বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিশাচ কল . ৪র্থ পর্ব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Azadul Islam (Tutul) (০ পয়েন্ট)

X পিশাচ কল . ৪র্থ পর্ব . আমি আমার বাবা আর মায়ের কথা শুনে আৎকে উঠলাম। এরা এসব কী বলছে?! এরা মেয়েটা সম্পর্কে কিভাবে জানলো? মেয়েটা কি তাহলে . . . . . . . আবার আমার বাবা আর মায়ের সাথেও দেখা করেছে নাকি?! . এই ভেবেই আমি আরো বেশি ভয় পেয়ে যাই। এরপর আমি ভয়ে ভয়ে আমার মাকে প্রশ্ন করি: -কী বলছো তোমরা? এসব তোমরা জানলে কিভাবে? . এরপর মা যাহ বললো আমি পুরো ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। মা বলল: -কী বললাম মানে? তোকে খাবার টেবিলে গিয়ে খাবার খাওয়ার কথা বললাম। আর তুই পাগলের মতো এইভাবে লাফিয়ে উঠলি কেনো? কোন স্বপ্ন দেখছিলি নাকি? . এরপর বাবা বললো: . -কিরে? এইভাবে চিৎকার করলি কেনো? . আমি কিছূই বুঝলাম না। তারাতো আমার সাথে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছিলো। তাহলে নিশ্চই আমিই ভুল শুনেছি যে তারা আমাকে মেয়েটা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে। ভাবলাম হয়তো সারারাত মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তা করার কারণে সকাল বেলা বাবা-মায়ের স্বাভাবিক কথাটাই অস্বাভাবিক লেগেছে। . এরপর আমি বাবা-মাকে বললাম যে আমি তাদের সাথে মজা করছিলাম এবং এরপর পরিবেশটাকে তাদের সামনে স্বাভাবিক করে ফেলি। . আমি নিজেও ঘটনাটা স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলাম। ভাবলাম হয়তো আমার শুনায় ভুল ছিলো। . এরপর নাস্তা করে বাড়ির বাহিরে বের হলাম একটু হাঁটাহাঁটি করার জন্য। পথেই দেখা হয় বাল্য বন্ধু তামীমের সাথে। তামীম বললো: -চল দোস্ত। আজ এলাকাটা একটু ঘুরে আসি। অনেকদিন একসাথে ঘুরা হয়না। . এরপর আমরা একসাথে হাঁটতে থাকি। হঠাৎ সেই কবরস্হানের পাশের রাস্তায় এসে দাড়ালাম আমরা। কবর স্হানে বেশ ভীর দেখতে পেলাম আমি। তাই বন্ধু তামীমের কাছে জানতে চাইলাম: -কিরে ? এতো মানুষ কেনো কবরস্হানে? কেউ মারা গেছে নাকি? -হ্যাঁ। কেন তুই জানিস না? -নাহ। কে মারা গেছে? -গতকাল রাতেই একটা মেয়ে আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছে। মেয়েটার বাবা-মা আমাদের পাশের ফ্লাটেই থাকতো। মেয়েটা তাদের সাথে এখানে থাকতো না। ঢাকায় থেকে লেখাপড়া করতো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই থাকতো। হঠাৎ পরিবারের লোকদের সাথে তার অনেক ঝগড়া হয়। এরপর সে ঢাকাতেই তার রুমে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। আজ সকালে লাশটা এখানে আনা হয়েছে আর এখন দাফন দেওয়া হচ্ছে। -ওহ! আচ্ছা । আমি কী মেয়েটাকে চিন্তাম? -মনে হয় না। কারণ মেয়েটা খুব একটা এখানে থাকতো না। কয়েক মাস পরে পরে ১ দিন আসতো আর সেই দিনেই চলে যেতো। আচ্ছা দাড়া মেয়েটার ছবি আমার মোবাইলে আছে। তোকে দেখাচ্ছি । -থাক! মৃত মানুষের ছবি দেখলে রাতে ঘুম হবে না। -ভীতুর ডিম একটা। আমি কী তোরে লাশের ছবি দেখাবো!!আমার সাথে মেয়েটার এফ.বি তে এড ছিলো। সেখান থেকে ছবি নামাইছি। -আচ্ছা দে। . এরপর তামীম মোবাইলটা বের করে আমাকে, যে মেয়েটা মারা গেছে তার ছবি দেখালো। . আমি মেয়েটার ছবি দেখে আৎকে উঠলাম। ভয়ে আমার পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলো। . আরে! এইটাতো সেই মেয়েটার ছবি যাকে আমি গত রাতে স্বপ্নে দেখেছিলাম কবরে। আমি গতরাত স্বপ্নে, নতুন কবর খুঁড়ে কাফনের কাপড় সড়িয়ে যে অচেনা একটা মেয়ের চেহারা দেখেছিলাম সেই মেয়েটা আর এই মেয়েটার ছবি একই। তার মানে এই মেয়েটার লাশই গতরাতে স্বপ্নে আমি দেখছিলাম!! . কিন্তু আমি গতরাতে স্বপ্নে হঠাৎ এই মেয়েটাকে কেনো দেখেছিলাম বুঝতে পারছিলাম না। তামীম আমার আৎকে উঠা দেখে অবাক হয়ে প্রশ্ন করে: -কিরে, মাসুদ? কী হয়েছে!? -কিছু না। চল এখান থেকে অন্য কোথাও যাই। . আমি তামীমকে কিছুই বলিনি। কারণ সে কথাগুলো বিশ্বাস করবে না এবং ব্যাপারটা নিয়ে আমার সাথে মজা করবে। . এরপর আমি আর তামীম একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম। আমি চা খাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম এইগুলো আমার সাথে কী হচ্ছে?! একটা মৃত মেয়ে কল দিয়ে আমার সাথে কথা বলে! আবার আরেকজন মেয়ে যে রাতে মারা গেলো সেই রাতেই কেনো তাকে স্বপ্নে দেখলাম?! . আমি এইগুলা চিন্তা করছিলাম হঠাৎ একটা ভিক্ষুক আসলো আমার সামনে। ভিক্ষুকটা আমার দিকে ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে অদ্ভুত ভাবে হাসতে হাসতে বললো: -কিরে কী ভাবছিস এতো? মেয়েটাকে তোর অবশ্যই সাহায্য করা উচিত ছিলো। তোর এখনো সময় আছে মেয়েটাকে সাহায্য কর। না হলে পরে বিপদে পড়ে যাবি। . আমি ভিক্ষুকটার কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। ভিক্ষুকটা কী করে জানলো আমি কী ভাবছি?! আমি অনেকটা রেগেই ভিক্ষুককে প্রশ্ন করি: -কে আপনি? আর এসব কথা আমায় কেনো বলছেন? আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন??! . এরপর তামীম আমাকে বললো: -কিরে পাগল হলি নাকি? ভিক্ষুকটার সাথে এমন ব্যবহার করছিস কেনো? (তামীম) -পাগল হবো মানে! তুই শুনলি না ভিক্ষুকটা আমাকে কী বললো? -কী বললো মানে? লোকটা তোকে বললো যে লোকটার মেয়ে অসুস্হ্য আর লোকটা ৩ দিন ধরে কিছু খায়নি। তাই সাহায্য চাইলো। আর তুই এতো রেগে গেলি কেনো? . . আমি তামীমের কথা শুনে বেশ অবাক হয়ে যাই। কী বলছে তামীম! আমিতো ভিক্ষুকটার মুখে অন্য কোন কথা শুনেছিলাম। দেখলাম আশেপাশের লোকগুলোও আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এরপর নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেই ভিক্ষুকটার কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করলাম। . এরপর তামীম আমাকে বললো: -তোর কী হয়েছে বলতো? আজ এতো অস্বাভাবিক ব্যবহার করছিস কেনো? -কিছু না রে । আজ ভালো লাগছে না। তুই থাক আমি বাড়িতে গেলাম। . এরপরে তামীমকে সেখানে রেখে একা একা বাড়ির পথে রওনা দেই। আর ভাবতে থাকি আমি কি পাগল হয়ে গেলাম! মানুষ আমার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে আর আমি অদ্ভুত কথা শুনি। তাহলে কি সেই মেয়েটাকে সাহায্য না করার কারণে মেয়েটার অভিশপ্ত আত্মা আমায় পাগল করে দিচ্ছে!? . কিন্তু আমি এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এরপর বাড়িতে এসে পৌছালাম। জানতাম ভেতরে মা আর বাবা রয়েছে। তাই কলিং বেল বাজালাম। তবে ভেতর থেকে কেউ দরজা খুললো না। এরপর কয়েকবার কলিং বেল বাজালাম কিন্তু ভেতরে কারো সাড়া শব্দ পেলাম না। কিছুটা অবাক হলাম আমাকে না বলেতো তারা কোথাও যায় না! আর দিনের বেলা তাদের ঘুমানোরও অভ্যাস নেই। তাই মনে কিছুটা ভয় ও জেগে উঠলো। . আমি ভয়ে ভয়ে মোবাইলটা বের করে বাবা আর মাকে কয়েকবার কল দিলাম। তবে তারা কেউই আমার কলটা ধরলো না। আমার ভয়টা আরো বেড়ে গেলো। এরপর আমি দরজায় যেই হালকা করে ধাক্কা দিলাম দেখলাম দরজাটা ভেতর থেকে খোলাই ছিলো। এরপর আস্তে আস্তে ঘরে ঢুকে দেখলাম পুরো ঘর অন্ধকার করা রয়েছে। আমি ভয়ে ভয়ে লাইট টা চালু করলাম। চালু করে যাহ দেখলাম আমি ভয়ে জোড়ে চিৎকার দিয়ে উঠলাম। . আমার বাবা-মা দুজনেই মেঝেতে পড়েছিলো। আমি মা-বাবা বলে চিৎকার করতে করতে তাদের কাছে গেলাম। এরপর দেখলাম দুজনেই অজ্ঞান হয়ে পরে রয়েছে। আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম নাহ। তাদের চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে দিতে লাগলাম। কিন্তু তাদের জ্ঞান ফিরলো না।এরপর কাকাকে কল দিয়ে বললাম যে বাবা মা অজ্ঞান হয়ে বাড়িতে পরে রয়েছে আর বাড়িতে আমি এখন একা । তাই দ্রুত তাকে আসতে বললাম। আমার কাকার বাড়ি আমাদের পাশের এলাকাতেই। . একটু পর কাকা আসলো। কাকা ও বাবা আর মাকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখে অনেক অবাক হয়। এরপর বাবা-মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। . হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার যাহ বললো তা শুনে আমি আর কাকা দুজনেই আকাশ থেকে পরলাম। ডাক্তার আমাকে বললো:- -দুঃখিত । আপনার বাবা-মা দুজনেই প্যারালাইসড হয়ে গেছে। . এরপর আমি আর কাকা দুজনেই অবাক হয়ে ডাক্তারকে বললাম যে:- -তারাতো আজকে সকালেও সুস্থ্য ছিলো। আর তাদের কোন অসুখও ছিলো না। আর তাদের বয়সো এতোটা বেশি হয়নি। তাহলে তারা প্যারালাইসড হলো কিভাবে? . ডাক্তার বললো: -সেটা আমিও দেখেছি কিন্তু কারণটা বুঝতে পারছি না। যতটুকু মনে হলো কোন কিছু দেখে প্রচুর ভয় পেয়েছ তারা। তাই প্যারালাইসড হয়েছে। আপনারা অপেক্ষা করুন। প্যারালাইসড থেকে কেউ এক সপ্তাহে মুক্তি পায়। কেউ এক মাসে আবার কেউ এক বছরেও পায় না। আমরা চেষ্টা করবো বাকিটা আল্লাহর কাছে। . এরপরেই ডাক্তার চলে গেলো। আর আমি বাবা মায়ের জন্য কাঁদতে থাকি। কাকা আমাকে শান্তনা দেয় যাতে আমি ভেঙে না পড়ি। . এরপর আমার মনে হতে থাকে বাবা-মা কী দেখে এতোটা ভয় পেতে পারে! হঠাৎ আমার মাথায় সেই কল দেওয়া অভিশপ্ত মেয়েটার কথা মনে পড়লো। মেয়েটা জাওয়ার আগে আমাকে বলেছিলো যে আমার পরিবারকে সে শেষ করে দিবে। তাহলে কি সেই মেয়েটার আত্মাই এই কাজ গুলো করেছে?! এর উত্তর পেতে হলে আমাকে আগে বাড়িতে যেতে হবে। কারণ হয়তো মেয়েটার আত্মা সেখানেই রয়েছে। . এরপর কাকাকে বলে আমি বাড়ির চাবি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লাম। কাকা কিছুটা অবাক হলো যে আমি বাবা-মাকে এই অবস্হায় রেখে বাড়িতে যেতে চাইছি। কিন্তু আমার আর কিছুই করার নেই । আমাকে বাড়িতে যেতেই হবে। আর সব কথা কাকাকে বলেও যাবে না। . বাড়িতে পৌছে সব কিছু স্বাভাবিক মনে হচ্ছিলো। আমি ঘরে ঢুকলাম। হাতে মোবাইলটা নিয়ে সেই মৃত মেয়ের কথা ভাবছিলাম। কিন্তু আসলেই কি মেয়েটার আত্মা এসব করছে নাকি কাকতলীয় ভাবে এসব ঘটছে তাও নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। তবে আমার মনে হচ্ছিলো সেই মেয়েটার আত্মাই আমার বাবা আর মাকে প্যারালাইসড করেছে। তাই বুঝলাম যে মেয়েটা যাহ বলেছে তাই আমাকে করতে হবে। না হলে মেয়েটা আরো খারাপ কিছু করতে পারে। . তবে মেয়েটার আত্মার সাথে কিভাবে যোগাযোগ করবো সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। কারণ মেয়েটা যে অদ্ভুত নাম্বার থেকে আমায় কল করেছিলো বাস্তবে এর কোন অস্তিত্বই নেই। . এর পর আমাকে অবাক করে দিয়ে হঠাৎ আবার সেই ২৬০৯৯৯ নাম্বার থেকে কল আসলো। আমিতো এর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আমি কিছুটা ভয় পেলেও দ্রুত কলটা ধরলাম। ঐ পাশ থেকে মেয়েটার কন্ঠে শুনলাম: -কেমন আছেন মাসুদ? গতরাতের স্বপ্নটা কেমন ছিলো আপনার? সকালে আপনার বাবা আর মায়ের অদ্ভুত আচরণ কেমন লেগেছিলো ? রাস্তায় সেই ভিক্ষুকের কথাগুলো কেমন লেগেছে? আর বাবা-মা কে প্যারালাইসড অবস্হায় হাসপাতালে রেখে আসতেই বা কেমন লেগেছে? অনেক ভালো তাই না??! -তার মানে এসব কিছু আপনিই করেছেন? আমার বাবা-মা আপনার কী ক্ষতি করেছিলো? তাদের সাথে এমন করলেন কেনো??! -আপনাকেতো আগেই বলেছি। শেষ বারের মতো একটা উপকার করতে। না হলে আপনার পরিবারকে কবরস্হানে পাঠানোর দায়িত্ব আমার। -কিন্তু কবর খুঁড়ে লাশ আনা আমার পক্ষে সম্ভব না। -তাহলে আপনার বাবা-মাকেও ভুলে যান। তাদেরকে প্যারালাইসড করেছি আমি। আমি চাইলেই তাদের অভিশপ্ত প্যারালাইসড জীবন থেকে মুক্তি দিতে পারি। কিন্তু আমি যদি এখন তাদের মেরে ফেলি তাহলে তাদের ফিরিয়ে আনার উপায় আমারো জানা নেই। তখন কেঁদেও লাভ হবে না। -নাহ! প্লিজ। আপনি এমনটা করবেন না। আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো। তবে তাদের কোনো ক্ষতি করবেন না। -তাহলে যান। আজ আমাবস্যা রাত। আজকের মধ্যেই আমার একটা তাজা মেয়ের লাশ লাগবে। তবে লাশটা যেনো অক্ষত অবস্হায় থাকে। আপনি এখন কোদাল নিয়ে কবর স্হানে যাবেন এবং আজকে সকালে যে মেয়েটাকে কবর দেওয়া হয়েছে তার কবর খুরে লাশটা নিয়ে এসে আপনার বাড়ির ছাদের উপর রেখে চলে আসবেন। বাকি কাজটা আমার। কথা দিচ্ছি এরপর আপনি মুক্ত। আপনার বাবা-মাও মুক্ত। -কিন্তু কেউ যদি আমায় দেখে ফেলে কবর খুঁড়তে বা লাশটা নিয়ে আসতে। -কেউ দেখবে না। এর জন্যইতো আপনার বাবা-মা কে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। আর এখন রাত প্রায় ১ টা তার উপর আবার আমাবস্যা রাত। তাই বাহিরে মানুষের থাকার কথা না। আপনি দ্রুত বেড়িয়ে পড়ুন। আমি আপনার বাড়ির ছাদে অপেক্ষা করছি। . এই বলেই কলটা কেটে দিলো মেয়েটা। আমি বুঝলাম যে আমার আর কোন উপায় নেই। আমার বাবা মাকে বাঁচাতে হলে এই অভিশপ্ত আত্মার কথা শুনতেই হবে। কিন্তু কবর থেকে লাশ তুলে আনার মতো ভয়ংকর আর জঘন্য কাজ যে আমাকে করতে হবে তা কখনো কল্পনাও করিনি। কোদাল নিয়ে কবরস্হানের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরলাম। ভয়ে আমার হাত-পা ঠান্ডা হতে লাগলো। . আমাবস্যা রাত তাই চারিদিকে অন্ধকার। আর কোন মানুষও দেখা যাচ্ছে না। . আমি তাই সাহস করে নতুন কবরটার কাছে গেলাম এরপর কবরটা খুঁড়তে লাগলাম। তবে মনে যে কতোটা ভয় কাজ করছিলো তা শুধু আমিই জানি। . কবর খুরার পর আমি লাশের উপরের বাঁশ আর পাটি সড়ালাম। এরপর কাফন পরা লাশটা আমার সামনে ছিলো। অনেক ভয়ে ভয়ে লাশটার চেহারা দেখার জন্য লাশের মুখের কাপড়টা সড়াচ্ছিলাম আর মনে পড়ছিলো গত রাতের স্বপ্নের কথা। যদি ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে!! লাশটার মুখের কাপড়টা সড়িয়ে দেখলাম ঠিক সেই রকম লাশটাই যেটা আমি গতকাল রাতে স্বপ্নে দেখেছিলাম। তবে বাস্তবে মেয়েটার লাশ আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিলো না। মৃত লাশের মতোই পড়েছিলো। তাই ভয়ের মাঝেও কিছুটা স্বস্তি পেলাম। কিন্তু মধ্যরাতে একা একটা লাশের সাথে কবরের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি ভেবেই গাঁ টা শিহরে উঠলো। . আমাকে দ্রুত বাড়িতে ফিরতে হবে ।তাই আমি কিছুটা সাহস নিয়ে কাফনের কাপড় সহ লাশটাকে কাঁধে তুললাম বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। হঠাৎ ঠিক তখনি একটা লাইটের আলো এসে আমার মুখের উপর পরলো। আর দুর থেকে একজন লোক আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছিলো: -কে এখানে? কে আপনি? এতো রাতে কী করছেন কবরস্হানে? আপনি কবরের ভেতরে কেনো??! . . . . . . . চলবে . . . . . . . লেখা: Masud Rana vai . . . 5th part আগামীকাল দিবো!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পিশাচ কল . ৪র্থ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now