বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৮

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৮ মাজহারুল মোর্শেদ চিয়াপ্পারা জলপ্রপাত পার হয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলছে আমাদের গাড়ি, খুববেশি নয় হয়তো তিন-চার মিনিট হবে হঠাৎ চোখে পড়লো একটা সুদৃশ্য জলপ্রপাত। রাস্তা থেকে বেশ খানিকটা দূওে সে জলপ্রপাতের কাছে যেতে হলে ঝাড়-জঙ্গল উঁচৃ-নিচু পাহাড় পেরিয়ে যেতে হবে। হয়তো অনেকটা সময় এখানে চলে যাবে। তাই কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দূর থেকে দেখেই চোখ জুড়ালাম। একজন পর্যটককে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম যে, এই জলপ্রপাতের নাম হলো ভালারা জলপ্রপাত (Vallara Waterfalls) যৎসামান্য বিরতীর পর ড্রাইভার আবার গাড়ি ছেড়ে দিলো। সড়কপথে চলছে আমাদের গাড়ি। ঘণ্টা দুয়েক চলার পর কেরালার ত্রিশূর জেলায় আমরা পৌছে গেলাম আর এখান থেকেই বদলে গেলো প্রকৃতি। ড্রাইভার রবীন সবাইকে জানালার বাহিরে তাকাতে বলেন কারণ এখানকার প্রকৃতি চোখ জুড়ানোর মতো। মূল সড়ক থেকে বাইপাস হয়ে আথিরাপ্পিল্লী(Athirappilly Waterfalls) জলপ্রপাত পর্যন্ত রাস্তাগুলির দু’পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে মন ভরে যায়। কোচি থেকে আথিরাপ্পিল্লী(Athirappilly Waterfalls জলপ্রপাত-এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা পৌছে গেলাম সেই কাঙ্খিত আথিরাপ্পিল্লী জলপ্রপাত। এটি ত্রিশূর জেলার চালাকুড়ি নদীর উপর অবস্থিত কেরালার বৃহত্তম জলপ্রপাত যার উচ্চতা ৮১.৫ ফুট। এর কাছে যেতেই মনে হলো সত্যি পুরো এলাকাটা স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর। এতোটাই উঁচু থেকে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ছে যে দূর থেকে রোদেও ঝলমলে আলোয় একটা বিশাল রঙধনু মনে হচ্ছে। ঝরনার পড়ন্ত জলের প্রচণ্ড গর্জনের এতোটাই শব্দ যে, কোন কিছুই শোনা যাচ্ছেনা। কিন্ত আমার মনে হলো এ মধ্যে একটা প্রাপ্তি আছে, একটা কেমন যেন শান্তি শান্তি ভাব আছে, একটা অন্য রকমের ধাক্কা আছে যা প্রকৃতির কাছে নিজেকে হার মানায়। সত্যি প্রকৃতি যে এতো সুন্দর হতে পারে সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাটা কঠিন। আমরা সবাই হাত ধরাধরি করে নিচে নেমে এলাম যেখানে প্রচণ্ড বেগে অনেক উপর থেকে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ছে। নুপুরের ছন্দের মতো ছলছল শব্দ করে। আহা! কি মধুর ঐকতান। অনেক উপর থেকে প্রচণ্ড বেগে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ার সময় পুরো এলাকাটা যেন ঘন কুয়াশার রাজ্য বলে মনে হচ্ছে। জলের ফোটা গায়ে পড়ছে না ঠিকই কিন্তু সমস্ত শরীর ভিজে যাচ্ছে। সবাই একেবারে কাকভেজা হয়ে হালকা গড়মের মাঝেও ঠাণ্ডায় কাঁপছি। এ যেন এক অন্য রকম শিহরণ জাগা অনুভুতি। এখানে পানিতে নেমে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ। দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য যথাযথ সতর্কতা স্বরূপ বিপদজনক জায়গাটা ঘিরে রাখা হয়েছে। তার সাথে একটি পুলিশ ক্যাম্পও বসানো হয়েছে। জায়গাটা খুব সুন্দর ভাবে সাজানো, আর নিরাপত্তার দিকটাও যতেœ গড়া। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো একটা পানির বোতল কিনলে আপনার কাছ থেকে পাঁচ টাকা বেশি চার্জ নেবে, তবে ফেরার সময় সে খালি বোতলটা ফেরত দিলে আপনাকে অতিরক্ত চার্জের টাকাটা ফেরত দেবে। এর মানে দাঁড়ালো আপনি যেন খালি বোতলটা ফেলে দিয়ে পরিবেশ নষ্ট না করেন। আথিরাপ্পিল্লী জলপ্রপাত শুধুমাত্র দর্শনীয় স্থানই নয় এটি বিদেশী পাখিদের আবাসস্থল যা সারা বছর ধরে পরিযাযী পাখি এখানে আসে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার প্রবেশপথে এই আথিরাপ্পিল্লীর অবস্থান যা অভয়ারণ্য এবং জলপ্রপাতের একটি মনোরম সংমিশ্রণ তৈরি হয়েছে। যাহোক জলপ্রপাতের স্থান ত্যাগ করে আমরা ক্রমশ উপরের দিকে উঠছি, অর্ণব বোউদির একটা হাত ধরেছে আর অপর হাতটি উপেন দার হাতে। খুব সাবধানেই তারা উপরের দিকে উঠছে এমন সময় ঘটে গেলো একটা দুর্ঘটনা। তবে বোউদি নয় উপেন দা নিজেই পা পিছলে বোউদিকে ধরে নিচে পড়ে গেলো। সে দৃশ্যটা অনেকটা টাইটানিক জাহাজের মতো মনে হলো। টাইটানিক জাহাজটি যখন মাঝখানে ভেঙে গিয়ে খাড়া-খাড়ি ভাবে ডুবে যাচ্ছিলো তখন এর উপরের মানুষগুলো যেভাবে নিচে গড়িয়ে পড়েছিলো, খুব অল্প দূরত্ব হলেও দাদা-বোদি একই ভঙ্গিতে হাত ধরাধরি করে নিচে গড়িয়ে পড়ার দৃশ্যটা ছিলো টাইটানিকের মতো। আমি আর উর্মী তাদের পিছনে ছিলাম বলে আমারা ধরাধরি করে আটকাতে পেরেছি। হয়তো একটা মারাত্বক দুর্ঘটনার হাত থেকে আমরা বেঁচে গেলাম। যদিও সে দৃশ্যটা প্যাথেটিক ছিলো কিন্তু উপরে ওঠে গাড়ির কাছে আসতে আসতে উর্মী কোন ভাবেই নিজেকে সামলাতে পারলো না। অর্ণব হাসতে হাসতে মাটিতে বসে পড়লো। ড্রাইভার বারবার তাড়া দিচ্ছে দাদা গাড়িতে উঠে আসেন কিন্ত কে শোনে কার কথা। সবার এ অবস্থা দেখে বোউদি ক্ষেপে অগ্নিশর্মা হয়ে আছে। এক পর্যায়ে বলেই ফেললো আমি উপর থেকে গড়িয়ে পড়ে মরে গেলে খুব ভালো হতো, তোমাদের আর হাত ধরে বয়ে বেড়াতে হতো না। আমি দেখলাম রাগে ক্ষোভে বোউদির চোখ দু’টো ছলছল করছে। আমি বোউদির পাশে গিয়ে বললাম, ছিঃ বোউদি এমন কথা মুখে আনতে নেই। এইটুকু উঁচু থেকে পড়ে কোন ক্ষতি হতে পারে? সেটাতো একটা মোটা আইলের সমান উঁচু¡ ছিলো। যাহোক আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো আমাদের আথিরাপ্পিল্লী জলপ্রপাত ভ্রমণ। আমরা সবাই গাড়িতে উঠে আবার রওয়ানা হলাম মুন্নারের পথে। কোচিন-মাদুরাই ন্যাশনাল হাইওয়ে এর পাশে মুন্নারের আর একটি বিশ্ময়কর প্রকৃতিক নিদর্শণ স্পাইস এবং হারবাল গার্ডেন (Spices & Herbal Gerden).এখানে গাড়ি থামানোর ইচ্ছে মোটেও ছিলো না। কিন্ত উপেন দা আর বোউদির হারবাল প্রেম হঠাৎ উথলে পড়তে শুরু করলো। অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাদের নিচে নামতে হলো। এ বাগানে প্রবেশ ফি একশত রুপি। টিকেট কেটে বাগানের ভেতরে পা রাখতেই একজন গাইড আমাদের অনুসরণ করতে শুরু করলো এবং প্রতিটি ভেষজো উদ্ভিদের নাম ও তার ওষুধি গুণাগুণের বিবরণ জানিয়ে দিলো। কোন গাছ থেকে কোন রোগের কি ঔষধ তৈরি হয়, কিভাবে তৈরি হয় সেটিও বলে দিচ্ছেন তিনি। থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, হাইপ্রেসার, হৃদরোগ এমনকি ক্যন্সারের মতো মরণবেধী রোগেরও ঔষধ এখানে তৈরি হয়। ঘুরে ঘুরে আমরা মশলা, এলাচ, গোলমরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ফল এবং ভ্যানিলা চাষ সরাসরি দেখতে পাচ্ছি এটা অনেক বড় পাওয়া। এই বাগানে ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার সম্পর্কে জানা এবং কমদামে মশলা কেনারও একটা সুযোগ রয়েছে। জনপ্রিয় বাগানের মধ্যে Indian Spices & Herbal Garden অন্যতম, যার চমৎকার গন্ধ ও মনোরম পরিবেশ পর্যটককে মুগ্ধ করে। পেরিয়ার নদীর রাস্তর পর্শ্বে স্পাইস এবং হারবাল গার্ডেন আর অপর পার্শ্বে পরোটাই জঙ্গল যা ভেষজ উদ্ভিদ দ্বারা পরিপূর্ণ। বাগান সংলগ্ন একটি বিশাল দোকানঘর যার পুরোটাই ভেষজ জিনিস আর হারবাল ঔষধ দিয়ে ভর্তি। এ দোকানের কাছে এসে বোউদির চোখ আটকে গেলো। আসলে সবার ভাবনা তোর আর একরকম হয়না, যেমন বোউদির ভাবনা তার সংসার নিয়ে। তাই বোউদির কিছু মসলা কিনে নিয়ে রেখে দিলো তার সংসারের জন্য। যদিও প্রথমে আমরা এখানে নামতে চাইনি কিন্তু এখানে এসে সম্পূর্ণ ধারণাটা বদলে গেলো। সৃষ্টিকর্তা তার প্রতিটি সৃষ্টিজীবের কল্যাণ এ উদ্ভিদ জগতে পরিপূর্ণ করে রেখেছেন, যেন সুন্দর এ ধরণীর বুকে তাদের বেঁচে থাকার কোন অসুবিধা না হয়। আমাদের এ সংক্ষিপ্ত যাত্রা পথে Spices & Herbal Garden যতোটুকু সম্ভব ঘুরে দেখার পর আবার গাড়িতে গিয়ে উঠলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৮

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now