বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

।। পুরুষ বলে কি মানুষ নয় ? - মনীষা নস্কর ।।

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X উনিশে নভেম্বর — ওয়ার্ল্ড টয়লেট ডে ছাড়া আর কিছু মনে পড়ছে ? হুঁ হুঁ , ভাবুন ভাবুন , চোখ বুজে ভুরু কুঁচকে ভাবুন। আচ্ছা , আটই মার্চ ? আরিব্বাস , একচান্সেই বলে দিলেন , “হ্যাঁ , ওই তো নারীদিবস !” বলি শুনুন , উনিশে নম্বর হল গিয়ে পুরুষ দিবস। ও কি ? হেসে গড়িয়ে পড়লেন যে ? কেন মশাই ? পুরুষদিবস হতে নেই ? ওরা মানুষ নয় ? ওরা এলিয়েনের ছানা বুঝি ? ‘টয়লেট দিবস’ নিয়ে পর্যন্ত নাচানাচি করতে পারেন , যত দোষ পুরুষদিবসের বেলা ? কেন হে ? পুরুষ হয়ে জন্মেছে বলে বুঝি ওদের দায়িত্ব শুধুমাত্র নারীদিবস , এইডসদিবসে ঝাণ্ডা কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ? বেচারাদের জন্যও যে একটা গোটা দিন রাখা হয়েছে , কেউ জানেই না। ফেসবুকে তো নারীদিবসের একহপ্তা আগে থেকে তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় ! নারীদিবস মানে পোস্টের বন্যা , দুনিয়ার যত্রতত্র অজগরের ন্যাজের মতো শোভাযাত্রা , শপিং মলে ডিসকাউন্ট ! আর পুরুষদিবস ? হেঁ হেঁ , সেটা আবার কবে দাদা ? পুরুষদের বুঝি ইচ্ছে করে না ওদের নিয়ে সেলিব্রেশন হোক , ওদের জামাকাপড়ে ডিসকাউন্ট দিক ? কী বললেন ? পুরুষদের ওসব লাগে না ? কেন ? ওহ্ , বুঝেছি। হ্যাঁ , বাড়িতে অচেনা লোক ফোন করে বলে , ‘বাড়িতে “পুরুষ” থাকলে দিন। ’ হ্যাঁ , ওদের শেখানো হয় , ‘বাবু , কাঁদছো ? ছিঃ , ছেলেরা আবার কাঁদে নাকি ?’ , ওরা স্রেফ মুখেই অমিতাভ বচ্চনের মতো ডাঁটসে বলতে পারে ‘মর্দ কো দর্দ নেহি হোতা’। আমাদের সোসাইটি কম দুষ্টু নয়। মেয়েদের ঘাড়ে একরাশ নিয়মের বোঝা যেমন চাপিয়ে দিয়েছে , ওদের ঘাড়েও ইয়া বড় বড় ‘দায়িত্ব’ ‘কর্তব্য’ নামক ভারী ভারী শব্দের গাঁটরি ধপাস করে ফেলে দিয়েছে। ‘চাকরি তো পেতেই হবে বাবু , তুমি না ছেলে ?’ , ‘ইশ্ ! ও ঘরজামাই ? হেঁ হেঁ পোষ্য সারমেয় !’ ছোটবেলা থেকেই এদের এক একটা ‘রোবট’ তৈরি করা হয়। দুঃখ পেলে গলা ফাটিয়ে ভ্যাঁ করে কাঁদবে না , সবসময় হাসলেই সে এক্কেবারে আনস্মার্ট , মনের কথাগুলোয় আবেগটাবেগ মিশিয়ে গড়গড় করে বলে দিলেই ‘ইশ্ , দ্যাখো , ‘‘ছেলে’’ হয়েও কি ন্যাকা !’ বেচারাদের দুর্দশাটা ভেবে দেখুন দেখি একবার। প্রত্যেক পরীক্ষায় ফার্স্ট হও , জ্বলজ্বলে মার্কশিটের গোছার বদলে ভাল চাকরি জোগাড় করো , ভাল চাকুরের তকমার বদলে একটা ফুটফুটে কন্যেকে ঘরে আনো , দায়িত্বশীল বাবা হও , ছেলেমেয়েকে ‘মানুষের মতো মানুষ’ তৈরি করে মানে মানে বৃদ্ধাশ্রমে কেটে পড়ো নয়তো সবার সমস্ত ‘জ্বালা’ চুকিয়ে রেসের মাঠটা ছেড়ে চলে যাও। আরে ভাই , নিজের জন্য , স্রেফ নিজের জন্য এদের জীবনে আছে টা কী ? মাসে দু’দিন কলিগদের সাথে দারুপান ? একজন ‘ভাল ছেলে’ হিসেবে, ‘ভাল বাবা’ হিসেবে , একজন ‘ভাল বর’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে করতেই গোটা জীবনটাই কখন টুপ করে আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে যায় , এই অবোধ জীবগুলো টেরই পায় না। মেয়েদের ‘অবলা’ তকমা কপালে সেঁটে গেছে। ভেবে দেখুন , পুরুষরাও যে এক একজন ‘অবলা’ ! বাসে উঠেছেন। একদিকের সিট বরাদ্দ মহিলাদের জন্য , ওখানে পুরুষ বসলেই হেঁ হেঁ , হয়েছে আর কী ! কতজন পুরুষ রোজ দাঁড়িয়ে যান এবং কতজনের তার জন্য কতরকম শারীরিক সমস্যা হচ্ছে , তার খোঁজ কে রাখে ? হাঃ , ওরা তো পুরুষ , ওদের পা ব্যথা করতে নেই , ওদের ঘাড়ব্যথা করতে নেই , হাতের ব্রিফকেস যতই ভারী হোক , ট্যাঁ ফোঁ করা যাবে না ! মহিলা কামরা থেকে পুরুষকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারি আমরা , ইয়েস আমরা মহিলারা ! দোষ কার ? দোষ পুরুষের ! কেন ? আরে উঠেছে কেন মহিলা কামরায় ? হ্যাঁ , বাড়িতে যতই সমস্যা থাক , অফিসে যতই লেট হোক , মহিলা কামরা ফাঁকা থাকলেও সেখানে পুরুষ প্রবেশ জাস্ট নিষেধ। কিন্তু পুরুষ কামরায় মহিলা প্রবেশ , পুরুষ সিটে মহিলার অবস্থান — হেঁ হেঁ চলতা হ্যায় বস্ ! সিটের ওপরে ‘পুরুষ’ লেখা থাকলেও ওগুলো আসলে জেনারেল সিট , যে কেউ বসতে পারে ! আমরা মেয়েরা যে ‘অবলা’ , আমরা মেয়েরা যে ‘দুর্বল’ , তার সুযোগ আচ্ছাসে নিয়ে নিই পুরুষদের ওপর অধিকার কায়েম করে। ইকো পার্কের নারীমূর্তির ‘যত্রতত্র’ উদ্দেশ্যমূলকভাবে হাত রেখে কোনো পুরুষ ফটো তুললে রই রই পড়ে যায় ফেসবুকের নারীবাদীদের মধ্যে , পারলে বাড়ি গিয়ে পিটিয়ে আসে। একই কাজ একজন মেয়ে যদি করে পুরুষের মূর্তিকে নিয়ে ? পটাপট কমেন্ট পড়বে , ‘ওহ্ হো হো , হোয়াট আ ফানি পোস্ট’ , কমসে কম সাড়ে চারশো লাইক , আড়াইশোটা হার্টসাইন ! পুরুষদের মানসম্মানে আঘাত করার পারমিশন মেয়েদের আছে বুঝি ? কিছুদিন আগে বিদেশে একটা সার্ভে চালিয়ে দেখা গেছে , রাস্তায় একজন মেয়ে একজন ছেলেকে কিল - চড় - লাথি মারলে , অপভাষা প্রয়োগ করলে রাস্তার লোকজন এসে বাধা দেওয়া তো দূর , ফিরে তাকায়ও না। কিন্তু একটা ছেলে একটা মেয়ের সাথে ওসব করলে কোনো এক্সপ্ল্যানেশন না শুনেই লোকজন ছুটে এসে ছেলেটাকেই ধরে পিটিয়ে দেয় ! ‘মেয়ে’ হিসেবে আমি আজ গর্বিত , আমরা কত্তো পাওয়ারফুল না ? জানেন কি , রেপ ভিক্টিম ছেলেরাও হয় ? সিডিসির পরিসংখ্যান বলছে, একবছরে ১.২৬৭ মিলিয়ন পুরুষকে জোর করে বাধ্য করা হয়েছে এবং ১.২৭০ মিলিয়ন মহিলাকে জোর করে বাধ্য করা হয়েছে ! হ্যাঁ , শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। এটা নিশ্চয়ই জানেন , পুরুষরা রেপ-ভিক্টিম হলেও স্বীকার করতে লজ্জা পায় ? কী ভাবেন , লজ্জাবোধ- ভয়টা মেয়েদের একচেটিয়া ? মশাই , ওরা মানুষ যে ! লজ্জা , ভয় তো থাকবেই। আচ্ছা , একটা সোজা এক্সামপল দিই। মুসলিম মাত্রেই কি টেররিস্ট ? নিশ্চয়ই নয়। যারা টেররিস্ট , তারা তো ‘মানুষ’ই নয় , তার আবার কী বা হিন্দু , কী বা মুসলমান। সেরকমই , যাদের অপোজিট সেক্সের মানুষকে দেখলেই ‘রাক্ষস’ হয়ে যেতে ইচ্ছে করে , সেই মান আর হুঁশ খোয়ানো প্রাণীগুলো তো নিজেরাই ‘মানুষ’ নয়। মেল রেপিস্টের তুলনায় ফিমেল রেপিস্টের সংখ্যাটা কম। এখনও অনেক গ্রামে মেয়েদের লেখাপড়া করাটা স্রেফ স্বপ্ন , এখনও মেয়েদের ‘পদে পদে বিপদ’। কিন্তু বলুন তো , ছেলেরা কি খুব সেফ ? মুখচোরা লাজুক শান্ত ছেলেগুলোকে কতকিছুর সঙ্গে লড়াই করতে হয় শোনেননি ? দেখেননি ? ‘কলেজ হোস্টেলে অত্যাচারের কারণে প্রথম বর্ষের ছাত্রের আত্মহত্যা’ — হেডলাইনগুলো নজর এড়িয়ে যায় বুঝি ? ওদেরও মলেস্ট করা হয়। ওদেরও টর্চার করা হয়। ওরা বলতে পারে না মুখ ফুটে। ‘সুন্দর পাত্র’ হিসেবে একজন ছেলের কী কী কোয়ালিফিকেশন লাগে ? লিস্টের প্রথমেই থাকে একটা দারুণ চাকরি (পড়ুন , প্রচুর স্যালারি), সম্ভব হলে নিজস্ব বাড়ি , খানদুয়েক গাড়ি। একজন মেয়ে যদি একজন ছেলেকে বরণ করে নেওয়ার পেছনে শুধুমাত্র তার ‘দারুণ চাকরি’টাই দেখে , সেই ছেলেও তবে অনায়াসে মেয়েটির বাড়ির লোকের কাছে মোটাঅঙ্কের পণ চাইতে পারে। বিয়ে তো হচ্ছে না , হচ্ছে বিজনেস ডিল। একটি মেয়ে শুধুমাত্র তার রূপের জোরে ‘পয়সাওয়ালা বর’ নামক এটিএম মেশিনকে বিয়ে করছে। ছেলেও ‘কশান মানি’ হিসেবে পণ আদায় করতেই পারে সেই মেয়ের বাবার কাছে। চাকরি শুধু ছেলেদের জন্য বুঝি ? সুন্দরী মেয়ে বুঝি শুধু ‘ঘরের বউ’ হতেই জন্মায় ? রূপ থাকলেই বুঝি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা ভুলে যেতে হয় ? নির্ভরশীলতার প্রত্যাশী কি শুধুই মেয়েরা ? ছেলেরা নয় ? একজন ‘মেয়ে’ বরের পয়সায় খেলে সমাজের কিছুমাত্র যায় আসে না , কিন্তু একজন ‘ছেলে’ বউয়ের পয়সায় খেলে সমাজ হাঁউমাঁউ করে ওঠে। এটা কি মেয়েদের অপমান নয় ? চুপিচুপি বলি শুনুন , ছেলেগুলো না বড্ড আদরখেকো। ওদের যতটা ‘শক্ত’ ভাবেন , ততটা যে নয়। মনে মনে ওরাও কাঁদে , মনে মনে ওরাও আদর চায় , যত্ন চায়। ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্টের কারণে মনের কথা মুখে প্রকাশ করতে গিয়ে গুবলেট করে ফেলে। ‘ছেলে’ মানেই খারাপ নয়। আমরা মেয়েরা মুখেই বলি , ছেলে - মেয়ে সমান অধিকার ! কাজের বেলা তো হচ্ছে সেই জেনারেল কাস্ট আর শিডিউলড্ কাস্টের বখেরা। অতিরিক্ত অধিকার পেতে পেতে আমরা মেয়েরা অনেকসময় ভুলে যাই , ছেলেরা আসলে ‘মানুষ’ , আমাদের মতই ওরাও চায় আদর - যত্ন - ভালবাসা - নির্ভরশীলতা। বছরে একটা দিন ওই আপাতদৃষ্টিতে শক্ত অথচ ভিতরে ভিতরে নরম তুলতুলে মনের প্রাণীগুলোর জন্য বরাদ্দ হয়েছে। আমরা মেয়েরা কি এতই হার্টলেস , অ্যাঁ ? অচ্ছেদ্দা না দেখিয়ে একটু এগিয়ে আসুন না। বেচারাদের ‘ছেলে’ নয় , প্লিজ মানুষ হিসেবে দেখুন। ওরা সত্যিই অবলা য


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ।। পুরুষ বলে কি মানুষ নয় ? - মনীষা নস্কর ।।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now