বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাহাত

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ভার্সিটির সামনের চায়ের টংয়ে বসে আছে রাহাত । একটু পর পর একটা নাম্বারে কল করছে । কিন্তু যতবারই কল করছে একটা নারীকণ্ঠ নাম্বারটা বন্ধ থাকার কথা ঘোষণা করছে । - এতক্ষণ ধরে নাম্বার বন্ধ থাকার তো কথা না । কি হল কিছুই বুঝতেছি না । উদ্বিগ্ন কণ্ঠে আপনমনেই কথাটা বলল রাহাত । - মনে হয় গুরুত্বপূর্ণ কোন ক্লাস চলতেছে । এইজন্য ফোন অফ করে রাখছে। নিজেকেই যেন বুঝ দিল রাহাত । -কিন্তু এতক্ষণ ধরে একটা ক্লাস চলে কীভাবে ? ক্লাসের মাঝে অবশ্যই গ্যাপ ছিল । তখন আমাকে জানাতে পারতো যে দেরি হবে তার । আমার কথা সে বেমালুম ভুলে গেছে । মনে মনে কিছুটা রেগে গেল রাহাত । -এভাবে রাগলে হবে না । আজকে একটা বিশেষ দিন । আজকে ওকে অনেক বড় একটা সারপ্রাইস দেব । পকেটে হাত দিয়ে একটা ছোট বক্স বের করলো রাহাত । ধীরে ধীরে বক্সের ডালা খুলল । অনেক দামি একটা ডায়মন্ড রিং শোভা পাচ্ছে ভিতরে । রাহাত চোখ বন্ধ করে কল্পনা করছে রিংটা যখন রিয়ার আঙ্গুলে পরিয়ে দেবে তখন তার চেহারা বিস্ময় আর আনন্দে কতটা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে । কল্পনা করে ঠোঁটের কোণে একটা হাসি ফুটে উঠলো তার । নিজের ভিতর চাপা উত্তেজনায় টগবগ করছে রাহাত । কিছুক্ষণ পর আবার রিয়ার নাম্বারে ডায়াল করলো । এখনও বন্ধ সেটা । একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল রাহাত । তার মুখে বেদনার চিহ্ন ফুটে উঠলো । সন্ধ্যা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে টংয়ের সামনে অনেকক্ষণ ধরে থেমে থাকা বাইকটা জীবন্ত হয়ে উঠলো । পিছনে ধুলো আর গ্যাসের একটা মেঘ তৈরি করা বাইকের আরোহী রাহাত বুঝতে পারলো না ৩ জোড়া চোখ অবাক বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে । -কিছু বুঝতে পারলি? বিস্ময় ঝরে পরলো শান্তর কণ্ঠে । -নাহ , কিছুই বুঝলাম না । বলল শাওন । -মামা, আপনি কিছু জানেন ছেলেটার ব্যাপারে? রানা জিজ্ঞেস করলো চায়ের দোকানের বয়স্ক লোকটাকে । -কেন? আপনারা কিছুই শুনেন নাই? অবাক হয়ে জানতে চাইল লোকটা । -নাহ, আমরা ভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হইছি । এই নিয়ে ৩-৪ দিন আপনার দোকানে চা খেতে বসলাম । প্রতিদিনই ছেলেটাকে দেখলাম একই কাজ করতেছে । রানা বলল । -ভার্সিটির সবাই জানে ওর সম্পর্কে । ছেলেটার নাম রাহাত । একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল লোকটা । কোন কথা না বলে চুপ করে লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে তিনজন । কথা শুনার জন্য গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তারা । -ঘটনার দিন এইভাবেই আমার দোকানে বইসা ছিল সে । প্রায় ১ ঘণ্টা বইসা থাকার পর পর একটা মেয়ে আসে । হাসিমুখে কিছুক্ষণ কথা বলার পর তারা দুইজন বাইকে উঠে । সেফটির লাইগা পিছনে বসা মেয়েটার মাথায় হেলমেট পরায় দেয় রাহাত । আমি এইটুক দেখছি । এরপরের ঘটনা শুনা ঘটনা । রাস্তায় বাইক এক্সিডেন্ট করে ওরা । দুইজনই খুব খারাপভাবে আহত হয় । হেলমেট ভাইঙ্গা মেয়েটার মাথায় ঢুইকা গেছিল । মেয়েটাকে বাঁচান যায় নাই । ছেলেটা কোনভাবে বাইচা যায় । এরপর থেকে ওর মাথায় সমস্যা দেখা দেয় । প্রতিদিন এইভাবে আইসা বইসা থাকে । সম্মোহিতের মত রাহাতের গমন পথের দিকে তাকিয়ে থাকে তিনজন । কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে ওরা । [] Md Zobair Islam []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রাহাত
→ একজন রাহাত আর আমাদের গল্প...।।।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now