বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৭
মাজহারুল মোর্শেদ
মুন্নার (Munnar)
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দেখি ঝলমলে আকাশ আর মৃদু বাতাসের প্রবাহ গায়ে লাগছে। মনে হলো আজকের দিনটি বুঝি ভালোই যাবে। যে যার মতো করে নিজেদের লাগেজ গুছিয়ে নিয়ে হোস্টেল ভাড়া পরিশোধ করে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম মুন্নার যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
কোচি থেকে মুন্নারের (Munnar) দূরত্ব ১২৫ কিলোমিটার। যেহেতু আমাদের দেখতে হবে তাই আমরা বাসে না গিয়ে একটা মাঝারি আকারের গাড়ি ভাড়া করে নিলাম। প্রিয় পাঠক, এখানে একটা মজার ব্যাপার হলো আমরা কোচিতে যে অসমীয় ড্রাইভার রমেশ আগারওয়ালকে পেয়েছিলাম এবং পাশাপাশি এলাকার মানুষ হিসেবে বেশ অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো তার সাথে। সেই রমেশই আমাদের মুন্নার যাওয়া এবং সেখানকার দর্শণীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার জন্য অন্য আর এক অসমীয় গাড়ির ড্রাইভারকে ঠিক করে দেয়। মোটা মুটি তিন-চার দিন সে আমাদের সাথেই থাকবে এবং আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে মুন্নারের বিভিন্ন দর্শণীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখাবে। এর জন্য তাকে দিতে হবে ১৫ হাজার রুপি। সে আবার পনেরো হাজারে যেতে চায় না কিন্তু গাড়ির ড্রাইভার রবীন আগারওয়াল, রমেশ আগারওয়ালের আপন ছোট ভাই তাই সে অমত করেনি।
যা হোক, রবীন আগারওয়ালের গাড়িতে কোচি থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো মুন্নারের উদ্দেশ্যে। কোচি পার হয়ে একটু সামনে এগুতে রাস্তার ধারে শত শত কাঠের ফার্নিচারের দোকান দেখা যাচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো প্রায় এক কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তাজুড়ে এ সারি সারি দোকানগুলো ঝকঝকে সাজানো আছে। একটি সাইনবোর্ডে দেখতে পেলাম মালায়ালম ও ইংরেজি ভাষায় লেখা Nellikuzhi আমি ধরে নিলাম এটি এ জায়গার নাম।
কোথামঙ্গালম ঢোকার আগে গাড়ির জানালা দিয়ে চোখ যেতেই দেখি বিশাল একটা রাবার বাগান। এখানে রাবার গাছগুলো খুব বেশি বড় নাহলেও বাগানটার শেষ নেই। বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর ক্ষুধায় পেট চোঁ-চোঁ করছে। ড্রাইভার বললাম দাদা রাস্তায় কোন ভালো রেস্টুরেন্ট থাকলে একটু দাঁড়াবেন। কিছু একটা খেয়ে নিতে হবে। একটু সামনে এগুতেই ড্রাইভার রাসা (জধংবধ) নামে ্খুব চমৎকার একটি রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ি দাঁড় করলো। সাইনবোর্ডে দেখলাম এ জায়গার নাম অনুকা (ঙহঁশধ).এটা সম্পূর্ণ একটি ভেজিটোরিয়ান রেস্টুরেন্ট। তিনটি বড় আকারের পুরি, এক বাটি সব্জি, একটা ডিম অমলেট আর এক কাপ চা। জনপ্রতি আশি রুপি। সব্জিটা মুখে দিয়ে উর্মী মুখ চেঁপে ধরে সোজা বেসিনে চলে গেলো। আমি পূবেই বলেছিলাম যে, এখানকার সব্জি কোনভাবেই মুখে তোলা যায় না। কারণ তারা সব্জিতে যে কারিপাতা ব্যবহার করে সেটা তাদের জন্য মজাদার কিন্তু সেটা তাদের কে বোঝায় যে সবার জন্য নয়। যাহোক ডিম অমলেট দিয়ে পুরি খেতে হলো তাই বোউদির মেজাজটা একটু বিগড়ে গেলো ‘শুধু শুধু হাতের পয়সাকে জলে ঢেলে দেওয়ার মতো যা খেতে পারনা তার দাম দিতে হয় কড়কড়া নোট দিয়ে’। বোউদিও কথা শুনে অর্ণব আমার দিকে তাকাচ্ছে
আমাদের অনেকদূরে যেতে হবে তাই কোথাও এক মিনিট সময় নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই। দ্রæত চা-নাস্তা সেরে আমরা উঠে পড়লাম গাড়িতে।
আমাদের গাড়ি চলছে কতো সুন্দর রাস্তার প্রতিটা বাঁক সবুজে মোড়ানো প্রকৃতি, দু ধারে সারি সারি নারকেল গাছ আর ছোট ছোট পাহাড়। দিনের আলোর এক অমোঘ ক্ষমতা আছে যা রাতের সব অন্ধকারকে নিমিশেই মুছে ফেলে স্নিগ্ধ আবেশে নিবিষ্ট করে দেয় মন। তাইতো আমার রাত জাগা চোখ যেন পলকহীনভাবে আটকে থাকে ওই দূর পাহাড়ের গায়ে। আমরা ক্রমশঃ উপরে উঠছি, পাহাড়ের দিকে যাচ্ছি। আমি ড্রইভারের বামে একেবারে সামনের সিটে বসেছি যেন পুরো রাস্তায় চারিদিকের সবকিছু দেখতে পাই। বেশ কিছুক্ষণ চলার পর হঠাৎ পথের বাঁকে একটা পাহড়ি নদীর উপর রঙধনু আকৃতির ব্রিজ চোখে পড়লো। দূর থেকে দেখে মনে হলো নদীর উপরে ঠিক যেন একটা রঙধনু আঁকা। ব্রিজের কাছে যেয়ে ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বললাম। একটা বড় আকারের নাম ফলকে ইংরেজিতে লেখা ÒNeriamangalam Bridge” (Frist classA arch bridge in Asia).) ১৯৩৫ খ্রিস্টাবে তৈরি হওয়া এই ব্রিজ কেরালার এরনাকুলাম ও ইরিক্কি এই দু’জেলাকে সংযুক্ত করেছে। আমি গাড়ি থেকে নামা মাত্রই আমার পিছে পিছে উর্মী অর অর্ণব দু’জনে নেমে এলো। পায়ে হেঁটে ব্রিজটা পার হওয়ার সময় হঠাৎ চোখ নিচের দিকে চলে যায় আর অমনি ভয়ে গায়ে লোমগুলো খাড়া হয়ে যায়। উর্মী ভয়ে ভয়ে আমার হাত ধরে হাঁটছে।
ব্রিজ থেকে ১০-১২ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করার পরই আমরা রাস্তার পাশেই দেখতে পেলাম ‘চিয়াপ্পারা জলপ্রপাত’(Cheeyappara Waterfalls).গাড়ি খেকে নেমে জলপ্রপাতের কাছে যেতেই মনটা যেন কেমন নেচে উঠলো। উপরের দিকে তাকিয়ে দেখি সাতটা স্তর পার হয়ে বিশাল জলরাশি এসে নিচে পড়ছে। পুরো এলাকাটা স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর। এতোটাই উঁচু থেকে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ছে যে দূর থেকে রোদের ঝলমলে আলোয় যেন বিশাল একটা জাদুকরী বলয়ের সৃষ্টি করেছে। পড়ন্ত জলের ছলছল শব্দের ধ্বনি এতোটাই মধুময় যে বুকের ভেতর একটা স্বর্গীয় ভাব জেগে ওঠে। এ যেন এক অন্য রকমের শান্তি, অন্য রকম প্রাপ্তি, যা প্রকৃতির কাছে নিজেকে হার মানায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now