বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১০

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১০ মাজহারুল মোর্শেদ গোটা শহরটা পাহাড়ে ঘেরা। খুব বেশি বড় শহর না হলেও পরিবেশটা বেশ ঝকঝকে, রঙিন বাতিতে অন্যরকম লাগছে। যদিও বেশিদূরে কিছু দেখা যাচ্ছে না তবুও রঙিন বাতির ঝলকে মনে হচ্ছিলো এ যেন স্বপ্নপুরী। শহর ঘেঁসা ওই পাহাড়টার দিকে হঠাৎ আঁচড়ে পডলো চোখের দৃষ্টি। চাঁদ তখন ওই পাহাড়ের কোলে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ভয়ানক এক হিংসে হলো চাঁদটার উপর। কিন্তু না? আমিতো তার নাম জানি না, তাই নিজের অৎান্তেই এর নাম দিলাম ‘চাঁদের পাহাড়’। ভাবছি চাঁদ আর পাহাড়ের সুমধুর মিলনে আমিও স্বাক্ষী হয়ে থাকবো এ রাতে। হঠাৎ আমার ডান কাঁধে একটু ভার অনুভব করলাম কিন্তু দৃষ্টি ফেরাতে ইচ্ছে করছে না, তাই বাম হাত দিয়ে সেটাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করলাম। একটি কোমল হাতের স্পর্শ আমায় বুঝিয়ে দিলো ওটা উর্মী। আমি কিছু বলার আগেই সে বলতে শুরু করলো- ‘কাক্কু দেখ দেখ? ভরা পূর্ণিমায় ওই রূপোশী চাঁদ পাহাড়ের গায়ে কেমন হেলান দিয়ে আছে। আমি অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছি যার জন্য। কিন্তু অতোদূরে কি আমি যেতে পারবো? কেন নয়? ওই যে দূরে দেখা যাচ্ছে সোনালি মেঘের গালিচা তার পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে প্যারিয়ার নদী। আমরা কথা বলবো ঢেউয়ের সাথে, তারা কোথা থেকে আসে, কোথায় যায়। কাক্কু, কি ভাবছ অমোন করে? ভাবছি, প্রকৃতির নীরবতার কথা, শুনছি কারও উপস্থিতির কলোতান। যতোবার কাছে যেতে চাই, ততোবারই ফিরে আসি একই আবর্তে। এ যেন মহাশূন্যের মাঝে অস্তিত্বহীন অভিসার। উর্মী- কাক্কু দেখ, ঐযে দূরের পাহাড়টা আকাশের সীমানা ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার ঠিক উপরে জোৎ¯œার জরিনে মোড়ানো মায়াবী চাঁদের হাসি। অবারিত জোৎ¯œায় ভেসে যাচ্ছে সকল নির্জনতা। আমার খুব ইচ্ছে করতে এমন জোৎ¯œা ভেজা পাহাড়ের স্পর্শ পেতে। হুম, সত্যি এমন নির্জনতায় পাহাড় আর চাঁদের মিতালি, জোৎ¯œার সাথে ভেজা মেঘের আলিঙ্গন, কি অপরূপ ইদ্রোজাল ছড়িয়ে আছে চারিদিকে। প্রকৃতির ভালোবাসা যেন লুট হয়ে যাচ্ছে আজ, আঁচলভরা নতমুখে অভিসারে স্বর্গীয় অপ্সরা। হেথা নয়, সেথা নয় যেন অন্য কোথা- অন্য কোনখানে। কাক্কু- তুমি শেষ, এক্কেবারে শেষ। সন্নাসী-যোগীর কোন স্বর্গীয় আত্মা তোমাকে ভর করে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তাইতো তোমার মাঝে আর তুমি নেই। হা হা হা, এতে আমার আর কি দোষ বলো? ওই যে- পাহাড় আর জোৎ¯œার জরিনে মোড়ানো মায়াবী চাঁদের হাসি। আমি যতোবার দূরে যেতে চাই, আমার দৃষ্টির বাইরে যেতে চাই, আমার দুচোখে কেমন ইন্দ্রোজাল মেলে রাখে। আমি যেতে পারিনা, ফেরাতেও পারি না নিজেকে। অর্ণব কোথা থেকে যেন চানাচুর-বাদাম নিয়ে হাজির হলো। হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো- নে’ এমন মায়াবী রাতে চানাচুর-বাদাম বেশ লাগবে। আশেপাশে সেরকম শহরের কোলাহল নেই গাড়ির হর্ণের আওয়াজ নেই। এখানে একেবারেই ঠান্ডা কম। আর সত্যি কথা বলতে ঠান্ডা এত কম হওয়ার কারণে এখানে কিন্তু আমাদের একটুও সমস্যা হচ্ছে না। বেশ সুন্দর একটা ফুলের গাছ আমি দেখতে পাচ্ছি ফুলটা একটু অন্য রকম, পাপড়িগুলোর মাঝেরও বেশ কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন রঙের ফোটা দেখা যাচ্ছে। গুগোল লেন্সে দিয়ে তাকে যে এর নাম জিজ্ঞেস তারও কোন উপায় নেই। এখানে ভালো নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না। হয়তো পাহাড়ি এলাকা বলেই এমনটি হচ্ছে। আমরা এ রাতেরও বেশ কিছুটা সময় ধরে হেঁটেছিলাম। রাত্রিবেলায় পাহাড়ের আড়ালে এ জায়গাটা একটু অন্ধকার থাকে। এর পিছনে আবার অন্য একটা কারণও আছে। এখানে প্রচুর ঝিঁঝি পোকা রয়েছে তারা ভীষণ উৎপাত করে, পাহাড়ি এলাকায় যারা বসবাস করেছেন তারা রাত হলেই লাইট অফ না করে রাতে ঘুমাতে পারেন না। ঝিঁঝি পোকার মধুর ডাক, আলো আঁধারের লুকোচুরি আর উঁচু পাহাড়ের হাতছানি মনটা কিছুতেই এখান থেকে ফিরতে চাচ্ছে না। খুবই ইচ্ছে করছে মুন্নারের এমন নিরিবিলি শান্ত পরিবেশে ক’টা দিন থেকেই যাই। কিন্তু মানুষ যা চায় তার সবটুকু তো আর নিজের মতো করে পায় না, আমিও এর ব্যতিক্রম নই। অর্ণব বলে চলো- রাত হয়ে গেছে এখন যেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। নইলে কালকে সকালে ওঠাটা কষ্টকর হবে। একটু সামনে গিয়ে আমরা মুন্নার ভ্রমনের একটা সাইনবোড দেখতে পেলাম। এখানে ইংরেজিতে লেখা আছে চারটি রোডের দিক নিদের্শনা। কোন রোডে গেলে আমরা কি দেখতে পাবো। মাট্টুপাট্টি ডিরেকশান থেক্কাডি ডিরেকশান কম্বাটোর ডিরেকশান কোচিন ডিরেকশান


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১০

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now