বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরী 2

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X ক্ষীণ একটা শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো চোখদুটি অনেক কষ্টে মেলে তাকাতেই অবাক! লাইট অফ কিন্তু এতো আলো কোথা থেকে আসলো? জানালার পাশ থেকে এ পাশে ফিরতেই পড়ার টেবিল এর পাশে একটা মেয়ে দাড়িয়ে ! আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে আমি চমকে উঠে বসলাম বিছানায় শরীর দিয়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম বের হচ্ছে আমার এখন কি করা উচিৎ বুঝতে পারছিনা চিল্লাবো? না এত রাতে চিল্লানোটা ঠিক হবেনা আর এই মেয়েটা কোথা থেকে আসলো? আমি চুপ হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছি সাদা একটা শাড়ি পরা চুলগুলো এলোমেলো চাঁদের আলোয় হালকা চেহারা বোঝা যাচ্ছে আমার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে কিছু একটা বলতে চাই একসময় মেয়েটা এসে আমার বিছানার এক কোণায় বসলো আমি কিছু জিজ্ঞেস করার মতো সাহস পাচ্ছিনা . মেয়েটা আমাকে জিজ্ঞেস করলো --জানালা খোলা কেন? . আমি কি বলবো ভাষা খুজে পাচ্ছিনা কোন মেয়ের কন্ঠ যে এতটা সুমধুর হতে পারে আমার কল্পনার বাইরে ছিলো এই মেয়ে মানুষ হতে পারেনা! আসলে আমার বিছানার পাশেই জানালা রাতের হালকা বাতাস আর চাঁদের আলো উপভোগ করার জন্য জানালা খোলা রাখি কিন্তু কখন যে ঘুমিয়ে যায় তাই আর জানালা বন্ধ করা হয়না আমি বললাম --চাঁদের আলো উপভোগ করার জন্য খুলে রেখেছি --আমরা এখান দিয়েই যাচ্ছিলাম কিন্তু তোমার চেহারা দেখে আমি মুগ্ধ হয় আর সে জন্যই তোমার ঘরে আমি প্রবেশ করেছি প্রায় অনেকক্ষণ থেকে তোমাকে ডাকছি কিন্তু তুমি বোধহয় শুনতে পাচ্ছিলে না? --আমি শুনতে পাইনি তার কারণে উঠিনি! --আচ্ছা তুমি ঘুমাও আর হ্যাঁ এর পরে কিন্তু জানালা খোলা রাখবে না কেমন? --আচ্ছা --ও পাশ ফিরে ঘুমাও --তুমি কে? আর এখন কোথায় যাচ্ছো এতরাতে? --আমি পরি প্রায় রাতে আমি আর আমার কয়েকজন বন্ধু মিলে ঘুরে বেড়ায় । আচ্ছা আমার বন্ধুরা ডাকছে আমি আসি --আচ্ছা . পরীটা চলে গেল আমি আস্তে করে গিয়ে জানালাটা বন্ধ করে দিলাম আর ভাবছি কি ঘটলো আমার সাথে এটা? ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে যায় সকালে ছোট বোনটার ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো ব্রেকফাস্ট করে কলেজ সারাদিন ব্যস্ততার কারণে রাতের ঘটনাটা প্রায় ভুলেই গেছিলাম রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে গেলাম জানালা দিয়ে হালকা বাতাস আসছে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি খেয়াল নেই আলোর ছটায় ঘুম ভেঙ্গে গেল আমি আজ আর পরীকে দেখে অবাক হলাম না কারণ আমি ওকে দেখার জন্যই জানালা ইচ্ছে করেই খোলা রেখে ঘুমিয়েছিলাম পরী একটু রাগী ভাব নিয়ে আমাকে বললো --তোমাকে তো আমি বারণ করেছিলাম কিন্তু তুমি? --তোমাকে দেখার জন্যই আমি ইচ্ছে করে জানালা খুলে রেখেছি --আমাকে এখানে এভাবে দেখে তোমার ভয় করছেনা? --নাহ্ তুমি তো আমার ক্ষতি করছো না ভয় পাবো কেন? --খুব সাহসী তুমি? --হয়তোবা --আচ্ছা আজ আমি আসি ভালো থেকো --তোমার অপেক্ষায় থাকলাম . পরী একটু হাসলো আমার কথা শুনে তারপর চলে গেল পরেরদিন রাতে আমি জানালা বন্ধ করে ঘুমিয়েছি কিন্তু ঠক ঠক শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো আমি জানালা খুলে দিলাম পরী বেশ রাগী ভাব নিয়ে ঘরে ঢুকে আমার বিছানায় বসলো আমি ওর রাগ দেখে আজ একটু ভয় পেয়ে গেছি পরী বলল --জানালা বন্ধ করেছিলে কেন? --তুমি তো সেটাই চাও? --না এর পর থেকে জানালা খোলা রেখে ঘুমাবে --আচ্ছা --আমার না খুব ক্ষিদে পেয়েছে তুমি আমাকে কিছু খেতে দিবে? . আমি ওর দিকে চেয়ে আছি এইটা কি সম্ভব? পরী আবার বলল --কি হলো? --অপেক্ষা করো কিছুক্ষণ আমি গিয়ে একটা প্লেটে ভাত আর তরকারি নিয়ে এসে ওকে দিলাম পাশে বসে ওর খাওয়া দেখছি বাচ্চা মেয়েদের মতো করে খাচ্ছে ছোট ছোট লোকমায় অসাধারণ একটা মুহূর্ত খাওয়া শেষে ও চলে যাবে আমি সেইসময় বললাম --আমি তোমার হাতটা একটু ছুয়ে দেখতে পারি? --হ্যা অবশ্যই আমি ওর হাত দুটো ছুয়ে দেখলাম বেশ ঠান্ডা অনেকক্ষণ পর ও বললো --আজ যাই তাহলে? --হুমম --মন খারাপ করছো আমি কিছু বললাম দেখে ও চলে গেল আমি অপক্ষায় ছিলাম কবে আবার আসবে পরি কিন্ত আমায় অবাক করে দিয়ে প্রায় তিন দিন পর আসলো জানালা খোলা ছিল ওকে দেখে অনেক খুশি হলাম কিন্ত ওকে দেখে মনে হলো ওর মন খারাপ ঘরে ঢুকে কান্না করতে লাগলো আমি বললাম --কাদছো কেন? আর এই তিনদিন আসোনি কেন? . ও আরো জোরে কান্না শুরু করল --না বললে বুঝবো কিভাবে কি হয়েছে --আমার বিয়ে পরশু দিন --এটাতো খুশির খবর কাদছো কেন? . পরি বেশ খানিকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে অন্য দিকে ঘুরে গেল অভিমানী? আমি ঠিক বুঝলাম না ওর অভিমানের কারণ পরি বলল --তোমার সাথে আর আমার দেখা হবেনা --কেন? --বিয়ের পর আর আমি এখানে আসতে পারব না --হুমম . আমার কেন জানি খুব কান্না করতে ইচ্ছে করছে ওর সাথে আমার আর কখনো দেখা হবেনা? আমি বললাম --তোমাদের বিবাহ জীবন অনেক সুখের হোক দোয়া করি . ও আমাকে জড়িয়ে ধরল আমি ভাবতেও পারিনি এমনটা করবে পরি বলল --তোমাকে না দেখে আমি থাকতে পারবো না আমি কিছু বলতে পারছি না আমিও ওকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলাম --আমাকে যেতে হবে এট বলে পরি আমাকে ছেড়ে পাশে কিছুক্ষণ বসল তারপর চলে গেল আজও প্রতিটা রাত পরির অপক্ষায় জানালার পাশে বসে থাকি হয়ত একদিন আসবে . . কাল্পনিক


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পরীর রহস্যময় আলো
→ পরীক্ষার ঘরে ন্যায়ের নীরব কান্না
→ বার্ষিক পরীক্ষা
→ “মোল্লা করিমের চরিত্র পরীক্ষা”
→ পরী যখন বউ
→ হৃদয়ের নীলপরী (শেষ পর্ব)
→ হৃদয়ের নীলপরী ১৯
→ হৃদয়ের নীলপরী ১৮
→ হৃদয়ের নীলপরী ১৭
→ হৃদয়ের নীলপরী পর্ব ১৫
→ হৃদয়ের নীলপরী পর্ব ১৬
→ হৃদয়ের নীলপরী পর্ব ১৪
→ হৃদয়ের নীলপরী (পর্ব১৩)
→ হৃদয়ের নীলপরী পর্ব ১৫
→ হৃদয়ের নীলপরী (পর্ব১২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now