বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বইমেলা শুরু হইয়াছে। ধুম পড়িয়াছে পুলিশের
পুস্তক পড়িবার। রুস্তম কনস্টেবল সন্ধ্যা হইলেই
হাত-মুখ ধৌত করিয়া ভদ্রছেলের ন্যায় পুস্তক লইয়া
বসেন। বহুদিন আগে তাহার এ অভ্যাস গত হইয়াছিল।
অথচ হঠাৎ করিয়া বইপড়া কর্মসূচির ঘোষণা আসিল।
প্রথম প্রথম রুস্তম কনস্টেবল পাঠে মন বসাইতে
পারিতেছিলেন না। যাই হোক সকল সমস্যা উতরাইয়া
অবশেষে তিনি তাঁহার মনকে পুস্তকের পৃষ্ঠায়
স্থির করিলেন। তাঁহার এহেন স্থিরভাব লইয়া তাহার
স্বীয় বাড়ি এবং নিজ মহল্লায় কানাঘুষা চলিতে লাগিল।
রুস্তম কনস্টেবল এদিকে কোনো কর্ণপাত
করিলেন না। তিনি আপন মনে, মুগ্ধ নয়নে পুস্তক
পড়িয়া চলিলেন।
বৈকালে রুস্তম কনস্টেবলের পুত্র মাঠে
খেলিতেছিল। এক বৃদ্ধ আসিয়া তাহাকে জিজ্ঞাসা
করিলেন, ‘বাছা, তোমার পিতা কী করেন?’
প্রত্যুত্তরে পুত্র কহিল, ‘আমার বাবা পুস্তক
পড়েন।’ বৃদ্ধ কহিলেন, ‘ও, তবে কি তোমার বাবা
পুলিশ?’ পুত্র হাসিমুখে মস্তক নাড়াইল।
এইদিকে রুস্তম কনস্টেবলের কিন্তু সকল
প্রকারের বই পড়িতে ভালো লাগে না। তিনি বাছিয়া
বাছিয়া কাব্যপুস্তক পাঠ করিতে লাগিলেন। কিশোর
বয়সে কবিতার প্রতি তাঁহার বিশেষ আসক্তি
জন্মাইয়াছিল। সেই সময় তিনি ছন্দ মিলাইয়া বহু
প্রেমপত্র লিখিয়াছিলেন। স্মৃতির পাতায় আজও তাহা
অম্লান হইয়া আছে।
যাই হোক, অল্প দিনে অধিক পরিমাণ কাব্য পাঠ
করিবার ফলে রুস্তম কনস্টেবলের উপর কাব্যের
প্রভাব পড়িতে লাগিল। তিনি ভাবিলেন, এইবার দুই লাইন
নিজে লিখিলে কেমন হয়? রাত্রে বইমেলার পাঠ
সমাপ্ত হইলে বাড়ি ফিরিয়া তিনি হাতে কলম তুলিয়া
লইলেন। স্ত্রীকে লইয়া ছন্দ মিলাইয়া দশ
চরণের একখানি পদ্যও লিখিয়া ফেলিলেন। অতঃপর
ঘরের মৃদু আলোয় তিনি তাহা স্ত্রীকে পাঠ করিয়া
শোনাইলেন। জীবনে স্বামীর মুখে এত
প্রশংসা কোনো দিন শোনেন নাই রুস্তমের
স্ত্রী। তাই স্ত্রীর মুখেই প্রথম কবি স্বীকৃতি
মিলিল রুস্তমের।
ফেব্রুয়ারি মাস জুড়িয়া রুস্তম কনস্টেবল প্রচুর
পুস্তক পাঠ করিলেন। রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়ার
হইতে শুরু করিয়া বর্তমানের কবিগণের কাব্য
সম্পর্কেও তিনি এখন বিশেষ ধারণা রাখেন। এমনকি
নিজের লেখা কবিতাতেও তিনি পাকা হাতের ছাপ
ফেলিয়াছেন। বিভিন্ন সামাজিক কিংবা পারিবারিক
অনুষ্ঠানেও স্ত্রী তাঁহাকে এখন আর পুলিশ বলিয়া
নয়, কবি বলিয়া পরিচয় করাইয়া দেয়। রুস্তম অতিশয়
আনন্দ লাভ করেন। ধীরে ধীরে রুস্তম
কনস্টেবল নিজের অজান্তেই পুলিশ হইতে
কবিতে রূপান্তরিত হইয়া পড়িলেন।
বইমেলা শেষ হইয়াছে। পুস্তক পড়িবার দিনও গত
হইয়াছে। অফিসে ফিরিয়া রুস্তম তাঁহার পদত্যাগপত্রটা
বড়কর্তার টেবিলে ফেলিলেন। বড়কর্তা
বলিলেন, ‘এ কি করছ, রুস্তম!’
রুস্তম বলিলেন, ‘লাঠি ফেলিয়া যেই হাত একবার
কলম তুলিয়া লইয়াছে, সেই হাত আর কোনোদিন
লাঠি তুলিয়া লইবে না।’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now