বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পন্ডিতের-ঘন্টা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পন্ডিতের-ঘন্টা লিখা: এ.এইচ বিজয় হাসান (inventor) . নতুন বাড়িতে প্রবেশ করেছি ৫বছর। কিছুদিন পর খেয়াল করলাম প্রতিদিন রাত ১২টা পার হলেই সেই যায়গা অর্থাৎ আমাদের পাশে কিছু দূরে এক পোড়ো বাড়ি থেকে ঘন্টা বাজে। সবাই সেই ঘন্টা শুনতে পায়না। এই ঘন্টা দিনে বাজে না। একদিন আমি আর দীপু ঠিক করলাম যে এই ঘন্টা বাজার রহস্য উন্মোচন করবো। যেই ভাবা সেই কাজ। . নির্দিষ্ট দিনে সেই পড়ে থাকা পোড়ো বাড়িতে গেলাম। শুধু আমরা দুইজন ছিলাম। গ্রামের সবাই সন্ধ্যা ৬টায় ঘরে ঢুকে পড়ে। রাত ১০টা বাজলেই সবাই ঘুমায়। তাই আমাদের আর কোনো অসুবিধে হয়নি। রাত ১১.৩০এ বের হলাম ঘর থেকে। দীপুও অলরেডি এসে গেছে। , আসতে আসতে সেই পোড়োবাড়ির পাশে চলে এলাম। ঘুটঘুটে অন্ধকার। টর্চ জ্বালিয়ে বাড়ির এক কোনে প্রবেশ করলাম। , হঠাৎ দরজায় কিসের যেনো ঝাটকা আওয়াজ শুনা গেলো। আমি আর দীপু থমকে গিয়ে এক যায়গায় কাচু মাচু করতেছি। কে যেন ভেতরে আসতেছে। , একটু পরেই ঘন্টা বেজে উঠলো। আমরা বাড়ির ভেতর থেকে ঘন্টার আওয়াজ টা শুনতে পাচ্ছি।কিন্তু এটার আওয়াজ এত বেশি ছিলো যে আমরা কান ধরেও পার পাচ্ছিলাম না। অবিরাম ঘন্টাটা বেজেই যাচ্ছে। , হঠাৎ করেই দীপু চিৎকার করে উঠে" বন্ধ করো এই ঘন্টা, বন্ধ করো" দীপুর কথা শুনেই ঘন্টা বন্ধ হয়ে গেলো।কিন্তু তার সাথে সাথে আমার দম বন্ধ হয়ে গেলো। , চোখ বড় বড়, উপরে আর নিচে দুটি করে চারটি দাঁত বের হয়ে আছে। সবচেয়ে ভয়ানক দৃশ্য হলো লোকটার শরীরে ও গালে অসংখ্য কাটা দাগ, দেখেই আমাদের গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেলো। ভয়ে আমরা দুজন কাপছি। , হঠাৎ হুংকার করে বলে উঠলো : এখানে তোদের কাজ কি? -প্রতিদিন এই ঘন্টা বাজে, কিন্তু আমরা জানি এই বাড়িতে কেউ থাকেনা। তাই আমরা এই ঘন্টা বাজার রহস্য জানতে এসেছি।(আমি) -তোমরা আমার কাজে বাধা দিয়েছ।এর জন্য মুল্য দিতে হবে তোমাদের।(লোকটি) -আমরা কি করেছি? আচ্ছা আমরা কি জানতে পারিনা তুমি প্রতিদিন এই ঘন্টা বাজাও কেনো? কি কারনে আমাদের ক্ষতি করতে চাও,আমাদের মেরে ফেলতে চাও?(দীপু) -কান্না শুরু করে দিল লোকটি -বলো এই ঘন্টা বাজানোর কারন কি?(আমি) আমাদের এইবার সাহস আর কৌতুহল বেড়ে গেলো!! -শুনতে চাও সেই কারন?(লোকটি) -হ্যা বলো(দীপূ) -আমি তখন খুবি ছোট ছিলাম। এক পন্ডিতের ভক্ত ছিলেন আমার মা। বাবা জন্মের আগেই মারা গেছেন। একদিন সেই পন্ডিতটি আমার মাকে কুপ্রস্তাব দেয়। তখন থেকেই সেই পন্ডিতের উপর আমার মায়ের বিশ্বাস উঠে যায়। কিন্তু পন্ডিত আর আমার মায়ের পিছু ছাড়েনি। প্রতিদিন আমদের বাসায় আসতো। যখন আমি স্কুলে যেতাম তখন। একদিন দেখি আমার মায়ের ক্ষত বিক্ষত লাশ আমার মায়ের রুমে। আমি ভেবেছিলাম এটা ওই পন্ডিতের কাজ। কিন্তু আমি ছোট থাকার কারনে তার কোনো প্রতিবাদ করতে পারিনি।(ঢুকরে কেদে ঊঠে) -এরপর কি ঘটেছিলো যার জন্য তোমার এই অবস্থা?(আমি) -আমি আস্তে আস্তে বড় হয়ে লাগলাম অস্বাভাবিক পরিবেশে। যখন যেখানে যা পেতাম কুড়িয়ে খেতাম। না পেলে সেইদিন উপোস থাকতাম। এভাবে দিন দিন বড় হতে লাগলাম। একদিন বাড়িতে ফিরে এসে দেখি মায়ের রেখে যাওয়া কিছু জিনিষ। তখনি আমার গায়ে প্রতিশোধগ্রহণের আগুন জ্বলে উঠে। আমি পন্ডিতের কাছে গেলাম। তাকে গলা ধরে টিপে কামড় দিয়ে তার সব দেহ নিস্তেজ করে দিলাম। তার কিছুক্ষণ পর আমার দেহ নিস্তেজ করে দিলো পন্ডিতের ছেলেরা। আমাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করে। তারপর সারা শরীর কেটে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলে। -এরপরে কি ঘটেছিলো?(আমি) -তারপরে তারা আমার শরীরটাকে কেটে কেটে এই জংগলে বিচ্ছিন্ন ভাবে ফেলে দেয়। আমার সৎকার করা হয়নি। তাই আমি এক খারাপ আত্না হয়ে জন্ম নেই। ধীরে ধীরে আমি সেই পন্ডিতের সব বংশ ধংশ করে দেই।আমার প্রতিশোধ শেষ হয়েছে। অতঃপর এই পন্ডিতের বাড়িতে আমি আমার মায়ের জন্য প্রতিদিন রাতে পুজা করি আর ঘন্টা বাজাই।(লোকটি) -কিন্তু তোমাকে তো তোমার আসল যায়গায় যেতে হবে।(দীপু) -আমি নিজে তা করতে পারবোনা। তোমরা পারলে আমাকে সাহায্য করো।(লোকটি) -আচ্ছা বলো কি করতে হবে?(আমি) -এইখান থেকে দূরে একটা শশান আছে। সেখানে গিয়ে কারো শরীর পোড়া ছাই এনে আমার গায়ে দিলেই আমি আমার যায়গায় চলে যাবো।(লোকটি) । রাত বাড়তেই লাগলো। আমি আর দীপু সেই শশানে গিয়ে ছাই আনলাম। আমাদের এখন আর কোনো ভয় করছেনা।শশানে অনেক কিছুই দেখতে পেলাম। কিন্তু ভয় মনে হচ্ছে কিছুক্ষনের জন্য উধাও হয়ে গেছে। . অবশেষে আমি আর দীপু সেই আত্মাটাকে মুক্তি দিলাম।এখন আর সেই পোড়ো বাড়িতে ঘন্টা বাজে না। শুধু রাত একটু গভীর হলেই চিৎকার শুরু হয়ে যায়!! . বিঃদ্রঃ ভুত বলতে কিছু না থাকলেও অদ্ভুত কিছু আপনার চারপাশে আছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পন্ডিতের-ঘন্টা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now