বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৬

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৬ মাজহারুল মোর্শেদ “ম্যাটানচেরি বা ডাচ প্যালেস”(Mattancherry or Dutch Palace) এটি ভারতের একটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ, যা “ডাচ প্যালেস” নামেও পরিচিত। পর্তুগিজরা এটি তৈরি করেছিল এবং পরে ডাচরা সংস্কার করে, তাই এর নাম হয়েছে “ডাচ প্যালেস”। কেরালার রাজাদের জন্য এটি নির্মিত হয়েছিল এবং এখানে সুন্দর মুরাল (দেয়ালচিত্র) ও ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। কেরালার উপকূলীয় শহর কোচি যেখানে লবণাক্ত বাতাসে মিশে থাকে ইতিহাসের গন্ধ, সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন নিদর্শন ‘ম্যাটানচেরি বা ডাচ প্যালেস’। কিন্তু এই প্রাসাদের দেয়াল শুধু ইট-পাথরের নয় এগুলো যেন শত শত বছরের গল্প, গোপন স্মৃতি আর হারিয়ে যাওয়া সময়ের সাক্ষী। প্রাসাদের ভেতরে আমরা যতোই দেখছি ততোই মুগ্ধ হয়ে চারিদিকে ঘুরছি। শুধুই প্রাচীন নিদর্শনের চিত্র। প্রাসাদের মূল দরজায় রক্ষির পোশাক পড়ে একজন মধ্যবয়সী লোক দাঁড়িয়ে আছে। আমরা যেহেতু মালায়ালাম ভাষা বুঝি না তাই আমি ড্রাইভার রমেশকে বললাম, তার সাথে কথা বলে “ডাচ প্যালেস” এর ইতিহাসটা জেনে নিতে। রমেশ তার সাথে কথা বলে আমাকে জানায়- ‘অনেক দিন আগের কথা। কোচিন শহরের রাজ পরিবার ঐতিহাসিকভাবে পেরুম্পাডাপ্পু স্বরূপাম (Perumpadappu Swaroopam) নামে পরিচিত। এর প্রথম রাজা ছিলেন মহারাজ ‘বীর কেরালা ভার্মা’। তিনি প্রায়ই এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতেন, এক বিশাল প্রাসাদের দেয়াল জুড়ে আঁকা আছে দেবতা, যুদ্ধ আর প্রেমের গল্প। কিন্তু ঘুম ভাঙলেই সেই ছবিগুলো হারিয়ে যেতো। ঠিক সেই সময়, সমুদ্রপথে কোচিতে এসে পৌঁছায় পর্তুগিজরা। তারা রাজার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইলো কোচির রাজা তাদের কথায় রাজি হয়ে গেলেন। পর্তুগিজরা রাজার উপর খুশি হয়ে উপহার হিসেবে তাকে এই বিশাল প্রাসাদ দান করেন। সেই প্রাসাদই ছিলো আজকের ‘ম্যাটানচেরি প্যালেস’। প্রাসাদটি তৈরি হওয়ার পর রাজা প্রথম দিন ভেতরে ঢুকেই স্তব্ধ হয়ে গেলেন। কারণ, দেয়ালজুড়ে তিনি দেখতে পেলেন সেই একই ছবি যা তিনি স্বপ্নে দেখতেন! রামায়ণ, মহাভারত, দেবদেবীর অলৌকিক দৃশ্য সব যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে রঙের ছোঁয়ায়। রাজা মনে মনে ভাবলেন, “এটা কি শুধু কাকতালীয়? নাকি এই প্রাসাদের সঙ্গে আমার কোনো অদ্ভুত সম্পর্ক আছে? এক রাতে, রাজা প্রাসাদের ভেতর একা হাঁটছিলেন। হঠাৎ তিনি শুনতে পেলেন মৃদু গানের শব্দ। শব্দটা আসছিল একটি বন্ধ কক্ষ থেকে। দরজা খুলতেই তিনি দেখলেন এক বৃদ্ধ চিত্রকর, দেয়ালে ছবি আঁকছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই চিত্রকর যেন আলো-আঁধারির মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছেন। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কে?” বৃদ্ধটি মৃদু হাসলেন, “আমি সেই মানুষ, যে তোমার স্বপ্ন আঁকে।” রাজা বিস্মিত হয়ে বললেন, “তুমি কি মানুষ, না কোনো আত্মা?” বৃদ্ধটি বললেন, “আমি সময়ের অংশ। যখনই কেউ এই প্রাসাদের গল্প জানতে চায়, আমি ফিরে আসি। রাজা বুঝতে পারলেন, এই প্রাসাদ শুধু একটি স্থাপনা নয় এটি যেন জীবন্ত। এটি তার নিজের গল্প নিজেই বলে। তিনি আদেশ দিলেন, “এই প্রাসাদকে কেউ যেন কখনো ধ্বংস না করে। কারণ এখানে শুধু ইতিহাস নয় এখানে সময় বাস করে।” অনেক বছর পরে, এক তরুণ ইতিহাসবিদ এই প্রাসাদ দেখতে এলেন। তিনি শুনেছিল, এই জায়গায় নাকি রাতে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। রাতের বেলা, সে একা প্রাসাদের ভেতরে হাঁটছিল। হঠাৎ সে দেখতে পেল দেয়ালে আঁকা ছবিগুলো নড়ছে! রাম আর রাবণের যুদ্ধ যেন সত্যি হয়ে উঠেছে! আর ঠিক তখনই, তার সামনে এসে দাঁড়াল সেই একই বৃদ্ধ চিত্রকর। বৃদ্ধ বললেন, “তুমি কি জানতে চাও, এই প্রাসাদের রহস্য?” তরুণ ইতিহাসবিদ- মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ।” বৃদ্ধ বললেন, “এই প্রাসাদ সময়কে ধরে রাখে। এখানে যা আঁকা হয়, তা কখনো হারায় না। কারণ ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না।” ভোর হলে তরুণ ইতিহাসবিদ দেখলেন সবকিছুই যেন স্বাভাবিক হয়ে আছে। দেয়ালগুলো আবার স্থির, নিঃশব্দ। কিন্তু তার হাতে ছিলো একটি তাজা রঙের দাগ যেন সত্যিই সেই চিত্রকরকে ছুঁয়েছিলো। তিনি বুঝতে পারলেন, “ম্যাটানচেরি বা ডাচ প্যালেস” শুধু একটি প্রাসাদই নয় এটি এক জীবন্ত ইতিহাস, যেখানে অতীত কখনো হারিয়ে যায় না, মুছে যায় না। যদি কেউ গভীর রাতে সেই প্রাসাদের ভেতরে যায়, হয়তো সে শুনতে পাবে তুলি দিয়ে আঁকার মৃদু শব্দৃ। সারাদিন ফোর্ট কোচির নানান ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো দেখতে দেখতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে এলো সেটা টেরই পেলাম না। সবার চোখে মুখে প্রচণ্ড ক্লান্তির ছাপ। তাই আমরা হোস্টেলে ফিরে এলাম। রাতে তাড়াতাড়ি ডিনার শেষ করে সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম। কারণ কাল আমাদের আরও একটা লম্বা জার্নি আছে মুন্নারের পথে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now