বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১১

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১১ মাজহারুল মোর্শেদ রাত পোহালে আবার সকাল সকাল বেরিয়ে পড়তে হবে তাই দেরি না করে হোস্টেলে ফিরে এলাম। রাতের খাওয়া শেষে অলস সময়ে বসে হালকা আলাপ চারিতায় মুন্নার ম্যানশনের ম্যানেজার তিরুম্বুড়া নাথের কাছে মুন্নার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হালকা ইংরেজি ও হিন্দি মিশ্রিত ভাষায় বলেন-‘মুন্নার’ নামের পিছনে কিন্তু বেশ একটা সাদামাঠা সমীকরণ রয়েছে। ‘মুনু’ মানে তিন আর ‘আরু’ মানে নদী। এই ‘মুনু-আরু’ মিলে হয়েছে ‘মুন্না’ যার অর্থ নদীর দেশ। মুদ্রাফুজা, নাল্লাথানি, কুন্ডালী এই তিনটি নদীর মিলনস্থলের নামেই হয়েছে মুন্নার। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে আমরা তৈরি হচ্ছি মুন্নারের ‘এরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্ক’(ঊৎধারশঁষধস ঘধঃরড়হধষ চধৎশ) এ যাওয়ার জন্য। আমি মনে মনে ভাবছি বোউদি যেন আজ নতুন কোন ঝামেলায় না ফেলে। অর্ণবও সেটা আর পেটের মধ্যে চেঁপে রাখতে না পেরে হাত তুলে বলেই ফেললো-হায়!ভগবান তুমি দাদা-বোউদিকে একটু দেখিও। উর্মী এসে বোতলে পানি খাচ্ছিল, অর্ণবের করুণ মিনতিতে আর নিজেকে সামলাতে না পেরে মুখের পানি দিয়ে তার বিছানা ভিজিয়ে দিলো। আমাদের এ অবস্থা দেখে বোউদি মাথার চুলগুলো খোঁপা বাঁধতে বাঁধতে দরজায় এসে দাঁড়িয়ে ভেতরের দিকে একটু উঁকি দিলো। অর্ণব হঠাৎ থেমে গিয়ে চোখের কোণে অলস্যে বেরিয়ে আসা অশ্রæকে আড়াল করার জন্য দু’হাত দিয়ে চোখ কচলাচ্ছে। বোউদি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো-‘অর্ণবের মনে বুঝি খুব রঙ লেগেছে, তাই না’? আমি বললাম- হ্যাঁ বোউদি আপনি ঠিকই ধরেছেন। তবে মূল ঘটনার পূণরাবৃতি করলে আপনার অবস্থাও অর্ণবের মতো হবে, এটা আমি নিশ্চিত। মুন্নার থেকে ‘এরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্ক’(ঊৎধারশঁষধস ঘধঃরড়হধষ চধৎশ) এর দূরত্ব ১২ কি.মি। সকাল সাতটায় হোস্টেল থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে ১৫-২০ মিনিট চলার পর আমরা পৌছে গেলাম এরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্কের প্রবেশ দারে। পার্কের ভেতরের প্রবেশের টিকেট গত রাতেই অর্ণব অনলাইনে কেটে রেখেছিলো। গেটে টিকেট দেখিয়ে সামনে এগোতে দেখি অনেকগুলো বাস দাড়িয়ে আছে। এ বাসগুলোই আমাদের নিয়ে যাবে পার্কের ভিউ পয়েন্টে। তবে বাসভাড়া লাগে না এটা টিকিটের সাথে সংযুক্ত থাকে। আমাদের বাস ছেড়ে দিল, আমি একটু সুবিধা নেওয়ার জন্য সামনের সিটে জায়গা করে নিলাম নেই। এদের ব্যবস্থাপনা এতোটাই ভালো যে, যতো দেখছি ততোই অবাক হচ্ছি। যদি তুমি সত্যিই প্রকৃতি পাগল হও তবে বিশ্বাস করো! তোমার এখান থেকে ফিরতেই ইচ্ছে করবে না। আমরা একটা সাফারিতে যাব প্রত্যেক ১৫ মিনিট অন্তরে এখান থেকে বাস ছাড়ে। টোটাল ৩০ মিনিটের একটা বাস জার্নি কিন্তু এই ৩০ মিনিটে যে কতো যে কতো কিছু দিতে পারে সেটা বাস্তবে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। পর্যটকদের ভালোলাগা এবং চোখের তৃপ্তির জন্য এখানকার বাসগুলো ধীর গতিতে চলে। সাইড সিনারিগুলো দেখার জন্য এটা পর্যটকদের একটা বাড়তি সুবিধা। সকালের মেঘ কুয়াশায় ভরা পাহাড়, ভেজা প্রকৃতি রাস্তার দু’ধারে যতোদূর চোখ যায় শুধু চা বাগান। চা গাছের কচি পাতার মিষ্টি গন্ধ মনকে বিভোর করে তুলছে। বাসটি চার-পাঁচ কি.মি রাস্তা যাওয়ার পর আর একটা গেটের সামনে আমাদের নামিয়ে দিলো। বাস থেকে নেমে গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার আগে পার্ক কতৃপক্ষ সবার ব্যাগগুলোকে চেক করে দেখছে যেন কেউ পশু পাখির ক্ষতিকারক কোন খাবার দাবার সঙ্গে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। শুধু পানির বোতল সঙ্গে নেয়া যাবে তবে সেটা কোথাও ফেলে দেওয়া যাবে না। এখানে অনেক বিধি-নিষেদ মেনে চলতে হয়। যত্রতত্র দাড়িয়ে থাকা পার্ক কতৃপক্ষের কর্মীরা আমাদেরকে সবকিছু সুন্দর ভাবে গুছিয়ে বলে দিলো। এরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্কের এই জার্নিটা আমার বহুদিন মনে থাকবে এটুকু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। এই সৌন্দর্যকে ঠিক কি বলে, এর জন্য কি কি বিশেষণ যোগ হবে, আমি সত্যিই কিছু জানি না। আজ সব ভুলে যেতে বসেছি। শুধু অদ্ভুত এক বিস্ময়কর ভালো লাগার অস্তিত্ব টের পাচ্ছি বুকের ভেতর। আমরা এসে গেছি গন্তব্যের কাছাকাছি, বাকি রাস্তাটা পায়ে হেঁটে উঠতে হবে। আমাদের জনপ্রতি মাত্র ২০০ রুপি টিকিট মূল্য। অসম্ভব সুন্দর চারিদিকে শুধু সুন্দরে সুন্দরে টানাটানি। আমি অনেক বেশি উপভোগ করেছি, পুরো রাস্তাটা এতোটাই নয়নাভিরাম যে, আমি এক সেকেন্ডের জন্য চোখ সরাতে পারিনি। রাস্তার দু’দিকে সারি-সারি গাছ যেন নতশীরে একটা বিশাল সামিয়ানা তৈরি করেছে। আর সেই ছায়াবীথির ভেতর দিয়ে চলছি আমরা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now