বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-২৬

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-২৬ মাজহারুল মোর্শেদ বিবেকানন্দ রকের ঠিক ডানদিকে চোখ বাড়ালে দেখা যায় তামিল তামিল মহাকবি ও ফিলোসফার থিরুভাল্লুভার (Thiruvalluvar) এর মূর্তি। তবে সেটার দূরত্বও মাত্র কয়েক মিটার হবে। এখানে পর্যটকদের সুবিধার্থে একটা গ্লাসের ব্রিজ করা হয়েছে। তামিল কবি, ফিলোসফার থিরুভাল্লুভার (Thiruvalluvar) সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। তাঁর লেখা মহাগ্রন্থ তিরুক্কুরাল (Thirukkural) বইটি ছিলো তামিল সাহিত্যের কালজয়ী নীতিশাস্ত্র ও পবিত্র গ্রন্থ। সেটার মূল উপপাদ্য ছিলো তিনটি বিষয় এথিক্স-লাভ, পলিটিক্স, ইকোনমিক্স। এই কাব্যগ্রন্থ সারা তামিলনাডুতে সাংঘাতিক জনপ্রিয় ছিলো। কাব্যগ্রন্থে প্রধানত দু’লাইনের ছন্দবদ্ধ কবিতা ছিলো এই বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে ১৩৩ টা চ্যাপ্টার ছিলো সেই জন্যই থিরুভালুভারের মূর্তির উচ্চতা ১৩৩ ফিট। আত্মনিয়ন্ত্রণের মতো সার্বজনীন মূল্যবোধকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে বইটিতে। আমাদের পায়ের নিচে হু হু করে সমুদ্র বইছে। গ্লাস বটম ব্রিজের উপরে আমরা হাঁটছি যা দুই আইল্যান্ডকে সংযুক্ত করছে। এই ব্রিজটি খুবই মজার আনন্দদায়ক কিন্ত ভয়ানক বটে। মনে হচ্ছে আমরা সমুদ্রের উপর দিয়ে হাঁটছি। আমরা সবাই একই সাথে হাত ধরাধরি করে হাটঁছি কারণ হলো বোউদি। ব্রিজের নিচের দিকে তাকালে যাদের হার্ট দুর্বল তাদের সমস্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যাহোক আমরা একপা-দু’পাকরে হাঁটতে হাঁটতে পৌছে গেলাম স্ট্যাচুর আইল্যাণ্ড। মূর্তিটা দারুন সুন্দর এ বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই কিন্তু যতোবারই আমি এই মূর্তিটাকে দেখছি আমার কেন জানি মনে হচ্ছে যে চৈনিক যোদ্ধাদের যেরকম মূর্তি আমরা দেখতে পাই ঠিক সে রকম একটা স্ট্যাচু এটা। আমি জানিনা, হয়তো আমার ধারণা ভুলও হতে পারে কিন্তু আমার মনে হচ্ছে তাই। অনেকটাই উপরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। এখানে এতোটাই পর্যটকদের ভিড় যে উপরে ওঠাও বেশ কষ্টকর। দাদা-বোউদি নিচে দাঁড়িয়ে থাকলো অর্ণব, আমি আর উর্মী উপরে উঠছি। তবে এতাটা ভিড় হলেও এখানে প্রচন্ড হাওয়া বইছে তাই গরমের লেস মাত্র নেই। জায়গাটা অনেকটাই উঁচুতে তাই হাওয়ার জোর এতোটাই বেশি যে মনে হয় আমাকে ঠেলে ফেলে দেবে। গান্ধী মেমোরিয়াল- মহাকবি থিরুভাল্লুভার (Thiruvalluvar) এর মূর্তি দেখে নিচে নেমে বাম দিকে তাকিয়ে দেখি ছবির মতো ঝকঝকে অপূর্ব সুন্দর একটা বিশাল আকারের স্মৃতিসৌধ। সেটার পাশদিয়ে আমাদের ফেরার রাস্তাও আছে। একটু সামনে গিয়ে একজন পর্যটককে জিজ্ঞাসা করে জানতে পেলাম যে ওটা ‘গান্ধী মেমোরিয়াল’। ১৯৪৮ সালের ১২ই ফেবব্রুয়ারি মহাত্মা গান্ধীর চিতাভস্ম সমুদ্রে বিসর্জনের আগে জনগণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এখানে একটি পাত্রে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেখানেই তৈরি হয়েছে ‘গান্ধী মেমোরিয়াল’। এই স্মৃতিসৌধটির কেন্দ্রীয় অংশ বা গম্বুজটির উচ্চতা ৭৯ ফুট, যা গান্ধীর মৃত্যুর সময় তাঁর বয়সকে নির্দেশ করে। ভবনটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে প্রতি বছর ২রা অক্টোবর গান্ধীর জন্মদিনে ছাদের একটি ছিদ্র দিয়ে সূর্যালোক সরাসরি সেই স্থানে পড়ে যেখানে চিতাভস্মের পাত্রটি রাখা আছে। স্মৃতিসৌধের ভেতরে যেতে কোন টিকিট করা লাগেনা তবে জুতা-সেণ্ডেল নিরাপদে রাখার জন্য ৫টাকা করে দিতে হচ্ছে। গান্ধীজীর স্মৃতিসৌধের ভেতরের প্রভেশ করার পর প্রতিটি দেয়ালে তাঁর কর্মময় জীবনের ইতিহাস ও চিত্র দেখে এ মহামানব সম্পর্কে আমার ধারণাটা পাল্টে গেলো। এখানে গান্ধীজির জীবনের বিভিন্ন পর্বের অনেক ছবি আছে একটা ছবির সামনে এসে আমার আচমকা দৃষ্টি আটকে গেলো এটা হচ্ছে ১৯০০ সালে উনি জোয়ানসবার্গে লিগাল প্র্যাকটিস করতেন সেই সময়ের একটা ছবি। আমরা জানি মানুষ একজনমে সব পায়না কিন্ত এ সকল মহামানব যাঁরা শুধু মানব জাতিকে দিয়েই গেছে তাঁদের প্রাপ্তির মাঝে অপূর্ণতা থাকলেও জীবন একেবারে ধন্য।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-২৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now