বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-২৪

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-২৪ মাজহারুল মোর্শেদ ম্যানগ্রোভ আইল্যান্ডে পৌছে অটোরিক্সা থেকে নেমে একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে বোট ভাড়া করতে হয়। বোট ভাড়া মিনিমাম চার্জ হচ্ছে এক ঘন্টার জন্য দেড় হাজার রুপি, যদি দু ঘন্টা ঘুরতে চান সে ক্ষেত্রে আরোও একহাজার রুপি যোগ করতে হবে। ম্যানগ্রোভ আইল্যান্ডে অনেকগুলো পর্যটন পয়েন্ট আছে। একেকটা পয়েন্টের আকর্ষণ একেক রকমের। সবগুলো পয়েন্ট ঘুরে দেখতে হলে ছয় থেকে আট ঘন্টা সময় লাগে। এখন আজে এগারোটার মতো কাজেই আমাদেও হাতে ততোটা সময় নেই। এক ঘন্টায় তারা দেখাতে পারবে বড়জোর চারটা পয়েন্ট, সে হিসেবে দু ঘন্টায় আটটা। যাই হোক উর্মীর খুব ইচ্ছে আমরা সবগুলো পয়েন্ট টাচ করি। কারণ আমারা যেহেতু ঘুরতে আসছি দেখাটা বেশি জরুরি। এখানে আরেকটা শর্ত আছে। এটা দু’জনের জন্য হলো রেট, এবার যদি তিনজন হন তাহলে ৫০০ টাকা করে এক্সট্রা লাগবে। এখানে অনেকগুলো এখানে এজেন্ট রয়েছে চারদিকে। আমাদের অটোয়ালা যার কাছে নিয়ে এলো, বোঝাই যাচ্ছে তারও একটা আনুপাতিক হারে কমিশন রয়েছে। তারা সেটা স্বীকার করবে না স্বাভাবিক কিন্তু রেটটা সব জায়গায় একই রকম। তবে অর্ণবও নাছোড় বান্দা, দরাদরি করে সবগুলো পয়েন্ট ঘুরে দেখার জন্য ৪হাজার রুপি ঠিক করে। যেহেতু আমরা একটা বোটে চারজনই থাকতে চাই সেহেতু তারা আমাদের জন্য একটা অপেক্ষাকৃত একটা বড় বোট দিয়েছিলো। প্রকৃতি যে কেরালে এতোটা সুন্দর হতে পারে সেটা এই বোটে করে না ভাসলে বোঝা সম্ভব নয়। বোট চলতে চলতে আমরা ক্রমশ ঢুকে পড়ছি ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের একেবারে গভীরতম অঞ্চলে। নাম নাজানা অনেকগুলো ছোট-বড় গাছ গলা অবদি পানি মনে হচ্ছে বায়ু থেকে শুধু কার্বনডাই অক্সাইডটুকু গ্রহণ করার জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ম্যানগ্রোভের জঙ্গলটা আরেকটু পরে দুদিকে নারকেল গাছ আর সুন্দর জংলি গাছ। হ্যাঁ জংলি গাছ ঠিক যেন আম গাছের মতো। হুবহু পাতার আকৃতি এবং ফলের আকার। নৌকা চলতে চলতে উর্মী বায়না ধরে মোর্শেদ কাক্কু দাওনা একটা ফল ছিঁড়ে। একটু জিহ্বায় দিয়ে দেখি, খুব লোভ হচ্ছে আমার। যে কথা সেই কাজ, আমার অপেক্ষা না করে উর্মী দাঁড়িয়ে আমার কাঁধের উপর ভর করে দু’টো ফল ছিঁড়ে নিলো। কিন্তু এখানে প্রকৃতির গায়ে হাত দেয়া নিষেধ। বনবিভাগের কর্মীরা সারাক্ষণ স্পিটবোটে করে টহল দিচ্ছে। তবে হয়তো শুধু ফল ছেঁড়ার জন্য নয় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের কাজ। ফিলটাই আলাদা একটা ফুরফুরে মেজাজে এরকম একটা বনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা। একবার ভাবতে অবাক লাগে। আহা! কি যে অপূর্ব লাগছে চারিদিকে। আহা এই মৃদুমন্দ হাওয়া, থই থই পানির উপর দিয়ে ছলছল কওে চলছে আমাদেও বোট। এমন মোহণীয়ক্ষণ হয়তো এ জীবনে আর আসবে কি না সেটা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। জীবনের অন্যতম সেরা কেরালার এই ম্যানগ্রোভ ভ্রমণ স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। অসাধারণ ওই আম সদৃশ্য গাছগুলো পুরো নুয়ে পড়েছে জলের উপরে। আমাদের মাঝি বলতে চাইছেন যে, এই জায়গাটাও হুবহু সেরকম যে জায়গাটাকে এ্যানাকোন্ডা বলে। তার মানে এনাকোন্ডা যদিও এখানে নেই কিন্তু এনাকোন্ডা যে জায়গায় শুটিং হয়েছিল সেরকম একটা জায়গা। সত্যিই কি সাংঘাতিক! একটা অন্যরকম জায়গার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা। অপূর্ব মন ভরে গেলো এরকম জায়গায় আমি অনেকবার ভ্রমণ করেছি কিন্তু আজকেরটা কেন জানি আমি মনে হচ্ছে যে এক নম্বর দেয়া যায়। মানে একটা ছোট্ট নমুনা আর কি পেলাম সকালবেলা কোভালাম বিচ থেকে শুরু হয়েছিলো সে মুগ্ধতার ঘোর বুঝি এখনও কাটতে চাইছে না। খোলা আকাশের নিচে থই থই পানিতে ভেসে মাছদের খেলা দেখার মতো আনন্দদায়ক কোন কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। আমরা ম্যাগ্রোভ অরণ্যের গভীরে ভাসছি। এখানে শুধু আমরা কিছুটা সময় কাটাবো তারপর ফিরে গিয়ে আর কোভালম বিচে ভেসে ভেসে জোছনার সাথে সমুদ্রের মিতালি দেখবো। এমন রাতে দৃষ্টির সীমানা যতোদূর যায়, দিগন্তের পরিধি যেখানে সমুদ্রের ঢেউয়ে লীন হয়ে আসে, জোনাকিদের মায়াবী ক্ষণের আলিঙ্গন সবকিছুকে ছাড়িয়ে। সকালে যখন প্রথম ব্যালকনি থেকে সমুদ্রটা দেখলাম তখন যে ভালো লাগার আবেশটা আমার মধ্যে ছিলো সেটা যতোই বেলা বাড়ছে আস্তে মুগ্ধতাও যে বেড়েই চলছে এতে কোন সন্দেহ নেই। চোখের সামনে ছোট ছোট প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। এখানে প্রচুর পরিমান প্রজাপতি দেখলাম। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বলে হয়তো পাখিদেও উপস্থিতি অনেক কম। যেমন আমাদের সুন্দরবনের গভীরতম অরণ্যে সারাদিন ঘোরাঘুরি করেও একটা পাখির দেখা মেলে না। কারণ হিসেবে যে যুক্তিটা আসে সেটা হলো, পাখিরাও মানুষকে খুব ভালোবাসে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সভাবতই পাখিদের কোলাহল বেশি থাকে। খানিকটা আন্দাজ করতে পারছি যে বা’দিকে দেখা যাচ্ছে নারকেল গাছগুলো। অসংখ্য নারকেল গাছ তাই মনে হচ্ছে এটা একটা কোকোনাট আইল্যান্ড। এখানে একটা ফ্লোটিং রেস্টুরেন্ট দেখা যাচ্ছে। আর ডানদিকে দেখা যাচ্ছে গোল্ডেন বিচ। যা আমাদের মাঝি ভাই বলছেন যে এখানে যদি খেতে হয় তাহলে আমাদের এখন অর্ডার দিয়ে যেতে হবে। তারপর গোল্ডেন বিচে ঘুরে এসে খেতে হবে। কারণ এদেও খাবার রেডি থাকে না। প্রায় ঘন্টা খানেকের মতো সময় লাগে। এখানে গলাকাটা দাম, বাটারফিশ জানিনা কি জিনিস ছবিও নেই শুধুই বাটারফিশই লেখা আছে মিডিয়াম সাইজ হাজার রুপি, বড় সাইজ দেড় হাজার রুপি। তো আমরা খেয়ে দেখবো বাটারফিস আসলে কি জিনিস আর কেমনই বা এর স্বাদ। এজন্য হাজার টাকার একটা মিডিয়াম সাইজের অর্ডার দিলাম। সাথে ভাত ভাত এক্সট্রা ১০০ টাকা এক প্লেট। এখন আমরা যাচ্ছি গোল্ডেন বিচে। গোল্ডেন বিচ ঘুরে এসে বাটারফিশ দিয়ে লাঞ্চ করবো। গোল্ডেন বিচের ওপাশটায় এ্যারাবিয়ান সি অর্থাৎ আরব সাগর। এখানে অনেকগুলো ডাবের দোকান আছে। ফাস্টফুডের দোকান আছে। কেরালে এসে ডাবতো খেতেই হবে অন্যতায় সব অপূর্ণ থেকে যাবে। এখানে ডাব খেতে এসে হঠাৎ শ্রীলংকার কথা মনে পড়ে গেলো। ভারত মহাসাগরের তীরে মিরিসা সৈকত যেখানে যেখানে নীল সমুদ্র, সোনালি বালু, নারিকেল গাছের সারি আর শান্ত বাতাসের স্পশ সবমিলে এক স্বপ্নীল ঘোর ছিলো। সমুদ্রের গর্জন, সাদা মেঘের বৃষ্টি একটা রোমাঞ্চকর পরিবেশ। সৌন্দর্য যেন এক রঙিন চিত্রপটের মতো। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে স্বপ্নের মতো। ভারত মহাসাগরের গারোল জলে বিশাল বড় বড় তিমি ও ডলফিনদের লাফিয়ে উঠতে দেখা যায়। সৈকতের মাঝখানে ছোট্ট একটি পাথরের দ্বীপ আছে যেটাকে প্যারোট ট্রক বলা হয়। উপর থেকে পুরো মিরিসা বিচ ও সমুদ্রের দৃশ্য একেবারে যেন সৃদৃশ্য প্যানোরোমার মতো। বিশেষ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য এক স্বর্গীয় আলোকময় প্রভা। যেহেতু নারকেলের দেশ কেরালা এবার চোখের সামনে কেরলের ডাবের পাহাড়। এসব জায়গায় ডাবের পানি যেন মিনারেল ওয়াটারের চেয়েও সস্তা। এখানে তাল ও নারকেলের শাসও বিক্রি হচ্ছে। আহা! কি মধুর। শ্রীলঙ্কার ডাবের আকারটা মনে হচ্ছে আরও একটু ভালো ছিলো আর পানিটাও একটু বেশি মিষ্টি ছিলো। তবে ডাবের মালাইটা শ্বাসে ভরা খেতে বেশ লাগছে। আজ আমাদেও কপালটাই খারাপ, কারণ এখানেও সমুদ্র ভীষণ উত্তাল, প্রচন্ড ঢেউ আর মাঝে মাঝে কি বিকট শব্দে গর্জে উঠছে। তীরের কাছে বিপদজনক এলাকায় দড়ি দিয়ে ঘিরে রেখে পাহারা দিচ্ছে কোস্টগার্ড যেন কেউ সমুদ্রে নামতে না পারে। তারমানে এখানেও আমাদের সাগর জলে স্নান করা হলো না। আজকের আবহাওয়া আমাদের এতো ভালো লাগার জন্য আরেকটা কারণ। গরমের সময় এখানে এইরকমই লাগে। একটু গরম তবে বেশ বাতাস গায়ে লাগছে। আমরা আরাম করে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছি। এটা তীব্র গরমের সময় হওয়া মুশকিল ছিল। প্রথমে পরিবেশটা দেখুন। তারপর খাবার দেখাচ্ছি। এখন দুপুর অনেকটা গড়িয়ে গেছে ক্ষুধায় পেট চোঁচোঁ করছে। আমরা ফিরে এলাম রেস্তরায় লাঞ্চ করার জন্য। এখানে সব রেস্তোরাই একই রকমের। জলের উপরে অনেকটা ভাসমান রেস্তরা মনে হচ্ছে। সাদা ভাত, সালাদ সঙ্গে ডালও দিয়েছে। আর সাথে দিলো সেই অর্ডার করা বাটারফিস। একটা বড় ট্রেতে আস্ত মাছটা সাজিয়ে রেখে পরিবেশন করছে। কেটে খাওয়ার জন্য চাকু ও চামুচ দেয়া আছে। সাথে ফিশ মসলাও দিয়েছে। মাছটা বলেছিলো মেডিয়াম কিন্তু এখন দেখছি এটাতো অনেক বড়। আমরা চারজন মিলেও যে শেষ করতে পারবো তার ভরসা রাখিনা। ১০০ টাকার ভাত আর হাজার টাকার মাছ। দারুণ লাগছে খেতে? তবে মসলাটা একটু বেশি দিয়েছে হয়তো তাই কারণ কেরালাতো মসলারই দেশ। বাটার ফিশ মানে , মাছটার নামই হচ্ছে বাটার ফিশ। দেখে মনে হচ্ছে ইলিশের মতই তবে ইলিশের মত গন্ধ নেই কিন্তু ইলিশ ইলিশ একটা ভাব আছে। ভেতরে খুব চিকন কাঁটা। চারিদিকে মৃদুমন্দ হাওয়া সামনের এই সুবিশাল জলরাশি মনোরম পরিবেশ মানে এখানে বসে মাছ ভাজা খেতে একটা অন্যরকম অনুভব হচ্ছে। কোভালাম বিচের একটা বৈশিষ্ট্য হল চাঁদের মতন বিচ। অর্থাৎ চাঁদের মতন একটা অর্ধগোলাকার আকৃতি তৈরি করেছে বিচের। এখানে একটা চমৎকার লাইট হাউস রয়েছে। যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমি দেখাতে অবশ্য ভুলে যাচ্ছিলাম এখনই। লাইট হাউস সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাচটা অব্দি খোলা থাকে। তবে প্রতি রবিবার একটু ঢিলেঢালা হয়। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে পর্যপকদের উঁপচেপরা ভিড় থাকে তাই একটু রাত হলেও সেখানে থাকা যায়। সমুদ্রের জল একেবারে পায়ের কাছে অব্দি চলে আসছে। লাইট হাউস কোভালাম বিচের সবথেকে আকর্ষণীয়জিনিস। সারাদিন ধুলো রোদের তাপ আর সমুদ্রের খোলা হাওয়ায় উর্মীর চুলগুলো বেশ এলোমেলো হয়ে গেছে। সে মোবাইল ফোনের সেলফি ক্যামেরা অন করে নিজের চুলগুলো ডানহাতের আঙ্গুল দিয়ে বিন্যাস করার চেষ্টা করছে। আমি ওরদিকে তাকাতেই সে একটু লজ্জা পেলো মনে হয়। সবাই আমাদেরকে ছেড়ে অনেকদূর এগিয়ে গেছে বালুর উপর দিয়ে উর্মী ভালোভাবে হাঁটতে পাচ্ছেনা। তাই আমি ওর হাতটা ধরে টেনে সামনের দিকে নেয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের এখান থেকে চাঁদ আকৃতি পুরো সমুদ্রটা ঘুরে এসছে। সমুদ্রের হাওয়াটা বেশ গায়ে লাগছে। সারাদিনের এই অত্যাধিক টেম্পারেচারের পর এরকম সামুদ্রিক পরিবেশে। আর এই সমুদ্রের শব্দ যেন একটা মধুর ঐকতান যা শুনে ঘন্টার পর ঘন্টা চুপচাপ বসে কাটিয়ে দেয়া যায়। অনেক দূরে দুটো নৌকা দেখতে পাচ্ছি মনে হয় সেগুলো মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত। তবে বিশাল সমুদ্রের মাঝে নৌকাগুলোকে বেশ সুন্দর লাগছে। আমরা চলে এসেছি লাইট হাউসে। এখানে টিকিট কেটে ঢুকতে হয় সিনিয়র সিটিজেন ১০ আর এডাল্ট ২০রুপি। কোভামে লাইট হাউজের পেছন দিক কি যে অপূর্ব লাগছে। এবার উপরে ওঠার পালা। সিঁড়ির মতো ঘুরে ঘুরে উপরে উঠতে হয়। আমাদের সাথে আরও অনেক পর্যটক আছেন যারা উপরে উঠছে, কিন্তু মাঝামাঝি একটা দূরত্বে এসে উর্মী হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলো ওর নাকি পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে আর এগোতে পাচ্ছে না। কিন্ত এখান থেকে সমুদ্রটাকে ভালো দেখাচ্ছে না। তো কি আর করার আমি অর্ণবকে ডেকে নিয়ে দু’জনে ধরা ধরি করে উর্মীকে উপরে নিয়ে এলাম। হঠাৎ নিচের দিকে চোখ পড়তেই দেখি একজোরা কপোত কপোতি মান অভিমানের খেলায় মত্ত। আমি দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলাম এই ভেবে যে সেটা উর্মীর চোখে যেন না পড়ে। কিন্তু প্রকৃতির নিয়োমে ওর চোখটাই আগে পড়ার কথা, ঠিক হলোও তাই আমি উর্মীকেও একটু অপ্রস্তুত দেখলাম তার মানে সেও মনে মনে ভেবেছে যেন আমাদের কারো চোখে না পড়ে। তো? জানা অজানার মাঝে এভাবে লুকোচুরি খেলা সেটাও বেশ? উর্মী হয়তো এজন্যই আমাকে টেনে নিয়ে ঠিক পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে দাঁড়ালো, যেখান থেকে সূর্যাস্তের শেষ দৃশ্যটুকু মনে প্রাণে উপভোগ করা যায়। আকাশ একটু মেঘলা তাই সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্যটুকু পুরোপুরি পেলাম না। জীবন সব প্রত্যাশা কি একেবারে পূর্ণতা পায়? আর সব পেয়ে গেলে তো আর অপূর্ণতা বলতে কোন কিছু থাকতো না। খুব ইচ্ছে করছে আগামি কাল আবার এখানে আসি, আবার সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্যটুকু পুরোপুরি হৃদয়ে গেঁথে নেই, আবার ছুঁয়ে দেখি এই বকের পালকের মতো ধবধবে সাদা বালুকাময় বেলাভূমি, আবার সুখ-দুঃখের গল্প করি সমুদ্রের নীল চোখে চোখ রেখে। আমার কোন অভিযোগ নেই তাতে আমি যতোটা পেয়েছি, সমুদ্রের সাদা ঢেউ, নরম বালুকাময় বেলাভূমি আর শান্ত-শীতল হাওয়া আমাকে যা দিয়েছে হয়তো মৃত্যুর পরেও সেটা মনে থাকবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-২৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now