বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জীবনে প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম ক্লাস সিক্সে থাকতে। মেয়েটার সাথে একই কোচিং এ পড়তাম। কোচিং এর বেশীরভাগ সময়ই তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আহা...কি কিউট চেহারা! মেয়েটিকে দেখলেই মনের রেডিওটা বেজে উঠতো আমার!
.
মেয়েটা একদিন কোচিং এ না এলে মনটাই খারাপ হয়ে যেত। কিচ্ছু ভাল্লাগতো না। কিচ্ছু না। আরে ভাই কিচ্ছু না! ও যখন আমার পাশে থাকতো, ঈদের মত খুশি লাগতো আমার। মনে হতো ঈদের আনন্দটা ভাগাভাগি করতে মেয়েটার সাথে কোলাকুলি করি! কিন্তু লোকলজ্জা অথবা চড় থাপ্পড় খাওয়ার ভয়ে ইচ্ছেটাকে দমিয়ে রাখতাম।
.
অনেক ভাবে চাইতাম, মেয়েটিকে আমার মনের কথা বলে দেবো। আমি মেয়েটার ব্যাগে লুকিয়ে চকলেট রেখে দিতাম। রঙিন কলম গুলো দিয়ে ওর খাতার উপর বড় করে ওর নাম আর্ট করে দিতাম। মানে আমি একদা আর্টিস্ট ছিলাম, খেয়াল করিয়েন সবাই।
.
মেয়েটা আমার এইসব কর্মকান্ডে অনেক খুশি হতো। আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসতো। আমার বুকের ভিতর ধুক ধুক কাঁপন সহ কেমনজানি শিহরণ বয়ে যেত। মানে ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। মেয়ে পুরা সিস্টেমের ভিতর চলে আসছে। কাজ হয়ে যাবে। আহা...পৃথিবীটা আমার কাছে ফুরফুরা রঙিন মনে হতে শুরু করলো...।
.
ক্লাস সেভেনে উঠেই জানতে পারলাম, মেয়েটার খালাতো ভাইয়ের সাথে আগে থেকেই তার ইটিস পিটিস আছে। পারিবারিক ভাবে নাকি তাদের বিয়ের কথাবার্তাও ঠিক হয়ে আছে!!
.
আমার কষ্ট আর দেখে কে! জীবনে প্রথম ছ্যাঁকার স্বাদ পেলাম। লুকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখের নিচে কালি পড়ে গেল। তখনকার নাম্বার ওয়ান সিঙ্গার ছ্যাঁকা স্পেশালিস্ট আসিফ আকবরের গান শুনে দিন গুলো পার করতে শুরু করলাম!
...
...
বছর খানেকের মধ্যে সেই প্রেম হারানোর শোক কাটিয়ে উঠলাম। ক্লাস এইটে উঠতে না উঠতেই কোনো এক বিয়ে বাড়িতে গিয়ে একটা মেয়েকে দেখে বুকের ভিতর নতুন করে তুফান শুরু হয়ে গেল আমার! তবে কি আমি সত্যিকারের রাজকন্যার দেখা পেয়ে গেলাম?
.
সাহস করে এগিয়ে গিয়ে মেয়েটার সাথে কথা বললাম। আহা এ কি মধুর কণ্ঠস্বর! কন্ঠ শুনেই পেট ভরে যায়! চেহারার দিকে তাকালেই গেলেছ মারে! এই মেয়েকে ছাড়া আমার চলবেই না! পরিচিত হয়ে জানলাম মেয়ে আর আমার মাঝে বেয়াই-বেয়াইন সম্পর্ক! আর কি লাগে মামা! পুরাই দুইয়ে দুইয়ে ‘ফোর’!
.
ফোন নাম্বার লেনদেন হয়ে গেল এক নিমেষেই। লুকিয়ে আমি আমার আম্মার মোবাইল দিয়ে আর ও ওর আব্বার মোবাইল দিয়ে চুপিচুপি কথার সাগরে ভাসতে লাগলাম। একদিন কথা না বলে কেউ থাকতে পারি না। বুকের ভিতরটায় আকুপাকু করে। আহা এটাই বুঝি আসল প্রেম। এটাই আসল ভালোবাসা। বাকি সব ধইঞ্চা!
.
পুরোদমে প্রেম শুরু হয়ে গেল আমাদের। আমি প্রেম করি আর ভাবি, আরে বুদ্ধু, তুই শুধু শুধু সেই ক্লাস সিক্সের প্রেমে ছ্যাঁকা খাইয়া কষ্ট পাইছিস! ওটা তো কোনো প্রেমই না। প্রেম হইলো এইডা! বুঝলি ব্যাটা?
.
আল্লার কি কাম, দুইদিন পর শুনি মেয়েটার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে! মেয়ে একদিন আমাকে ফোন করে বললো, "আমি আর তোমাকে মিসকল দেবো না, খবরদার তুমি আর আমাকে ফোন দিবা না!"
.
মেয়ের কথা শুনিয়া আমি যেন দেবদাস হয়ে গেলাম! কষ্টে বুক ফেঁটে যেতে লাগলো আমার। আমি কি তাহলে সত্যিকারের প্রেম টা হারিয়ে ফেলে সত্যি সত্যি ছ্যাঁকা খেলাম??
...
...
মেট্রিক পাশ করিয়া কলেজে উঠিলাম। চোখে তখন রঙিন রঙ্গিন স্বপ্ন! ক্লাসের প্রথম দিনই পরিচয় পর্বের সময় এক রমণীর দিকে চাহিয়া আমি যেন উদাস হইয়া গেলাম! এ মানুষ নাকি পরী! হৃদয় খানের গান আমার মনের রেডিওতে বাজতে শুরু করলো, ‘তুমি মানুষ নাকি পরীইইইই....’ এ ই কি তাহলে আমার আসল স্বপ্নপরী??
.
দিন যেতে লাগলো, আর আমার মনে হতে লাগলো- এই মেয়েই সত্য, এই ভালবাসাই সত্য। বাকি সব মিথ্যা! বাকি সব আজাইরা! এই মেয়েকে ছাড়া আমার জীবন ষোল আনাই বৃথা। মনে মনে নিজেরে বলিলাম, আরে গাঁধা, এটাই তোর আসল প্রেম, বুঝলি?? শুধু শুধু এর আগে ওইসব প্রেমের জন্য হুদাই কষ্ট পাইছিস!! শেইম কাওসার আহমেদ! শেইম!
.
অতঃপর আমি মনে এক পৃথিবী আশা ও সাহস সঞ্চয় করিয়া, লাল টকটকে একটা গোলাপ ধরিয়া আমার সেই স্বপ্নের পরীটাকে প্রপোজ করিলাম। সঙ্গে সঙ্গে পিঠের উপর তিন চারটা কিল পড়িল। দম আটকে আসা অবস্থায় শুনতে পেলাম, "কুত্তা তুই জানিস না আমার বয়ফ্রেন্ড আছে! আমি তোকে ফ্রেন্ড ভাবতাম! আর তুই?? ছিঃ কায়েস! ছিঃ!"
.
আমি আবারও ছ্যাঁকা খাইলাম। তবে এই ছ্যাঁকার কষ্ট বেশি কারণ এটিই ছিল আমার রিয়েল লাভ!! আগের সব গুলো ছিল ফাও। হুদাই টাইম পাস!
.
এই বিরহে কতশত রজনী যে আমি নির্ঘুম কাটিয়েছি, তা কেবল আমি আর আমার কোলবালিশ জানে! আর জানে নীল আকাশের ঐ ধ্রুবতারা!
.
দুঃখে ভরা কলেজ জীবন শেষ করে আমি ভার্সিটি তে উঠিলাম। উঁহু ওসব প্রেম ভালবাসার কথা আর মাথাতেই আনছি না। প্রেম পিরিতির খেতা পুরি, বালামার!!
.
কিন্তু কোন কবি যেন বলে গেছেন, "প্রকৃত প্রেম চুপিচুপি নীরবে চলে আসে"
আর তাই হয়তো ভার্সিটিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমার প্রকৃত প্রেমটা নীরবেই এসে গেল! প্রকৃত প্রেমকে চাইলেও কেউ ফিরিয়ে দিতে পারে না। তাই আমিও পারলাম না।
.
আমি তাহার সনে, মানে আমার প্রকৃত প্রেমিকার সঙ্গে সারা শহর চুটিয়ে প্রেম করতে শুরু করলাম! আর মনে মনে নিজেকে বললাম, "আরে মফিজ, তুই কত আবুলই না আগে ছিলি! নিজের প্রকৃত প্রেম রাইখা আগে কী সব মেয়েদের জন্য কষ্ট পাইছিস!! নে এবার একটু চালাক হ! প্রকৃত প্রেমটাকে আঁকড়ে ধরে সামনে আগা। জীবনটাকে রঙিন কর!
.
কিন্তু কপালের নাম নাকি গোপাল। বছর খানেক যাইতে না যাইতে প্রেমিকা আমারে বিবাহের জন্য চাপ দেয়া শুরু করলো। তার বাপে নাকি ছেলে ঠিক করছে। টিনের চালে কাক, শালা আমি তো অবাক! নিজেই চলতে পারি না, বিয়া কইরা বউরে কি খাওয়ামু??
.
অতঃপর আমার প্রকৃত ভালবাসা আমারে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভেগে গেল! আমি হয়ে গেলাম চির দেবদাস!!
...
...
এখন আমি আনমনা হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি, আর আমার অবচেতন মন বলে ওঠে, "প্রকৃত প্রেম, প্রথম প্রেম, আসল প্রেম বলতে কিছু নাইরে পাগলা! সব মিডিয়ার সৃষ্টি আর বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র! প্রেমে ছ্যাঁকা খাইয়া আজাইরা ব্যাঁকা হইস না। নেক্সটে তোর প্রকৃত প্রেম ইজ কামিং। লাইফটারে এনজয় কর! ভালো থাক!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now