বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’ -৪
মাজহারুল মোর্শেদ
অর্ণব অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে কারণ এমন দ্রুতগামী ট্রেনের জানালা খোলার মতো নিরেট গাধা যে আমি নই সেটা অন্তত বন্ধু হিসেবে সে ভালো করেই জানে। তবে হঠাৎ কি এমন প্রয়োজন পড়লো যে, আজ আমাকে জানালা খুলতে হলো? এদিকে গোধুলি পেরিয়ে ক্রমশঃ আঁধার ঘনিয়ে আসছে। বাহিরে আর তেমন কিছুই চোখে পড়ছেনা। এবার অর্ণব তার মাথা থেকে প্রশ্নের বোঝাটাকে ঝাড়িয়ে ফেলতে আমার পাশে এসে বসলো এবং আমি কেন জানালা খুলতে গেলাম খুব কৌতুল ভরে জানতে চাইলো। উপেন শর্মার মধ্যবয়সী অর্ধাঙ্গিনী বঁধুর হালকা শীতের মাঝেও অহেতুক পেপারসিট দিয়ে খুব আদরমাখা বাতাস করার প্রেমময় দৃশ্যটার পূনরাবৃত্তি করি। আমি তাকে এটাও বলি যে, অকল্পনীয় সেই দৃশ্যটা আমার অমরত্ব। আমার যাত্রা জীবনে নিঃসঙ্গ আকাশ প্রদীপের সান্নিধ্য যেন পূর্ণতায় মিলনের সুর বেজে ওঠে। আমার কথা শেষ হতে না হতেই অর্ণব হাসতে হাসতে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ে। এবার পাশের সিটে বসে থাকা উপেন শর্মার মধ্যবয়সী অর্ধাঙ্গিনী বঁধু উৎফুল্ল চিত্তে বলে ওঠে- ‘আরে মশাই, তোমাদের আনন্দ-বিনোদনের সিটে-ফোটা আমাদেরকেও দাও’। তাহলে এ সুদীর্ঘ পথটা বেশ চলে যাবে।
অর্ণব হাসি থামিয়ে একটু স্বাভাবিক হয়ে ভেজা চোখ মুছতে মুছতে বলে, হ্যাঁ বোউদি-ঠিক বলেছেন। আপনার মতো বোউদি পাশে থাকলে শুধু কেরালা কেন? মরুসাহারাও হেঁটে পার হওয়া যায়।
বোউদি এবার আনন্দে গদগদ হয়ে একটু লাজুক ভাব নিয়ে মাথা নিচু করে কি যেন ভাবতে শুরু করলো।
এখন বাজে দুপুর আড়াইটার মতো, আমরা এসে গেলাম অন্ধ্রপ্রদেশের ‘বিশাখা নগর রেইলওয়ে জংশনে’। কতৃপক্ষের কাছে জানতে পারলাম এখানে ট্রেনের ইঞ্জিন পাল্টানো হবে। কাজেই বেশ কিছুটা সময়তো পাবো নিচে নামার জন্য। ‘বিশাখা নগর রেইলওয়ে জংশনে’র প্রধান আকর্ষণ হলো ইস্টার্ন ঘাটের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। ছোট ছোট পাহাড় আর ঝোপ-ঝাড়ে ভরা চারপাশের প্রকৃতি। অনেকটা লালচে মাটির উপর পিঙ্গল আভা দিগন্ত যেন ভরে গেছে এক সুদৃশ্য মায়াময় মহুয়া জগতে। আমি স্টেশনের একেবারে শেষ প্রন্তে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি এসে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছি আর বনস্পতি মায়াময় মহুয়া জগতের সাথে নিজের সংযোগ ঘটানোর চেষ্টা করছি।
এমন সময় পিছন থেকে এসে উর্মী বলে, এভাবে একা একা কি ভাবছো কাক্কু? আমাদেরকেও তো তোমার ভাবনার ভাগিদার বানাতে পারো।
অর্ণব বলে- ও কি আর এ জগতে আছে উর্মী? ভাবের জগতে ডুবে গেছে।
তুই সত্যি বলেছিস অর্ণব- ঐদিকটায় একবার চেয়ে দেখ, পাহাড়ের গায়ে সবুজ প্রকৃতি, সারি সারি গাছ-গাছালি তার সাথে মিশে আছে হালকা মেঘের পরশ অনেকটা শুভ্র আভা যেন দিগন্তের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে।
উর্মী আমার হাতটা ধরে একটা হ্যাঁচকা টান দিয়ে বলে, তুমি সত্যি সত্যি এবার পাগল হয়ে যাবে কাক্কু। চলো এখনি ট্রেন ছেড়ে দেবে।
আমরা যেই মাত্র ট্রেনে পা রাখলাম অমনি ট্রেনটা ছেড়ে দিলো। সাপে বর, উর্মীও একটু মাতব্বরি করার মতো বড় একটা চান্স পেয়ে গেলো। সে তার মাকে বলতে শুরু করলো-জানো মা, আমি না হলে এখনি মোর্শেদ কাক্কু ট্রেনটা ফেল করে যেতো। এদিকে ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে আর উনি স্টেশনের বাইরে গিয়ে আকাশ-বাতাস, পাহাড়-পর্বত দেখছেন। শুধু কি তাই! মহাঋষির মতো একেবারে ধ্যানে মগ্ন হয়ে পড়েছে। আমি হাত ধরে টেনে না আনলে নির্ঘাৎ ট্রেন ফেল।
ঐদিও বোউদি এই প্রথম আমার সাথে মসকরা করার একটা সুযোগ পেলো আর সেটাও বেশ কাজে লাগাতে মেয়ের সাথে কণ্ঠ মেলালো-
কবি-সাহিত্যিকরা তো এমন পাগলই হয়, নইলে কি আর চলন্ত ট্রেনে কেউ এভাবে জানালা খুলতে যায়?
বোউদির মুখে জানালা খোলার বিষয়টি শোনার পর আমার খুব লজ্জা হতে লাগলো তবে সেই সাথে মনের ভেতর একটা প্রতিবাদী সুরও বেজে উঠলো এই বলে যে, আমার এহেন কর্মকাণ্ডে গিনিপিক তো বোউদি নিজেই। সেটা অর্ণব ছাড়া আর কেউ জানে না।
সূর্যটা এখন যে মধ্য গগনে সেটা পেটের ক্ষুধাই বলে দিলো। পাশ ফিরে তাকাতেই দেখি লাঞ্চের প্যাকেট এসে গেছে। ১৩০ রূপিতে ডাল, ভাত, আলুর দম, পাপর, চাটনি আর ছোট মাছ। যদিও আমরা এতে অভ্যস্ত নই, কিন্তু ক্ষুধার পেটে বেশ অমৃত লাগছে। এ কয়েক দিনে সেটা অনেকখানি মিলিয়েও গেছে জীবনের সাথে।
এভাবে আনন্দ-বেদনার অনুভুতি নিয়ে কাঙ্খিত সময়ের প্রতিক্ষা আর দুর্বার গতিতে চলছে আমাদের ট্রেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now