বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিস্তব নিশীথে সবাই
নিদ্রায় ব্যস্ত, আর
আমি বারান্দায় বসে
অপেক্ষার প্রহর
গুনছি,
আর যে সইছে না
আমার.. কখন
প্রতীক্ষার ঘোর
কাটিয়ে সূয্যি মামা
নতুন দিনের আগমনী
বার্তা ছড়াবে,
কখন পৌঁছব প্রেয়সীর
সান্নিধ্যে, আবেগে
আপ্লুত হয়ে আজ
ঘুমটাকে কবর দিলাম,
কত স্বপ্ন মাথায়
ঘুরপাক খাচ্ছে,
আমি কাল কি ড্রেস
পরে যাব?
স্নিগ্ধা খুব সুন্দর
করে সাজবে, তার
বান্ধবীরা আমায়
পছন্দ করবে তো!!
.
ওহ,
স্নিগ্ধা আমার
প্রেয়সীর নাম.
আর আমি "আবির".
গ্রাম থেকে আসা সহজ
সরল ছেলে,
আর স্নিগ্ধারা ঢাকায়
স্থানীয়,
ভার্সিটি এডমিশন
কোচিং থেকে এক
কাকতালীয়ভাবে
আমাদের পরিচয়,
সেখান থেকে
ক্রমন্নয়ে প্রণয়ের
লীলা খেলা,
আমাদের সম্পর্কটি
প্রায় ২ মাস ছাড়িয়ে,
অপেক্ষার প্রহর গুণে
রাতটি পাড়ি দিলাম,
আজ স্নিগ্ধার
বার্থডে,
তার বাসার পার্টিতে
আমার নিমন্ত্রণ,
যার জন্য এত
অপেক্ষা, এত
প্রতীক্ষা,
শত হোক জীবনের
"প্রথম প্রেম"..
_
→হ্যালো, কোথায় তুমি?
→এই তো রিকশায়,
আসতেছি
→৩নং গলিতে নেমে
ফোন করো, সেখান
থেকে ভাইয়া এগিয়ে
আনবে
→ওকে
.
৩নং গলিতে নেমে আর
স্নিগ্ধাকে কল করতে
হলো না,
একজন ভাইয়া সামনে
এগিয়ে এসে বলল,
→তুমি আবির?
→জ্বী ভাইয়া
→ওহ, আমি স্নিগ্ধার
ভাইয়া..আচ্ছা চল
.
ভাইটা সভ্য সমাজের
সংরক্ষিত পরিবারের
ছেলের মত না,
কেমন জানি একটু
বখাটে টাইপের,
দুজনে একসাথে হাঁটছি,
এক অচেনা অনুভূতির
বহিঃপ্রকাশ ঘটছে
আমার মাঝে,
প্রেয়সীর বাসায় এই
প্রথম...
↓
↓
৫ মিনিট বিরতিতে
আমি স্নিগ্ধার বাসায়
পৌঁছলাম,
কোন এক কারণে
আন্টি একটু বাসার
বাইরে,
আর আংকেলও
ব্যবসার কাজে দেশের
বাইরে,
বাসায় ঢুকেই দেখলাম,
একাধিক ছেলে মেয়ের
অবস্থান..অনুধাবণ
করে নিলাম, এরা
স্নিগ্ধার ফ্রেণ্ড,
প্রথম থেকে সবাই
কেমন জানি আড় চোখে
তাকাচ্ছে, আমি
বারংবার আমার
পোষাকগুলো দেখে
নিচ্ছি,
কোথায় কোন সমস্যা
জর্জরিত কিনা?
একজন তো মুখের উপর
বলে উঠল, "সহজ সরল
এই হাবলা ছেলেটি
স্নিগ্ধার বয়ফ্রেণ্ড"
কথাটি শুনে খুব লজ্জা
এবং বিব্রতবোধ
করলাম, যদিও
মেয়েটির কথায়
প্রেয়সীর
প্রতিউত্তর ছিল
দেখার মত..
↓
নির্দিষ্ট সময়ে
স্নিগ্ধার বার্থ ডে
কেক কাটা হলো,
কেক মুখে মাখামাখি
করে এক অভিনব
পরিবেশের সৃষ্টি,
গ্রাম্য ছেলে হিসেবে
এভাবে বার্থ ডে
উদযাপন আমার এক
নতুন অভিজ্ঞতা
বটে,,
অতঃপর সব দুষ্টামির
অবসান ঘটিয়ে
স্নিগ্ধা আমাকে
পাশের রুমে নিয়ে গেল
আড্ডা দিবে বলে,
আমিও এমনটা
চাচ্ছিলাম, জনবহুল
কোন কিছুই আমার
পছন্দ নয়,
স্নিগ্ধা রুমে ঢুকেই
দরজা বন্ধ করে দিল,
আচমকা আমার অধরে
তীব্র স্পর্শ,
আমি পুরাই হতভম্ব
হয়ে গেলাম, ঠোঁটেও
একটু ব্যথা পেলাম,
সামান্য বিষয় নিয়ে
কিছু বললে যদি
রিলেশনের ইতি ঘটে
তাই কিছু বলাও হলো
না,
পরক্ষনেই স্নিগ্ধা
আমাকে বেডে ফেলে
দেয়, বুকের কাপড়
সরিয়ে আছড়ে পড়ে
আমার উপর,
খুব ভয় পেয়ে যাই
আমি!!
কি হচ্ছে আমার
সাথে!!
ভয়ের আড়ালে হারিয়ে
যায় পুরুষত্বের কামনা,
থরথর করে কাঁপতে
থাকি,
বুঝাতে থাকি
স্নিগ্ধাকে,
বিয়ের পূর্বে এসব খুবই
বাজে কর্ম,
কিন্তু কে শুনে কার
কথা,
সবই যে আমার
অহেতুক বক্তব্য,
স্নিগ্ধা নিজ হাতে
তার পরনের কিছু
কাপড় ছিড়ে ফেলে,
হাতের নখ দিয়ে আপন
গলায় কিছু নখের
আঁছড় এঁকে দেয়,
আমি তাকে ধাক্কা
দিয়ে রুম থেকে বের
হওয়ার সর্বাত্মক
চেষ্টা করি,
কিন্তু দুর্ভাগ্য,
বাহির থেকে দরজা
আটকানো,
আমি চিত্কার দেয়ার
বাকশক্তি হারিয়ে
ফেলি,
স্নিগ্ধা শিকারি
বাঘের মত পুনরায়
তেড়ে আসে আমার
দিকে,
খুব শক্ত করে ঝাপটে
ধরে আমায়,,
সহসা চিত্কার করে
বলে ওঠে,
"বাঁচাও,বাঁচাও, আমাকে
মেরে ফেলল."
কিছু বোঝার আগে
বাহির থেকে দরজা
খুলে সরাসরি মাথায়
আঘাত..আমি জ্ঞাণ
হারিয়ে ফেলি,
জ্ঞাণহীন মানুষটির
উপর চলতে থাকে
অমানবিক অত্যাচার,
বেদড়ক মারে আমার
ডান হাত এবং বাম পা,
জ্ঞাণ ফিরে নিজেকে
হাত পা বাঁধা
আবিষ্কার করি,
মাথা ফেটে অনবরত
রক্ত ঝরে পড়ছে.
.
সব জড়তার বাঁধ
ভেঙ্গে শুরু হয় আমার
সাথে আসল রহস্য,
অকথ্য ভাষায়
গালামন্দ করা হয়
আমাকে, আমার
পরিবারকে কল করে
লাখ টাকা দাবি করে
স্নিগ্ধার বখাটে
বন্ধুরা,
আমার নামে উপস্থাপন
করা হয় ধর্ষণের
মিথ্যে অপবাদ,
প্রমানসরূপ,
স্নিগ্ধার নিজ হাতে
ছেঁড়া জামা এবং গলায়
আপন হাতের নখের
আঁছড়ের ছবি,
তাদের কাছে খুব
মিনতি করেছি
আমাকে মেরে ফেলার
জন্য,
কিন্তু তারা মারেনি,
বরং পঙ্গু করে বাঁচিয়ে
রেখেছে,
এদিকে একমাত্র
ছেলের দুর্ঘটনার কথা
শুনে বাবা মা সত্যি
দিশেহারা হয়ে পড়ে,
আর স্নিগ্ধার বন্ধুরা
ছলে বলে, কলে
কৌশলে আমার সহজ
সরল বাবা মা থেকে
টাকা আত্মসাত্ করে,
নিজের শেষ সম্বল
মাঠের জমিটুকু
বিক্রি করে আমায়
উদ্ধার করে বাবা,
আমি হেরে যাই নিজের
ভাগ্যের কাছে,
আঁধার হয়ে যায়
ঢাবিতে পড়ার
উজ্জ্বল স্বপ্ন,,
অন্যায়ভাবে সমাজের
কাছে কলংকিত হয়
আমার বাবা
মা,,পঙ্গুত্ত নিয়ে
এখনো বেঁচে আছি
আমি,, কিন্তু সব
কিছুর আড়ালে
নির্মমভাবে হেরে যায়
আমার অগাধ বিশ্বাস
আর অপরিসীম
ভালবাসা,
.
'কি দোষ ছিল আমার'
'কেনই বা বিধিতা
আমায় এমন প্লে
গার্লের খপ্পরে ফেলল'
কিছু প্রশ্ন শুধু
প্রশ্নই থেকে যায়,
উত্তর থাকে না,
থাকলেও অজানার
দিগন্তে পাড়ি জমায়...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now