বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পযুক্তির দোর্দণ্ড প্রতাপ সর্বত্র। প্রযুক্তি জীবনকে সহজ ও সাবলীল করেছে।
পাশাপাশি অপরাধ প্রমাণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে বিশ্বব্যাপী। অপরাধী শনাক্তকরণে আঙুলের ছাপ, অডিও রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজ, ডিএনএ টেস্টের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর। এগুলো আমাদের চোখের সামনেই। কিন্তু এগুলো নিয়ে ভিন্ন চিন্তা আছে। আছে শিক্ষা নেওয়ার বিশেষ উপাদান। এসব প্রযুক্তি থেকে পরকাল সম্পর্কে কিঞ্চিৎ বোঝার সুযোগ আছে। পরকালে অঙ্গগুলো দেহের সব অপকর্মের কথা প্রকাশ করে দেবে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যাপারে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর—এদের প্রতিটিই জিজ্ঞাসিত হবে।
’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৬)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। ’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৬০)
মোবাইল ফোন বা মুঠোফোন বর্তমানে আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। আগে মানুষ তারযুক্ত ল্যান্ডফোন ব্যবহার করত। এখন আর সেই ফোন নেই। চলে এলো তারহীন মুঠোফোন। এই মুঠোফোন বা মোবাইল ফোন বর্তমানে বহু কাজে ব্যবহৃত হয়। কল রেকর্ড করা যায়। ভিডিওকলে কথা বলা যায়। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যেকোনো স্থানের ছবি তোলা যায়। ভয়েস বার্তা সংরক্ষণ করে রাখা যায়।
এসব রেকর্ড আমাদের এই চিন্তার পথ প্রশস্ত করে যে আমাদের গোটা জীবনে ছবি ও ভয়েস এভাবে রেকর্ড হতে পারে।
সিসিটিভি আমাদের নগরজীবনের নিরাপত্তা বিধানে সহায়ক। বিভিন্ন বাড়ি বা অফিসের গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকে, ‘You are being watched’ (আপনার প্রতি লক্ষ রাখা হচ্ছে বা সর্বক্ষণ আপনি আমাদের নজরে রয়েছেন)। ব্যস, এটুকুই! কোনো সিকিউরিটি গার্ড নেই, পুলিশ নেই। শুধু এটুকু লেখা যে আপনাকে নজরদারি করা হচ্ছে। প্রবেশকারী বোর্ডের লেখা পড়েই বুঝতে পারে যে গোপন ক্যামেরার সাহায্যে তার প্রতিটি কার্যকলাপে লক্ষ রাখা হচ্ছে। ফলে সে তত্ক্ষণাৎ সতর্ক হয়ে যায়। এমন কোনো কাজ করে না, যার ফলে তাকে জবাবদিহি করতে হতে পারে। কিন্তু এটি দেখে মুমিনের হূদয়ে এ অনুভূতি জাগ্রত হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে You are being watched by Allah taaala ‘হে অন্তর! মহান আল্লাহ তাআলা সব সময় তোমাকে দেখছেন। ’
পৃথিবীর কোনো কিছুই আল্লাহর জ্ঞান ও শক্তির বাইরে নয়। এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, ‘অদৃশ্যের চাবিগুলো তাঁর কাছেই রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। জলে ও স্থলে যা কিছু আছে, তা তিনিই অবগত। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না এবং রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোনো বস্তু নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লওহে মাহফুজে) নেই। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)
বর্তমানে সারা বিশ্বেই ফিঙ্গারপ্রিন্টের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মোজেজা সম্পর্কে বিজ্ঞান খবর পেয়েছে ১৮৮০ সালে। স্যার ফ্রান্সিস গ্যালটন সর্বপ্রথম এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘দুজন মানুষের আঙুলের ছাপ কোনো দিন কোনো সময় এক ধরনের হবে না। ’
এ জন্যই পুলিশ, সিআইডি, সিআইএ, এফবিআই অপরাধী শনাক্ত করার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে থাকেন। ফিঙ্গারপ্রিন্ট মাতৃগর্ভের চতুর্থ থেকে পঞ্চম সপ্তাহের মধ্যে গঠিত হয়, যা অনেকটাই নির্ধারণ করে ভ্রূণের ডিএনএ প্রফাইল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের The Claim : Identical Twins Have Identical Fingerprints প্রবন্ধে বিষয়টি নিয়ে ব্রিফ আলোচনা করা হয়েছে। (https://goo.gl/ksFWV4)এটি গভীর চিন্তার বিষয় যে আল্লাহপাক মানুষের ‘হুবহু বৈশিষ্ট্য’ তুলে ধরতে গিয়ে চেহারা-ছবি কিছুরই উদাহরণ টানেননি, তিনি উদাহরণ দিলেন আঙুলের ডগার। কারণ আঙুলের ডগার সঙ্গে শুধু ডিএনএ প্রফাইল জড়িত নয়, বরং মানুষের মাতৃগর্ভে থাকার ইতিহাসও কিন্তু জড়িত! আবার ডিএনএ প্রফাইল যেহেতু জড়িত, সেহেতু চেহারা-ছবি থেকে শুরু করে লিঙ্গের বিষয়টিও ফিঙ্গারপ্রিন্টের সঙ্গে জড়িত। অর্থাৎ ‘আঙুলের ডগা’ বললেই কিন্তু মানুষের গোটা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়ে যায়, আর সেভাবেই হুবহু আল্লাহপাক তাকে হাশরের ময়দানে পুনরুত্থিত করবেন।
এ বিষয়ে কোরআনের বক্তব্য এমন : ‘বস্তুত আমি তার আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম। ’ (সুরা : কিয়ামা, আয়াত : ৪)
প্রযুক্তির আদ্যোপান্ত ধারণা সামনে রেখে পবিত্র কোরআনের সুরা জিলজাল পড়া যাক। সেখানে রয়েছে, ইরশাদ হয়েছে, ‘সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। কেননা তোমার রব তাকে আদেশ করবেন। ’ (সুরা : জিলজাল, আয়াত : ৪-৫)
কিভাবে জমিন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে? প্রযুক্তি আমাদের সেটি বুঝতে সহায়তা করছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে যাদের কিছুটা ধারণা আছে তাদের কাছে এটি খুব স্বাভাবিক ব্যাপার মনে হবে।
আমরা যেখানেই যাই, যেসব কথা বলি এবং যে কাজই করি না কেন, সব কিছু জমিন রেকর্ড করছে। ঘরের মেঝে, সিলিং, দেয়াল, ছাদে আমাদের কথা সংরক্ষিত। বাতাসে স্টোরেজ করা আছে আমাদের আলাপচারিতা। পথঘাটের পরিবেশ এবং স্থান, স্থাপনা আমাদের ক্লোজ মনিটর করছে। আজকের সিসিটিভি প্রযুক্তি এই ব্যাপারটি আরো খোলাসা করে দেয়। মানবসৃষ্ট সিসিটিভি ক্যামেরার লেন্স যেদিকে তাক করা থাকে সেদিকের তথ্য কালেকশন করতে পারে। আর আল্লাহর ‘সিসিটিভির লেন্স’ প্রতি ইঞ্চি জায়গায় সেট আপ করা। নিজেকে তা থেকে আড়াল করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। প্রতিটি বালুকণা একটি একটি সিসিটিভি। দুই কাঁধে দুজন তো আছেনই। এ বিষয়ে কোরআনের বক্তব্য এমন, ‘আল্লাহ বলেন, অবশ্যই তোমাদের জন্য আছে তত্ত্বাবধায়করা—সম্মানিত লেখকরা (ফেরেশতারা)। তোমরা যা করো তারা তা জানে। ’ (সুরা : ইনফিতার, আয়াত : ১০-১২)
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ জমিনকে তার কাছে সংরক্ষিত তথ্য ফ্লাশ করার নির্দেশ দেবেন। জমিন সব তথ্য প্রকাশ করে দেবে। স্থিরচিত্র, ভিডিও চিত্র ও অডিও বার্তা প্রকাশ করা হবে। মহান আল্লাহ কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি বান্দাদের সামনে সেগুলো প্লে করবেন। বলবেন, ‘দেখো তো, এগুলো তোমাদের কি না’, তখন বান্দারা তাদের পুরো জীবনের প্রতিটি পার্টের অবিকল প্রামাণ্যচিত্র দেখে স্তম্ভিত হয়ে যাবে। মাথা নিচু করে বলবে, ‘হ্যাঁ রব, আমাদেরই। ’ এই হাদিস বর্ণনা করার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এ আয়াত তিলাওয়াত করেন, ‘সেই দিন দুনিয়া তার যাবতীয় সংবাদ ব্যক্ত করবে। ’ (সুরা : জিলজাল, আয়াত : ৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা কি জানো দুনিয়ার সংবাদ কী? সাহাবায়ে কিরাম বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সর্বাধিক অবগত। তিনি বলেন, তার সংবাদ হলো, তার বুকে প্রত্যেক নর-নারী যা কিছু করেছে সে তার সাক্ষ্য দেবে। সে (দুনিয়া) বলবে, সে তো অমুক অমুক দিন এই এই কাজ করেছে। এটিই হলো জমিনের সংবাদ। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ৩৩৫৩)
মহান আল্লাহ আমাদের উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now