বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

‘প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৩

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X ‘প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৩ মাজহারুল মোর্শেদ আমার পাশের সিটে ঠিক ডানদিকে বসে ঝিমাচ্ছেন এক ভদ্রলোক, সাথে তার মধ্যবয়সী অর্ধাঙ্গিনী ও একটি সম্ভাবনাময় যৌবনবতী কিশোরী। গতরাত থেকে আমি বেশ কৌতুহলভরে লক্ষ্য করছি, রেলগাড়ির এলিয়ে দুলিয়ে চলার গতির সাথে তার ঘুমের কি গভীর প্রেম। শুধু খাওয়ার সময়টুকু বাদে কখনো তার চোখ দু’টোকে খোলা দেখিনি। রাতের নীরবতায় যখন সমস্ত প্রকৃতি ঘুমের নেশায় মগ্ন তখন তার নাকের ঘটঘটে ডাক যেন রেলগাড়ির ইঞ্জিনকেও হার মানায়। আমি শুধু আমার কথাই বলছি না, অর্ণবকেও দেখছি মাঝে মাঝে দু’হাতে কান চেপে ধরে স্লিপিংসিটে এপাশ-ওপাশ করতে। আজকের দিনটা বেশ মনোরম আবহাওয়া, নয় গরম- নয় ঠাণ্ডা ঠিক দু’টোর মাঝামাঝি। তবুও ভদ্রলোকের মাথায় তার মধ্যবয়সী অর্ধাঙ্গিনী একটি মোটা রকমের পেপারসিট দিয়ে হৃদয়ের উজার করা ভালোবাসার মিশ্রিত আবেগে ঠিক যেন দরদি হাতে বাতাস করছে। এর আগে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বে যে- দু’একবার চোখ যায়নি সেটা বললে নিজের বিবেককে ফাঁকি দেওয়া হবে। তবে শেষ বারের মতো চোখে চোখে পড়তেই নেহাত পরিচয়ের সূত্র ধরে দু’চারটা কথাও হয় ভদ্র মহিলার সাথে। পরিচয়ে জানতে পারলাম, তারা এসেছেন আসামের শীলচর থেকে। তার হাজবেণ্ড নাকি খাঁটি বাঙালি, চাকুরির সুবাদে গিয়েছিলেন শীলচরে এবং সেখানেই বিয়ে-সাদি করে ঘর-বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছেন। ভদ্রলোক শিলিগুড়ি আকাশবানীর (রেডিও) তালিকাভুক্ত একজন শিল্পীও বটে। তবে তিনি যে সংস্কৃতি মনা মানুষ সেটা তার স্বভাব সুলভ আচরণে কিছুটা চিহ্নও পাওয়া যায়। হয়তো সে কারণে বোউ-বাচ্চা নিয়ে এ লম্বা ভ্রমণে বের হয়েছেন। যাহোক হালকা শীতের মাঝেও অহেতুক পেপারসিট দিয়ে উঁপচে পড়া ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ আর দরদি হাতের আদরমাখা বাতাস করার সেই প্রেমময় দৃশ্যটা আমাকে এতোটাই মুগ্ধ করেছিলো যে, আমি ঠোঁট কামড়ে ধরেও অট্ট হাসিটাকে চেঁপে রাখতে পারিনি। পাছে কিনা ভদ্র মহিলা ধরেই নেয় যে, আমি তার এহেন মধুময় আচরণে নির্লজ্যের মতো প্রতি হিংসাপরায়ণ হয়ে উঠছি। তাই অনেকটা নিরুপায় হয়েই অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে অহেতুক আমার জানালাটা খোলার চেষ্টা করছিলাম। কথায় বলেনা? ‘বিপদ যখন আসে তখন কুনো ব্যাঙেও হাসে’। আমার দশা তাই হলো-আমার অহেতুক জানালা খোলার ব্যর্থ চেষ্টাটি ট্রেন সুপারভাইজারের নজরকে ফাঁকি দিতে পারে নাই, তাই সম্ভবত তিনি খুব দ্রুত এসে জানালাটি অর্ধেক পরিমান খুলে দিয়ে চলে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে বাহিরের প্রচণ্ড বাতাসের ধাক্কায় আমার বইখাতা সব উড়ে গিয়ে গোটা কামড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো। শৈলেন দা ও অর্ণব অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার এ দু’দিনের নীরিহ যাত্রা পথে অসামান্য শ্রম ও সাধনা দ্বারা যে কষ্টের হস্তলিপি তৈরি হয়েছিলো তা মুহুর্তের মধ্যেই বাতাসে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেলো। অবশ্য এতে আমার ভীষণ কষ্ট হওয়ার কথা কিন্তু না, আমার কিছুই মনে হলো না। শুধু একটি ভাবনাই মাথার মধ্যে প্রচণ্ডভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে, আমি চাইলাম কি আর হলোটা কি? নিজেকে সামলাতে না পেরে হো-হো করে হেসে উঠলাম। নিশ্চয়ই ভদ্র মহিলা আমাকে পাগল ভেবে ধরে নিয়েছে। আপাতত তিনি যাই ভাবে ভাবুন না কেন এ নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই। তবে চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হস্তলিপির ছিন্ন-ভিন্ন কাগজগুলো না কুড়াতে পারলে সেটা আরোও কষ্টদায়ক হবে। আমি খুব মনযোগী হয়ে কাগজ কুড়াতে লেগে গেলাম। সম্ভবত আমার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে ভদ্র মহিলার সেই সম্বাবনাময়ী যৌবনবতী কিশোরী মেয়েটিও আমাকে সাহায্য করার নিমিত্তে কাগজ কুড়ানোর কাজে লেগে গেলো। প্রচণ্ড অনিচ্ছার সত্ত্বেও আমাকে বলতে হলো, আহা! থাকনা, এটা খুব কঠিন কিছু না, আমি নিজেই করতে পারবো। নাছড়-বান্দা যুবতী ট্রেনের কামরায় দৌড়ো-দৌড়ি করে চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাগজগুলো কুড়িয়ে এনে আমার হাতে দিলো। নিজের অজান্তেই আমার স্বভাবসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশে আমি বললাম-‘তোমাকে ধন্যবাদ’। প্রথম সংলাপে হঠাৎ কাউকে তুমি সম্বোধন করাটা নেহাত বোকামি ও চরম অভদ্রতা, তবে মেয়েটি বয়সে অনেক ছোট বলে হয়তো আমার মুখ ফসকে তুমি শব্দটা বেরিয়ে গেছে। কিন্তু এটাও সত্য যে, ভারতবর্ষে বাঙালিদের মাঝে সেটা মোটেও অস্বাভাবিক কিংবা অসম্মানের কিছু নয়। খুব আপনজন বলে- বোঝাতে তারা ছোট বড়ো সবার ক্ষেত্রেই ‘তুমি’ শব্দটা খুব স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করে থাকে। সেই সম্বাবনাময় যৌবনবতী কিশোরী মেয়েটি তার ডাগর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো-‘কাক্কু, আর কিন্তু জানালা খোলো না’ ঠিক আছে? আমি তার কথায় মনে মনে খুব লজ্জা পেলাম, তাই সুবোধ বালকের মতো নিজের অজান্তেই মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে ইঙ্গিত করলাম, ঠিক আছে কখনো আর এমনটি হবে না। তবে মনে মনে এটাও বললাম, যা কিছু ঘটে গেলো সেটার জন্য আমি দায়ী নই। কিন্ত আমি সব পরিস্থিতি যেনেও কেন সেই জানালাটা খুলতে গেলাম, সেটাতো কাউকেও বলে বোঝাতে পারছি না। শুধু নিজেই নিজের বোকামি আর অসহায়ত্বেও কষ্টটা বুকে চাঁপা দিয়ে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম। চলন্ত গাড়িতে সিটের উপর প্রান্তে ঢেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি। আমি বললাম, (যেহেতু সে আমাকে কাক্কু বলেছে) এ মা’ শোন, তোমার নামটিই তো এখনো জানা হলো না? উর্মী শর্মা। সবাই উর্মী বলে ডাকে। ঝটপট উত্তর দিলো। ও আচ্ছা, আমি অনেকটা কৌতুক করেই বললাম- তোমাদের শীলচরের সেই বরাক নদীর ঢেউ? হুম, হয়তো সেটা মা-বাবার খুশির ঢেউ। মেয়েটির তাৎক্ষনিক এই চমৎকার ও রোমান্টিক উত্তরে আমি খানিকটা বিশ্মিত হয়ে গেলাম। যেন আমার প্রশ্নের উত্তর তার আগে থেকেই জানা ছিলো। তোমার বাবার নামটা কি জানতে পারি? হ্যাঁ- উপেন শর্মা। যদি কিছু মনে না কর তাহলে তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাই। না, মনে করার কি আছে, বলুন না, এখানে তো আমাদের অঢেল সময় হাতে। হ্যাঁ অনেকটা ঠিক, তবে উপযাচক হয়ে কাউকে বিরক্ত করা খুব বেমানান দেখায়। ও আচ্ছা, সমস্যা নেই বলুন। আচ্ছা, তোমরা ক’ভাই-বোন? আমি একাই। আমার কোন ভাই-বোন নেই। বেশতো মা-বাবার দখল সত্ব শুধুই তোমার, ভাগ বসানোর কেউ নেই। ঠিক কি না বলো? হুম, অনেকটা ঠিক তবে অনেক কিছু থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে হয়। সে তোমার নিজেস্বতা, ভালো-মন্দ, সুবিধা-অসুবিা এগুলোতো একই মায়ের গর্ভজাত সন্তান। এমনটা মনে হতেই পারে। আচ্ছা, তুমি কোন ক্লাসে পড়ো? মাধ্যমিক দিয়েছি এবার, পরীক্ষা শেষ তাই অবসর সময়টা কাজে লাগানোর জন্য আমরা কেরালায় বেড়াতে যাচ্ছি। তাছাড়া মা-বাবার ‘ম্যারেজ ডে’ আগামী সপ্তাহে। তাই সিদ্ধান্তটা ঠিক ভাবে মিলিয়ে গেলো। বেশতো, আমরাও কেরালায় যাচ্ছি বেড়াতে। তাহলেতো বেশ ভালোই হলো, একসাথে জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে। জানো কাক্কু, মা আবার বেশিক্ষণ হাটতে পারে না, বুক ধড়ফড় করে। তাই খুব চিন্তা হচ্ছিলো, একা একা কী করবো, কিভাবে সামলাবো। আপনারা পাশে থাকলে তো আর কোন চিন্তাই নেই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ‘প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now