বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রজাপতির কুঠার (পর্ব 6)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মো মজিবুর রহমান (০ পয়েন্ট)

X লিখক _ মজিবুর রহমান ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও মায়া-মমতা সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা আর-রূম: ২১) বিয়ে শুধু দুজন মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে না, দুটি পরিবার, দুটি সমাজকে একত্র করে এই বিয়ে নামক বন্ধন। সমাজ থেকে অশ্লীলতা দূর করার একটি বড় মাধ্যমও হচ্ছে এই বিয়ে। যে সমাজে বিয়ে কঠিন করে ফেলা হয়, সেই সমাজ তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মানুষের যেমন ক্ষুধা লাগার পরপরই খাবার খেতে হয়, তেমনি সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখতে উপযুক্ত বয়সেই মানুষের বিয়ের ব্যবস্থা হওয়া উচিত। বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে ইসলাম ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। ইসলাম বলে, বালেগ হওয়ার পরপরই বিয়ে করে ফেলার জন্য, যদি তার উপর বিয়ে করা ফরজ হয়। অন্যদিকে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, নারীদের জন্য বিয়ের উপযুক্ত বয়স ১৮ থেকে ২৫ এবং পুরুষের জন্য ২০ থেকে ৩০। কিন্তু আমাদের বিকৃত সমাজ বিয়ের উপযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি শর্ত দাঁড় করিয়েছে, সেটি হলো ‘প্রতিষ্ঠিত হওয়া’। ফলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চক্করে অনেক মেয়েই জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়টা নষ্ট করে ফেলে। যে সমাজে উপযুক্ত বয়সে বিয়ের হার যত কম, সেই সমাজে অবৈধ রক্তের বিস্তারের হারও তত বেশি। _____ ধরনির বুকে সন্ধ্যা নেমে এসেছে, আকাশে সূর্য ঢলে যাওয়ার চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে। আকাশের লালিমাভাবটার দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থাতেই মনের কোণের লুকায়িত দীর্ঘশ্বাসটা বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে আরিয়ানার বক্ষ চিরে। কিসের দীর্ঘশ্বাস, নাকি বহুল আকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটা হঠাৎ ঘটে যাওয়ার কারণে একপ্রকার দ্বিধা এসেছে তার মধ্যে। সে বুঝতে পারছে না, এই লালিমাময় সন্ধ্যার কিছুটা হয়তো তার মাঝেও নেমে এসেছে। ফারজানা যখন তাকে বলল, আজ তার বিয়ে, কিছু সময়ের জন্য সে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। সাথে কোমরের ব্যথাটাও ভুলে গিয়েছিল মুহূর্তের জন্য। ‘বিয়ে? হঠাৎ কিসের বিয়ে? তাকে না জানিয়ে?’ এরকম হাজারো প্রশ্নে যখন সে জর্জরিত হচ্ছিল, তখনই রুমে প্রবেশ করল একজন বৃদ্ধা। তাকে দেখে অনেকটা আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিল সে। এ যে হুবহু তার মায়ের চেহারা, তার নানি। কিন্তু কী এক জড়তার কারণে সে কাছে যেতে পারছিল না। জড়তা, নাকি দীর্ঘদিন তার খোঁজ না নেওয়ার কারণে কোমল মনে জমে থাকা অভিমান? সে বুঝতে চাইছিল না। ছলছল হয়ে যাওয়া চোখটা ঘুরিয়ে ফেলল অন্যদিকে। কিন্তু চোখের অশ্রু কি আর বাধা মানে? শরীর কাঁপিয়ে কেঁদে ফেলল সে। কিন্তু দ্রুত নিজের অভিমান লুকানোর চেষ্টা করল, তার মনের ব্যথা কাউকে বুঝতে দিতে চায় না সে। কেন বুঝতে দেবে? তারা কি কেউ ছিল, যেদিন তার বাবার দেহের পাশে সে কান্না করেছিল? তারা কি ছিল সেদিন, যেদিন বাবার মৃত্যুর এক মাসের মাথায় আয়মান নামের জানোয়ারটা তার উপর থাবা বসাতে চেয়েছিল? ছিল না তো। সেই ঘটনা কাউকে বলেনি সে, এমনকি মেঝো চাচিকেও বলতে দেয়নি। তারা কেউ কি তার পাশে ছিল, পরের নির্ঘুম রাতগুলোতে? ছিল না। তবে আজ কেন আসল? কিন্তু বৃদ্ধা তার অভিমান বুঝলেন, তাইতো তার চোখের অশ্রুটুকু নিজের হাতেই মুছে দিলেন। ফলে এবার শব্দ করে কেঁদে ফেলল আরিয়ানা। খুব সন্তর্পণে ফারজানা তাদের দু’জনকে একা রেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। কতক্ষণ কান্নাকাটি করল সে জানে না। তবে কান্নার বেগ যখন চলে গেল, তখন সে নিজের মাথাটা তার নানির কোলে শায়িত অবস্থায় পেল। মুহূর্তের মধ্যেই ধাতস্থ হয়ে নিজেকে সরিয়ে নিল তার নানির কোল থেকে। ‘কেন এলেন? বিয়ে খেতে নিশ্চয়ই? যান, বিয়ে খেয়ে চলে যান। এই আরিয়ানার কাছে আপনাদের এখন আর কোনো প্রয়োজন নেই।’ নিজের ভেতরের প্রচণ্ড অভিমানের কারণেই বলল কথাগুলো। ‘বিয়ে খাওয়ার জন্য নয়, কর্জ ফিরিয়ে নিতে এসেছি।’ খান বংশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় নারী জয়নব খান, বয়স সত্তরের কাছাকাছি। মেয়ের বিয়েতে সবাই রাজি থাকলেও তিনি ছিলেন না। একে তো পাবনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কত দূরের জায়গা, তার উপর তালুকদার পরিবারের কিছু কিছু কাজকর্ম তার কানেও গিয়েছিল। এই কারণে আশরাফ তালুকদারকে পছন্দ হওয়ার পরও তিনি বিয়েতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার মতামতের গুরুত্ব কেউ দেয়নি। করেছিলেন মেয়ের উপরও প্রচণ্ড অভিমান। নাখোশ হলেও মেয়েকে কখনো অভিশাপ দেননি তিনি। বিয়েতে অসম্মতি জানানোই যে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত ছিল, এটা যখন সবাই উপলব্ধি করল, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। নাতনির জন্মের আট বছরের মাথায় জোবায়দা হত্যার শিকার হয়। সেই অভিমানের একসময় সমাপ্তি হলো। নিতে এসেছিলেন আরিয়ানাকে তার মেয়ের মৃত্যুর পরপরই। কিন্তু আশরাফ তালুকদার দেননি। আরিয়ানাকে না পেলেও আশরাফ তালুকদারের কাছে একটি ওয়াদা নিয়েছিলেন তিনি। মেয়ে উপযুক্ত হলে তার পরিবারেই দিতে হবে। আশরাফ তালুকদারও দ্বিমত করার কোনো কারণ খুঁজে পাননি। সেই ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে এসেছে খান পরিবার। আরও আগেই আসতে চেয়েছিল, কিন্তু যিনি পাত্র, তার পরীক্ষা ছিল, সেই কারণেই দুই মাস দেরি। সব শোনার পরও আরিয়ানা কোনো টু শব্দ করল না। বৃদ্ধা বুঝলেন, এই মেয়ের অভিমান ভাঙা সহজ হবে না। কিন্তু এবার এ মেয়েকে না নিয়ে তিনি কিছুতেই যাবেন না। তা ছাড়া তার নাতি তো আছেই, এরকম ছেলের সাথে যার বিয়ে হবে, সেই মেয়ের অভিমান একদিনেই শেষ হয়ে যাবে। রুম থেকে যাওয়ার আগেই একটি কথা বলে গেলেন, ‘আমার নাতি কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ। তাকে নেওয়ার বিনিময়ে অভিমানটা যেন একটু কমাও।’ বৃদ্ধা এমনভাবে কথাটা বললেন, যেন তার নাতিই পৃথিবীর একমাত্র পুরুষ, আর আরিয়ানা যেন তার জন্যই অপেক্ষায় বসে আছে। অভিমানের মাঝেও আরিয়ানা একটা ভেংচি কাটল। কিন্তু তার অবচেতন মনের এক কোণে লালিমাভাব দেখা দিল, সাথে একটি প্রশ্নও উঁকি দিল, ‘আসলে কি তিনিই পৃথিবীর সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ?’ ______ ‘চাচি, তুমি কি ব্যথা পেয়েছিলে?’ ব্যথা দিয়ে ছেলেটা যে পগারপার হয়েছিল! নানি যাওয়ার পর আবার এসেছে, একা আসেনি, তার মেঝো চাচি, ফারজানা, হেনা, এবং ছেলেটার মা আকলিমা, তার হবু জা। সবাই এসেছে তাকে সাজাতে। সাজতে সে চায়নি অবশ্য। কিন্তু তার মতামত ধাতে টিকেনি। সবার এক কথা, কোনো নিরামিষ বিয়ে হবে না। তাই একপ্রকার জোর করেই তাকে সাজাতে বসেছে সবাই মিলে। আশফিন নামের ছেলেটির কথায় সবার মধ্যে একটি হাস্যরসের পরিবেশের সৃষ্টি হলো। সে বলতে চাচ্ছিল না, বাবা ব্যথা পায়নি। তবে এর পর থেকে সাবধানে কাউকে জড়িয়ে ধরবে। কিন্তু তার আগেই আকলিমা মিছে মিছে রাগ দেখিয়ে বলল, ‘তুমি ব্যথা দেওয়ার পর এখন এসে মজা করছ চাচির সাথে, সরিও বলনি।’ ‘আমি ব্যথা দেইনি মা, চাচির শরীরে শক্তি কম থাকার কারণে উনি আমার ভার সহ্য করতে পারেননি।’ পিচ্চি বাচ্চার মুখে এরকম পাকা কথা শুনে রুমের সবাই একটু জোরেই হেসে উঠল। আরিয়ানার সুন্দর মুখটায় লালিমাভাব দেখা গেল, সাথে একটু রাগও হলো। তার শরীরে কি আসলেই শক্তি কম? সে জানবে কী করে? সে তো কোনোদিন শক্তি পরীক্ষা করেনি। ছোটবেলায় কয়েকবার হেনাকে হয়তো কোলে নিয়েছিল। একবার নাকি কোলে নিতে গিয়ে সে নিজেই পড়ে গিয়েছিল, এটা অবশ্য মা বলেছিল। মায়ের মুখের কথাটা সে বিশ্বাস না করলেও অনেক চেষ্টা করেছিল, যেন কথাটা হেনা না শোনে। কিন্তু কোনোভাবেই সে হেনার কানে কথাটা যাওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। এই নিয়ে হেনা এখনও সুযোগ পেলে তার উপর মজা করে। এখন তো মজা করার আরেকটি সুযোগ পেয়ে গেল। ‘এভাবে বলো না আশফিন, তুমি জোরে ধাক্কা দিয়েছ, এই কারণেই তো পড়ে গিয়েছে এবং ব্যথাও পেয়েছে। এখন চাচিকে সরি বলো।’ ‘সরি চাচি, আমি বুঝতে পারিনি আপনি ব্যথা পাবেন। দয়া করে চাচ্চুকে বিচার দেবেন না। চাচ্চু মায়ের থেকেও বেশি বকা দেবে।’ আগেরবার ফারজানা নিজের হাসি মোটামুটি আয়ত্তে রাখতে পারলেও, এবার পারল না। সাথে নিজেই উদ্যোগী হয়ে বলল, ‘নিশ্চয়, নিশ্চয়ই, তুমি একদম নিশ্চিত থাক, তোমার চাচি চাচ্চুকে বিচার দেবেন না।’ সাথে হাসি তো রয়েছেই। আরিয়ানা আগের কথায় যতটা না লজ্জা পেয়েছিল, এই কথায় পেল দ্বিগুণ লজ্জা। সে কী করে তার চাচাকে বিচার দেবে? সে কি তাকে এখনো চেনে? পরিবেশ স্বাভাবিক করার জন্য আশফিনকে নিচে পাঠিয়ে দিল তার মা, ‘নিচে যাও আশফিন, আমরা তোমার চাচিকে রেডি করাবো।’ সোহেল, আহমদ খান আসার পরপরই তালুকদার মঞ্জিলে এসেছে, সাথে ভ্যান ভর্তি বাজার। একে তো তালুকদার পরিবারের মেয়ের বিয়ে, তার উপর এরকম হঠাৎ। যতই হঠাৎ করে বিয়ে হোক, বেশি সাদামাটা হয়ে গেলে মানুষ ফিসফিস করবেই। তাছাড়া তালুকদার পরিবারের একটা সম্মান তো আছে! তাই হুলুস্থুল আয়োজন না করলেও বিয়েটা যেন একদম সাদামাটা না হয়, তারই ব্যবস্থা করতে মোহসিন তালুকদার আদেশ দিয়েছেন আহনাফ তালুকদারকে। এরকম হঠাৎ বিয়েতে আহনাফ তালুকদার একদমই রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু বাবার আদেশের উপর তার কথা চলে না। পাশাপাশি তার স্ত্রীও তাকে অনেকক্ষণ বুঝিয়েছেন, কেন আরিয়ানার বিয়েটা এখন বেশি প্রয়োজন। একজন মেয়ের কাছে স্বামীর চেয়ে বড় আপন কেউ নেই। স্বামী যেমন অভিভাবকের মতো, তেমনি বন্ধুর মতো সবসময় স্ত্রীর পাশে থাকে। অগত্যা পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি না হলেও একপ্রকার মৌন সম্মতি দিলেন। তাছাড়া পাত্র হিসেবে ছেলেটাও খারাপ না। এই কারণে বিবাহ যেন বেশি পানসে না হয়ে যায়, তারই ব্যবস্থা করতে উঠে পড়ে লেগেছেন তিনি। তবে তার কাজটা আরও সহজ হতো, যদি বিয়েটা অন্তত একদিন পিছানো যেত। কিন্তু সেই ক্ষমতা সম্ভবত মোহসিন তালুকদারের হাতেও নেই। _____ “নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা কিছু আছে, তা তিনি জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল কী করবে, কেউ জানে না কোন দেশে মৃত্যু হবে। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।” (সূরা লুকমান: ৩৪) মানুষ যখন গর্ভাশয়ে আসে, তখনই আল্লাহ তায়ালা তার ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলেন। মাতৃগর্ভে কী আছে (কী হবে, তার রিজিক, মৃত্যু, আমল, ভাগ্য ইত্যাদি)। সম্ভ্রম হচ্ছে একজন নারীর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। আমাদের সমাজ পুরুষের চেয়েও নারীর সম্ভ্রমের দিকে বেশি দৃষ্টিপাত করে। এই কারণে দেখা যায়, কোনো নারী যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তখনো মানুষের বদ্ধমূল ধারণা থাকে যে মেয়েটি নিজের চরিত্রের দোষেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে। কিন্তু কেউ মূল ঘটনাটা ঘেঁটে দেখে না। মেয়েটির মনের অবস্থা কেমন, এটাও কেউ বুঝতে চায় না। এই জ্ঞানটা তার মা তাকে দিয়েছিলেন। সরাসরি নয়, তার মায়ের জীবনী থেকে সে জেনেছিল। মানুষের ভাগ্য পূর্ব থেকে নির্ধারিত করে রেখেছেন আল্লাহ তায়ালা। তবুও মানুষ এই অসুস্থ সমাজের অনুকরণ করতে গিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উঠে পড়ে লাগে। কিন্তু সবকিছু কি চাইলে আর সম্ভব? এই দিক দিয়ে আরিয়ানা সবসময় অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম ছিল। কলেজে অনেকে হয়তো তার উপর উপহাসও করত, এরকম চিন্তাভাবনা না দেখে। কিন্তু আরিয়ানা কখনো সেসব উপহাসের গুরুত্ব দেয়নি। সমাজে ভেসে যাওয়া আর দশজন মানুষের মতো সে পা বাড়ায়নি প্রেম নামক কোনো অবৈধ সম্পর্কে। কিন্তু বিয়ে হচ্ছে একজন নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রত্যেক মেয়েই চায়, এই সময়ে তার মা-বাবা তার পাশে থাকবে। কিন্তু তাকে বিদায় বেলায় কে তুলে দেবে নতুন মানুষটার হাতে? আর কেমন হবে তার হাতের তালুতে লিখিত থাকা নামের ব্যক্তিটি? চাঁদনি রাতের তারা ভরা আকাশ থেকে দৃষ্টিটা নিজের হাতের দিকে আনল আরিয়ানা। তার মেহেদী রাঙা হাতের তালুতে একটি নাম জ্বলজ্বল করছে, মাসুম, মাসুম খান! চলবে......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রজাপতির কুঠার (পর্ব 6)
→ প্রজাপতির কুঠার
→ প্রজাপতির কুঠার (the silent axe)
→ প্রজাপতির কুঠার ( The silent axe)
→ প্রজাপতির কুঠার (The silent axe)
→ প্রজাপতির কুঠার (The silent axe)
→ প্রজাপতির কুঠার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now