বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পুরনো সপ্ন

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X লেখক:তুহিন(মেয়ের গল্প লেখক) ভালবেসে বিয়ে করেছি নাঈম কে। অবশ্য আমার পরিবারের কারো অমত ছিলনা। ছোট বেলা থেকে আমার কোনো চাওয়া অপূর্ণ রাখেনি তারা। যখন আমি বললাম আমি নাঈম কে বিয়ে করতে চাই, কোনো প্রশ্ন না করেই মেনে নিয়েছেন। . বিয়ের আগে থেকেই আমার বান্ধবী সোমা নাঈমকে পছন্দ করত। আমি বিষয়টা জানতাম তবুও সোমাকে কিছু বলিনি কারণ আমি জানি নাঈম আমাকে ছাড়া আর কাউকে ভালবাসতে পারেনা। আমার বন্ধুরা সোমা কে অনেক বুঝিয়েছে, নাঈমকে ভুলে যেতে বলেছে কিন্তু ও কিছুতেই কিছু মানেনি। ওর মনে একটা জেদ ছিল নাঈমকে ওর প্রেমের জালে ফাঁসাবেই। আর এ নিয়ে আমার অনেক ভয় হতো। নাঈম চেয়েছিলো একটু দেরি করে বিয়ে করতে কিন্তু আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি, তাই আরো তারাতারি বিয়েটা করা হয়। ভেবেছিলাম আমাদের বিয়ের পর সোমাকে নিয়ে ভয়টা আর থাকবেনা। কিন্তু পুরোটাই হয়েছে তার উল্টো। সোমার জেদ তখন আরো বেড়ে যায়। আমি একবার সোমাকে বলেছি -দেখ সোমা আমাদের মাঝে তুই আসিস না। নাঈম শুধু আমাকে ভালবাসে আর সারাজীবন আমাকেই বাসবে। ও আমাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিল নাঈমকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবেই। . নাঈমের প্রতি আমার যথেষ্ট ভরসা ছিল। কিন্তু সবকিছু তখনি উলোট পালোট হয়ে যায় যখন শুনি সোমাও নাঈমের অফিসে কাজ করে। আমি নাঈমকে কিছু বলতেও পারতাম না আবার সইতেও পারতাম না। নাঈম আর কারো হতে পারেনা এটা বলে মনকে শান্তনা দিতাম। . কিছুদিন থেকে নাঈম দেরি করে বাসায় ফিরে। আচরণেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে আজকাল। আগের মত আর আমার কেয়ার করেনা। অফিসের সব কথা আমার সাথে শেয়ার করত কিন্তু এখন কিছুই বলেনা। নিজ থেকে যদি কিছু জানতে চেয়েছি ও বলেছে আমি যেন ওর অফিসের কোনো বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামাই সময় হলে ও নিজেই সব বলবে। ওর কথা শুনে আমার খুব কষ্ট পেতাম লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতামও মাঝে মাঝে। . একদিন নাঈমের কলিগ সাইম ভাই কল করে আমাকে বলে নাঈমের প্রতি যেন নজর রাখি। ও আজকাল সোমার সাথে খুব বেশি মেলামেশা করছে। সোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছে,শপিং করছে,কফিশপে বসে কফি খাচ্ছে, আরো হ্যান ত্যান। আমার মাথায় তখন আগুন ধরে যায়। সাইম ভাইকে বললাম তিনি যেন নাঈমের প্রতি নজর রাখে আর সোমার সাথে দেখলে যেন তৎক্ষণাৎ আমাকে জানায়। সাইম ভাই আমাকে নিশ্চিন্তে থাকতে বলেন। তিনি সব আমায় জানাবেন। . সেদিন নাঈমের সাথে আমি কোনো কথা বলিনা, রাগ করে থাকি। ভেবেছিলাম নাঈম আমার রাগ ভাঙাবে। কিন্তু তা না করে ও ঘুমিয়ে পড়ে। এখন তো ওনার সোমা আছে আমাকে আর কি দরকার। দাড়াও দাড়াও যেদিন হাতেনাতে ধরব না সেদিন বুঝবা সুস্মিতা কি জিনিস। একটাকেও ছাড়বো না আমি। সোমার মাথার সবগুলা চুল যদি না ছিড়ি তবে আমার নামও সুস্মিতা না এই বলে দিলাম আমি। . সাইম ভাই একদিন আমাকে কল করে বলে আমি যেন তারাতারি ভুতের গলি রেস্টুরেন্টে যাই। নাঈম আর সোমা কিছুক্ষণ আগে এখানে এসেছে। আমিও দেরি না করে তারাতারি সেখানে যাই। আমি যা দেখি তা দেখে আমার মাথা নষ্ট হবার উপক্রম। নাঈম সোমার হাত ধরে আছে। দুজন সে কি মিষ্টি করে প্রেমের আলাপ করছে। আহা একেকজনের কথা কি। . -- আমায় তুমি কবে বিয়ে করবে গো জানু? -- খুব তারাতারি ডার্লিং। আগে ওই পেত্নিটাকে তো আমাদের মাঝথেকে সরাই। . কি আমি পেত্নি? আমার হাত নিশপিশ করছে, ইচ্ছে করছে এখনি গিয়ে সোমার গলাটা চেপে ধরি। অন্যের বরের দিকে নজর দেয়া? ওই সোমার বাচ্চারে যদি আমি না খাইছি। নিজেকে কন্ট্রোল রেখে ওদের সব কথা শুনতে লাগলাম। . -- যা করার তারাতারি করো গো সোনা। -- আমাকে একটু টাইম দাও। আর আমিতো শুধু তোমারি। আমিতো প্রথম থেকেই তোমাকে ভালবাসি। -- আমাকে ভালবাসলে ওকে বিয়ে করলা ক্যান? -- আমি কি নিজের ইচ্ছায় করছি নাকি। ওই তো জোর করে করেছে। -- তারাতারি ওই শয়তানি টাকে সরিয়ে দাও। আমি আর তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না। . আরো অনেক কথা হয় ওদের। আমি নিজেকে আর কন্ট্রোল রাখতে না পেরে ওখানেই জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করি। . এই কি হয়েছে কাঁদছো কেন? কোনো দুঃস্বপ্ন দেখেছো কি? কি হলো বলো। . নাঈম আমাকে কথাগুলো বলে। আমি চোখ খুলে দেখি আমি আমার নিজের বিছানাতেই আছি। নাঈমকে বললাম আমি এখানে কেন? সোমা কই? ও বললো সোমা এখানে আসবে কি করে। কি হইছে বলো তো। আমি লজ্জা পেয়ে কিছু বলতে চাইনা। ও জোড় করায় সব বলে দেই। নাঈম আমার কথা শুনে হো হো করে হেসে ওঠে। দেখে আমার আরো রাগ হয়। ও বলে সারাদিন বুঝি এসব চিন্তা করো তাইনা? সারাক্ষণ আমাকে সন্দেহ করো আর সোমাকে নিয়ে আজেবাজে চিন্তা করো বলেই তো এসব স্বপ্ন দেখো। আমি বললাম দেখো নাঈম আমি মোটেও সন্দেহ করিনাই। নাঈম বলল . -- সন্দেহ না করলে এসব আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসে কোত্থেকে? -- আমি কি জানি। আমি কি ইচ্ছে করে এসব চিন্তা করি নাকি। আমার মাথায় চিন্তা আসলে আমি কি করব? -- আনো বলেই আসে। -- আমি মোটেও এসব চিন্তা আনতে চাইনা। -- না তুমি নিজেই আনো। -- আবার এ কথা বললে আমি কিন্তু চলে যাব। -- কোথায় যাবা বাপের বাড়ি? পারলে যাও। এখান থেকে রংপুর যাওয়া এত সহজ না। ঝগড়া ঝাটি হলে আর যাইহোক বাপের বাড়ি যাওয়ার ভয়টা আমি দেখাতে পারিনা। কারণ ঝগড়া করে খুলনা থেকে আমি রংপুর যেতে পারব না। এবার ওকে শায়েস্তা করার জন্য অন্য উপায় বের করতে হবে। বললাম -- বাপের বাড়ি যাব কেন? তোমার জন্য আমি আর রান্না করব না হুম্মম্ম। -- আচ্ছা না করলা। আজ রাতে বাড়ি ফেরার সময় পাশের ওই রেস্টুরেন্ট থেকে কি সুন্দর খাবারের গন্ধ নাকে আসলো। ভাবতেই জিভে জল চলে আসে। আমার ওতেই চলবে -- এই একদম না। আমি আছি কি জন্যে আমিই রান্না করব। কিন্তু বিশ্বাস করো আমি সন্দেহ করিনাই। -- সন্দেহ করোনাই আমি জানি আর বিশ্বাসও করি। এবার ঘুমাও তো। -- না আমি ঘুমাব না। -- কেন ঘুমাবেনা? অনেক রাত এখন, ঘুমিয়ে যাও তারাতারি। আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। -- ঘুমাব কিন্তু একটা শর্ত আছে। -- কি শর্ত আছে মহারানীর? -- আমি তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাব। . -- আমার বউটা এত্ত পাগলি কেন? -- এই দেখো একদম পাগলি বলবা না আমায়। আমি পাগলি না। -- আচ্ছা তোমাকে পাগলি বলব না। তাহলে সোমাকে গিয়ে বলি? -- এই একদম না। আমাকেই বলো। আমিই তো পাগলি। আর কোনোদিন যদি আমার সামনে সোমার কথা বলো তাহলে........ -- তাহলে কি? -- আমি কান্না করব। অনেক কান্না করব। কাঁদতে কাঁদতে তোমার ঘরবাড়ি সব ভাসিয়ে দিব। -- কান্না করলে আমি চকলেট দিব কান্না থেমে যাবে। -- এই আমি বাচ্চা না যে চকলেট দিলে কান্না থামবে। -- কি করে কান্না থামাতে হয় আমি জানি। চকলেটের চেয়ে মিষ্টি জিনিস দিলেই কান্না থামবে। -- কচু হবে। আমি মিষ্টি খাইনা জানোনা? -- মিষ্টির চেয়েও মিষ্টি কিছু যদি দেই। যদি জড়িয়ে ধরে চুমু দেই তবুও কি আমার পাগলি বউ কাঁদবে?নিশ্চই না। -- যাও দুষ্ট কোথাকার। -- বউটা আমার দেখি লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। -- প্রমিস করো আর কোনোদিন সোমার সাথে কথা বলবা না। -- আচ্ছা আর কোনোদিন বলব না। -- তুমি শুধুই আমার আর কারো না হুম। -- আমিতো তোরই পাগলি। আয় আমার কাছে আয়। . নাঈম আমাকে ওর বাহুডোরে টেনে নেয়।নাঈম কে বলি কখনো আমায় ছেড়ে যাবেনা তো? তাহলে আমি তখনি মরে যাব। নাঈম বলে আমার লক্ষী বউটাকে ছেড়ে কি আমি কখনো থাকতে পারি, না থেকেছি কখনো? আমি চাই মহারানী এবার ঘুমাক। আমি পরম শান্তিতে নাঈমের বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করি। আমার একটাই স্বপ্ন সারাজীবন যেন এভাবেই থাকতে পারি। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পুরনো সপ্ন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now