বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি নিশ্চিত,বেশীরভাগ মানুষই চায় এই রাতে ঘরে
ঢুকেই বিড়ালের মাথায় দুইটা বাড়ি মারতে,এটা তাদের
স্বপ্নই বৈকি।নয়তো পরের দিনগুলো যে বউকে
"প্রাইম মিনিস্টার" মেনে চলতে হয়!তবে কেউ
বিড়াল মারে,আবার বিড়ালে কাওকে মারে !
আমার কি স্বপ্ন তা জানতে চাইতেই ছোট মামার
দিকে ঠোট বাকা করে একটা হাসি দিয়ে বললাম,সে
আমার বউকেই জিজ্ঞেস কইরো পরের দিন
সকালে!
আর কিছু বলার দরকার পরে নাই,মামা বুঝে গিয়েছিল
আমার হাসির সাথে কথায়ও ঘাপলা আছে!
.
হাটা শুরু করলাম আমার রুমের দিকে।আমার যে আর
থর সইছে না।
খেলা হপে আজ.....
নু ওয়ান ডে,নু টেষ্ট!
অনলি টি-টোয়েন্টি !
রুমে ঢুকেই আমার বউয়ের দিকে ঠোট জোড়া
দুদিকে যতটুকু পারি মেলিয়া এক্কান হাসি দিলাম!
ঠাসসস্ করে দরজাটা লাগিয়ে দিলাম, দরজা লাগানোর
শব্দে বউ তো ভয় পেলই ,সাথে আমার কানের
পর্দা দুটো ও সুযোগ পেয়ে একটু ডান্স করে
নিয়েছে!
.
-"একি! তুমি এখনো এভাবে বসে আছো কেন?"
লক করতে করতে বউয়ের বেনারসীর দিকে
তাকিয়ে বললাম!
বউ আমার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল । চোখ গুলা বড়
করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে.....
তাকাবেই তো ! বাসর রাতে তো আর কামিজ
পড়বে না!
-"আরে এভাবে তো হবে না"
-"কি..... কি হবে না?"
কাপা কাপা কন্ঠে উত্তর দিল আমার বউ,নিশি!
-"কি মানে? এইভাবে কী আর ম্যাচ হয়?"
-"ম্যা....ম্যাচ???!!!"
-"উহু, এইভাবে তো আর খেলা শুরু করা যায় না"
.
আমার কথা শুনে যেন ও আকাশ থেকে পড়ল।ভাল
করেই বুঝতে পারছি আমি ওর গলা শুকিয়ে যাচ্ছে!
লাল লিপষ্টিক দেয়া কমলার খোয়ার মত চিকন ঠোট
জোড়া কাপছে নিশির !
আমি হাসছি মনে মনে।
.
এবার আমি ওর ঘন কাঁজল দেয়া মায়াবীনি পাগল করা
চোখের দিকে তাকালাম, কেমন একটা লজ্জা মাখা
ভয়ের শূন্যতার চাপ।(!)
আহা....!
এ এক অদ্ভুত সুন্দর সৃষ্টি।
অসাধারণ তার দৃষ্টি!!!
আমার কেন জানি এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না আমার
সামনে বসে থাকা মেয়েটা নিশি,আমার বউ!
তিন কবুল আর দেনমোহরে আমি ওকে আমার
করে নিয়েছি ।
.
কদিন আগেও যখন আমি আমাদের বিয়ের পরের
দিন গুলার কথা ভাবতাম,আমার মাথার ভিতরে শটসার্কিট হত।
ভাবতাম আমার আর নিশির অনেক গুলা ছেলে
হবে,ওরা আমাকে আব্বু ওরে আম্মু,আমার আব্বু
আর আম্মুরে দাদু ডাকবে।তারপর ওরা যখন বিয়ে
করবে,ছেলেপুলে হবে তখন আবার আমাকে
দাদু বলে ডাকবে!
আহা...!
আবার ওদের ছেলেপুলেরা বিয়ে করে যখন
আবার ছেলেপুলে পয়দা করবে তখন আমাকে,
তখন আমাকে.......
থাক,বাদ দেন!
.
.
আমি এক পা দু পা করে এগিয়ে যাচ্ছি নিশির দিকে।যতই
এগুচ্ছি আমি, নিশি ততোই পিছিয়ে যাচ্ছে।
আমি এগুচ্ছি,ও পিছিয়ে যাচ্ছে!
এগুচ্ছি,পিছিয়ে যাচ্ছে.......
.
চিকন ঠোট দুইটা নাড়িয়ে নিশি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস
করল,
-"প্রথম দিনেই খেলতে হবে?"
উত্তরে আমি কিছু বললাম না।বুঝতে পারছি শুরু হওয়ার
আগে এ এক টান টান উত্তেজনার পূর্ভাবাস।
এবার ওর পিঠ দেয়ালের সাথে লেগে গেল,এখন
তো কোনভাবেই আর ওর পিছনে যাওয়া সম্ভব না!
আমাদের মাঝে এখন এমন দূরত্ব,
এমন এক দূরত্ব যে আমি ইচ্ছে করলেই ওর
ঠোট দুটো ছুঁয়ে দিতে পারব।
আমি এক দৃষ্টে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে
আছি,দেখলাম নিশিও আমার দিকে তাকিয়ে আছে
একপলকে।
চোখের পলক যেন কারোই পরছে না।
ওর শরীরের মিষ্টি গন্ধটা আমাকে পাগল করে
তুলছে,হাজার দিন না খেয়ে থাকতে পারব আমি এ
গন্ধ শুকে!
আমি পারলাম না আর নিজেকে ধরে রাখতে।(!)
.
ফিক করে হেসে দিলাম!
"হে হে হে!"
নিশি ভড়কে গেছে আমার আবুল মার্কা হাসি দেখে!
কিছুক্ষন মুখ দিয়ে কথাই বের করতে পারল না।
বুঝতে পেরে গেছে আমি ফাইজলামি করছিলাম।
আমি আর দেরি করলাম না, কোলে তুলে নিলাম
ওকে!
সারা জীবনই তো বউয়ের সাথে কাটাব,চাইলে
প্রতিটা রাতেই বাসর করতে পারব।তবে এ রাতটা
কাটাতে চাই অন্যভাবে।
শুধু বউয়ের সৌন্দর্য দেখেই নয়,নিশির হাত ধরে
রাতের আকাশটা দেখলে মন্দ হবে কী?
আমি দরজা খুলে ওকে কোলে নিয়ে ছাদে
উঠতে লাগলাম।
.
রাতের অন্ধকারে আকাশের সহস্রাধিক তারার মাঝে
একটা চাঁদকে বড্ড একাকি মনে হয়।অথচ গোলাকার
এই জিনিসটাই ম্লান আলো ছড়িয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছে
আকাশের সৌন্দর্যটা।
চমৎকার একটা দৃশ্য!
আকাশের চাঁদ রেখে এবার আমি আমার পাশের
চাঁদটার দিকে তাকালাম,ছাদের রেলিং ধরে
পূবআকাশের দিকে তাকিয়ে আছে নিশি।
আমি এগিয়ে গেলাম,ঠিক ওর পাশে দাড়ালাম।
.
রাতের গভীরতা সমস্ত কোলাহলকে নিশ্চিন্ন
করে দিয়েছে।নিরবতার সমর্থনে আমাদের
কারো মুখ দিয়ে কোন কথা আসছে না।
-"কার শোকে এই নিরবতা পালনা করা হচ্ছে শুনি?"
শোকের সমাপ্তি ঘটাতেই জিজ্ঞাসা করলাম আমি।
নিশি কিছু বলল না,কিছুক্ষন পর আমার দিকে তাকাল।
আসলে কিছু অনুভূতি থাকে যা কখনো প্রকাশ করা
যায় না,করতে গেলে সেটা আর ফিল করা যায় না।
তেমনি কিছু মানুষের সৌন্দর্যের বর্ণণা দেয়া সম্ভব
না,মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়।
ফর্সা মায়াবী মুখটার গোলাপী ঠোট দুটোর
নিচে ছোট্ট তিলটা নিশির সৌন্দর্য হাজারগুন বাড়িয়ে
দিয়েছে,একেই হয়তো পরিপূর্নতা বলে।
আমার একবার না,দুবার না,বারবার ইচ্ছা হয়।নিশির ছোট্ট
কালো তিলটায় হাজারবার চুমো খাই!
.
নিশি আবার মুখ ঘুরিয়ে নিল।অন্য দিকে তাকিয়ে
আছে।
-"তোমার মতো জামাই যে মেয়েগুলার কপালে
জুটে,তাদের জন্য সত্যিই আমার আফসোস হয়
খুব।"
নিশ্চই আগের ঘটনাগুলা নিয়ে রেগে আছে।
আহা,বউয়ের সাথেই যদি এমন না করতে পারি তাহলে
কার সাথে করব?
ইউ হ্যাভ টু আন্ডারস্ট্যান্ড,বউ!
-"আহা!এখানে তো আফসোসের কিছু দেখছিনা
আমি।ওরা 'আমার মত' পাবে আর তুমি যে আমার এই
'আমি'টাকেই পেলা?তোমার তো....."
শেষ করতে পারলাম না।দেখলাম নিশি চট করে আমার
দিকে ঘুরে তাকিয়ে আছে।অগ্নীঝড়া দৃষ্টি নিয়ে।
এইবার আমি ভয় পেয়ে গেলাম,প্রথম রাতেই প্রিয়
বউ এর এমন ক্ষুদ্ধ দৃষ্টি ভবিষ্যতের খারাপ কিছু
ইঙ্গিত করছে।
আমার কাচুমাচু চেহারাটা দেখে সম্ভবত ওর মায়া
লেগেছে, স্বশব্দে হেসে উঠল।
আচ্ছা,বউ এর ভয়ে স্বামীর এমন অবস্থা দেখে
কি সব স্ত্রীরাই মজা পায়?
নিশি হাসতেই লাগল,ভুবন ভুলানো এক হাসি।ওর হাসিমাখা
মুখটা দেখে আমার মুখটাও উজ্জল হয়ে উঠল।
এই হাসিটা দেখার জন্য তো বউ এর হাজারটা ঝাড়ি
খাওয়াই যায়!
.
নিশি হাসতে হাসতেই আমার কাছে আসতে
লাগল,একেবারে গা ঘেষে এসে দাঁড়াল।
ওর শরীরের মিষ্টি গন্ধটা আবার আমার নাককে
তুলোধুনা করে দিচ্ছে,মাতাল করে তুলছে
আমাকে।
আমার এই মুহূর্তে কেন জানি ইচ্ছা করছে,খুব ইচ্ছা
করছে নিশির হাতটা একটু ধরতে।হাতটা ধরে
সবচেয়ে দূরের তারাটার দিকে তাকিয়ে থাকতে।
কিন্তু....
অবাক হলাম,সত্যিই অবাক হলাম।
নিশি নিজেই আমার হাতটা ধরল,শিরশিরে একটা অনুভূতি
বয়ে গেল আমার মেরুদন্ড দিয়ে।
চোখ বন্ধ করে ফেললাম আমি!
হ্দদয়ের সমস্ত জায়গা দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা
করছি অনুভূতিটা।
আমার কেবল মনে হল,এই মুহূর্তটা যেন শেষ না
হয়ে যায়।চলতে থাকুক শেষ সময় পর্যন্ত!
.
"ঈদ (ইদ) মোবারক"
.
-Tanjim Pranto(কল্পিত রাজকণ্যার রাজকুমার)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now