বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিশাচ শিশু-(২)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shayer Ahmed (০ পয়েন্ট)

X পা চালিয়ে হাঁটছি, হটাৎ দেখলাম সামনের বাঁশঝারটিতে দাউ দাউ করে আগুন জলছে। আগুনের শিখা আকাশ ছুঁই ছুঁই। এরপর যা দেখলাম, তা দেখে আমার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যাওয়ার জোগার। শুন্যে আগুনের মাঝে একটা শিশু পুড়ছে। বাচ্চাটির মুখে ক্রুর হাসি, দাঁতগুলো সুচালো। চোখের জায়গায় কালো গর্ত। আমি এত ভয় পেয়েছিলাম যে, চোখ বন্ধ করতে বা নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। কোথা থেকে একদল কুকুর এসে জড় হয়ে করুন স্বরে কাঁদতে শুরু করল। আমি বুঝতে পারচ্ছি, আজকেই আমার শেষ দিন। ভয় পেলে আমি আম্মার নাম নেই, তাই নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এল আম্মু। বাচ্চাটি তার একটা হাত আমার দিকে নিশানা করল। মনে হল যেন, আমার সারা শরীরে আগুন ধরে গেছে। হটাৎ আমার ডান পাশ থেকে শুনলাম একটি নারী কন্ঠ, “সাহেব চোখ ফিরিয়ে নিন, চোখ ফিরিয়ে নিন”। কন্ঠ লক্ষ্য করে আমি ফিরলাম। দেখলাম সেই ভিখারী মহিলাটি। কিন্তু একই সেই। বয়স তার এক লাফে কমে গেছে, আঠার-উনিশ বয়স। গায়েও দামী পোশাক। আমি আবার সুগন্ধ পেতে শুরু করলাম। মেয়েটি রাগত স্বরে বাচ্চাটিকে বলছে, “তুই মায়ের কথা শুনবি না, মাকে কষ্ট দিবি?” না তাকিয়েও বুঝতে পারলাম, আগুন নিভে যাচ্ছে। আর ভোজভাজির মত কুকুরগুলোও সব উধাও হয়ে গেছে। এবার মহিলা বললেন, “সাহেব আপনি আমার পিছে পিছে আসেন, যতক্ষণ আমি আছি ও আপনাকে কিছু বলবে না। আমি তো ওর মা।” আমি মহিলার পিছে পিছে আসতে লাগলাম, একসময় আমাদের মেসের আলো দূর থেকে দেখতে পেলাম। মহিলা আঙ্গুল বাড়িয়ে সে দিকে এগিয়ে যেতে নির্দেশ করল। আমি কিছু দূর গিয়ে ভাবলাম, মহিলাকে তো ধন্যবাদ দেওয়া হল না। ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য পিছে ফিরতেই দেখি কেউ নেই। পা চালিয়ে তাড়াতাড়ি মেসে ফিরলাম। মেসের কয়েকজন স্টাফকে ঘটনটা বলতে তাঁরা আমার দিকে এমন ভাবেতাকাল যে আমি বুঝতে পারলাম তারা ধরে নিয়েছে আমি শহর থেকে টেনে এসেছি। আমাদের মেসের নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ কাজের যন্ত্রপাতি পাহাড়া দেওয়ার জন্য এক চাচামিয়া ছিল। সমস্ত কাহিনী শোনার পর নিজের আঞ্চলিক ভাষায় যা বললেন, তার সারমর্ম এই, তার ছোটবেলার কথা। গ্রামে এক অনাথ তরুণী ছিল, অসম্ভব সুন্দরী। সচরাচর সুন্দরি অসহায় মেয়েদের বেলায় যা হয়, এর বেলাতেও তাই হল। গ্রামের সবচেয়ে ধনী পরিবারের বড় ছেলের নজর পরল তার উপর। গোপনে বিয়ে করে ঐ ছেলে তার কামনা পূর্ণ করার পর, তার কথা ভুলে যায়। ইতিমধ্যে তাদের ভালবাসার ফসল হিসেবে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পরে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পিশাচ শিশু-(২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now