বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রেম, বিয়ে ও একটি কাল্পনিক জগতঃ- সোহিনী দেব রায় ( ব্যারাকপুর )

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সৈরন্ধ্রী সেন সবে তার ফেসবুক প্রোফাইলটা লগ ইন করলো। দেখল অনেক মেসেজ, অনেক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এসেছে। আর সাথে অনেক নোটিফিকেশান। মেসেজ আর রিকোয়েস্ট গুলো না দেখেই নোটিফিকেশান গুলো চেক করতে বসলো। দেখলো আকাশ নামে একটি ছেলে তার প্রায় সব পোস্ট, সব ফটো লাইক করেছে। তার জন্যই এত বেশি নোটিফিকেশান হয়েছে। এরপর সৈরন্ধ্রী মেসেজ বক্স খুলল। অনেকে ‘হাই হ্যালো হাউ আর ইউ’ গোছের মেসেজ পাঠিয়েছে। ওগুলো খুলে দেখতে তার ইচ্ছা করল না। তবে আকাশ সাহার মেসেজটা সে ওপেন না করে পারল না। আকাশ লিখেছে ‘আকাশ হল ঘোলাতে, নামল বর্ষা বুকেতে, বাজল ব্যথা মনেতে, হবে কি জায়গা তোমার বন্ধুর লিস্টে?’ সৈরন্ধ্রী মুক বাকিয়ে নিজের মনেই বলে উঠল ‘ ধ্যুত বাজে কবিতা। হু! যত্ত সব... ’। তারপর টাইপ করে বলল ‘আমার ফ্রেন্ডলিস্ট ফুল হয়ে গেছে। আর জায়গা নেই ’। ‘যা! একটা সিটও নেই? ঠিক আছে। আমি তাহলে দাঁড়িয়েই যাব। বা ঝুলে ঝুলেও যেতে পারি’। এই কথাটা শুনে সৈরন্ধ্রীর হাসি পেয়ে গেলো। সে একটি স্মাইলি সাইন পাঠাতেই ওদিক থেকে উত্তর এলো ‘সৈরন্ধ্রী নাম এর মানে জানো? ’ ‘হ্যাঁ এটা তো দ্রৌপদীর ছদ্মনাম ছিল ’। ‘তুমি দ্রৌপদী? হা হা হা’। ‘কিসব ভুলভাল বলছেন?’ ‘সরি সরি। কিছু মনে কর না। যাই হোক তুমি তোমার নামের মানে কি জানো? ’ ‘না জানি না ’। ‘তাহলে জেনে নাও। সৈরন্ধ্রী নামের মানে হল যে নারী পরগৃহে বসবাস কালে নিজের শিল্পকর্মের দ্বারা অর্থ উপার্জন করে জীবনধারণ করে। মানে এক কথায় বলতে পার স্বাবলম্বী নারী ’। ‘আচ্ছা বুঝলাম ’। ‘তা তোমার এই নাম কেন? নাকি তুমিও অজ্ঞাতবাসে আছ? হে হে ’ ‘না মানে না...মানে হ্যাঁ আসলে এটা আমার নিজের নাম নয়। ফেসবুকে আমার নিজের প্রোফাইল বলতে এটাই। আমি এই নাম নিয়েই ফেসবুক করি। প্রোফাইল পিক গুলোও আমারই’। ‘বুঝলাম। পারো বটে তোমরা মেয়েরা ’। কথোপকথনটা এভাবে শুরু হলেও আস্তে আস্তে সৈরন্ধ্রী আর আকাশ একে ওপরের খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেলো। সৈরন্ধ্রী একদিন নিজের থেকেই বলে দিলো যে তার নাম কৃষ্ণা। একাদশ শ্রেণিতে পড়ে সে। বিজ্ঞান বিভাগ। মজার ব্যাপার আকাশও একাদশ শ্রেণিতে পড়ে, বিজ্ঞান বিভাগ। তবে আকাশ কৃষ্ণার থেকে এগারো মাসের বড়। একজন ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। অন্যজন ১৯৯২ সালের জানুয়ারি মাস। ফেসবুকিয় কথোপকথনটা একদিন হোয়াটস অ্যাপীয় কথোপকথনে পরিণত হল। দুজনের স্কুলের টাইম টুকু ছাড়া সারাদিন ফোনের ডেটা প্যাক অন থাকে। এমনকি খেতে বসলে, পড়ার ব্যাচে থাকলে বা বাথরুমে গেলে ওবধি। দুজনই দুজনকে তুই করে বলে। একদিন রাত্রে আকাশ কৃষ্ণাকে ফোন করে বলল ‘এই তুই আমার বুকে আসবি? ’ ‘হ্যাঁ সে তো রোজই আসি ’। ‘না না ওভাবে না। মানে সারাজীবনের জন্য আমার বুকে আসবি? খুব ভালবাসব তোকে। একটুও কাছ ছাড়া করব না ’। ‘আকাশ! তুই কি আমাকে...!! ’ কৃষ্ণার কথাটা শেষ হবার আগেই আকাশ বলল ‘ হ্যাঁ রে। তোকে খুব খুব ভালবাসি। মুউয়াআআহ’। ‘কোথায় দিলি চুমুটা? ’ ‘তোর ঠোঁটে ’। ‘ইশ দুষ্টু ছেলে ’। ‘কথা না কৃষ্ণা। তোর ঠোঁটদুটো ফাঁকা কর। এই দেখ আমি...... ’ এইভাবে সারারাত ধরে দুজন দুজনকে পাগলের মতো আদর করে। কম্বলের তলায় ফোনের কানেকশান মাঝে মাঝে কেটে গেলে ক্ষণিকের মধ্যে আবার একজন আর একজনকে ফোন করে নেয়। এভাবেই দিন কাটতে থাকে। দুজন বড় হতে থাকে। দুজনের ইচ্ছা গুলো বড় হতে থাকে, চাওয়া পাওয়া গুলো বাড়তে থাকে। পড়াশুনাও চলতে থাকে পড়াশুনার মতো। মাঝে মাঝে কখনো আকাশের কখনো কৃষ্ণার রেজাল্ট বাজে হয়, আবার পরের পরীক্ষায় সেটা তারা মেকআপও করে নেয়। সময় দিন মাস বছর গুলোর মতো ওদের ক্লাসের বেড়াজালও ফুরিয়ে যেতে থাকে। এক সময়ে স্কুলের গণ্ডি পার হয়ে তার কলেজে এসে পৌছায়। কিন্তু কলেজের কোনো নতুন মুখ তাদের মনে জায়গা নিতে পারে না। রাতের পর রাত দিনের পর দিন মোবাইলের দু প্রান্তে বসা দুটো মানুষ এভাবেই ভালবাসার সুখ খুঁজে নেয়। কখনো কানে থাকে হেড ফোন আর হাত থাকে দুজনের লিঙ্গতে। নিজেরা নিজেদের হাতের সাহায্যেই একে ওপরের শরীরের উষ্ণতা থুড়ি সেক্স অনুভব করার চেষ্টা করে। আর ক্লান্ত হয়ে গেলে মনে একরাশ আশা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে যেগুলো রাত্রে রঙিন স্বপ্ন হয়ে তাদের চোখে ধরা দেয়। কিন্তু সকাল হলেই বাগানে ফোটা শিউলি ফুল গুলোর মতো সে স্বপ্ন ঝরে যায়। দুজনেই ভাবে ‘আচ্ছা সত্যি কি আমাদের কখনো দেখা হবে না? ’ তখনি আকাশ নিজেকে সামলে নিয়ে কৃষ্ণা কে বলে ‘দাঁড়াও সোনা। আগে একটা চাকরি পাই। দেখবে আমি ঠিক টাকা জোগাড় করে তোমার কাছে চলে আসবো’। ‘কিন্তু কবে আকাশ? কবে? পাসপোর্টটা তাড়াতাড়ি বানিয়ে নাও না। তারপর তুমি বাস ধরেও আসতে পারবে। বাংলাদেশ আর কলকাতা কত আর দূরে বল?’ ‘হ্যাঁ সোনা। আমি খুব তাড়াতাড়ি কলকাতা আসবো’। এইটুকু সান্ত্বনা বাক্যেই কৃষ্ণার মন ভালো হয়ে যায়। দুজনেই মন দিয়ে পড়াশুনা করে। যে আগে চাকরি পাবে সে আগে পাসপোর্ট বানিয়ে অন্যজনের কাছে যাবে। কিন্তু এর মধ্যেই কৃষ্ণার বাবা কৃষ্ণার জন্য সম্বন্ধ নিয়ে আসে’। কৃষ্ণা ভয়ে সেদিনই আকাশকে ফোন করে বলে ‘এখুনি আমাদের বিয়ে করা দরকার আকাশ ’। আকাশও আর সময় নষ্ট না করে পরদিনই ঢাকার এক কালী মন্দিরে যায়। আর কৃষ্ণা যায় সরস্বতী পুজোতে কেনা একটা লাল শাড়ি পড়ে কালীঘাটের কালী মন্দিরে। পুরোহিতকে হাতে দুশো টাকা গুজে দিয়ে বলে বিয়ের মন্ত্র পড়তে। কানে হেডফোন গুজে দুজনেই বিয়ের মন্ত্র পড়তে থাকে। তারপর বিয়ে শেষ হলে কৃষ্ণা নিজেই নিজের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয়। একমাথা সিঁদুর নিয়েই সে বাড়িতে ঢোকে। পাড়ার লোক, বাড়ির সবাই কৃষ্ণাকে অবাক হয়ে দেখতে থাকে। কিন্তু সেদিকে মেয়ের কোনো খেয়াল নেই। ‘ছেলেটা কে? কোথায় সে?’ বলে চিৎকার করতে করতে কৃষ্ণার বাবা নবারুণ এগিয়ে আসেন। কৃষ্ণা ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর দেয় ‘সে তো বাংলাদেশে থাকে’ । কৃষ্ণার মা অবাক হয়ে বলে ‘তাহলে বিয়ে হল কিভাবে?’ কৃষ্ণা এবারো একই রকম ভাবে বলে ‘ফোনে ফোনে’। এবার সেন দম্পতি মনে করলেন তাঁদের মেয়ে বুঝি সত্যি সত্যি পাগল হয়ে গেছে। তাঁরা আর কিছু বললেন না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। মেয়ে মুখের সামনে দিয়ে গটগট করে নিজের ঘরে চলে গেলো। গিয়েই আবার ফোনে কথা বলতে শুরু করে দিলো। আজ কৃষ্ণা আর আকাশ খুব খুশি। নিজেরা নিজেদের অনেক অনেক ফটো তুলছে আর হোয়াটস অ্যাপে শেয়ার করছে। বেশ কিছু ফটো ফেসবুকেও আপলোড করলো। যখন লাইক কমেন্টের বন্যা বয়ে গেলো তখন তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে কাল্পনিক ভাবে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরল। রাত বাড়ল। কৃষ্ণা একা একাই গান গেয়ে আকাশকে হোয়াটস অ্যাপে পাঠাল। নিজেরা নিজেদের মতো করে বাসর রাত কাটাতে লাগলো। তারপর ঘুমিয়ে পড়ল। একটা দিন কথা বলল না। মনে হয় দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম তারা একটা দিন সম্পূর্ণ ভাবে কথা না বলে কাটালো। দুজনের ফোনই সারাদিন অফ ছিল। খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু তবু কালরাত্রি পালনে তারা একটুও খামতি রাখেনি। পরদিন ভোর হওয়ার সাথে সাথে কৃষ্ণা ফোন সুইচড অন করলো। আর আকাশ ফোন করে বলল ‘মুয়াআআ। গুড মর্নিং ডার্লিং। আজ আমাদের বউভাত কিন্তু...’ ‘আমার বউভাত। তোমার নয়’। ‘হুম। আমার তাহলে কি? হুম। আজ আমাদের দুজনের ফুলসজ্জা। আহা। কি আনন্দ’ । ‘হ্যাঁ। তার আগে ভাত কাপড়ের দায়িত্ব তো নাও। তারপর ফুলসজ্জার কথা ভাববে’ । ‘হ্যাঁ তা ঠিক। দাঁড়াও আজ দুপুরে একটা সারপ্রাইজ দেবো’। এইসব বলে আকাশ ফোন রেখে দেয়। কৃষ্ণা অপেক্ষা করতে থাকে। ঠিক দুপুরে আকাশ ফোন করে বলে হোয়াটস অ্যাপটা অন করতে। কৃষ্ণা অন করে দেখে আকাশ এক থালা ভাত, তরকারি, মাছের ঝোল আর একটা শাড়ির ফটো তুলে পাঠিয়েছে আর লিখেছে ‘আজ থেকে তোমার ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নিলাম’। কৃষ্ণা হো হো করে হেসে ফেলে। দিন গড়িয়ে রাত হয়। দুজনের মনে প্রবল উত্তেজনা। একে অপরকে কাছে পাওয়ার উচ্ছ্বাস। ঘরের দরজা বন্ধ করে দুজন দুজনকে খুব আদর করে। আকাশ আজ বাড়ির পুজোর ঠাকুরের ফুল আনার সময় একটু বেশি ফুল এনে নিজের ঘরে রেখেছিলো। সেগুলোই বিছানায় ছড়িয়ে দেয়। আর কৃষ্ণা ঘরের ফুলদানিতে রাখা প্লাস্টিকের ফুল গুলোই বিছানায় ছড়িয়ে রাখে। ‘এই কৃষ্ণা! আজ তোমাকে পুরো নিজের করে পেতে দাও। আমিও নিজেকে তোমার কাছে মেলে ধরবো’ । আকাশ সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে একটা ফটো তুলে কৃষ্ণাকে পাঠায়। কৃষ্ণার সারা শরীর শিরশির করে ওঠে। মোবাইলটা হাতের মধ্যে নিয়ে কৃষ্ণা ফটোটাকে পাগলের মতো চুমু দিতে থাকে, সব জায়গায়। তারপর আস্তে আস্তে নিজেরও সব পোশাক খুলে ফেলে একটা ফটো তুলে আকাশকে পাঠায়। রাত গভীর হতে থাকে। সেক্স চ্যাট আর ফোন সেক্সের মাধ্যমেই ধুমধাম করে তারা তাদের ফুলসজ্জার রাত পালন করে। দিনগুলো খুব ভালই কাটছিল। কিন্তু একদিন হঠাৎ কৃষ্ণা ফেসবুক লগ ইন করে আকাশ সাহার প্রোফাইল আর দেখতে পায় না । নিজের মনেই বলে ওঠে ‘উফ! এই ছেলেটা না কিছু হলেই প্রোফাইল ডিঅ্যাক্তিভেট করে দেয়’ । তারপরই নিজের ইয়াব্বড় টাচ স্ক্রিনটা নিয়ে আকাশের নাম্বার ডায়াল করে দেখে সুইচড অফ। বার বার ডায়াল করে। কিন্তু একই কথা- ‘দিস নাম্বার ইজ কারেন্টলি সুইচড অফ’ । হোয়াটস অ্যাপ প্রোফাইলটাও আর খুঁজে পায় না। দিন যায়, রাত যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায়। আকাশের সাথে আর কোনো যোগাযোগ হয় না। কষ্ট করেও মেনে নিতে পারে না যে আকাশ তাকে ছেড়ে এভাবে চলে গেছে। কৃষ্ণা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। বিধবার বেশে সাজে। সাদা কাপড় পড়ে বারান্দার এক কোণে বসে সারাদিন ফেসবুকে ‘আকাশ সাহা’ লিখে সার্চ করে বেড়ায়। বা কখনো ঐ ফোন নাম্বারটা ডায়াল করে যায়। মা বাবা শহরের বড় বড় সাইক্রিয়াটিস্টের সাথে কন্সাল্ট করে কৃষ্ণাকে দেখান। অনেক চিকিৎসার পর কৃষ্ণা সুস্থ হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে নরম্যাল লাইফে সে ফিরে আসে। ফেসবুক নামক কাল্পনিক জগত থেকে সে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে। তারপর মা বাবার অনেক অনুরধে সে নিজের মুখেই বলে ‘হ্যাঁ আমি তোমাদের পছন্দ করা ছেলেকেই বিয়ে করতে রাজি’ । সেন বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজে। সকাল থেকে সবাই ব্যস্ত। বিকেল হতে না হতেই লাল বেনারসি পরিয়ে অনেক গয়না পরিয়ে কৃষ্ণাকে সাজানো হল। ভারি মিষ্টি দেখতে লাগছে তাকে। বর আসার অপেক্ষায় সবাই সময় গুনতে লাগলো। সেই সময়েই সেন বাড়িতে একটা চিঠি এসে পৌছালো কৃষ্ণা সেনের নামে। মা বাবার আপত্তি সত্ত্বেও কৃষ্ণা সে চিঠি নিজের হাতে নিল। ঢাকা থেকে সে চিঠি এসেছে। খাম থেকে সে সেই চিঠি বের করলো। সামান্য জোরে জোরে সে পড়তে লাগলো- ‘ কৃষ্ণা মা! অনেক কষ্ট করে তোমার ঠিকানাটা জোগাড় করেছি। আমি তোমায় চোখে দেখিনি। আমি আকাশের মা। ওঁর মুখেই তোমার কথা শুনেছি। ও তোমার ফটোও দেখিয়েছিল। শুনেছিলাম তোমরা নাকি বিয়েও করেছিলে। ও তোমাকে স্ত্রী মানত। ওঁর যখন সেবার মারাত্মক অ্যাক্সিডেন্টে ডান পা টা কাটা গেলো তখন ও আর তোমার সাথে যোগাযোগ রাখতে চায়নি। সারাদিন ও তোমার জন্য কাঁদত। সত্যি বলছি মা ওঁর সেই কান্না আমি মা হয়ে মেনে নিতে পারতাম না। ওঁর বাঁচার ইচ্ছা দিন দিন শেষ হয়ে আসছিলো। ছয়টা মাস ও বিছানায় শুয়ে যে নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছে সেটা আমি তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না। কাল দুপুরে ও মারা গেছে। আমাদের সবাইকে ছেড়ে ও সারাজীবনের জন্য চলে গেছে। হয়তো শান্তিই পেয়েছে। তুমি ওঁর স্ত্রী। তাই তোমাকে না জানিয়ে পারলাম না। সম্ভব হলে কখনো একবার অবশ্যই এসো... ইতি...’ শেষের শব্দ গুলো আর কৃষ্ণা পড়ে উঠতে পারল না। চিঠিটা ফেলে পাগলের মতো হাসতে লাগলো। ‘হা হা হা...... আকাশ এই দেখো আকাশ আমি আবার বিয়ে করছি। এই দেখো আকাশ আমার বিয়ের লাল শাড়ি। এই দেখো...’ তারপর কাঁদতে লাগলো। কাঁদতে কাঁদতে বসে গেলো। কৃষ্ণার মা কৃষ্ণার পিঠে হাত রাখতে গেছল কিন্তু সে তা ছড়িয়ে আবার হেসে উঠল ‘হা হা হা হা...’ সেই অট্টহাসিতে সেন বাড়ি কেঁপে উঠতে লাগল যেন। হয়তো এই অবস্থা থেকে কৃষ্ণা কে আর কখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব না’ । সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রেম, বিয়ে ও একটি কাল্পনিক জগতঃ- সোহিনী দেব রায় ( ব্যারাকপুর )

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now