বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রায় ছয় মাস পর ...

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X প্রায় ছয় মাস পর দেশের বাড়ি যাচ্ছি । তাই অন্যদিনের তুলনায় মনটা আজ বেশ ভালো । ছোট বোনটা ফোনে বলেছিল তার জন্য কিছু নিতে । তাই কিছু চকলেট নিয়েছি । আর মা'র জন্য দুটো শাড়ি এবং বাবার জন্য পান্ঞ্জাবী কিনেছি । . সকাল দশটায় ট্রেন । প্ল্যাটফর্মে সাড়ে নয়টায় গিয়ে পৌছালাম । টিকিট স্বল্পতা । অনেক দূরের পথ টিকিট না কাটলে সমস্যা হতে পারে । তাই ব্ল্যাকে একটা টিকিট কিনলাম । অনেক দামে । . সাড়ে দশটা বাজতে চললো কিন্তু ট্রেন আসার কোনো নাম গন্ধই নেই । . যাই হোক অবশেষে এগারটার দিকে ট্রেন এসে ষ্টেশনে থামলো । আমি আমার সীটে গিয়ে বসলাম । কিছুক্ষন পর এক দম্পতী আমাদের বগীটাতে উঠলো । সাথে তাদের চার বা পাঁচ বছরের একটা বাচ্চা । চেহারাতে কেমন দুষ্টু ভাব । সে তার বাবাকে বলছে আব্বু আইসক্রীম খাবো । আর তিনি তাকে নানা রকম অজুহাত দেখিয়ে দমিয়ে রাখছে । . তাদের সীট আমার সীটের ডানপাশে মুখোমুখী । কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন ঝিকঝিক শব্দে চলা শুরু করে । আমি বাহির পানে তাকিয়ে আছি । ক্ষানিক্ষণ বাদে আমার হাতে আরেকটা হাতের স্পর্শ অনুভব করলাম । চমকে উঠলাম । কারন হাতটা খুব ঠান্ডা । তাকিয়ে দেখি পাশের দম্পতীর পিচ্চিটা । আমাকে দেখে খিলখিলিয়ে একটা হাসি দিল। আমিও একটা মৃদু হাসি দিয়ে তাকে কোলে তুলে নিলাম । -- কি নাম বাবু তোমার ? -- পুচকি -- হেসে বললাম তাই? অন্য কোনো নাম নেই? -- আছে তো । মৌ -- খুব সুন্দর তো নামটা । -- আইসক্রীম খাবো -- আমার কাছে তো আইসক্রীম নেই, বাবু । বলাতে পিচ্চিটা মুখ বাকিয়ে নেয় । -- চকলেট খাবে? -- সে আরেকটা হাসি আমাকে উপহার দিয়ে হাত পাতে । আমি ব্যাগ থেকে একটা চকলেট বের করে দিলাম । তারপর সে দৌড়ে তার বাবার কাছে গিয়ে বলে । আব্বু আব্বু ঐ ভাইয়াটা না খুব ভালো । দেখ আমাকে চকলেট দিয়েছে । . লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল । তারপর আমার দিকে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেইক করলো । তাদের সাথে পরিচিত হয়ে জানতে পারলাম তারা সিলেট যাচ্ছে মাজারের উদ্দ্যেশ্যে । . ট্রেন চলছে কথা-বার্তাও চলছে তাদের সাথে । ইতিমধ্যে তারা আমাকে তাদের বাড়ি যাবার জন্য নিমন্ত্রন জানিয়েছে । একটু পর পিচ্চিটা আবার এসে আমার প্যান্ট ধরে টানছে । -- বলো বাবু -- একটা চকলেট দিবা? পিচ্চিটা এত মায়া মায়া করে কথাটা বললো যে আমি তাকে আরো দুইটা চকলেট দিতে বাধ্য হলাম । -- বেশি খেলে কিন্তু দাঁতে পোকা ধরবে -- আচ্ছা । আর খাবো না । ভাইয়া তুমি না খুব ভালো । -- তুমিও খুব.. . বলার আগেই প্রচন্ড রকমের এক ধাক্কায় পুরো ট্রেন কম্পিত হলো । আমি লোহার কিছু একটার সাথে খুব জোড়ে ধাক্কা খাই । তারপর মনে হয় অজ্ঞান হয়ে যাই । যখন জ্ঞান ফিরে তখন আমি নিজেকে একটা ট্রেনের বগির নীচে অর্ধেক চাপা অবস্থায় আবিস্কার করি । ডান হাত আর বাম পা নাড়াতে পারছি না । মাথা খুব ব্যথা করছে । . চারদিকে রক্ত । কত লাশ । অনেকে ব্যাথায় কাঁতরাচ্ছে । সামনে দেখতে পেলাম আরো একটা ট্রেন উল্টে আছে । মানে দুই ট্রেনের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়েছে । হঠাৎ ঐ পিচ্চিটার কথা মনে পড়লো । ওর কি হয়েছে? ওর মা-বাবার কি হয়েছে? নিজেকে চাপা পড়া অবস্থা থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলাম । কিন্তু পারলাম না । . লাশের উপর লাশ পড়ে আছে । দুইটা লাশ দেখে আমার বুকের বাম পাশটা মোঁচরে উঠলো । লাশ দুটো ওই পিচ্চিটার মা-বাবার । তাহলে পিচ্চিটারও কি । না না । আর ভাবতে পারছি না । . হঠাৎ চোখ গেল আমার থেকে কয়েক গজ দূরে একটা লাশের স্তুপের এক পাশে পড়ে থাকা একটা বাচ্চার দিকে । রক্তে তার পড়নের জামাটা ভিজে পুরো লাল হয়ে গিয়েছে । . আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে নিজেকে বগীর নীচ থেকে মুক্ত করি । সরীসৃপের মতো নিজের দেহটাকে মাটির সঙ্গে ঘসাতে ঘসাতে বাচ্চাটার কাছে গেলাম । মুখটা তুলে দেখলাম মৌ । . মৌ.. মৌ.. । দেখ তোমার ভাইয়া এসেছে । চোখটা খুলো না, মৌ । তুমি বলেছিলে না আইসক্রীম খাবে । আমি তোমাকে আইসক্রীম খাওয়াবো । তুমি শুধু চোখটা খুলো কথাগুলো বলে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়লাম । . হঠাৎ দেখলাম মৌ আমার দিকে নিভো নিভো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । আমি যে তাকে কোলে নিয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটে যাবো সেই সামর্থ্যটুকু এখন আমার নেই । . মৌ'র কান বেয়ে রক্ত পড়ছে । আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার দিচ্ছি । কিন্তু কেউ আসলো না । যে যার মতো ব্যস্ত। দেখলাম মৌ'র চোখগুলো ছোট হয়ে আসছে । একসময় সে চোখ বুজে গেল । আর খুললো না । . আমি ব্যর্থ হলাম । ওর প্রাণ রক্ষার্থে । ওকে শেষ কথাটুকু বলতে পারলাম যে সে কতটা কিউট, কতটা মায়াবী ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রায় ছয় মাস পর ...

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now