বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পুষে রাখা কষ্ট

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X লে�খকঃ ভুলে যেতে বলনা আমায়♥ রাত প্রায় ২টা হবে, হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায়, দেখি পাশে সজীব নেই, হঠাৎ বাহির থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাই, বারান্দা থেকেই শব্দ আসতেছে, একটু তাড়াতাড়ি বারান্দায় গিয়ে দেখি, সজীব কাঁদছে...... আমি গিয়ে পাশের চেয়ারেই বসলাম, কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না, কারন কান্নার কারনটা আমার অজানা নয়, সজীবের কাঁদে হাত দিতেই, আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে আবার কাঁদতে শুরু করে, আমিও চোখের জল ধরে রাখতে পারলাম না, নিয়তি এতোটা নিষ্টুর হয় তা সজীবের সাথে পরিচয় না হলে হয়তো কখনো জানতাম না, সজীবের জীবনটা সত্যি অন্য রকম, সজীবের সারাদিন হাসি খুশি আর আড্ডায় কাটে, কেউ বুজতেই পারে না সজীব বয়ে বেড়াচ্ছে এক বুক কষ্ট আর শূর্নতা, দিনের সজীবকে সবাই দেখে, কিন্তু রাতের সজীবকে খুব কম মানুষই দেখতে পায়, ঐ কম মানুষের মাঝে আমিও একজন, সজীবের রুমমেট না হলে এই ভাগ্য আমারো হতো না, তিন বছর আগের কথা...... সজীবের কিছু স্বপ্ন ছিলো, স্বপ্ন গুলো খুব একটা বেশি নয়, এইতো প্রিয় মানুষকে নিয়ে একটু ভালো থাকা, এই ভালো থাকা চাওয়াটাই হয়তো সজীবের জীবনে সব ছেয়ে বড় ভুল ছিলো, অন্য সবার মতো সজীবের জীবনেও প্রেম, ভালো-লাগা, ভালোবাসা ছিলো, ছিলো প্রিয় মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন, হারিয়ে যাওয়ার বাসনা, ছিলো ইচ্ছে ঘুঁড়িটা নীল আকাশে উড়ানোর স্বপ্ন, দুজনের এক পৃথিবী!! হ্যাঁ, সজীব ভালোবাসতো মিষ্টি নামের সেই মিষ্টি মেয়েটাকে, মিষ্টি নামের মেয়েটার মায়া কাঁড়ানো হাসিটাকে,সম্পর্কে মিষ্টি সজীবের খালাতো বোন হয়, তাই ছোট বেলা থেকে তাদের বুজাশোনা, সজীবের ভালো লাগার মানুষের মধ্যে মিষ্টি ছিলো একজন, যে ভালো লাগা এক সময় ভালোবাসায় রুপান্তর হয়, মিষ্টিও সজীবকে অনেক পছন্দ করতো, কিন্তু সজীব বয়সে বড় বলে ভয়ে কিছু বলতে পারতো না, এভাবে তাদের বেড়ে ওঠা, দুজনের মনের মাঝে দুজন সব সময় বিচরণ করতো, দেখতে দেখতে মিষ্টি মাধ্যমিক পার করে, আর সজীব উচ্চ মাধ্যমিক, সজীব নিজের ভালোবাসা আর ধরে রাখতে না পেরে মিষ্টিকে প্রপোজ করে, মিষ্টি কিছু না ভেবেই রাজী হয়ে যায়, পুষে রাখা ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারবে এ সুযোগ তো হাতছাড়া করা যায় না, দুজনের মিষ্টি মধুর আলাপ, রাত জেগে কথা বলা, স্বপ্ন দেখা কত কি পরিকল্পনা করতে থাকে সবার অগোচরে!! সেদিনের মিষ্টির কথা গুলো সজীব প্রায় বলে...... পূর্নিমা রাত সজীব আর মিষ্টি ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে, চোখে স্বপ্ন আর মুখে সুখের আভা, প্রিয় মানুষের সাথে জোছনা বিলাস, চাঁদের আলো রাঙ্গিয়ে দিচ্ছে মিষ্টিকে, তবু তার চোখ আর মুখে কি এক বিষন্নতা......হঠাৎ সজীবের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি_আচ্ছা সজীব, আমি যদি কখনো হারিয়ে যাই, ঐ দূর আকাশের তাঁরা হয়ে যাই, আমাকে কি এমনি করে দেখবে প্রতিটি রজনীতে!!? খুঁজবে কি আমায় লক্ষ তাঁরাদের ভিরে?! নাকি ভুলে যাবে নতুন কাউকে পেয়ে?! মিষ্টির এমন কথায় সজীবের চোখে জল চলে আসে, সজীব কিছুই বলে না, শুধু মিষ্টিকে জড়িয়ে ধরে রাখে, সজীব কখনো হারাতে দিবে না মিষ্টিকে, বিন্দু বিন্দু করে পোষে রাখা ভালোবাসা, এই ভালোবাসা সফল হবে একদিন এই বিশ্বাস রাখে সজীব!! সবার আঁড়ালেই তাদের দুষ্ট মিষ্ট প্রেম চলতে থাকে, দুজনেই তাদের সামনের বড় ধরনের বাস্তবতা ভুলে যায়, দেখতে দেখতে মিষ্টি এইচএসসি শেষ করে, মিষ্টির পরীক্ষার পর পরই আরো একটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়......... হঠাৎ ফ্যামেলি থেকে বিয়ে ঠিক করে, মিষ্টি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলো এমন কিছুর জন্য, সাথে সাথে ব্যাপারটি সজীবকে জানানো হয়, সজীবও হঠাৎ আসা ঝড়ের মাঝে পড়ে যায়, কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না, সজীব দিশেহারা হয়ে তার আব্বু আম্মুকে সব খুলে বলে, মিষ্টির সাথে সম্পর্কের কথা, কিন্তু নাহ.....এতে কোন কাজ হয় না!! সজীবের আব্বুর সোজা কথা, আত্মীয়র মাঝে নতুন কোন সম্পর্ক নয়, আর মিষ্টির বিয়ে ঠিকঠাক, এখন কিছু করা যাবে না, হতাস হয় সজীব!! সব লজ্জা, ভয় ছেড়ে মিষ্টির ফ্যামেলিতেও বলে, তাদের ও একই কথা, কিছুই করা সম্ভব না, সজীবকে ভুলে যেতে হবে মিষ্টিকে, আর মিষ্টির একমাত্র ভরসা সজীব, মিষ্টির বিশ্বাস সজীব কিছু একটা করবে, এদিকে দুই পরিবার সজীব আর মিষ্টির সম্পর্কের কথা জানার পর, সজীবের মিষ্টিদের বাসায় যাওয়া নিষেধ করে, আর মিষ্টির ফোন কেড়ে নেয়, যেনো দুজন কোন ভাবে যোগাযোগ করতে না পারে, বিয়ের তারিখ ঘোষনা করা হয়, আর দশ দিন পর বিয়ে, সজীব কি করবে ভেবে পাচ্ছে না, সজীবের কোন ভাবেই মিষ্টিকে ছাড়া থাকা সম্ভব না, পাগলের মতো এদিক সেদিক ছুটতে থাকে সজীব, সবাই সজীবকে নিরাস করে!! বিয়ের দুইদিন আগে মিষ্টি কোন ভাবে আম্মুর নাম্বার থেকে কল দেয় সজীবকে, দুইজনে সিদ্ধান্ত নেয় পালিয়ে যাওয়ার, পরদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘর থেকে কোন ভাবে বের হয় মিষ্টি, আর সজীব আগে থেকেই বাসস্টপে অপেক্ষায় থাকে, মিষ্টি আসলেই দুজন পাড়ি দিবে নতুন এক জীবনে, মিষ্টি ঠিকই আসলো, কিন্তু হঠাৎ উপস্থিত হয় মিষ্টির আব্বু আর বড় ভাই, উনারা কিভাবে খবর পায় জানা ছিলো না মিষ্টি আর সজীবের, মিষ্টিকে জোর করে নিয়ে যায় তার আব্বু, আর সজীবকে মিষ্টির বড় ভাই নিয়ে যায়, সেদিন রাতে অনেক মারধর করে সজীবকে, মিষ্টিও রক্ষা পায়নি সেদিন, সজীবকে একটা ঘরে আটকে রাখা হয়, পরদিন সকালে সজীব কে তার আব্বু নিতে আসে, সজীব নিশ্চুপ হয়ে আব্বুর সাথে যাচ্ছে, সামনে কঠিন এক বাস্তবতা সজীব তা বুজতেও পারেনি, সিএনজি করেই যাচ্ছিলো, হঠাৎ সজীব খেয়াল করে সিএনজি মিষ্টিদের বাড়ীর দিকেই এগুচ্ছে,একটু পর মিষ্টিদের বাড়ীর সামনেই থামলো, সজীব দেখে ভীতরে অনেক মানুষের ভীর, আর একটি পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, সজীবকে তার আব্বু শক্ত করে ধরে রাখে, আস্তে আস্তে সজীব কে মিষ্টির রুমের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে, রুমে ডুকেই সজীব থমকে যায়, এইতো মিষ্টি ঘুমাচ্ছে, কিন্তু তারপাশে সবাই কাঁদছে কেনো?! সজীবের পৃথিবীটাও ঘুরাচ্ছে, শক্ত পাথরের মত সজীব দাঁড়িয়েই আছে, মুখে অনেক কথা বলার ইচ্ছে কিন্তু কিছুই বলতে পারছে না সজীব, শুধু সামনের দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে, কেউ একজন সজীবকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, কিন্তু সজীব কিছু বলতে পারছে না, সজীব কাঁদবে কি করে?! সজীব তখন পাথরে গড়া মূর্তি......... মি. শর্টকাট ঐদিনের আর কিছুই সজীবের মনে নেই, রাতে সজীব নিজেকে আবিষ্কার করে হাসপাতালের বেডে, চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে পাশে কেউ আছে কিনা, সজীবের আম্মু পাশেই বসা, কিছু বলতে চাচ্ছে সজীব কিন্তু পারছে না, হঠাৎ সজীব দেখে তার চোখ ভিজে গেছে, কখন কাঁদলো তাও বুজতে পারছে না, নাহ সজীব তো কাঁদেনি, তাহলে জল আসলো কোথায় থেকে?! ঐদিন রাত কিভাবে শেষ হয় সজীবের অজানা, হয়তো বুকে যন্ত্রণা ছিলো, হয়তো পাথর হয়ে ছিলো রাতে!! পরদিন..... সজীব জানতে পারে মিষ্টির শেষ হওয়ার কথা, সেদিন রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে মিষ্টিকে মারধর করে তার আব্বু, আর মিষ্টি রুমে ডুকে দরজা বন্ধ করে দেয়, পরদিন ভোরে মিষ্টিকে বাহির থেকে অনেক ডাকা ডাকির পরও দরজা না খুললে, দরজা ভেঙ্গেই ভীতরে মিষ্টির ঝুলন্ত দেহটা দেখে সবাই!! তারপর..... সজীব কাউকে কিছুই বলেনি, চিৎকার করে কাঁদেও নি, মিষ্টির কবরের পাশে গিয়ে অভিযোগ করেনি কিছুই, শুধু পাগলের মতো হয়ে যায় সজীব, সেদিন কাউকে না জানিয়েই নতুন শহরে পাড়ি দেয় সজীব!! আজ প্রায় তিন বছর হয়ে গেলো, সজীব এখনো মিষ্টিকে ভেবেই কাঁদে, এখনো জোছনা রাতে নীল আকাশের তাঁরাদের মাঝে মিষ্টিকে খুঁজে বেড়ায়, এখনো সজীব স্বপ্ন দেখে ঘর বাঁধার, মিষ্টিকে নিয়ে স্বপ্নের দেশে পাড়ি দেয়ার, এখনো সজীবের চোখে গভীর রাতে বৃষ্টি হয়, ঝাপসা হয়ে যায় সজীবের পৃথিবি.......... সজীব কাঁদছে.....এখনো কাঁদছে....আমিও চাই কাঁদুক চোখের জলে বুক ভাসিয়ে দিক, বৃষ্টি হয়ে ঝরতে থাকুক তার ভীতরে পোষা কষ্ট গুলো,...........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পুষে রাখা কষ্ট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now