বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পুরনো জিজে-হারিয়ে যাওয়া কিছু মানুষের খোঁজে

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Partho (০ পয়েন্ট)

X সালটা ২০১৭। তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি। একদিন আব্বুর ফোনে Free Basics ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ একটা ওয়েবসাইট খুঁজে পেলাম—গল্পের ঝুড়ি (জিজে)। ছোটবেলায় গল্প পড়তে কে না ভালোবাসে! সেই আগ্রহ থেকেই সাইন আপ করেছিলাম। তখন বুঝতেই পারিনি, একটা গল্পের ওয়েবসাইট আমাকে এমন কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে, যাদের আমি আজও ভুলতে পারিনি। সেই সময়ে জিজের অন্যতম সেরা গল্পবাজ ছিলেন রিয়াদুল ইসলাম রুপচান ভাইয়া। তাঁর গল্পের চেয়ে কমেন্ট সেকশনটাই যেন বেশি জমজমাট ছিল। সেখানেই আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা, তর্ক-বিতর্ক—সবকিছু চলত। সেখান থেকেই পরিচয় হয় রুপচান ভাইয়া, সাদ ভাইয়া, শাকিম ভাইয়া, রিয়া আপু, রাফিউজ্জামান ভাইয়া, হুমায়রা ঐশী, ইভা (যার সঙ্গে এখনো মাঝে মাঝে কথা হয়) এবং আরও অনেকের সঙ্গে। দিন যত গড়াতে লাগল, পরিচয় তত গভীর হতে লাগল। একসময় মেসেঞ্জারে খুলে ফেলা হলো একটা গ্রুপ। জিজের আড্ডা শেষ হলেও আড্ডা চলত মেসেঞ্জারে। সকাল, দুপুর, রাত—যখনই সময় মিলত, সবাই একসঙ্গে গল্প করতাম। ক্লাস ফাইভ শেষে সিক্সে উঠলাম। পড়াশোনার চাপ তখনো খুব একটা ছিল না। তাই দিনের একটা বড় অংশ কেটে যেত ওনাদের সঙ্গে। সবাই ছিল আমার সিনিয়র। যখন জিজ্ঞেস করত, "কোন ক্লাসে পড়ো?" আমি একদম আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলে দিতাম, "ক্লাস সেভেন।" শুধু যেন কেউ আমাকে বেশি পিচ্চি না ভাবে! এখন ভাবলে নিজের সেই বুদ্ধিটা মনে করে হাসি পায়। সেই সময়েই পরিচয় হয় জারিন তাসনিম-এর সঙ্গে। সমবয়সী হওয়ায় খুব দ্রুতই আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। জিজে থেকে মেসেঞ্জার, মেসেঞ্জার থেকে মাঝেমধ্যে ফোনেও কথা হতো। সেই সময়টাকে আমি আজও জিজের গোল্ডেন সময় বলি। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই জারিন হারিয়ে গেল। আর তাকে জিজেতে দেখিনি। অনেক বছর পর, সম্ভবত পাঁচ বছর আগে, জিজের মেসেজে একবার কথা হয়েছিল। তারপর আবার নিখোঁজ। এরপর সময় তার নিজের গতিতে চলতে লাগল। সবাই ব্যস্ত হয়ে গেল নিজেদের জীবন নিয়ে। কেউ পড়াশোনায়, কেউ চাকরিতে, কেউ নিজের সম্পর্ক নিয়ে। একসময় রুপচান ভাইয়া গল্প লেখা কমিয়ে দিলেন। সাদ ভাইয়ার আসাও কমে গেল। রাফিউজ্জামান ভাইয়া পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। হুমায়রা ঐশীও হঠাৎ গায়েব হয়ে গেল। আর জারিন তাসনিম... তুমি ছিলে আমার সবচেয়ে কাছের ভার্চুয়াল বন্ধু। তোমার আর কোনো খোঁজই পেলাম না। জানি না এখন কোথায় আছো, কেমন আছো। তবে একটা কথা সত্যি—তোমার এই বন্ধুটা আজও তোমাকে অনেক মিস করে। ক্লাসে তুমি সিনিয়র ছিলে, কিন্তু বন্ধুত্বের তো কোনো ক্লাস হয় না। শাকিম ভাইয়া আর রিয়া আপুও একসময় সম্পর্কে জড়িয়ে মেসেঞ্জার থেকে বিদায় নিলেন। জানি না তারা এখন কেমন আছেন। ???????? তবে প্রকৃতি কখনো শূন্যস্থান ফাঁকা রাখে না। পুরোনো মানুষদের জায়গায় নতুন কিছু মানুষ এল—নুতফান নাহার সাবিরা, পুষ্পিতা, সুস্মিতা, ফারহান, হৃদয় আর তুবা আপু। আজ সাবিরা, ফারহান আর পুষ্পিতা আমারই ক্লাসমেট। সাবিরার সঙ্গে একবার মেসেঞ্জারে কথা হয়েছিল—জানি না, এখনো আমাকে চিনবে কি না। ফারহান, পুষ্পিতা—কেমন আছিস তোরা? চিনবি আমায়? সুস্মিতার সঙ্গে একবার একটা বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। যদি আমার কোনো কথায় কষ্ট পেয়ে থাকো, তাহলে সত্যিই দুঃখিত। ক্ষমা করে দিও। আর মনে আছে, একসময় শুনতাম তুবা আপু আর হৃদয়ের খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল। অনেকে বলত, তারা নাকি একে অপরকে পছন্দও করত। সত্যি-মিথ্যা জানি না, তবে সেই সময়ের স্মৃতিগুলো এখনো মনে আছে। আজ এত বড় পোস্ট লেখার একটাই উদ্দেশ্য— হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোকে আবার খুঁজে পাওয়া। যদি ২০১৭–২০১৯ সালের গল্পের ঝুড়ি (জিজে)-এর কোনো পুরোনো সদস্য এই পোস্টটি দেখে থাকেন, তাহলে অবশ্যই একটা সাড়া দেবেন। ফেসবুকে অ্যাড হয়ে থাকলেও ভালো লাগবে। প্রতিদিন কথা বলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। শুধু জানতে চাই—আপনারা সবাই ভালো আছেন। রুপচান ভাইয়া, সাদ ভাইয়া, শাকিম ভাইয়া, রিয়া আপু, ঐশী আপু—আপনারা যদি কখনো এই পোস্টটা দেখেন, তাহলে অবশ্যই সাড়া দেবেন। নিচে আমার ফেসবুক আইডির লিংক দিয়ে রাখব। ???? আর সবচেয়ে বেশি... জারিন তাসনিম, বন্ধু—যদি কখনো এই লেখাটা তোমার চোখে পড়ে, তাহলে একবার শুধু জানিয়ে দিও তুমি ভালো আছো। এতদিনে হয়তো তোমার বিয়েও হয়ে গেছে, জীবন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তবুও ৮ বছরের পুরোনো একটা ভার্চুয়াল বন্ধুত্বের স্মৃতি নিশ্চয়ই পুরোপুরি মুছে যায়নি। সবশেষে, পুরনো জিজে পরিবারের কেউ যদি এই পোস্টটা দেখে থাকেন, তাহলে অবশ্যই একটা সাড়া দিয়েন। হয়তো এই পোস্টটাই আবার অনেক পুরোনো মানুষকে একসঙ্গে ফিরিয়ে আনবে। ????❤️???? Fb link:- https://www.facebook.com/share/1Lyzh3qhoV/


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পুরনো জিজে-হারিয়ে যাওয়া কিছু মানুষের খোঁজে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now