বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
অরনিতা সায়েম ভাইয়ার রুমে উকি দিয়ে দেখলো পরী রুমে একা একা বসে আছে।হাতে একটি পুতুল ওইটা নিয়েই একা একা খেলছে।বড় ভাবী এই মাত্রই বেরিয়ে পরেছেন,সায়েম ভাইয়া অনেক সকালেই অফিসে চলে যান।কাজেই পরী মেয়েটা সারাদিন এইভাবে একা একাই থাকে।অরনিতা পরীকে গিয়ে বললো-
-মা কি অনেক বকেছে?
পরী না সূচক মাথা নাড়ালো।অরনিতা বললো-
-ভয় পেয়ো না পরী।মা চলে গিয়েছে।তোমার কোনো ভয় নেই।আবার তোমাকে বকতে আসলে আমি তাকে বকে দিবো।
পরী পিট পিট করে তাকিয়ে রইলো অরনিতার দিকে।
অরনিতা বললো-
-হালিমাকে ডেকে দেই।হালিমা তোমার সাথে বসে খেলা করুক।ক্যামন?
পরী কিছুই বললো না।
.
হালিমা রান্নাঘরে।রুনা তাকে কাজে ব্যাস্ত রেখেছেন।এই মুহূর্তে হালিমাকে ডেকে নেওয়া মোটেও ঠিক হবে না।রুনা অরনিতাকে দেখে বললেন-
-কোনো কাজে এসেছো?
-জী..আসলে হালিমাকে..
-হালিমা কোথাও যেতে পারবে না।হালিমা কাজ করছে।আমাকে বলো কি হয়েছে?
-পরী রুমে একা বসে খেলছে তাই আমি চেয়েছিলাম হালিমা যদি ওর সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটাতো তাহলে ভালো হতো।
-পরী একা একা খেলতে পারে।ওর সাথে অন্য কারো প্রয়োজন হয় না।তুমি অন্য কাজে লেগে যাও।ওকে নিয়ে ভেবো না।
অরনিতার কিছুই করার রইলো না।মেয়েটাকে দেখলে কেমন যেন অস্থির লাগে।ওর জায়গায় নিজেকে একবার কল্পনা করলে অস্থিরতা হয় বেশী।অরনিতার মনে হচ্ছে সে এই নিয়ে হয়তো একটু বেশীই ভেবে ফেলছে।মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি হতে পারে না।
উদয় অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে।অরনিতার গম্ভীরতা আজ সকাল থেকে খেয়াল করছে সে।অরনিতাকে হাসানোর চেষ্টা করে উদয় বললো-
-আজ আমার জন্য স্পেশাল কিছু বানিয়ে রেখো।
-স্পেশাল কিছু?কি বানাবো?
-স্পেশাল কিছু রেসিপি।এখন পর্যন্ত বউয়ের হাতের রান্নার স্বাদ নেওয়া হলো না।
-এতোদিন পর ইচ্ছে হলো বউয়ের হাতের রান্না খাওয়ার?
-এর আগেও ইচ্ছে ছিল বলার কিন্তু বলার সুযোগ পেলাম কোথায়!সবসময় কথায় কথায় কাটাকাটি লেগেই থাকে।
-শুরুটা তো আপনি করেন?
-উহু।ভূমিকা শুরু হয় তোমাকে দ্বারা কিন্তু উপসংহার শেষ হয় আমাকে দ্বারা।
-এখন আবার আমাকে রাগিয়ে দিলে আমি এইবার সত্যি সত্যি ঝগড়া করবো।
-ঝগড়া করলে ভালোই হবে।এইবার ঝগড়াটা হবে অন্য রকমভাবে।ঝগড়া কম্পিটিশন হবে।দুইজনের মধ্যে যে ঝগড়ায় জিতে যাবে সে হয়ে যাবে উইনার।উইনারের প্রাইজ হিসেবে থাকবে একটি গিফট।যে হারবে সে উইনারকে প্রাইজ দিবে।
বলতে বলতে উদয় হেসে ফেললো।অরনিতা বললো-
-আমি জানতাম আপনি এইরকম কিছুই বলবেন আর নিজে নিজেই হো হো করে হাসবেন।
-কেন?তোমার কি হাসি পাচ্ছে না?
-মোটেও না।আমি এখন হাসির মুডে নেই।
-তা আমিও খেয়াল করছি।
অরনিতা আর কোনো জবাব দিলো না।চটপটে মেয়েরা হঠাৎ করে গম্ভীর হয়ে গেলে কেমন যেন অদ্ভুত লাগে।
উদয় বললো-
-বলো কি হয়েছে?আমাকে বলতে পারো।
-কিছু হয় নি আমার।
-অনেক কিছুই হয়েছে তোমার।আমি জানি তুমি পরীকে নিয়ে ভাবছো।
-বুঝেই যখন ফেলেছেন তাহলে জিজ্ঞেস না করলেই পারতেন।জানি এখন আপনি আমাকে বোঝানোর জন্য যুক্তি দাড় করাবেন।
উদয় বললো-
-ভুল ধারণা।তোমাকে বোঝানোর জন্য আমি আমার লজিকগুলো কখনওই নষ্ট করবো!কখনো না।
-কেমন স্বামী আপনি!বউয়ের জন্য একটুও মায়াও হচ্ছে না আপনার?
উদয় হেসে বললো-
-এই দেখো..আবারও ঝগড়ার ভূমিকা শুরু করে দিয়েছো।এক কাজ করো মাথা ঠান্ডা করে ডিমের জুস খাও।
-ডিমের জুস?ডিমের আবার জুস হয় কিভাবে?
-খুবই সিম্পল একটা রেসিপি।প্রথমে ডিম ফাটাবে।এরপর ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ দুইটা আলাদা গ্লাসে নিয়ে চিনি মিক্স করে আলাদাভাবে নাড়াবে।এরপর দুটোর মিশ্রণ এক সাথে করে এর মধ্যে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করবে।
-ইয়াক।আপনার মাথা ঠিকাছে তো!এইসব রেসিপির কথা জীবনেও শুনি নি।
-এইটা হচ্ছে উদয় রেসিপি।
-এখন থেকে সব অখাদ্য রেসিপিগুলোর নাম হবে উদয় রেসিপি।
-উদয় রেসিপি অখাদ্য না।এইটা হচ্ছে খাটি খাদ্য।এই রেসিপির কিছু উপকারিতাও আছে।শুনবে?
-না থাক।আমি শুনবো না।
উদয় বলে গেলো-
-এই রেসিপি খেলে চুল ব্যথা,মুখ ব্যথা,নখ ব্যাথা,মন ব্যাথা সব মুহূর্তের মধ্যে ভ্যানিশ হয়ে যায়।
-আমি আগেই বলেছিলাম আপনার মাথার নিরানব্বইটা স্ক্রু ঢিলা।আজ তার প্রমাণ পেলাম।
উদয় হেসে ফেললো।উদয়ের হাসি দেখে অরনিতারও হাসি আসছে কিন্তু সে হাসি দমিয়ে রেখেছে।
উদয় বললো-
-আমাকে এখন অফিসে যেতে হবে।এখন রওনা না দিলে খুব লেট হয়ে যাবে।
হঠাৎ রুনার গলার স্বর পাওয়া গেলো।তিনি অরনিতাকে ডাকছেন।অরনিতা রুনার রুমে গেলো।রুনা আলমারি গুছাচ্ছেন।কিছু পুরোনো শাড়ি বের করেছেন।অরনিতা এসে দাঁড়িয়ে রইলো।রুনা বললো-
-বসো।তোমাকে কিছু দেখাতে ডেকেছি।
রুনা আলমারি থেকে এক জোড়া কানের দুল বের করলেন।অরনিতাকে এগিয়ে দিয়ে বললেন-
-এই দুলগুলো তুমি রেখে দেও।
অরনিতা হাতে দুলগুলো নিলো।স্বর্ণের ভেতর পাথরের নকশা।কিন্তু অরনিতা ভাবছে অন্যকিছু।অরনিতা শাড়িগুলোর দিকে চোখ বুলাতে বুলাতে রুনাকে বললো-
-আন্টি,আপনার কাছে একটা জিনিস চাইবো।আমাকে দিবেন?
রুনা বললেন-
-আমাকে আন্টি কেন বলো?
-সরি।আমি এখন থেকে অভ্যাস করবো আপনাকে 'মা' ডাকার।
-থাকুক।আর অভ্যাস করতে হবে না।কি যেন বলছিলে।বলো...
-আপনার বিয়ের শাড়িটা কি এখনো আছে?
-আমার বিয়ের শাড়ি দিয়ে কি হবে?
-আমার লাগবে আন্টি।একটু দরকার।প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে আমি আবার ফিরিয়ে দিয়ে যাবো।
-ফিরিয়ে দিতে হবে না।তবে শাড়িটা কোথায় রেখেছি খেয়াল নেই।
রুনা শাড়ি খুঁজতে লাগলেন আলমারি থেকে।
.
.
নিহিলার ফোন বাজতে লাগলো।ফোনের আশেপাশে নিহিলা নেই।কিছুক্ষণ পর পর ফোন বেজে আবার বন্ধ হয়ে যায়।
হঠাৎ সাবেরা এলো নিহিলার রুমে।ফোনটা বাজতে দেখছে সে।আশেপাশে নিহিলাকে দেখতে না পেয়ে সে নিজেই ফোন উঠালো।
-হ্যালো..
অপরপ্রান্ত থেকে হেমন্ত বললো-
-ফোন ধরছেন না যে..কতোক্ষণ ধরে ফোন করেই যাচ্ছি।
-আপনে কে?
-আমাকে চিনতে পারছেন না?
-মাথায় কি ছিট আছে আপনের?আপনারে আমি চিনমু ক্যামনে?
কণ্ঠস্বরটা যদিও অন্যরকম লাগছে হেমন্তর কাছে কিন্তু হেমন্ত কন্ঠটা নিহিলার কন্ঠই ভেবে নিয়েছে।হেমন্ত বললো-
-মজা করছেন?আসল কথা বলুন।আজ কি বের হতে পারবেন?
-বাইর হমু মানে?
-আমরা দেখা করবো বলেছিলাম।মনে পরেছে আপনার?
-আপনে ভুল নাম্বারে ফোন করসেন।আপনে মনে হয় আপনের প্রেমিকারে ফোন করতে গিয়া ভুলে এইদিকে ফোন কইরা ফেলাইসেন।
হেমন্ত হকচকিয়ে বললো-
-মানে?কে আপনি?
সাবেরা বললো-
-আমি তোর মা।ফোন কাট ফাজিল ব্যাটা।
হেমন্ত কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাবেরা ফোন কেটে দিলো।নিহিলা রুমে আসতেই সাবেরা নিহিলাকে ফোন এগিয়ে দিয়ে বললো-
-বুবু,আপনারে একটা তারছিড়া ব্যাটা ফোন করসিলো।আমি দিসি ঝাড়ি মাইরা।
নিহিলা ফোন হাতে নিতে নিতে বললো-
-কে ছিল লোকটা?দেখি তো।
নিহিলা তাকিয়ে দেখলো হেমন্তর নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।এর মানে হেমন্ত ফোন করেছিলো আর ফোন ধরে আবোল তাবোল বলেছে সাবেরা।নিহিলা রাগী গলায় বললো-
-লোকটা তাড়ছিড়া না।তাড়ছিড়া হচ্ছিস তুই।
সাবেরা বললো-
-বুবু,আপনে জানেন না।ব্যাটায় আস্তা একটা গাধা।প্রেমিকারে ফোন দিতে গিয়া আপনেরে ফোন দিয়া ফেলসে।আবার ফোন দিলে আমারে ফোনটা দিয়েন।ব্যাটার চোদ্দ গুষ্টি উদ্দার করমু।
নিহিলা রাগী গলায় বললো-
-সাবেরা,তুই যা তো আমার সামনে থেকে।আমার মাথা ধরেছে।চা বানিয়ে আন।
সাবেরা চলে গেলো।নিহিলা হেমন্তকে আবার ফোন দিলো।না জানি সাবেরা বোকার মতো কি কি বলে গেছে হেমন্তকে!
হেমন্ত ফোন উঠালো-
-হ্যালো..আপনি নিহিলা না।তাই না?আমি ফোন রেখে দেই।রং নাম্বার।
নিহিলা ব্যস্ত হয়ে বললো-
-ফোন রাখবেন না।আমি-ই নিহিলা।তখন ফোনটা আমি ধরি নি।আমাদের কাজের মেয়েটা ফোন ধরেছিলো।না বুঝে উলটা পালটা অনেক কিছু আপনাকে বলে ফেলেছে হয়তো।ওর পক্ষ থেকে আই এম সরি।
-না।সরি বলবেন না।ভুল আমারই ছিল।আমি আপনার কন্ঠটা এখনো চিনে উঠতে পারি না।যদি চিনতে পারতাম তাহলে ওই মেয়েটার কন্ঠকে আপনার কন্ঠ ভেবে কথা বলে যেতাম না।
-একদিনের ফোনালাপে কন্ঠ চিনে ফেলা যায় না।
-একটা কথা জানার জন্যই ফোন করেছিলাম?
-কি কথা?
-আপনি কি আজ বের হতে পারবেন?
-না।আজ হয়তো বের হতে পারবো না।সুযোগ নেই বের হওয়ার।আজ তো আপনার মায়ের আসার কথা।সে কি আসবে?
-হ্যা আসবে।
-আপনিও কি আসবেন?
-না।তৈমুর আঙ্কেল আপনাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পারমিশনটা দিয়ে দিলে আসা যেতো।
-ওহ..আচ্ছা।এখন ফোনটা রাখি।
-আরেকটি কথা ছিল?একটু পর রাখুন ফোনটা।
-কি কথা?
হেমন্ত বলতে গিয়েও বলতে পারলো না।কথা ঘুরিয়ে নিয়ে বললো-
-কিছু না।
নিহিলা মুচকি হেসে বললো-
-এমন অনেক কথাই থাকে যা মানুষ বলতে চাইলেও বলতে পারে না।এখন রাখি।আপনার মা হয়তো এখুনি এসে পরবে।আমাকে রেডি হয়ে থাকতে হবে।নয়তো তিনি যদি পছন্দ না করেন আমাকে..
-পৃথিবীর এমন কোনো মানুষ নেই যে আপনাকে পছন্দ করবে না।
নিহিলার লজ্জা লাগছে।সে কোনো কথা বলতে পারলো না।ছোট একটি নিশ্বাস ফেলে ফোন রেখে দিলো।
To Be Continued...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now