বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রেমের গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X মা বাসাই একলা থাকে। আগে মা'কে যতটা সঙ্গ দিতে পারতাম, এখন কাজের চাপে আর ততটা সঙ্গ দেয়া হয়ে উঠে না। আমি অরণ্য। পড়াশুনা শেষ করে একটা বেসরকারি অফিসে জয়েন করেছি। সকালে নাস্তা করে বেরুয়, আর ফিরতে ফিরতে মাঝে মধ্যো অনেক রাতও হয়ে যায়। মায়ের বয়স হয়েছে, তাই কখনো বাসায় ফিরে দেখি তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন…… - আগে যখন পড়াশুনা করতাম? তখন মা'কে সবসময়ই সঙ্গ দিতাম। বাবা অনেক আগেই পৃথিবীর মায়া, আমাদের মায়া কাটিয়ে অন্ধকার, অজানা জগতে পাড়ি জমিয়েছেন। তাই মায়ের সম্বল বলতে আমি, আর আমার সম্বল বলতে মা। মা'ই আমার দুনিয়া। আগে স্কুল কলেজ থেকে ফিরেই বাড়িতে থাকতাম। বেশি বাইরে বেরুতাম না। খেলা-ধুলা বেশি পছন্দ করতাম না। আবার তেমন বন্ধু-বান্ধবও ছিল না। এছাড়া সন্ধ্যার পরে বাইরে থাকা মায়ের নিষেধ ছিল। কাজেই সারাদিন বাসায় ল্যাপটপ, কম্পিউটারে বুদ হয়ে থাকতাম। মা'কে মোটামুটি সঙ্গ দেয়া হত। কিন্তু এখন মা সারাদিন একা থাকে। ইদানিং মা যেন কেমন মনমরা হয়ে থাকে সবসময়ই, বিষয়টা তেমন লক্ষ করি নি। মায়ের একান্ত বাধ্যগত সন্তান হয়েও বুঝতে পারিনি, মা ছেলের বউ চাই…… সেদিন অনেক রাতে ফিরে দেখি মা ঘুমোয় নি। খেতে দিয়ে মা বলল…… ----বাবা, তোকে একটা কথা বলব? ----কি হয়েছে মা? বল…… ----এবার একটা বিয়ে কর…… ----বিয়ে? (নাম শুনেই কেমন চমকে উঠলাম!) ----হ্যা বাবা, বিয়ে…… ----মা…… (কাতর কন্ঠে বললাম, মা তো সবই জানে!) ----দেখ বাবা, যা হওয়ার তা তো হয়েছেই! কেন সুধু সুধু আমাকে কষ্ট দিবি? আমারও তো সখ আহ্লাদ আছে, নাকি? বাচবই বা আর ক'দিন? ----তুমি যা ভালো বুঝ মা…… ----দেখ, আমার বয়স হয়েছে। সারাদিন একা একা এই বদ্ধ বাসার ভিতরে ভালো লাগে বল? কথা বলার জন্য হলেও একটা মানুষ চাই! এছাড়া নাতি-নাতনীর মুখ দেখার অনেক সখ……… ----আচ্ছা তুমি মেয়ে দেখ…… - সেদিনের মত ঘুমিয়ে পড়লাম। পরেরদিন রুটিন অনুযায়ি অফিসে যাচ্ছিলাম। একটু বড় পদে বলে, দেরি করে গেলেও তেমন কিছু হয়না। মা বলল…… ----বিয়ের কথা পাকা করতে যাচ্ছি! তুই মেয়ে দেখতে চাস তো সাথে চল…… ----মানে? ----মেয়ে আমার আগে থেকেই ঠিক করা ছিল! মেয়ের পরিবারের সাথেও কথা হয়েছে। এখন সুধু পাকা কথা বলতে যাচ্ছি…… ----আচ্ছা যাও, আমি যাব না……… মনে মনে কিছুটা কষ্ট পেলাম! আমাকে না জানিয়েই এতদূড়। না জানি কবে সাদা কাগজে সই নিয়ে বলত, বাবা তোর বিয়ে হয়ে গেছে!! যাই হোক, আমি মায়ের উপর সন্তুষ্ট আছি। আর পাত্রী যেহেতু মায়ের পছন্দ? সেহেতু আমার দেখার কিছু নেই। মায়ের পছন্দ খারাপ হতে পারে না। খারাপ হলেও, সেটাই ভালো……… - সেদিনই অফিস থেকে ফিরে শুনলাম বিয়ে ঠিক করে এসেছে! ৬ দিন পরেই বিয়ে। মেয়ে নাকি খুব সুন্দর, মায়ের অনেক পছন্দের। অফিস থেকে সেই অনুযায়ি ছুটি নিলাম। পরিচিত কয়েকজন, আর মুষ্টিমেয় কিছু বন্ধু দাওয়াত করলাম। জাকজমক আমার পছন্দ না! তাই, বেশি ধুমধামে বিয়েটা করলাম না। করলাম খুবই নিরিবিলি আর নিরবে…… আজকে আমার বাসর রাত। এই রাতটা নিয়ে একসময় অনেক স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্ন দেখতাম তাকে নিয়ে পরবর্তি জীবনটা কাটানোর! আরো কত কি মধুর স্বপ্ন দেখতাম। হঠাৎ ক্ষণিকের ঝড়ে সব এলোমেলো হয়ে গেছে। সে আজ কোথায় আছে, কি করছে? থাকগে সেসব কথা…… ঘরে ঢুকে দেখলাম বউ আমার বিশাল ঘোমটা দিয়ে খাটে বসে আছে। কোনওভাবে মুখ দেখার উপায় নেই! দড়জা লাগিয়ে সালাম দিলাম। সে সালামের উত্তর নিয়ে, পা ছুয়ে সালাম করে আবার খাটে উঠে বসল। তবুও তার মুখটা দেখতে পেলাম না। কিন্তু কন্ঠটা খুবই পরিচিত মনে হল। তাই কণ্ঠটা আবার শোনার জন্য প্রশ্ন করলাম…… ----তোমাকে আপনি করে বলব, নাকি তুমি করে বলব? ----আপনার যেটা ইচ্ছা…… এবারে আমি নিশ্চিন্ত হলাম। হ্যা, এটা তো সেই ১ বছর আগের মানুষটার কণ্ঠ! যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম জীবন সাজানোর। না, এটা কিভাবে হতে পারে? সে এখানে কিভাবে? এই মাঘমাসের শীতের ভিতরেও ঘামতে লাগলাম। টেবিলে রাখা এক গ্লাস গরম দুধ ঢকঢক করে খেয়ে ফেললাম। কিন্তু, এখন আমার পানি দরকার! একগ্লাস ফ্রেশ ঠান্ডা পানি। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। মনের ভিতর অজানা ভয় কাজ করছে…… এগিয়ে গেলাম তার ঘোমটা সরানোর জন্য। ঘোমটার দিকে হাত বাড়াচ্ছি আর মনের ভিতর ধুকধুক শব্দ বেরে যাচ্ছে। ভূমিকম্পের মত সৃষ্টি হচ্ছে… মেয়েটা সম্ভবত কিছুই বুঝতে পারছে না।। ঘোমটা সরালাম। সরিয়েই দুজনা চিৎকার দিয়ে বলে উঠলাম…… ----ত্ ত্ তুমি……… ----তুমি…………… নাহ্ এ হতে পারে না। কিভাবে সম্ভব? ১ বছর আগে যার সাথে ব্রেকআপ! আজ সেই আমার বউ। আজিব ব্যাপার, চোখকে বিশ্বাষ হচ্ছে না…… - ২ বছর আগে ভার্সিটিতে পরিচিয় অপরাজিতার সঙ্গে। সেখান থেকেই ১ বছরের প্রেম। খুব ভালবাসতাম মেয়েটাকে। অপরাজিতাও খুব ভালোবাসত। দেখতে শুনতে সুন্দর ছিল। ভালোই চলছিল দিনকাল। হঠাৎ অপরাজিতার সাথে কেন জানিনা ব্রেকআপ হল! হঠাৎই একদিন সে এসে অনেক কথা শুনিয়ে দিল, ব্রেকআপ করে চলে গেল। সেদিন আমার কষ্টের দিনগুলোর ভিতর অন্যতম একদিন ছিল। কখনো ভাবতে পারিনি ও আমার সাথে এমন করবে। অথচ আমার তেমন কোন দোষ ছিল না, মায়ের কথামত চলতাম, মায়ের কথা একটু বেশিই শুনতাম। ওর সাথে ঠিকমত দেখা করতাম না। বাইরে ঘুরতে যেতাম না। পার্কে পাশাপাশি ঘেসে বসতাম না, হাত ধরে হাটতাম না। কিন্তু নিয়মীতই যোগাযোগ রাখতাম। এসব নিয়ে ওর অভিযোগের শেষ ছিল না। ফেইসবুকে লেখালেখি করতাম বলে ও সবসময় সন্দেহ করত। সেদিন পাসওয়ার্ড চেয়েছিল, কিন্তু দেই নি। এতেই ওর ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গেছে…… মা সবই জানত। অপরাজিতা ছিল মায়েরই কলেজ জীবনের একজন ভালো বন্ধুর মেয়ে! সেই বন্ধুর সাথে মায়ের যোগাযোগ ছিল। তবে আমাদের সম্পর্কের কথা অপরাজিতার বাবা সম্ভবত জানতেন না…… - ----এই যে মিঃ ভাবওয়ালা, এখানে কি হুম……… ----তুমি এখানে কেন? (আমি) ----আমার বাসর ঘরে আমি থাকব না, তো কে থাকবে? কিন্তু তুমি? ----আরে আমার ঘর! আমি থাকব না তো কে থাকবে…? ----হি হি হি, এবার বুঝি ধরা পরে গেছ? ----তুমি কি জানতে আমার সাথেই তোমার বিয়ে হচ্ছে? ----মোটামুটি, কারণ আন্টি অর্থাৎ তোমার, মানে আমারও মা! মাঝে মধ্যোই আমাদের বাড়িতে যেতেন… ----একজন ছেলের কষ্ট মা'ই বুঝেন, বুঝলে? সত্যিই তোমাকে অনেক ভালবাসতাম আর এখনো ভালবাসি। ----হু, ন্যাকা! আমি বুঝি ভালবাসতাম না? বিশ্বাষ কর, আমি সেদিন ব্রেকআপ করতে চাই নি। কিন্তু কেন জানিনা বলে ফেললাম, তুমিও আমাকে আর ফেরালে না। সরি বললে না, ফোন দিলে না, মেসেজ দিলে না, দেখাও করলে না। জানো, আমি সেদিন অনেক কেদেছিলাম…… ----তুমিও তো আর ফিরলে না। অভিমান করে থাকলে। এদিকে আমি কষ্ট পেতে থাকলাম। ভেবেছিলাম তুমি হইত ফিরবে… ----তুমিও তো অভিমান ভাঙ্গাওনি! আমি কেন ফিরব? এতই যদি কষ্ট পেতে, তবে একবার ফিরে আসতে…… (অভিমানের সুরে বলল অপরাজিতা) ----আজকে সব অভিমান ভেঙ্গে দিব! জমিয়ে রাখা সব ভালবাসা আদায় করে নেব…… ----হু জানি, ভীরু কোথাকার! যে কিনা পাশাপাশি বসতে ভয় পাই, হাত ধরে চলতে ভয় পাই, ঘুরতে যেতে ভয় পাই! সেই কিনা........... ----আসলে তখন অতকিছু করার কোন অধিকার ছিল না। আমি চেয়েছিলাম, আমাদের প্রেমটা যেন আর দশটা প্রেমের মত না হয়। কিন্তু, এখন আর কোন বাধা নেই… ----হয়েছে, আর লেকচার দিতে হবে না। এবার এসো, আমার ভিষণ শীত করছে। অরণ্য প্রথম স্পর্শ করল অপরাজিতাকে। সুন্দর করে কপালে একটা চুমু দিয়ে, কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল…… ----আর কখনো ভুল বুঝ না। এবার চলে গেলে আমি…… অপরাজিতা অরণ্যের মুখ চেপে ধরল, তারপর জড়িয়ে ধরে বলল…… ----আর কখনো কোথাও যাব না। তুমি সুধু এভাবেই আমাকে ভালবেস………


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি ভৌতিক প্রেমের সত্য গল্প
→ রাফি মিরার প্রেমের গল্প
→ স্বামী স্ত্রীর এক মিষ্টি প্রেমের গল্প
→ গরিবের মেয়ে আর বড়লোকের ছেলের প্রেমের গল্প
→ এক রাজার প্রেমের গল্প .
→ বড় আপুর সাথে প্রেমের গল্প ৪র্থ পর্ব
→ নানুর বাড়ির প্রেমের গল্প
→ বড় আপুর সাথে প্রেমের গল্প part 3
→ বড় আপুর সাথে প্রেমের গল্প part-2
→ বড় আপুর সাথে প্রেমের গল্প
→ একটি শিক্ষণীয় প্রেমের গল্প..!!
→ একটি করুন প্রেমের গল্প
→ ব ড় ভাইয়ার প্রেমের গল্প
→ উল্টো প্রেমের গল্প
→ একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now