বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Writer:-KM Saju Ahmed Rokib
অনেকদিন ধরে ফুফু তার বাড়িতে আসার জন্য বলছিলেন আসব আসব করে আর আসা হচ্ছিল না।।। তারপর একদিন সুযোগ পেয়ে ফুফুর বাড়িতে গেলাম।।।
ফুফুর বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয় প্রায় ১ কিঃমিঃ এর পথ হবে।।। সারাদিন ফুফাতো ভাই বোনদের সাথে অনেক মজা করলাম।।। রাতের খাবারটা বেশ জমিয়ে করে নিলাম,ফুফুর হাতের রান্নার মজাই আলাদা।।।।
খাওয়া শেষ করে ফুফু বললাম আমার এখন বাড়ি যেতে হবে।।। ফুফু বললেন বলিস কিরে এত রাতে বাড়ি যাবি??? আজ আমাদের এখানে থাক কাল সকালে নাহয় বাড়ি যাবি।।।
আমার কারো বড়িতে থাকার অভ্যাস নেই তাই আমি ফুফুকে অনেক বুঝি বাড়ি যেতে রাজি করালাম।।। ফুফু আবার বললেন তাহলে তুই কি একা যেতে পারবি তর ফুফা কে দেই সাথে তোকে এগিয়ে দিয়ে আসবে।।।। আমি বললাম না না ফুফা অসুস্থ মানুষ আমি একাই যেতে পারব,,,,, এই বলে আমি তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলাম।।।।
রাস্তা দিয়ে গেলে একটু দেরি হবে মনে করে ক্ষেতের মাঝ বরাবর দিয়ে হেঁটে চললাম।।। পৌষ মাসের প্রথম দিক তাই সবাই জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছে,,,মাঠ ফাঁকা ছিল।।।। প্রচুর ঠাণ্ডা বাতাস বইতে লাগল শরীর হিম হয়ে আসছে আর চারদিকে ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছিল আর সেই শেয়ালের হাঁক আমি অবশ্য শেয়ালকে ভয় পাই না ।।।
একটু একটু ভয় লাগছিল ছোট বেলা অনেক ভূতের গল্প পড়েছিলাম সেই কাহিনীগুলো মনে পড়ছিল,,,নানির মুখেও অনেক গল্প শুনেছিলাম।।। আমার নানাবাড়ির ১কিঃ দক্ষিণে অনেক বড় হাওর ছিল সেখানে নাকি কৃষকেরা প্রায়ই ভূতুরে অদ্ভুত সব কান্ড দেখে থাকত আর আমি সেইসব গল্পগুলো আগ্রহের সাথে শুনে যেতাম কারণ ভূতুরে গল্প শুনতে আমার আগ্রহটা ছিল খুবই বেশি ,,, মাঝে মধ্যে ভূতের গল্পের বই কিনে এনেও পড়তাম।।। এসব কথা ভেবে ভেবে মাঠ পেরিয়ে রাস্তার প্রায় কাছাকাছি চলে আসি রাতে শহুরের রাস্তা দিয়ে হাঁটা যতটা সহজ ঠিক ততটা কঠিন গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটা।।। কারণ কোথাও কারো তেমন বেশি চলাচল নেই রাস্তাঘাটে শহরের মত আলো নেই চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার তাই পথ চলতে আরো ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল।।।
যাই হোক কি আর করার আমাকে তো বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে হবেই!!! হাঁটতে হাঁটতে সামনে এসে পড়ে বাঁশ বাগান তার পাশে বিশাল এক পুকুর ঘাট।।। আমি যখন বাঁশ বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন দেখলাম সেই পুকুর পাড়ে কিছু নবজাতক শিশু খেলা করছিল আর সেই সাথে পুকুর পাড়ে বৃদ্ধা মহিলা।।। আমি বিষয়টা আরো কাছ থেকে দেখার জন্য আরো সামনে এগিয়ে যাই ওই বৃদ্ধা মহিলা আমার উপস্থিতি টের পেয়ে পিছন ফিরে তাকাতে আমি যেটা দেখলাম এই কথা মনে হইলে আমি এখনো আঁতকে উঠি!!!মহিলাটার সমস্ত মুখ রক্তাক্ত চোখ দুটো উপর দিকে উঠানো সে আমার দিকে তাকিয়ে ভয়ংকর একটা হাঁসি দেয় আমার দম যেন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল আমি এইসব দেখে দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়িতে এসো আম্মু ডাক দেই।।।
আম্মু আমায় হাঁপাতে দেখে বলেন কিরে এইভাবে হাঁপাচ্ছিস কেন আর এত রাতে তুই ফিরে আসলি কেন ওইখানে কি এক রাত থাকতে পারছিলি না আমি বললাম সব তোমাকে বলছি এখন আমাকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি দাও তো পানি খেয়ে রাস্তায় ঘটে যাওয়া সব ঘটনা আম্মুকে বলি আর রাতে শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসে আম্মু পরেরদিন এক হুজুরের কাছে নিয়ে নিয়ে যান তখন তিনি আমার সব ঘটনা শুনে তাবিজ দেন আর রাতে কোথাও একা যেতে নিষেধ করেন।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now