বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরাজিত ১ম পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X আমার স্ত্রী সুমিকে সাথে নিয়ে বাজার করতে আসাটা মস্ত বড় এক বোকামি। ২ মিনিটের কাজে ২ ঘন্টা লাগায় সে। মাছ কিনতে গিয়ে এই মাছ, ঐ মাছ, বড় মাছ, পচা মাছ – সব ঘুরে ঘুরে শেষে প্রথম দেখা মাছটাই কিনবে। সব্জি কিনতে গিয়ে আরেক ঝামেলা বাঁধাবে – টাটকা সব্জি কেনা তার অবশ্যই চাই। তাকে হাজার চেষ্টা করেও বুঝানো যায় না যে ঢাকা শহরের কোন বাজারেই টাটকা সব্জি পাওয়া সম্ভব নয়! তার কথা হচ্ছে- “বাজার যখন করতে এসেছি, সামান্য একটু দেখেই চলে যাব কেন? বাজার পুরোটা ঘুরে, দেশে-শুনে যেটা সবচেয়ে ভাল মনে হবে, সেটা কিনব”। তবে এরচেয়ে বড় বিপদ ঘটে যখন সুমি জিনিসপত্রের দরদাম নিয়ে মাছওয়ালা বা সব্জিওয়ালার সাথে তর্কাতর্কি শুরু করে। অন্যান্য দিনের মত আজও একই পরিস্থিতি। সুমি আলু কেনার সময় বেছে বেছে আলু পাল্লায় তুলে দিচ্ছিলো, সব্জিওয়ালা বলে বসল, “এমনে বাইছা কিনলে ৫ টাকা বেশি দেওন লাগবো”। ব্যস! আর যায় কই? সুমি ফেটে পড়ল রাগে। তরকারিওয়ালার অবস্থা কেরোসিন করে ছাড়বে আজ! আমি আর কি করব? এক কোনায় দাঁড়িয়ে প্রমোদ গুনছি। হঠাৎ একটা কান্ড ঘটলো। দেখলাম এক বয়স্ক দম্পতি এসে দাঁড়িয়েছে সুমির পাশে। উভয়ের বয়স পঞ্চাশের বেশি হবে। বয়স্ক পুরুষ সুমিকে ডাকলো, “মা, সুমি?” সুমির চেহারা দেখে মনে হলো এই গলার আওয়াজ তার খুব চেনা। সে ঝট করে ঘুরে দাঁড়ালো। অমনি বয়স্ক মহিলা তাকে দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলো। সুমিও মহিলাকে আকড়ে ধরলো। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতবাক হয়ে গিয়েছি। কি করবো বুঝতে পারছি না। আগন্তুক মহিলা সুমিয়ে জড়িয়ে কাঁদছে। সুমিও চুপচাপ। মহিলার স্বামীর চোখের কোনেও পানি চিকচিক করছে। ভরা বাজারের ভেতর এমন নাটুকে দৃশ্য দেখে অনেকেই এগিয়ে এলো। দেখে মনে হচ্ছে এক যুগ পর মা-মেয়ের পুনর্মিলন হয়েছে। আমি কিছু একটা বলবো ভাবছি। কিন্তু তার আগেই সুমি নিজেকে সামলে নিলো। মহিলার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। মহিলা শাড়ির আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে বললেন, “কত বছর পরে দেখলাম তোমাকে! কেমন আছ মা তুমি?” “জি মা, ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন?” “আর কেমন থাকব মা?” উত্তর দিল পুরুষ লোকটি। “যেমন থাকার কথা তেমনই আছি”। “আপনেরা একটু সইরা খাড়ান”। বেরসিক তরকারি বিক্রেতা চেঁচিয়ে উঠল। “আপনেগো লেইগা মানুষ আইতে পারতাছে না আমার দোকানে”। সবাই দোকানের সামনে থেকে একটু ফাঁকা যায়গায় সরে এলাম। আমি অপেক্ষা করছি সুমি আমাকে এই বয়স্ক দম্পতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে বলে। কিন্তু সুমির মধ্যে তেমন কোন লক্ষন দেখছি না। বয়স্ক লোকটি জিজ্ঞেস করল সুমিকে, “কেমন আছ মা তুমি?” “জি বাবা, ভাল আছি”। মহিলা এখনও কাঁদছেন। চোখের পানি যেন বাঁধ মানছে। ধরা গলায় বললেন, “মা গো মা। আমাদের তুমি মাফ করে দিও মা”। “না না, এমন করে বলছেন কেন? আপনাদের কি দোষ?” “সব দোষ আমাদের মা”। মহিলা বললেন, “একটা কুলাঙ্গার পেটে ধরেছিলাম। সবাইকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেল”। সুমি আর কিছু বলছে না। এবার লোকটা বললেন, “বদমাসটা আগে একটু ফোন দিতো, চিঠি পাঠাতো। এখন তাও দেয় না। মাঝে মাঝে টাকা পাঠায়। টাকা আমরা এতিমখানায় দিয়ে দেই। আমাদের এত সুন্দর স্বপ্নটা যে লোভের বশে ভেঙে দিল, তার টাকার কোন দরকার নেই আমাদের”। সুমি ম্লান ভঙ্গিতে একটু হাসলো। সব সময় তার চেহারায় যে হাস্যোজ্জ্বল অভিব্যক্তি দেখা যায়, সেটা এখন অনুপস্থিত। তার স্থলে যায়গা করে নিয়েছে গভীর বিষাদের ছায়া। এতক্ষণে ঐ দম্পতির খেয়াল হলো এই যে এখানে চতুর্থ আরেকজন ব্যক্তি আছে। আমার দিকে তাকিয়ে সুমিকে জিজ্ঞেস করলেন ভদ্রলোক, “মা, ইনি কে?” সুমি ইততস্ত করতে থাকল, “ইনি... মানে ওর... ওর নাম হচ্ছে রিশাদ। ও হচ্ছে আমার... হাজব্যান্ড”। সুমির কথা বলার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে আমি যে তার হাজব্যান্ড – এই পরিচয় দিতে তার খুব লজ্জা হচ্ছে। আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। আর আমার পরিচয় পেয়ে ঐ বয়স্ক দম্পতিও যেন একটু লজ্জা পেয়ে গেছে। সুমি আমার দিকে ফিরে বলল, “আর রিশাদ... এনারা হচ্ছে ... ঐ যে তোমাকে বলেছিলাম না? আরমানের কথা? এনারা আরমানের বাবা-মা”। এবার আমার অপ্রস্তুত অবস্থা চূড়ান্ত রূপ নিল। এতক্ষণে বুঝতে পেরেছি এই আগন্তুক দম্পতি আসলে কারা। আরমান হচ্ছে সুমির সাবেক প্রেমিক। ভার্সিটি পড়াকালীন তাদের প্রেম ছিলো। আরমান আমেরিকার একটা ইউনিভার্সিটি থেকে স্কলারশিপ পেয়ে চলে যায়। তারপর আরে ফিরে আসেনি। এক বিদেশি ললনাকে বিয়ে করে আমেরিকাতেই আছে এখন। দারুণ এক বিব্রতকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত হলাম আমি... ..............সমাপ্ত................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপরাজিত (২৬)(শেষ পর্ব)
→ অপরাজিত (২৫)
→ অপরাজিত (২৪)
→ অপরাজিত (২৩)
→ অপরাজিত (২২)
→ অপরাজিত (২১)
→ অপরাজিত (২০)
→ অপরাজিত (১৯)
→ অপরাজিত (১৮)
→ অপরাজিত (১৭)
→ অপরাজিত (১৬)
→ অপরাজিত (১৫)
→ অপরাজিত (১৪)
→ অপরাজিত (১৩)
→ অপরাজিত (১৩)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now