বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রবল বর্ষনের মাঝে একটি খিলখিল হাসির শব্দ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রবল বর্ষনের মাঝে একটি খিলখিল হাসির শব্দ ------------ নাহিদ শামস্‌ ইমু হঠাৎ করেই পেটের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে দীপ্তর। ব্যথাটা খুব দ্রুত বাড়ছে। মনে হচ্ছে, ভেতরের জৈবিক যন্ত্রগুলো একটা একটা করে বুঝি বিকল হতে শুরু করেছে। প্রবল বর্ষনের মাঝে বাসার কাছের প্রশস্ত গলিটায় ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে আছে ও। হঠাৎ মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো দীপ্তর। মুহূর্তে দমকা বাতাসে বাম হাত থেকে ছিটকে গিয়ে ল্যাম্পপোস্টে সশব্দে ধাক্কা খেলো ছাতাটা, ডান হাতে ধরে রাখা অফিসের দরকারি ফাইল-পত্র বহনকারী এক্সিকিউটিভ ব্যাগটাও ফসকে গিয়ে পড়ল কাদা-পানিতে। যাক গে ওটা। অফিসের জটিল-কুটিল ফাইল কিংবা অফিস নিয়ে দীপ্তর এত ভাবনা নেই। ওর আসল পৃথিবী একটাই। শুদ্ধতা। ---------------------- শুদ্ধতার সঙ্গে যেদিন প্রথম পরিচয় হয়েছিলো দীপ্তর, সেটি ছিলো অনেকটাই আজকের দিনের মত- বর্ষনমুখর। দীপ্ত তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। জুন মাসের মাঝামাঝি এক গোধূলি বেলায় ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে মুহসীন হল থেকে ছাতা হাতে বেরিয়েছিলো ও শাহবাগ যাবে বলে। কিশোরগঞ্জ থেকে ওর মেজো চাচা এসেছেন, ভর্তি হয়েছেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে। তাঁকে দেখতে যাওয়াটাই উদ্দেশ্য। হল থেকে বেরিয়ে মলচত্বর পর্যন্ত আসতেই বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গিয়েছিলো হঠাৎ। এমন সময় ওর চোখ পড়ে যায় ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে। আকাশি রঙের সেলোয়ার-কামিজ পরে দাঁড়িয়ে আছে শ্যমলাবরণ সাদা-সিধে একটি মেয়ে! বৃষ্টিতে প্রায় আধ-ভেজা সেই মেয়েটি হাতের ইশারায় দীপ্তকে ডেকে হাসিমুখে বলেছিলো- “এই যে ভাই, একটা উপকার করবেন? আমাকে ছাতা নিয়ে একটু রোকেয়া হল পর্যন্ত এগিয়ে দিতে পারবেন, প্লিজ?” ঠিক এমনি করে সাহায্যের জন্য কোন মেয়ে কখনও ওর দ্বারস্থ হয়েছিলো কিনা মনে পড়ে না দীপ্তর। মৃদু হেসে সায় জানিয়েছিলো ও- “আমি ওদিকেই যাচ্ছি। আপনি আসুন না আমার সঙ্গে।“ বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় ছাতার নিচে বিপরীত লিঙ্গের একজন মানুষের সঙ্গে হেঁটে চলতে প্রথমে খুব অস্বস্তি হচ্ছিলো ওর। বুকের ভেতর ধুকফুকানিটা বাড়তে থাকে। প্রথম মুখ খুলেছিলো শুদ্ধতাই। আর তারপর দীপ্ত। ভীষণ কথা বলতে পারে মেয়েটা। দু’টো কথা বলার পরই খিলখিল করে হেসে ফেলে। দীপ্ত অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতো শুদ্ধতার মুখের দিকে। রোকেয়া হলের গেট দিয়ে শুদ্ধতা যখন অদৃশ্য হয়ে গেলো, দীপ্তর প্রথমবারের মত নিজেকে ভীষণ একা মনে হতে থাকে। মনে হচ্ছিলো- এই টি.এস.সি, এই বৃষ্টিমুখর প্রাণচঞ্চল পৃথিবীটা আসলে ঠিক পৃথিবী নয়। পৃথিবীটা এই মাত্র রোকেয়া হলের গেট দিয়ে ঢুকে গেছে! শুদ্ধতাকে প্রথম ‘ভালোবাসি’ শব্দটা দীপ্তই বলেছিলো। ২০০৯-এর জানুয়ারীর এক কনকনে শীতে এই চিরচেনা ক্যাম্পাসেই শুদ্ধতার বিশুদ্ধতম দুই চোখের দিকে তাকিয়ে জগতের সবচেয়ে মধুর শব্দগুচ্ছ উচ্চারণ করে ফেলেছিলো দীপ্ত। শুদ্ধতাও আবার বেরসিক বটে! কাঁদিয়েছিল খুব। ফোন ধরেনি পাক্কা এক সপ্তাহ। দীপ্তর সবকিছু যখন অন্ধকার হয়ে আসতে শুরু করে, ঠিক সেদিনই এক সকালে ফোন করে শুদ্ধতা বলেছিলো- “আমিও ভালোবাসি। হি হি হি হি।“ খুব অভিমান হচ্ছিলো দীপ্তর। এত নিষ্ঠুর কেন ও? ২০১১’র মাঝামাতিতে নীলক্ষেতের এক কাজী অফিসে বিয়ের রেজিস্ট্রি খাতায় যখন কম্পমান হাতে সিগনেচার করছিলো দীপ্ত, চোখটা তখনও আটকে ছিলো লাল-কমলা শাড়ি পরা শুদ্ধতার দিকে। পেছন থেকে পিয়াল জোরে একটা গাট্টা মেরে বলেছিলো- “ভাবীকে পরেও দেখতে পারবি রে হারামজাদা! আগে সাইনটা কর! তোর আব্বা এসে আমায় যদি চৌদ্দশিকের ভাত খাওয়ায়, তোর কিন্তু খবর আছে!” সে কথা শুনেও খিলখিল করে হেসেছিলো শুদ্ধতা! লিপস্টিকে অলংকৃত স্নিগ্ধতম হাসি! প্রায় অমানসিক পরিশ্রমে দু’জনের ছোট্ট পৃথিবীটা সৃষ্টি হয়েছিলো মিরপুরের একটা একতলা ভাঙ্গাচুরো বাসায়। দীপ্তর অল্প বেতন, বাসার স্বল্প কিছু আসবাব- সবকিছু নিয়ে রীতিমত টানা-পোড়েনের সংসার। সদ্য বিবাহিত জীবনটা গুছিয়ে নেবার অমানসিক সাধনায় যখন হাফিয়ে উঠতো ও, শুদ্ধতার শুদ্ধতম সেই খিলখিল হাসিতে যেনো নবজীবন ফিরে আসতে দীপ্তর মাঝে। সারাদিনের ক্লান্তিকর অফিস শেষ করে দুষ্টু-মিষ্টি বউয়ের সঙ্গে খুনসুটি, ছাদে উঠে মাদুর বিছিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা, আর আদরস্নাত ঘনিষ্ঠ মায়াবী রাত- এসবই ছিলো দীপ্তর পৃথিবী! অবশেষে কষ্টের সাম্রাজ্যকে বিদায় জানিয়ে মাত্র এক বছর আগেই নতুন একটি ছিম-ছাম বাসায় উঠেছে ওরা। ইতঃমধ্যেই বেসরকারি কোম্পানির চাকরিটায় পদোন্নতি হয় দীপ্তর। বেড়ে যায় দায়িত্ব। সকাল ন’টা থেকে সন্ধ্যে সাতটা পর্যন্ত অফিস করতে হয় ওকে। সারাদিন বিশালাকারের ফাইল-পত্র, কম্পিউটার স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে থাকা আর কাস্টোমার ফোন কল সামলাতে গিয়ে দীপ্ত নিঃশ্বাস ফেলার সময়টুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে। জান-যটের নগরীতে বাস-ট্রাক-সিএনজির মহাসমুদ্র পাড়ি দিয়ে দীপ্ত যখন বাসায় এসে পৌঁছায়, তখন রাত সাড়ে নয়টা। কলিং বেলের শব্দে শুদ্ধতা যখন দরজা খুলে সামনে দাঁড়াতো, দীপ্ত এক নিমিষেই ভুলে যেতো সারা দিনের সবটুকু ক্লান্তি, সবটুকু শ্রান্তি। তবু শুদ্ধতাকে পরম আবেগে আঁকড়ে ধরে ভালোবাসার গাঢ়তর শারীরিক প্রকাশটুকু কখনোই করতে পারতো না দীপ্ত। কর্পোরেট কোম্পানির ব্লাড সাকাররা যে শুষে নিয়েছে সবটুকু শক্তি! তবুও মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে প্রায়ই শুদ্ধতার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতো ও। এ যেনো মায়াবতী! শুদ্ধতার সব বান্ধবীর কথাই কম-বেশি জানে দীপ্ত। তবে প্রমীলা নামক বান্ধবীর কথা প্রথম জানতে পারে মাস দু’এক আগে। মেয়েটা নাকি খুব কষ্টে আছে। শুনেছে শুদ্ধতার মুখেই। প্রমীলার কথা জানতে পারার ঘটনাটি বেশ ইন্টারেস্টিং। কোন এক মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে দীপ্ত যখন প্রথমবারের মত শুদ্ধতাকে বিছানায় পেলো না, ভেবেছিলো হয়তো বাথরুমে গেছে। কিন্তু শুদ্ধতা যে আর আসে না। কোথায় হারালো ও? অগত্যা দীপ্ত বিছানা ছেড়ে উঠে যায়। ব্যালকনিতেই আবিষ্কার করে শুদ্ধতাকে। চাপা গলায় কার সঙ্গে যেনো ফোনে কথা বলছে ও। “শুদ্ধতা, কার সঙ্গে কথা বলছ?” সহজ গলায় প্রশ্ন করে দীপ্ত। আচমকা শুদ্ধতার হাত থেকে পড়ে গিয়েছিলো সেলফোন। সেটা তুলতে তুলতে অস্বস্তিদায়ক হাসি হেসে ও বলেছিলো- “আর বলো না। আমার এক বান্ধবী... প্রমীলা... ওর না ভীষন ক্রাইসিস চলছে। ফোন করে খুব কান্নাকাটি করছিলো। ওকে সান্তনা দিচ্ছিলাম গো। তুমি শুয়ে পড়। আমি ফিরছি একটু পরে।“ এরপর আরো অনেক রাতেই এই বান্ধবীটির সঙ্গে কথা হয়েছে শুদ্ধতার। বোধহয় বান্ধবীর জীবনের গল্পটি আসলেই অনেক কষ্টের, সেসব শেয়ার করতে কেটে যাচ্ছে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। হতেই পারে! থাক গে ওসব! রুম্মান নামে শুদ্ধতার এক ভাই আছে, জানতো না দীপ্ত। বিয়ের তিন বছর পর শুদ্ধতার এই রুম্মান ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় ওর। পরিচয়ের গল্পটি বেশ অদ্ভুতই বটে। কিছুদিন আগে অফিসে থাকতেই ভীষণ শরীর খারাপ করছিলো ওর। তাই অফিস থেকে অনেক বলে-কয়ে, রীতিমত রিপোর্টিং ম্যানেজারের হাতে-পায়ে ধরে ছুটি ম্যানেজ করে ফিরে এসেছিলো বাসায়। দরজার কাছে আসতেই স্পষ্ট কানে এসেছিলো শুদ্ধতার সেই স্বভাবজাত খিলখিলে হাসির শব্দ। সঙ্গে একটি পুরুষ কণ্ঠও আছে। কন্ঠটি কার? ভাবতে ভাবতে কাঁপা হাতে কল-বেল চাপে দীপ্ত। মুহূর্তেই ভেতরে পিনপতন নীরবতা। অনেকক্ষণ পর দরজা খুলেই শুদ্ধতা হতবাক কন্ঠে বলেছিলো- “ওমা তুমি এসে পড়েছো? আজ এত তাড়াতাড়িই এলে যে? “ইয়ে মানে... একটু শরীর খারাপ করছিলো আমার।“ “সেকি! কি হয়েছে তোমার? আমায় বল নি কেন? আসার সময় একটা ফোনও তো করতে পারতে?... থাক গে! রেস্ট নিও। ও হ্যা, জানো কে এসেছে? আমার রুম্মান ভাই! সম্পর্কে খালাতো ভাই হয়। যদিও একেবারে আপন ভাইয়ের মতই দেখি উনাকে। বেড়াতে এসেছে।“ “ও আচ্ছা। তা... উনার কথা কখনো বল নি তো আমাকে।“ “বলার সময় পেলাম কোথায়? সারাদিন যা ব্যস্ত থাকো তুমি!“ পেছনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা রুম্মান ভাইকে দেখতে পেয়েছিলো দীপ্ত। বেশ সুদর্শন একটা ছেলে। থুতনিতে আবার খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। শুদ্ধতার এরকম একটা ভাই আছে, কেন যে কখনো জানতে পারে নি দীপ্ত! আসলেই, আজকাল ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটছে ওর। সেদিন মাঝরাতেও শুদ্ধতাকে বিছানায় পায় নি দীপ্ত। নিশ্চই বেলকনিতে দাঁড়িয়ে প্রমীলার সঙ্গেই কথা বলছে। শুদ্ধতার ভাষ্যমতে মেয়েটার জীবনটা মোটামুটি ওলট-পালট হয়ে গেছে। ব্রেক আপ... পারিবারিক বিপর্যয়... চাকরি/বাকরি- সবকিছু নিয়েই ধকল যাচ্ছে প্রমীলার। আহারে বেচারি! থাক গে, কথা বলুক শুদ্ধতা। বান্ধবীকে সময় দেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ! আজ খুব ভোরবেলায় শুদ্ধতার ডাকে ঘুম ভাঙ্গে দীপ্তর। স্বভাব-সুলভভঙ্গিতে ওর গলা জড়িয়ে ধরে শুদ্ধতা বলেছিলো- “আমার রাজপুত্র! উঠে পড় এবার। অফিস যাবে না?” মৃদু হেসে বলেছিলো দীপ্ত- “না গো, যেতে ইচ্ছে করছে না। আজ একেবারে ঘুম ভেঙ্গেই আমার দুষ্টু-মিষ্টি বউটার মুখশ্রী দেখতে পেলাম। এ কি আর চাট্টিখানি কথা? আমার যে খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে তোমায়।“ তারপর নীরবতা। দু’জনের অধর সঙ্গমটি স্থায়ী হয়েছিল সাড়ে সাত মিনিট। পৃথিবীতে এত ভালোবাসা কেন? ঘন্টা খানেক পরেই দু’জনে একসঙ্গে নাস্তা সারে ওরা। নাস্তার পুরোটা সময় শুদ্ধতার চোখে তাকিয়েছিলো দীপ্ত। একটা মানুষের চোখ এত সুন্দর হয় কি করে? বাইরে তখন বেশ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টি দেখা মাত্রই দীপ্তর নস্টালজিক মস্তিষ্কটা যেনো অটো-কমান্ড অপশন ব্যবহার করে শুদ্ধতার সঙ্গে সেই প্রথম পরিচয়ের মুহূর্তগুলো সামনে নিয়ে আসে। সেসব ভাবতে ভাবতে ও যখন অফিস যাবার জন্য রেডি হচ্ছিলো, পেছন থেকে ওকে জড়িয়ে ধরে শুদ্ধতা। কানের কাছে ঠোঁট দু’টো এনে ফিস ফিস করে বলে- “তুমি চলে গেলে আমি বড্ড একা হয়ে যাবো গো।“ “আমি জানি প্রিয়তমা।“ “অ্যাই... চা খাবে না? চা করে এনেছি তোমার জন্য। খেয়ে নাও।“ শুদ্ধতার চা বানানোর হাত অসাধারণ। জগতের শ্রেষ্ঠতম চা-টা শুদ্ধতাই বানায়। প্রতিদিন সকালে ওর হাতের এক কাপ চা না খেলে চলেই না দীপ্তর। তবে আজকের চা-টা কেন জানি খুব একটা ভালো হয় নি। একটু তেতো লাগছে। অন্যরকম একটা ফ্লেভার পাওয়া যাচ্ছে চা-তে। লিকার কড়া হয়ে গেছে বোধহয়। থাক, প্রতিদিনই চা ভাল হতে হবে এমন কোন কথা আছে নাকি! চা যে ভালো হয় নি, সে কথা শুদ্ধতাকে বলার প্রয়োজন নেই। বেচারির মনটা ভেঙ্গে দেবার কি দরকার? এক নিঃশ্বাসে চা শেষ করল ও। শুদ্ধতার কোমল, আদুরে ঠোঁট দু’টোতে চুমু এঁকে দিয়েই বেরিয়ে পড়ে দীপ্ত। “বিদায় লক্ষ্মীটি।“ -------------------------------- দীপ্তর পেটের ব্যথাটা খুব দ্রুত বাড়ছে। মনে হচ্ছে, ভেতরের জৈবিক যন্ত্রগুলো একটা একটা করে বুঝি বিকল হতে শুরু করেছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির মাঝে বাসার কাছের প্রশস্ত গলিটায় ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে আছে ও। হঠাৎ মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো। মুহূর্তে বাম হাত থেকে ছিটকে গিয়ে সশব্দে ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা খেলো ছাতাটা, ডান হাতে ধরে রাখা অফিসের দরকারি ফাইল-পত্র বহনকারী এক্সিকিউটিভ ব্যাগটাও ফসকে গিয়ে পড়ল কাদা-পানিতে। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না ও। ধপাস করে পড়ে গেলো মাটিতে। কি ঘটছে ওর সাথে? থরথর করে কাঁপছে দীপ্ত। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে কাশলো। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না ও। কাশির সঙ্গে বেরুলো রক্ত! বৃষ্টির পানিতে সে রক্তের দাগ ক্রমশ ধুয়ে যেতে থাকে। দীপ্তর সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে, ভেতরের জীবনীশক্তিটুকু খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বাসায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করবে কি? পেছন ফিরে তাকালো ও। ওদের বাসাটা এখনো কাছেই। ব্যালকনিতে চোখ পড়ল দীপ্তর। দেখতে পেলো শুদ্ধতাকে। ঝাপসা দৃষ্টিতে ওর মুখখানা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু কেন যেনো মনে হচ্ছিলো দীপ্তর, হাসছে শুদ্ধতা! প্রবল বর্ষনের শব্দ ছাপিয়ে কানে আসতে থাকে শুদ্ধতার সেই চির-পরিচিত খিলখিল হাসির শব্দ!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রবল বর্ষনের মাঝে একটি খিলখিল হাসির শব্দ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now