বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খুব অল্প ভাড়ায় ভাল একটি বাসা পাওয়া গেছে।অবশ্য এর আশ-পাশটা কিছুটা নিস্তব্ধ,আশেপাশে বাড়ি নেই বললেই চলে,ঢাকা শহরে এমন জায়গা থাকতে পারে তা আমার জানা ছিলো না।
টিনের চালের বারান্দা, মেইন ঘরের উপরে ছাদ ।
হয়তো বাড়ির মালিক খুব বৃস্টি বিলাসী ছিলো তাই রাতে বৃস্টির শব্দ শুনার জন্যই এটা করেছেন।
এখান থেকে ১০ মিনিট সামনে হাটলেই মেইন রোড,ওখান থেকে ৭ টাকা বাস ভাড়া দিলেই কলেজ,যাতায়াতের ও কোন অসুবিধা নেই।কিন্তু এত বড় বাসায় আমি একা কেমন একটা বেখাপ্পা লাগে,তবে আমার ও ত একা একা থাকাই পছন্দ,
আজ সকালে দুটো ডিম এনে রান্না করবো বলে রান্না চাপাচ্ছিলাম কিন্তু কলেজের সময় হয়ে যাওয়ায় রান্না ফেলে চলে আসি।
কলেজ টা আমার কাছে বোরিং লাগে।
ওই সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে আর আমি একা একা কানে হেডফোন গুজে গান শুনছি।আমাকে ত একবার ও ওরা আড্ডার জন্য ডাকে না। আর আমিও ত কি?
নিজ থেকে ত কখনো ওদের সাথে কথা বলি নি।
পকেট থেকে সিগারেট এর পেকেট টা বের করে একটা সিগারেট ধরালাম।
কলেজে সিগারেট খাওয়া নিষেধ তবুও ছোট থেকেই নিষেধের তুয়াক্কা করাই আমার ধর্ম।আপন মনে চোখ বন্ধ করে সিগারেট এর ধুয়া গিলছিলাম।
:হেলো!একটু ম্যাচ টা দিবেন?
কথায় তাকিয়ে দেখলাম একটা ছেলে হয়ত আমাদের বেচের ই,,আমি ম্যাচ টা বাড়িয়ে দিলাম।
ছেলেটা হাসি মুখে ম্যাচ টা নিয়ে সিগারেট ধরিয়ে বলল,
:সারাক্ষন ত একা একা থাকেন।জানতে পারি কেন?
আমি হাসি মুখে বললাম,
:পরিচিত কেও নেই বলেই ত একা একা থাকি।
ছেলেটা হাত বাড়িয়ে বলল,
:আমি তমাল।
আমি হাত মিলিয়ে বললাম,
:ইমন!
:ত আমরা কি তুমি বা তুই এ আসতে পারি?
আসলে বন্ধুত্তে আপনি বা তুমি মানায় না।
আমিও হাসি মুখে সম্মতি দিলাম।
ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরছি।গেইট দিয়ে ঢুকার সময়ই মনে হলো
বাসাটার একটা নাম রাখা দরকার।
কি নাম দেয়া যায়?
অনেক ভেবে আবিষ্কার করলাম, চিলেকোঠা।
তৎক্ষণাৎ চিলেকোঠা লিখে রুমের দরজায় লাগিয়ে দিলাম।
এখন রান্না করতে হবে।
ভাত এর চাল নেয়ার জন্য হাত বাড়ালাম,কিন্তু আমার ভাত রান্না করা!
তা কি করে হয়?
একি!আমার ডিম গুলোও রান্না করা!
কিন্তু আমিত কোন কাজের লোক রাখি নি।
তাহলে কে করলো,আর ঘড়ের চাবি ত আমার কাছে কেও ত ঢুকতেও পারবে না।
তাহলে কি এই বাড়িতে ভূত আছে?
ধুর,এই একবিংশ শতাব্দী তে আমি কি ভাবতেছি।
যাই হোক,খেয়ে একটা ঘুম দিলাম।
রাতে উঠলাম।কিন্তু নাকে কেমন একটা ঝাযালো গন্ধ আসছে।
আমি পা টিপে টিপে রান্না ঘরে গেলাম।
দেখলাম গ্যাস এর চুলা জলছে,,তার পাশেই ইলিশ মাছ রান্না, ভাত ও রান্না।
আমি বুঝতেছি না কি হচ্ছে এসব।
দরজা জানালা সহ সব দেখে নিলাম না সব বন্ধ করা তাহলে কে করছে এসব।
আমি ভয়ে ভয়ে খাবার গুলো এনে খেতে শুরু করলাম,
এমন একটা ভাব করলাম যে এটা স্বাভাবিক কিছু,
কিন্তু অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার ফলে খেতে গিয়ে হেচকি উঠে।
খাওয়ার আগে ত পানি আনতে ভুলে গেছিলাম।কিন্তু পাশে তাকাতেই দেখি গ্লাসে পানি রাখা।
সব কিছু এত তাড়াতাড়ি ঘটতেছে বলে আমি কিছুই বুঝতেছি না।
হাত ধুয়ে একটা সিগারেট ধরালাম,
তখনি কাচের রিনিঝিনি আওয়াজ এর মতো ভেসে আসলো একটা সুর,
:সিগারেট ফেলুন।
আমি ভয় পেয়ে আশেপাশে তাকাচ্ছি বাট কাউকেই দেখতে পাচ্ছি না।
আমি সিগারেট না ফেলে বললাম,
:কি হচ্ছে এসব?
আবার শুনলাম একটা মৃদু হাসির শব্দ,
যেন কোন শিল্পীর পিয়ানোর সুর বেজে উঠলো।বলল,
:সিগারেট টা ফেলুন,আমার এর গন্ধ সহ্য হয় না।
আমি সিগারেট টা ফেলে দিয়ে বললাম,
:কে তুমি?
আবার যেন সেই রিনিঝিনি সুর,
:সব কি একদিনেই জেনে ফেলবেন?
ভবিষ্যৎ এর জন্য কিছু রাখুন।শুনোন সিগারেট খাবেন না,এতে আমার দম বন্ধ লাগে।ভয় পাবেন না আমি আপনার বন্ধু হতে চাই,
আমি আবার জিজ্ঞাস করলাম
:কে তুমি?
এবার অনেক্ষন ডাকাডাকি করেও কোন শব্দ পেলাম না।
সারা রাত জেগে আছি,ভয়ে ঘুম আসছে না।
সকালের একটু আগে চোখ দুটো লেগে গেল।
হঠাৎ চোখে মুখে পানির ছোয়া অনুভব করলাম।আমি ভয়ে উঠে বসলাম।
শুনলাম নুপূড়ের সুর,
:উঠুন নামাজ পড়ে আসুন।
এবার আমি সত্যিই বুঝতেছি না কি হচ্ছে এসব?
আমি কি পাগল হয়ে গিয়েছি?
না পাগল হলে এই গুলো রান্না কে করলো।
আমি তাও ওজু করে নামাজ পড়লাম।
নামাজ থেকে উঠার পর কে যেন বলল,
:পড়তে বসুন,আমি রান্না ঘরে যাই।
কিন্তু আমি কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম না।আমি সম্পূর্ণ ঘড় জুড়ে হাত নাড়লাম।
একচিলতে কাপড়ের ছুয়া অনুভব করতে করতে হারিয়ে গেল।
আবার যেন কে বলে উঠল,
:এতো অধৈর্য কেন?সবুরে মেওয়া ফলে।চুপচাপ পড়তে বসুন।
এবা আমি কিছু টা বুঝলাম,আমি হয়ত কোন পরীর ছোয়ায় আছি।
কিন্তু একবিংশ শতাব্দী তে তা বিশ্বাস ই করি কি করে?
পড়ার সময় রান্না ঘরে শব্দ শুনতে পাচ্ছি।
আমি উকি দিয়ে দেখতে চাচ্ছিলাম কি হচ্ছে।
কিন্তু পিছনে কারো মৃদু হাসির সুর অনুভব করলাম।
কলেজের সময় হয়ে যাচ্ছে।আমি রেডি হচ্ছিলাম।আমার চোখের সামনে দেখতে পেলাম ভাত,মাছ ভাজি হাওয়ায় ভেসে ভেসে আসছে।
আমি যেন নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না,
চেয়ারটাও আস্তে করে সরে গেল,
আবার সেই সুর,
:খেয়ে কলেজে যান,কলেজে এইসব কাউকে বলবেন না কিন্তু । আপনি ত আবার একা একা থাকেন কাকে আর বলবেন। তাও সাবধান করে দিলাম।তাহলে কিন্তু আমি চলে যাবো!
হ্যা শুনোন কলেজের পিছনের পুকুরপাড় এ বসে অযথা সময় নস্ট করবেন না,আমি এখানে অপেক্ষা করবো ।
আমিও তাই করলাম ক্লাস শেষ করে সরাসরি বাসায়।
বাসার তালা খুলে ঢুকে বিছানায় বসে পড়লাম। কে যেন আমার মাথার উপরের ফ্যানটা ছেড়ে দিলো,
আমার বুঝতে বাকি নেই কে করছে,,
এভাবেই চলছিল আমাদের জীবন,,তবে ওকে কিছু জিজ্ঞাস করলে এড়িতে যেতো।
আমি জিজ্ঞাস করলাম,
:আচ্ছা তুমার নাম কি?
মেয়েটা হেসে উত্তর দিলো,
:আমার নাম সৌকর্য।
আমি অবাক হয়ে শুনছিলাম,সৌকর্য।
কারী নাম এত সুন্দর হতে পারে?
কিন্তু আমি যেন এই নিরাকৃত পরীর প্রেমে পড়ে গিয়েছি।
আজ কলেজে থেকে যাওয়ার সময় একটা পায়েল কিনে নিয়ে গেলাম, খুব পছন্দ হইছে।
বাসায় গিয়ে বললাম,
:সৌকর্য আছো আশেপাশে?
আমি একটা ছোট্ট হাসির শব্দ শুনতে পেলাম। বুঝলাম ও আছে।
আমি একটু আবদার নিয়ে বললাম,
:একটু কাছে আসবে?তুমার জন্য একটা জিনিস এনেছি।খুব ইচ্ছে হচ্ছে নিজ হাতে পরিয়ে দেয়ার।
আমি আমার কাধে কারো হাত অনুভব করছিলাম,এই প্রথম।
হাত দিয়ে ওর হাতটা ধরলাম,অনেক নরম।
আচ্ছা পরীরা কি এত্তই নরম?
আমি ওকে আদেশের সুরে বললাম,
:পা খানা কই দেখি,তুমাই ত দেখতেই পাই না,পরিয়ে দিব কি করে?
,
আমি যেন আমার সামনে একজন আলোর তৈরী কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম।
৫ ফুট ৬ ইঞ্চি র মত লম্বা,খুব সুন্দর ভাষা য় প্রকাশ করতে পারবো না,
চোখ গুলো ডাগর ডাগর। আমার দিকে ভরসার দৃস্টিতে তাকিয়ে ছিল।
ও মুখ টা নিচ দিকে নামিয়ে নিলো,
আমি ওর কাছে বসে পায়েলটা নিজ হাতে ওর পায়ে পড়িয়ে দিলাম।
দেখলাম মেয়েটার চোখ থেকে মুক্তোর মত কিছু গড়িয়ে পড়ছে।
আমি বললাম,
:তুমাই খুব ভালোবাসি,,সারাজীবন আমার পাশে থাকবে?
মেয়েটা মাথা টা ডানে বায়ে হেলালো,,,
বুঝলাম ও রাজী,
কিন্তু মনে আজ অনেক প্রাশ্ন ঘুরছে!
ওকি কোন অতৃপ্ত আত্মা নাকি পরী,
আমি ওকে জিজ্ঞাস করলাম,
:আমি কি তুমার রহস্য জানতে পারি সৌক?
মেয়েটা হাসি মুখে বলতে শুরু করলো,
:আমি সৌকর্য, কোন মানব সন্তান নই।
আমি একজন পরী,ছোট বেলাটা মা বাবার কাছেই কাটে।
কিন্তু আমার বাবা ছিল একজন মানুষ,
আমার বাবার কাছ থেকেই মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসা জাগে।আমার বাবা একজন খুব গম্ভীর লোক ছিল,একদিন তুমাদের কলেজের পিছনের পুকুর পারে বসে ছিলাম,জায়গাটা আমার খুব প্রিয় ছিল,আর তুমাকে দেখতে পাই,
প্রতিদিনই এসে তুমাকে দেখতে পেতাম,খুব ভাল লাগত তুমাকে।
তাই তুমার বাসায় চলে আসি।
আমি তুমার পাশে সারাজীবন থাকতে চাই,বিয়ে করবে আমায়?
আমি যেন হাতে সূর্য পেলাম,
:হুম কিন্তু কিভাবে,
ও তখন বলল একজন হুজুরকে সব খুলে বলো তাহলেই হবে।
আমি মসজিদ এ গিয়ে হুজুরকে সব খুলে বললাম,হুজুর যেন কোন রূপকথা শুনছেন।
সব শেষে তিনি রাজি হলেন আমাদের বিয়ের সময় আমি আরো বাড়তি কিছু হাসি শুনতে পেলাম,বুঝতে পারলাম কে তারা।
,
,
দুজনে পাশাপাশি বসে আছি,
মেয়েটাকে খুন সুন্দর লাগছে।দু চোখ ভরে দেখতেছি,
ওকে জড়িয়ে ধরলাম,এই প্রথম আমি ওর স্পর্শ অনুভব করলাম,কত্ত কোমল।
ওর কপালে আলতো করে একটা চুমো দিলাম,মেয়েটার সারা শরীর কেপে গেলো,
আমার দিকে তাকিয়ে বলছিল,
:কখনো ছেড়ে যাবে না ত?
আমি ওর হাত দুটো ধরে ভরসা দেয়ার অনুভব করলাম।
ও আমার বুকে মুখ লুকিয়ে আছে।
দুজনেই একি স্বপ্নে হারিয়ে যাচ্ছি।
...............সমাপ্ত..........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now