিঙ্করবাবুর বাবা তাঁকে পছন্দ করেছিলেন। সেদিন রাত সাড়ে নটা নাগাদ সকলে মিলে জমিয়ে খেতে বসেছেন। এমন সময় ঘড়াৎ-ঘড়, ঘ্যাঁ-ঘ্যাঁ, ঘ্রুং-ঘ্রুং, খ্যাঁ-অ্যা-অ্যাশ, ঝাং। সে যে কী আওয়াজ! মনে হল তুমুল ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। চারিদিকে ঘরদোর, দেওয়ালটেওয়াল সব ভেঙে পড়ছে। সুবিমল তো আচমকা ওই বিদঘুটে আওয়াজ শুনে চেয়ার থেকে পড়ে, চোখটোখ উলটে কোঁ কোঁ করতে লাগল। চোখেমুখে জল দিয়ে তাকে ধরাধরি করে শোয়ানো হল। অমন গলদা চিংড়ির মালাইকারি খাওয়াটাই গেল মাটি হয়ে। সুবিমলরা চলে যেতে না-যেতেই রামকিঙ্করবাবুর স্ত্রীতাঁকে ঝাঁঝিয়ে উঠলেন, “আর কতদিন এই ভূতের উপদ্রব সহ্য করতে হবে বলতে পার? সুবিমলারা কী ভাবল কে জানে। ছি ছি। তুমি এখনই ওই সিন্দুক বিদেয় করার ব্যবস্থা করো। এ বাড়িতে হয় ওই সিন্দুক থাকবে, না হয় আমি।”
রামকিঙ্করবাবু দেখলেন অবস্থা বেগতিক। কিছু একটা ব্যবস্থা তো তাঁকে করতেই হবে।
রামকিঙ্করবাবুদের পাড়ায় এমনিতে চোর-ডাকাতের ঝামেলা কম, মোটের উপর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। তাই তাঁরা রাতে বারান্দার দরজাটা খুলেই রাখেন। তা ছাড়া রামকিঙ্করবাবু বদ্ধ ঘরে ঘুমোতেও পারেন না। তবে চুরির জায়গার অভাবেই হোক বা পথ ভুল করেই হোক, একদিন রাতে চোর ঢুকল। পোল্লায় একটা মই বেয়ে দোতলায় উঠে চোর দেখল সামনের ঘরটা খোলা। টর্চ জ্বালাতে তার চোখে পড়ল সিন্দুকটা। লোভে চকচক করে উঠল চোরের চোখ। সিন্দূকটা খোলার জন্য যেই না হাত বাড়াতে যাবে, অমনি সিন্দুকটা যেন চেচিয়ে উঠল, ঘ্রটাং, ঘ্র্যাশ-ঘ্র্যাশ, ঘ্যাং, ঘু-উ-উ, ঘ্র-ঘ্র-ঘ্র। সে যে কী বিকট শব্দ! আগের চেয়ে অন্তত চতুৰ্ত্তণ, আর অনেক বেশি কর্কশ। চোরের মনে হল তিরিশটা বাঘ ও কুড়িটা হাতি যেন দুদ্দাড় বেগে তার দিকে ধেয়ে আসছে। ভয়ের চোটে বারান্দার দিকে পালাতে যেতেই জামায় টান লেগে চোর একেবারে পপাত ধরণীতলে। সিন্দুকের কোনায়ধাক্কা খেয়ে কপাল ফুলে ঢোল। চোর ওই অবস্থাতেই শুয়ে-শুয়ে গোঙাতে লাগল।
এদিকে বাড়িতে চোর ঢুকেছে বুঝতে পেরে রামকিঙ্করবাবু সিন্দুকের ঘরের দরজাটা বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে দিলেন। সিন্দুকের ওই বীভৎস আওয়াজে পাড়াপড়শি অনেকেই জেগে উঠেছিলেন। হয়তো ভেবেছিলেন বোমাটোমা পড়েছে। তার উপর চোরের গোঙানি আর রামকিঙ্কবাবুদের চেঁচানিতে ব্যাপার আঁচ করে অনেকে খোঁজ নিতে এলেন। সব শুনে তাঁরা রামকিঙ্করবাবুকে পরামর্শ দিলেন আগে পুলিশ ডাকতে। বলা তো যায় না চোরের কাছে কোনও অস্ত্রশস্ত্ৰ আছে কিনা। কিছুক্ষণের মধ্যে দারোগাবাবু চারজন কনস্টেবল নিয়ে চলেও এলেন। দু’জনের কাঁধে রাইফেল আর দারোগাবাবুর কোমরে একটা পিস্তল। দারোগা এসে দরজায় দমাদম ধাক্কা দিতে-দিতে হুঙ্কার ছাড়লেন, “ভিতরে কে আছিস মাথার উপর দু’হাত তুলে বেরিয়ে আয়। এক্ষুনি।”
ভূতের ভয় না থাকলে কী হবে, রামকিঙ্করবাবুর চোর-ডাকাতে বিষম ভয়। পাছে চোর গুলিটুলি চালিয়ে দেয় সেই ভয়ে রামকিঙ্করবাবু দারোগার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালেন। গিন্নিকে বললেন ঘরে ঢুকে খিল দিয়ে দিতে। পড়শিদের মধ্যেও কেউ-কেউ এই ফাঁকে পৃষ্ঠা প্রদর্শন করলেন। নরেন গুই যেমন শহরের নিরাপত্তা নিয়ে কী একটা যেন গাইগুই করতে-করতে মানে-মানে সরে পড়লেন। অন্যেরা চোর ধরা চাক্ষুষ করার জন্য রয়ে গেলেন অকুস্থলে।
দারোগা আবার হাঁক পাড়লেন, “আমি তিন গুনব। তার মধ্যে বেরিয়ে না এলে কিন্তু পরিণতি খুব খারাপ হবে। এক...’
কেউ দরজা খুলল না। খুলবেই বা কী করে। চোর তো তখনও ভিরমি খেয়ে পড়ে রয়েছে। দারোগাবাবু হুকুম করলেন, “দরজা ভাঙো।”
দরজাটা আসলে ভিতর থেকে খোলাই ছিল, দু’জন কনস্টেবল দরজা ভাঙতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে নিজেরাই দড়াম করে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। আর প্রায় সঙ্গে্-সঙ্গে সিন্দুকের ভিতর থেকে ভেস এল এক অপার্থিব শব্দ, ঘ্যাঃ ঘ্যাঃ ঘ্যাঃ ঘ্যাঃ । দারোগাবাবুও চমকে দু’পা পিছিয়ে এলেন।
ঘরে ঢুকে দেখা গেল, চোর সিন্দুকের সামনে কুপোকাত হয়ে পড়ে রয়েছে। তুলে বসানোর পর দারোগা তাকে চিনতে পারলেন। সে নাকি এই এলাকার দাগী অপরাধী, অনেকদিন ধরেই নাকি পুলিশ ওকে খুঁজছে। শুনে বললেন,”আরে আমি বুদ্ধি করে ছিটিকিনিটা লাগালাম বলেই না ও ধরা পড়ল!”
তাঁর স্ত্রীও এতক্ষণে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তিনি বললেন, “বাহ, আমিই তো চেঁচামেচিটা শুরু করলাম। তখন হুলুস্থল না পড়লে কি ও এতক্ষণ এখানে থাকত?’
পড়শিরাও বলতে লাগলেন তাঁরা ঠিক সময়ে এসে না পড়লে আজ রামকিঙ্করবাবুকে সর্বস্বান্ত হতে হত।
এর পর বেশ কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। সিন্দুকটাও বেশি বেগড়বাই করেনি। একদিন নাকি ওটা থেকে রবীন্দ্রসংগীত শোনা যাচ্ছিল। যদিও রামকিঙ্করবাবুর মেয়ে বনি ছাড়া সেটা আর কারও কানো যায়নি। এ ছাড়া বাড়িতে ভাল রান্না হলে মাঝে-মাঝে ওটা থেকে একটু শব্দ হত। হঠাৎ একদিন থানা থেকে রামকিঙ্করবাবুর নামে একখানা চিঠি এল। তার মোটামুটি সারাংশ এই ‘অসীম সাহস এবং অসাধারণ প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের সঙ্গে পুলিশকে একজন দাগী আসামীকে গ্রেফতার করতে সাহায্য করার জন্য সরকার আপনার সিন্দুককে পঞ্চাশ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
খবরটা পাওয়ার পর রামকিঙ্করবাবুর স্ত্রী বললেন, “এ টাকা তো ওই সিন্দুকেরই প্রাপ্য, ওটা বরং ওতেই রাখা থাক। আর বাবারও তো টাকার প্রতি একটা বিশেষ মোহ ছিল...”
সিন্দুকটা খোলা হল। রামকিঙ্করবাবুর স্ত্রী পুরস্কারের চেকটা তাতে রেখে সিন্দুকের সামনে একবার গড় করে বললেন,”ভারী অন্যায় হয়ে গেছে বাবা। এবার থেকে আপনার টাকা আর আমরা কেউ ছোঁব না।”
আশ্চৰ্যভাবে তারপর থেকে আর কোনওদিন সিন্দুক থেকে শব্দ পাওয়া যায়নি।
(সমাপ্ত)
--------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now