বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাহুর গ্রাস ১মম পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X "ছয় মাস হইল এই সমস্যায় পরছি স্যার। অবশ্য এইটারে সমস্যা বলা ঠিক হইব কিনা তা জানি না। খিদা,ঘুম,হাটাচলার মত ভয়ও সব মাইনষেই পায়। তয় আমি ওইসব ভয় ডরের ধার ধারতাম না। কিন্তু, এহন আমার অনেক ভয় করে স্যার। রাইতের পর রাইত ঘুমাইতে পারি না। ডাক্তার, ওঝা,কবিরাজ কোন কিছু বাদ রাখিনাই এই ডর ভাগানের লাইগা। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় নাই। শ্যাষে গঞ্জের চা - অলা মতি ভাই আপনের লগে দেহা করনের কথা কইল। সে কইল আপনে অনেক জ্ঞানী আর কামেলদার লোক। তাই তার কথা শুইন্না আমি আর দেরী করি নাই, আইসা পরছি আপনের কাছে।আমারে বাচান স্যার, আমারে বাচান।এমনে চলতে থাকলে আমি পাগল হইয়া যামু।" একনাগাড়ে বলে যাওয়া কথাগুলো শুনতে শুনতে লোকটিকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিল তোফায়েল আহমেদ। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর একটা থিসিস প্রজেক্টের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এসেছে সে। এছাড়াও হাত দেখতেও বেশ পারদর্শী সে যদিও এসব গ্রহ নক্ষত্রের হিসাবে মোটেও বিশ্বাস নেই তার। এই হাত দেখার সূত্র ধরেই হয়তবা চা-অলা মতির সাথে পরিচয় হয়েছে তার যদিও এ মতিটা কে তা এখনও বুঝে উঠতে পারছে না সে। লোকটার কথার রেশ কাটতেই তোফায়েল আহমেদ বলল "কে আপনি? আর আমি কিভাবে আপনার সমস্যার সমাধান করতে পারি?" জবাবে লোকটা বললেন "জ্বে, আমার নাম আব্দুল বাসেত। এই গেরামের মাতব্বর সাবের খাস লোক। বারো বছর যাবৎ উনার খেদমত করতেছি। মতি ভাই কইল আপনি নাকি জ্বিনদের বশ কইরা তাদের দিয়া লোকের ভাগ্য কইয়া দিতে পারেন। তাইলে জ্বিন সাহেবগো দিয়া আমার সমস্যাটা দূর কইরা দেন। আমারে ফিরাইয়া দিয়েন না স্যার। আমার সমস্যাটার সমধান কইরা দিলে চিরকাল আমি আপনের কিনা গোলাম হইয়া থাকুম। যা হুকুম করবেন তাই তামিল করুম। শুধুমাত্র আমারে বাচান স্যার।" লোকটার এই মাত্রাতিরিক্ত অযৌক্তিক বকবকানিতে কিছুটা বিরক্ত হয়েই তোফায়েল বলল "আহ্, এইসব জ্বিন ভূতের ভিত্তিহীন গল্প কোথায় পান আপনারা। আর আপনার সমস্যাটা কি তা তো বলবেন। তারপর নাহয় বোঝা যাবে আপনাকে সাহায্য করা যাবে কি না।" তোফায়েলের বিরক্তি বেশ প্রভাবিত করল আব্দুল বাসেতকে। তাই আর কোন অপ্রাসঙ্গিক কথায় না যেয়ে লোকটা তার সমস্যার কথা বলতে লাগলেন। "স্যার, আমার সমস্যা হইল গিয়া আমি মরা মানুষ দেখতে পাই। যখনই আমার আশে পাশে কেউ থাকে না বিশেষ কইরা রাইতের বেলায় দেখতে পাই। শুধু যে দেখতে পাই তা কইলে ভুল হইব। প্রথম প্রথম এই মরা মানুষগুলা শুধু দেখা দিত আর এখন নানা প্রকার ইশারা ইঙ্গিত দেওন এমনকি কথাও কইতে চায়। এমনকি টাট্টি ঘরে ছোট বা বড় কাম সারতে গেলেও সেখানে হাজির হয় মরা গুলা। শালার মরাগো লাইগা আমার খাওয়া,হাগামুতা এমনকি ঘুমও বন্ধ হইয়া গেছে আমার। এর একটা বিহিত আপনের করতেই হইব।" লোকটার এমন অবান্তর, অযৌক্তিক আর আজেবাজে কথা শুনে তোফায়েলের মেজাজটা একদম খিচড়ে গেল। কোনমতে নিজের রাগটা চেপে রেখে বলল "দেখুন,আমি একটা জরুরী কাজে বাইরে যাচ্ছি এখন। পরে একদিন আসুন,আপনার সাথে সময় নিয়ে কথা বলা যাবে।" এই কথা বলে লোকটাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বেরিয়ে পরল সে। সাত দিন পর... আব্দুল বাসেতের সাথে পরিচিত হবার পর ছয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। এড়িয়ে চলার সর্বাত্মক চেষ্টা করা সত্বেও আব্দুল বাসেতের কবল থেকে রক্ষা পায়নি তোফায়েল। প্রতিদিনই কোন না কোন ভাবে তোফায়েলের সাথে দেখা করেছে সে। অবশেষে আজ কিছুটা বিব্রত হয়েই তোফায়েল আব্দুল বাসেতকে ঘরে এনে বসাল। তারপর তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা চালিয়ে গেল। অবশ্য আজ কোন অযৌক্তিক কথার সুযোগ দিল না আব্দুল বাসেতকে।নিজেই নানা প্রশ্ন করে তার সমস্যার সম্পর্কে একটা ধারনা নিল। কথাবার্তা থেকে তোফায়েল আহমেদ ধারনা করল যে লোকটা ইনসোমনিয়ায় আক্রান্ত। সেই সাথে কিছুটা অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডারে ভুগছে। তাই হয়তোবা নানা রকম হেলুসিনেশন হচ্ছে। যদিও লোকটা কাকে দেখে বা কেন দেখে সে সম্পর্কে জানতে চায় নি তোফায়েল কেননা তা হলেই একগাদা আষাঢ়ে গল্প শুনতে হবে তার। তোফায়েল নানা ভাবে আব্দুল বাসেতকে বোঝাতে চাইল যে তার ভয়গুলো সম্পূর্নই তার মনের সৃষ্টি। একজন অভিজ্ঞ মনোবিদের ঠিকানা দিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলল। অবশেষে একটা হালকা ঘুমের ঔষধ দিয়ে বিদায় করল তাকে যাতে তার ভাল ঘুম হয়। এ সময় একটা বিষয় চোখে লাগল তোফায়েলের। এই সাত দিনে বেশ খানিকটা রোগা হয়ে গেছেন আব্দুল বাসেত,চেহারার মাঝেও একটা দিশেহারা ভাব খুব ভালভাবেই ধরা পরেছে। দুই দিন পর.. শেষবার কথা বলার পর থেকে এখন পর্যন্ত আব্দুল বাসেতের সাথে আর দেখা হয় নি তোফায়েলের। অবশ্য মাঝখানে বেশ ব্যস্ত সময় কেটেছে তার। আজও দূরবর্তী এক গ্রামে গিয়েছিল তথ্য সংগ্রহ করতে।কাজ শেষ করে আসতে আসতে বেশ রাত হয়ে গেছে। বাড়ির সামনে আসতেই দেখল অন্ধকারে কেউ একজন দাড়িয়ে আছে। ..............চলবে..........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রাহুর গ্রাস ১মম পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now