বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিতৃ পরিচয়ঃ- তাপস দাস

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X "বিয়েটা আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধেই হল,আমি তো এখনো অরুনাভকে কিছুতেই ভুলতে পারছি না৷ কীভাবে অন্য আর একজনকে স্বামী হিসেবে মেনে নেব,যাকে ঠিক করে জানি না,এক মুহূর্তে তার হব কীভাবে৷ না,পারবো না ওই অচেনা লোকটির স্ত্রী হতে ৷ তবে আমি এখন থেকে এ বাড়ির বউ,এটা মেনে নিতে হবে,স্ত্রী হতে না পারলেও যোগ্য গৃহবধূর পরিচয় দিতে হবে ৷" কথাগুলি ডায়েরীতে লিখে ঋতু বন্ধ করে আলমারিতে তুলে রাখতে যাবে এমন সময় দরজাটা শব্দ করে খুলে গেল ৷ধবধবে সাদা পাঞ্জাবী পরিহিত লম্বাচওড়া রাশভারী একজন লোক প্রবেশ করলো৷ সৌভিককে একজন আর্মি অফিসার মনে হলেও সে আসলে একজন ব্যাবসায়ী৷ সৌভিককে আসতে দেখে তাড়াহুড়োয় ডায়েরীটা তুলতে গিয়ে হাত থেকে পড়ে গেল,তা সৌভিকের দৃষ্টি এড়ালো না৷ আজ সৌভিক আর ঋতুর বাসররাত হলেও উভয়ের মধ্যে সেই সুলভ কোন আচরণ নেই৷ ছাঁদনাতলার পর দ্বিতীয় বার ঋতু সৌভিককে ভালভাবে দেখলো৷ "আপনি এখনো ঘুমোন নি,অনেক রাত হল ঘুমিয়ে পড়ুন ৷" "আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই৷" "হুম বলুন ৷" "বিয়েটা আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে হয়েছে ৷ আমি একজনকে খুব ভালবাসি আর সবদিনের জন্য ওকেই ভালবাসবো৷ আমার পক্ষে আপনাকে কোনদিন ভালোবাসা সম্ভব নয়৷ আপনি পরিচয়ে আমার স্বামী কিন্তু আমাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর কোনো সম্পর্ক থাকবে না৷ এরপরও যদি জোড় করে আমাকে পেতে চান তবে শুধু আমার শরীর পাবেন ,মন পাবেন না কোনদিনও৷" এক নিঃশ্বাসে ঋতু কথাগুলো বলে গেল ৷ "এইটুকুই ? আচ্ছা ঠিক আছে আপনি যা চাইছেন তাই হবে ৷" শুকনো হাসি দিয়ে সৌভিক জানালো৷ "আর হ্যাঁ, শুধু আমাদের মধ্যেই যেন এইকথাটা থাকে৷ বাড়িতে জানানোর দরকার নেই কারন আমি এই বাড়ির বউ৷ তাই আপনি আমায় তুমি করে বলবেন আর আমিও৷" "ঠিক আছে,এবার আপনি,স্যরি তুমি ঘুমিয়ে পড়৷" ******************************** " এতদিন পরে অরুণাভ দেখা করতে চাইছে,তাও আবার পুরোনো ঝিলের ধারে৷ কী চায় ও,কোন খারাপ মতলব নেই তো৷ না,তা হতে পারে না,আমায় খুব ভালোবাসতো,আমিই সম্পর্কটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি৷ কিন্তু আমার কি দেখা করা উচিৎ ৷ আমি একজনের স্ত্রী,একজন গৃহবধূ৷আমার কী করা উচিৎ এখন৷" মনের মধ্যে ভিড় করে থাকা কথাগুলি আজও ডায়েরীতে লিখে রাখলো ঋতু ৷ শুধু আজ নয়,বহুবছর ধরে সে এমনটাই করে আসছে ৷ ******************************** "তুমি কি কোথাও বেরাচ্ছো?" সৌভিক জানতে চাইলো ঋতুর কাছে ৷ "হ্যাঁ ,একটু বাজারে যাব,অল্প কিছু কেনার আছে ,ঘন্টা খানেকের মধ্যে ফিরে আসবো৷" "তাই বলে এই দুপুর আড়াইটেতে৷ আচ্ছা যাও তবে চারটের মধ্য ফিরে এসো৷ তোমায় নিয়ে একটা পার্টিতে যাব,তৈরি হয়ে থেকো,আমি একটু অফিসের কাজ সেরে আসি৷" এই বলে সৌভিক বেরিয়ে গেল ৷ কিছুক্ষণ পরে ঋতুও বেরিয়ে পড়লো৷ একঘন্টা পর সৌভিক বাড়ি এসে দেখলো এখনো ঋতু বাজার থেকে ফেরেনি৷ অপেক্ষা করতে করতে বারান্দায় পায়চারি করতে লাগলো৷হঠাত্ই তার খেয়াল হল ঋতুর ডায়েরীটার কথা ৷ অনেকবারই দেখেছে ঋতুর হাতে কিন্তু লুকিয়ে পড়ার সুযোগ হয়নি৷ প্রায় আগলে রাখতো ঋতু ডায়েরীটাকে৷ আজ ঋতুর অনুপস্থিতিতে ডায়েরীটা পড়ার লোভ না সামলাতে পেরে খুঁজতে গেল,আর খুব সহজেই আলমারি থেকে পেয়েও গেল ৷ আর দেরি না করে সৌভিক ডায়েরীটা পড়তে শুরু করলো৷ হিজিবিজি অনেক কিছু পড়ার পর ডায়েরীর শেষ পৃষ্ঠাতে চোখ আটকে গেল সৌভিকের৷ " অরুণাভ দেখা করতে চায়? কে এই অরুণাভ? ঋতুর প্রেমিক নয়তো ? কেনোই বা দেখা করবে ? তবে কি ঋতু ওই পুরোনো ঝিলের পাড়ে দেখা করতে গেছে ?" এইরকম হাজার প্রশ্ন সৌভিকের মন তোলপাড় করতে লাগলো৷ এদিকে প্রায় সন্ধ্যে চললো,তবুও ঋতু ফিরছে না দেখে সৌভিক গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো ওই পুরোনো ঝিলের উদ্দেশ্যে৷ মিনিট তিরিশের মধ্যেই ঝিলের ধারে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করলো৷ এদিকে সচরাচর কেউ আসে না,তাই ঘাটে যাওয়ার রাস্তাটাও আগাছায় ঢেকে আছে ,তার ওপর দিয়েই হাঁটতে হাঁটতে ঘাটের দিকে সৌভিক এগিয়ে চললো৷ এদিকে সূর্য ডুবে গেছে ,তবে আঁধার নামেনি৷ ঘাটের কাছে পৌঁছে সৌভিক এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল৷ সে যেন আর হাঁটতে পারছে না,তার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল রক্তস্রোত নামতে লাগলো ৷ দশ হাত দূরেই ঘাটের সিঁড়ির ওপর পড়ে রয়েছে ঋতুর অর্ধনগ্ন অচৈতন্য শরীর ৷ নীলরঙা শাড়ী আর ব্লাউজটা জটলা পাকিয়ে কিছু দূরে পড়ে আছে ৷ ঋতুর পরনে শুধু সায়া,এমনকি ব্রা টাও অর্ধেক খোলা ৷ প্রায় একলাফে পৌঁছে ঋতুকে টেনে তুললো সৌভিক ৷ শাড়ীটা ঠিকঠাক পরিয়ে ঋতুকে গাড়িতে তুলে সোজা হাসপাতালে গেল ৷ ******************************** আজও ঋতু হাসপাতালে,মাঝখানে কেটেছে কয়েকটা মাস৷ আজ দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করার পর ঋতু একটা ফুটফুটে ছেলের জন্ম দিয়েছে ৷ সবার মনে আনন্দ,সৌভিকের যেন একটু বেশী ৷ আজ সে বাবা হয়েছে ,তাঁর খুশির সীমা নেই৷ কিন্তু ঋতুর মনে আনন্দতো দূরের কথা একবিন্দু শান্তি নেই৷ একটা পাপবোধ সর্বদাই তাকে ভেতরে ভেতরে কুরে খাচ্ছে ৷ বাইরের পড়ন্ত বিকেলের দিকে তাকিয়ে তার মনে পড়ে যায় সেই বিকেলটার কথা যেদিন সে ঝিলের পাড়ে সৌভিক কে না জানিয়ে অরুণাভর সাথে দেখা করতে গিয়েছিল আর সেই অরুণাভ যাকে সে একদিন প্রানের চেয়ে বেশী ভালোবাসতো সেই কেমন করে শুধু তার শরীর পাওয়ার জন্য তাকে ডেকেছিল ৷ আর রাজি না হওয়ার তাকে বেহুঁশ করে তার শরীর ছিঁড়ে খেয়েছে ওই জানোয়ার টা৷ আর তার পাপের ফল দশ মাস দশদিন গর্ভে ধারণ করেছে৷ ঋতু চেয়েছিল গর্ভপাত করাতে কিন্তু সৌভিক তা হতে দেয়নি৷ প্রথম মা হওয়া থেকে ঋতুকে বঞ্চিত করেনি৷ ঋতু যাকে কোনোদিন ভালোবাসতে পারেনি সেই সৌভিক নিজের পরিচয়ে অপরের সন্তানকে নিজের বলে স্বীকার করেছে কোনো দ্বিধা না করেই৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পিতৃ পরিচয়ঃ- তাপস দাস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now