বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-২১

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-২১ মাজহারুল মোর্শেদ হুম- তাইতো, দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ, অথই জলের বিশালতা, রূপালি ঢেউয়ের বুকে ভেসে বেড়ানো সত্যি যেন এক স্বর্গীয় অনুভুতি। কাক্কু দেখ, লেকের বুকে মনের আনন্দে ভেসে বেড়াচ্ছে হংসযুগল। আমি শুনছি তাদের উপস্থিতির কলোতান, যেন মিলনের সুরে গাঁথা। মুক্ত হংসযুগলের মতো ভেসে চলেছি আমরা স্রোতের আলিঙ্গনে। খুব ইচ্ছে করছে অঢেল সময় নিয়ে চলে যাই সেই দিগন্তের সীমানা পেরিয়ে। যেখানে কেউ নেই শুধুই নির্জনতা আর নীরবতার মাঝে ভেসে বেড়াবে এক দল কুচরীপানার। আমরা দেখবো কাঁকড়ে কাঁকড়ে ঠোঁকাঠুকি আর শুনবো স্বর্ণালী মাছদের গান। আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে, তারুণের আবেগী উচ্ছ্বাস উর্মীকে কন্দর্পের বাণে সম্মোহন করে ফেলেছে। উর্মীর প্রতিটি কথায় তারুণ্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত, অস্থিরতা, বুকে জমানো আকুতি, নির্বাক কণ্ঠ, আমার কাছে বেশ পরিষ্কার। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারি উর্মীর বুকে আবেগের যে জোয়ার এসেছে তা কখন যেন বাধ ভেঙ্গে উছলে পড়ে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় দু’কূল। জীবন নদীর বিশালতায় ভাসমান অস্তিত্ব কূলের নাগাল পাওয়ার জন্য সে আবেগে মিশে একাকার হয়ে যায়। তাই নিরুদ্দেশ হয়ে ভেসে যাওয়ার আগেই আমাদের ফিরে আসা উত্তম। সময় যতো যাচ্ছে ভালো লাগার আবেশটা লেকের মৃদু ঠান্ডা হাওয়ায় মিশে এক অদ্ভুত মাদকতা ছড়িয়ে দিচ্ছে ঠিক যেন একটা ঘোর লাগা অনুভূতি যেখানে সময়ের সব হিসেব কেমন গুলিয়ে যাচে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কখন যে দুপুর গড়িয়ে পড়ন্ত বিকেলের হলুদ আভা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সেটা টেরই পেলাম না। তাই আমরা বোটে ফিরে আসতে বাধ্য হলাম। মাঝারি খালের মাঝ দিয়ে টুইটুম্বুর পানিতে ধীরলয়ে এগিয়ে যাওয়া হাউজবোট থেকে এক অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করছে। পাহাড়-নদীর কোল ঘেঁষা সারি সারি নারকেল গাছ দেখে মনেই হচ্ছে না যে আমরা বাইরের কোন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সৃষ্টিকর্তা প্রকৃতির সব অপরূপ সৌন্দর্য যেন ঢেলে দিয়েছেন মুন্নারে। যে ভাষায়ই মুন্নারের সৌন্দর্য বর্ননা করিনা কেন তা কোন ভাবেই কারও সাথে তুলনীয় হবে না। প্রকৃতি যেমন কেরালাকে নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছে। যে কারণে ভারত ভ্রমণে এলে কেরালা দর্শন অপরিহার্য হয়ে ওঠে। আমাদের বোট চলছে পাথিরামাল দ্বীপের উদ্দেশ্যে। ভেম্বনাদ লেক ঘুরে বেড়ানোর সময় শেষ বিকেলের দৃশ্যটা অসম্ভব রকমের সুন্দর লাগছে। বিশেষ করে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি আর সাদা ঢেউয়ের বুকে অস্তমান সূর্যের লাল রশ্মিটা যেন লাল শাড়ির আঁচল দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা পৌছে গেলাম স্বপ্নের সেই পাথিরামাল দ্বীপে। সূয্যিমামা এখনো পাটে বসেনি। তবে তার চারিদিকের পরিবেশ যেন নাটকের শেষ দৃশ্যের যবনিকা টানতে ব্যাতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বোট থেকে নেমে পাথিরামাল দ্বীপে পা রাখতেই মনটা ভরে গেলো। এখানে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ রুপি। তাড়াতাড়ি টিকেটের পর্ব শেষ করে আমরা সূর্যাস্ত ও বিরল প্রজাতির স্থানীয় ও পরিযায়ী দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি। দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ এটি। আমার পাশে আছে পাখি প্রেমী উর্মী ও প্রকৃতি প্রেমী অর্ণব সব মিলিয়ে আমাদের জন্য এটি একটি দারুণ জায়গা। শেষ বিকেলের হলুদ আভা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দ্বীপে। রঙধনু রঙে সাজিয়েছে পশ্চিম আকাশ। নাম নাজানা হাজারো পাখি শেষ বিকেলের হলুদ রঙ মেখে মনের আনন্দে উড়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমস্ত দীপ। পাখিগুলো আমাদের খুব আপন ভেবে এতোটাই কাছে এসে উড়ছে যে মনে হয় হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। ছোট্ট একটা দ্বীপ চারিদিকে থই থই জল এখানে জনসমাগম খুবই কম হয়তো সে কারণেই পাখিদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে পাথিরামাল দ্বীপ। হয়তো আর অল্প কিছক্ষণের মধ্যে আমাদের সাথে সকল বন্ধন ছিন্ন করে তারা সারা দিনের কর্ম ব্যস্ততার অবসান ঘটিয়ে ফিরে যাবে আপন নীড়ে। সত্যি তাই একটু একটু করে গোধুলির আলো নিভে গিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে অন্ধকার। সূর্য ডুবে গেছে পাখিরাও ফিরে গেছে আপন নীড়ে আর আমরা তখনও বসে আছি তাদের ইদ্রোজালিক মায়ার ফাঁদে। যাক আর সময় নষ্ট না করে কুলাশেখর মঙ্গলাম (Kulasekharamangalam) বা জেটি সংকেতের কাছের স্থানীয় হোটেলে কেরালার ঐতিহ্যবাহী আপ্পাম,(Appam),পুট্টু (Puttu) এবং কলা ভাজা (চধুযধস চড়ৎর) দিয়ে নাস্তা করে গরম চায়ের সাথে চমৎকার স্মৃতিগুলোকে বুকের ভেতর জমা করে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিদায় জানালাম পাথিরামাল দ্বীপকে। আমাদের বোট ছেড়ে দিলো গন্তব্যের দিকে। লেকটা অনেক বড়। এই সময় কাশ্মীরের ডালহ্রদে হাউসবোটের কথা মনে পড়ে গেলো। সেখানকার সে রাতের কথা কোনভাবেই ভুলে থাকা যায় না। জাবারওয়ান পর্বত উপত্যকায় শ্রীনগরের উত্তর-পূর্বে-ডাল হ্রদ একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। লেকের জলে ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাউসবোটে ভেসে রাত কাটানো এবং ভাসমান পদ্ম ফুলের বাগান (স্থানীয় ভাষায় এটিকে 'রাদ' বলে), ভাসমান বাজার দেখার মতো সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো। শীতের শেষে হলেও সে রাতে তাপমাত্রা হঠাৎ ১০ ডিগ্রি সেলসিয়ার্সের নিচে নেমে যায়। চারিদিকে শুধু ঠাণ্ডা আর ঠাণ্ডা। এতোটাই ঠান্ডা যে নাতিশীতষ্ণ এলাকার পর্যটকদের কাছে সেটা এন্টার্টিকা মহাদেশ মনে হবে। সকাল, সন্ধ্যা কিংবা রাত্রিবেলা একই মনে হয়, মনে হয় আইসের জগতে এসে পড়েছি। হাউসবোটের গরম চা ভেতরে যেতে যেতেই ঠাণ্ডা হয়ে যায়। অবশেষে সব দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে হাউসবোটের ওয়ার্ম চুল্লির পাশে দাঁড়িয়ে রাত কাটাতে হয়েছিলো। হাউসবোটের ডাইনিং এ রাতের খাবার এসে উপস্থিত হয়ে গেছে। সাদা ভাত, সালাড, ডাল, চিকেন ক্যাবেজ, কারিবিন ফিশ এমন অনেক আইটেম আছে, এখন খেয়ে দেখার পালা এবার এক চামচ দিয়ে অনেকটা খাবার তুলে মুখে দিলাম, ভালো লাগছে। যদিও খাবারটা বাঙালিয়ানার মধ্যে পড়ে না, কিন্ত খেতে খুব বেশি খারাপ লাগলো না। হাউজবোটে মজার জিনিস হলো খাবার। কেরালার ঐতিহ্যগত সব ধরনের স্পাইস খাবার সরবরাহ করে তারা বিশেষ করে বাহারী রকমের পাকোড়া সাথে ফিস ফ্রাই। খাওয়া শেষ করে উর্মী গান ধরলো আলিপ্পির স্পেশাল আইসক্রিম সে খাবে। হাউসবোটের রেফ্রিজারেটরে আইসক্রিম ছিলো তবে সে বিখ্যাত স্পেশাল আইসক্রিমটা নেই। আমি তাকে স্বান্তনা দিয়ে বললাম, যেখানেই আমরা থামবো সেখানে সে আইসক্রিম খুঁজে বেড়াবো, কোথাও না কোথাও সেটা মিলে যাবে চিন্তার কোন কারণ নেই। বাহিরের হাওয়াটা বেশ লাগছে, বিশেষ করে রাতের খাওয়ার পর যখন ঠাণ্ডাহাওয়ায় স্রোতের উপর অলসভাবে ভেসে বেড়ানো এটা আলাদা একটা অনুভুতি। সারাদিনের ভ্রমণের ক্লান্তি তার উপর লেকের ঠাণ্ডা হাওয়া দাদা আর বোউদিকে পায় কে? কথা বলতে না বলতেই ঘুমের ঘোওে ঢলিয়ে পড়লো। রাত ক্রমশ গভীর হতে চলেছে সবাই ঘুমের নেশায় মগ্ন। চারিদিকে নিস্তব্ধ প্রকৃতি, কোথাও কোন সাড়া শব্দ নেই। মাঝে মাঝে কয়েকটা ঝিঁঝি পোকা একইসাথে চিৎকার দিয়ে উঠছে, আবার থেমে নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। লেকের পানিতে দু’চার ব্যাঙ ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করছে। আমার চোখে ঘুমের লেস মাত্র নেই। তাই নিঃশব্দে দরজাটা খুলে বোটের ছাদে গিয়ে বসলাম। লেকের স্বচ্ছ পানিতে চাঁদের আলো পড়ে যেন সোনার স্বর্গ তৈরি করেছে, আমি তন্ময় হয়ে চেয়ে আছি দূরের পানে। কি অপরূপ লাগছে চারিদিকে যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। হঠাৎ বোটটা একটু ঝাকুনি দিয়ে নড়ে উঠলো, আমি ভাবলাম হয়তো বড় কোন ঢেউয়ের ধাক্কায় এমনটি হতে পারে। কিন্তু না, উর্মী এসে আমার ঘারে হাত দিয়ে পিছন থেকে একটা ধাক্কা দেয়। আর অর্ণব দু’হাত জড়ো করে যতোটুকু লেকের পানি উঠে আসে তা এনে আমার মাথায় দেয়। এতো রাতে কি শুরু করলি তোরা? উর্মী বলে, কবিবর আপনার কবিতার খাতা পত্রতো দেখিতেছি না, তবে কি কাহারো ধ্যান-মগ্নতাই এমন অভিসার, এমন একাকিত্বের কারণ? আমাদেরকে সঙ্গে লইলে কি এমন ক্ষতির কারণ হইতো? অবশ্য কাহারো ধ্যান ভঙ্গ করিয়া সম-অপরাধে অপরাধী হইবার মতো লালসা আমার নাই। আপনি চাহিলে আমরা স্বচিত্তে প্রস্থান করিবো হে গুরুদেব। উর্মীর কথা শুনে হাহা করে হেসে উঠলো অর্ণব। আরে বাহ! উর্মীতো এ কয়েকদিনে কবির সহচার্যে বঙ্কিম সাহিত্যের ধারাকে অনেকটা রপ্ত করে ফেলেছে। আরে ধ্যাৎ ! অর্ণব কাক্কুর সব কিছুতে খালি মশকরা। আমি কি এমন খারাপ কিছু বললাম, তুমি বলোতো? এখানে শুধু আমরাই নই, আশে পাশে এমন শতশত হাউসবোটে পর্যটকেরা রাত্রি যাপন করছে। দূরের একটা হাউসবোট ভেসে আসছে বাউলের কণ্ঠে মধুর গান আর একতারার সুর। তাহলে কি তারাও পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছে? পশ্চিম বঙ্গে অনেক বাউল সাধক আছে, যারা মন্দিরে কিংবা বিভিন্ন মঠে ও আশ্রমে থেকে সাধনা করে। হয়তো তারাও আমাদের মতো হাউসবোটের ছাদে বসে লেকের জলে জোসনা দেখার কাজে মগ্ন হয়ে পড়েছে। আজ অন্য কিছু ভাবনার উদয় হবে আমাদের, মরে যাওয়া নদীর বুকে যদিও বিস্তীর্ণ চর জেগে আগাছা জন্মেছে, এখন বর্ষার নতুন বৃষ্টিতে কেবলি বন্যা হবে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে স্বপ্নের কিণারায়। আজকে রাতটুকু থেকে আমরা কালকে সকাল বেলা এখান থেকে ভারকালা সৈকতের দিকে রওয়ানা হবো। খুব কম সময়ে অনেকটা ঘুরলাম তাই শেষ হওয়ার আগে একটা নৌকো বিলাস হওয়া খুব প্রয়োজন ছিলো। কিছুতেই এখান থেকে যেতে মন সায় দিচ্ছে না। কিন্তু উপায় কই, দিনটাকে আটকে রাখতে চাইলেও কি আর আটকে রাখা যায়? সময় ঠিক ঠাক আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে গলে বেরিয়ে যায়। আর মাত্র কয়েকটা ঘন্টা হাতে আমাদের, দেখতে দেখতে কিভাবে যে দশটা দিন কেটে গেলো টেরই পেলাম না। তবে একদম মন খারাপ করছি না, কারণ যা পাবো যতোটুকু পাবো ততোটাই মনের আশ মিটিয়ে উপভোগ্য করে তুলবো এটাই আমাদের ব্রত। এতে যেন কারো কোন কার্পণ্য নেই, অবহেলা নেই, অলসতা নেই। রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তে হবে কারণ কাল যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব সূর্য ওঠার আগেই শুরু করতে হবে দিনটা। সকাল বেলা এখান থেকে বেরিয়ে পড়তে হবে ভারকালা সৈকতের উদ্দেশ্যে। হাউসবোটের ছাদে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে যেন কূল কিনারহীন একটা সমুদ্রে চলে এসছি। সমুদ্রে কোন ক্রুজে করে গেলে খুব ধীর গতিতে যেরকম মনে হয় ঠিক সেরকমই মনে হচ্ছে। সকালবেলা এক কাপ চা নিয়ে এখানে বসে দারুণ একটা শীহরণজাগা অনুভুতি উপভোগ করছি। সমুদ্রের শীতল হাওয়া আর সাদা ঢেউয়ের উপর সোনালি রোদের ঝলকানি চোখ জুড়িয়ে দেয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-২১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now