বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিশাচ দম্পতি পর্ব – ২

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পিশাচ দম্পতি পর্ব – ২ (দুই) অনিক ঃ না । বাসার ছাদে ওর ক্ষত বিক্ষত লাশ পরে ছিল । আমাকে কথা ফোন দিয়ে রাতে জানায় , তারপর আমি ওদের বাসায় গিয়ে শিওর হই । সোহার্থ দৌড় দেয় , অনিক ও পিছু পিছু । সাবরিন দের বাসায় এসে ওর লাশ দেখে কান্না ভেংগে পরে সোহার্থ । টেনে হিচরে রক্ত মাংশ খেয়েছে জানোয়ারটা । জানাজা দাফন শেষ করে সোহার্থ রুমে ফিরে । বার বার কান্না করছে সে , সারাদিন না খেয়ে আছে । সন্ধ্যার পর কথা আসে । অনেক রিকোয়েষ্ট করে কিছু খাবার খাওয়ায় সোহার্থকে । কথা সোহার্থকে মনে মনে ভালোবাসে , যদিও সোহার্থ সেটা জানে না । রাত হলে চলে যায় কথা । তারপর বারান্দায় বসে সারারাত সিগারেট খায় সোহার্থ । সকাল সকাল চলে আসে অনিক সোহার্থের কাছে সাথে আসে আরাত্রিকা । অনিক ঃ দোস্ত নাস্তা করেছিস ? সোহার্থ ঃ না । ফ্রিজে ব্রেড এর পুডিং রাখা আছে খেয়ে নে । অনিক ঃ দোস্ত ও আরাত্রিকা । সোহার্থ ঃ নাইস টু মিট ইউ আরাত্রিকা। আরাত্রিকা ঃ আমি সব জানি , গতকাল আপনার .........।। সোহার্থ ঃ জি । আচ্ছা বসুন । অনিক উনাকে নাস্তা দে । বলে সোহার্থ বারান্দায় চলে যায় , সিগারেট ধরিয়ে টানোট থাকে ।অনিক আর আরাত্রিকা চলে যায় । তার কিছুখন পরেই কথা আসে । গত রাতের মতই অনেক চেষ্টার পর সোহার্থকে নাস্তা করায় । তারপর কথা চলে যায় । দুপুর ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পরে । সেই ঘুম ভাংগে বিকেলে । ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে রবিন্দ্র সরবরে আসে সোহার্থ । জায়গাটা তার অনেক পছন্দের । সাবরিনের ও তাই ছিল । এক কোনায় বসে সিগারেট খাচ্ছে সোহার্থ । হটাৎ পিছন থেকে আরাত্রিকা ঃ কেমন আছেন আপনি ? সোহার্থ পিছনে তাকিয়ে সোহার্থ ঃ জি ভাল । আপনি এখানে ? আরাত্রিকা ঃ এইতো এক বন্ধুর সাথে আসছিলাম । তারপর ও ওর বিএফের সাথে সামনে গেলো আর আমি একা একা হাটছিলাম । সোহার্থ ঃ ওহ । আপনার বিএফকে নিয়ে আসতেন । আরাত্রিকা ঃ আমার বিএফ নাই । আচ্ছা আমি কি আপনার পাশে বসতে পারি ? সোহার্থ ঃ বসেন । আরাত্রিকা ঃ আপনার মন খুব খারাপ তাই না ? সোহার্থ ঃ হুম ঃ আরাত্রিকা ঃ আচ্ছা এমন যদি হয় যে ওই পিশাচ আপনাকে আর আমাকেউ সাবরিনের মত মেরে ফেলে , দুনিয়ার সব মানুষকেই মেরে ফেলে । এমনটা কি হতে পারে ? সোহার্থ ঃ কখনই না । তার আগেই আমি ওদের খুন করে ফেলবো । আরাত্রিকা ঃ হাহাহাহা তাই । আপনি পারবেন ওদের সাথে । এভাবেই কিছুখন কথা বলে ওরা তারপর চলে যায় একসময় । রাতে রুমে ফিরে দেখে কথা এসে বসে আছে । কথা ঃ দুপুরে খেয়েছিলে ? সোহার্থ ঃ নাহ । কথা ঃ কেনো খাওনি ? সোহার্থ ঃ ভালো লাগছিল না । কথা ঃ আচ্ছা আমি খাবার নিয়ে এসেছি । খেয়ে নাও । সোহার্থ ঃ এখন খাবো না , খেতে ইচ্ছে করছে না । কথা ঃ আমি খাইয়ে দেই ? সোহার্থ ঃ না থাক । কথা ঃ না তোমাকে আমি এখন খায়িয়ে দিব আর তোমাকে খেতে হবে । কথা সোহার্থকে খায়িয়ে দেয় । তারপর চলে যায় । যাওয়ার আগে ১টা চকলেট বক্স দিয় যায় আর বলে চকলেট গুলো খেয়ে নিতে । রাত অনেক হয়েছে । বারান্দায় বসে আছে সোহার্থ । নির্জন চারিপাশ । মাঝে মাঝে দু একটি গাড়ি আর হটাৎ হটাৎ মানুষ যাচ্ছে । কিছুখন পর সোহার্থের মনে হয় কেউ একজন চিৎকার করছে । কে করছে চিৎকার দারিয়ে সেটা খোজার চেষ্টা । বাসা থেকে নিচে নামে সোহার্থ । রাস্তায় গিয়ে দেখে ৩জন পুলিশ কি জেন কথা বলছে আর খুব চিন্তিত । সোহার্থ ঃ ভাই একটু আগে এখানে চিৎকারের শব্দ পেলাম । কি হয়েছে ? একজন পুলিশ ঃ ভাই পত্রিকায় তো নিশ্চয় পরেছে যে কয়েকদিন যাবত নগরী তে লাশ পাওয়া যাচ্ছে । সোহার্থ ঃ হ্যা । পুলিশ ঃ আসলে এক আজব দানব এসেছে শহরে । ওরা মানুষ খাচ্ছে । আমারা নিজের চোখে দেখছি । ঐ দেখেন সোহার্থ তাকিয়ে দেখে ২জন মানুশ আকৃতির জানোয়ার যাদের চোখ আর মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে , হাতের নখ বড় , এলো মেলো চুল একজন মানুশের গলায় কামর দিয়ে রক্ত খাচ্ছে । সোহার্থ ঃ আরে লোকটা দাপাচ্ছে , বেচে আছে এখনো । চলেন লোকটাকে বাচাই । পুলিশ ঃ আরে না । আমাদের পরে আক্রমন করবে । সোহার্থ ঃ কিচ্ছু হবে না । আপনারা আমার সাথে আসুন তো । তারপর সোহার্থ হাতের সিগারেট জালিয়ে চিৎকরে ওইদিকে ছুটে যায় । পিশাচ ২টো সোহার্থের দিকে তাকিয়ে থাকে , পুলিশ ৩টাও শিপনের পিছনে ছুটে আসে । পিশাচ ২টো আস্তে আস্তে হেটে গিয়ে অন্ধকারে মিশে যায় । সোহার্থ লোকটিকে নিয়ে হসপিটালে ভর্তি করে । অবস্থা আসংকা জনক । পিশাচ ২টো কোথায় আছে জানতে ইচ্ছে করে না আপনাদের ? কি বা করে তারা ? আচ্ছা আমিই বলছি । ট্যানারীপট্টির একটা ডোবার পাশে থাকে রাতে । দিনে মিশে যায় মানুষের সাথে সাধারন মানুষের সাথে । তবে রাত হলে সেই ছদ্দরুপ আর ধরে রাখতে পারে না । ফুটে উঠে পিশাচের রুপ । নাতাশা আর নেহাল পিশাচ দম্পতি । পৃথিবীতে তাদেরকে পাঠানো হয়েছে তাদের রাজ্য থেকে । রাজ্যের নাম কলংকপুর । সেখানকার রাজার পুত্র নেহাল , আর নাতাশা নেহালে স্ত্রী । নেহাল ঃ আজ আর পেট পুরে খেতে পেলাম না । নাতাশা ঃ হ্যা । লোকটা এসে সব নষ্ট করে দিল । নেহাল ঃ একটু পরেই ভোড় হবে । ধুর আজ সারাদিন খিদে পেটে থাকতে হবে । ব্যাটার খোজ খবর নিতে হবে আজ । ঘাড় মটকে খাবো বদের হাড্ডীটার । নাতাশা ঃ পরের টা পরে দেখা যাবে । এখন বলো কিভাবে আমরা এই দেশটাকে আমাদের আস্তানা বানাতে পারবো ? নেহাল ঃ বাবার সাথে দেখা করতে হবে । আচ্ছা শুনো , আমি কাল কলংকপুরে যাই । রাত হওয়ার আগেই চলে আসবো । নাতাশা ঃ আচ্ছা ঠিক আছে । রাতে আর ঘুম হয়নি সোহার্থের । সারারাত ভেবেছে পিশাচ রা কত কষ্ট দিয়েই না মেরেছে সাবরিন কে । এই ব্যাটাদের একটা ব্যাবস্থা তাকেই করতে হবে , এই সপথ নেই সে । অনিক কে ফোন দিয়ে আসতে বলে । অনিক আসে , সাথে আসে আরাত্রিকা । অনিক ঃ দোস্ত কি রে এতো জরুরী তলব ? সোহার্থ ঃ তুই আজ পত্রিকা পরিস নি ? অনিক ঃ না আজ এখনো পরা হয় নাই । সোহার্থ ঃ এই প্রযন্ত ১০৭ জনের জীবন গেছে এই পিচাশের থাবায় । আমাদের কিছু ১টা করতে হবে । অনিক ঃ কি করবো আমরা ? আরাত্রিকা ঃ কি বলো এই সব । প্লিজ তোমরা এই সবে যাবে না । তোমরা তো পারবে না ওদের সাথে । সোহার্থ ঃ অবশ্যই পারবো , চেষ্টা করলে বৃথা যাবে না । অনিক ঃ আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোর সাথে আছি । ঐ এটা কি ? সোহার্থ ঃ চকলেট বক্স । কাল রাতে কথা দিয়ে গেছিল । অনিক চকলেট বক্সটা খুলে চকলেট বের করে । চকলেটের সাথে ১টা চিঠিও বের হয় , যেটায় কথা তার ভালোবাসার কথা লিখে রাখে । চিঠিটা পরে অনিক সোহার্থ কে জানায় । চিঠি পরার পর থেকেই আরাত্রিকার মন খারাপ । চলে যায় অনিক আর আরাত্রিকা । সোহার্থ ভাবতে থাকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় এই পিশাচদের কাছে থেকে । পরেরদিন রাতের কথা । সোহার্থ ১টা বই নিয়ে এসেছে নিলক্ষেত থেকে । পিশাচ সম্পর্ক্কে কালোজাদুর ১টা বই । বারান্দায় লাইট জালিয়ে বইটা পরছিল । এমন সময় আবার সেই চিৎকার । তবে এবার বেশ কয়েকজনের আর চিৎকার টা এই বিল্ডিং থেকেই আসছে । দৌড় দিয় নিচে নামে সোহার্থ । একদম নিচতালার বারান্দায় ছটফট করতে করতে মারা গেলো ১টা ছেলে । পাশে বসে কাদছে তার অন্য রুমমেট রা একটু পরে পাসের বাসা থেকে আবার সেই চিৎকার । এর পর সোহার্থ অন্যদের সংগে নিয়ে ছুটে যায় পাসের বাড়িতে । ওদের দেখে পিচাশ রা পালিয়ে যেতে থাকে , সোহার্থও পিছনে দৌড় দেয় । কিছুদুর যাওয়ার পর হারিয়ে যায় পিচাশরা । সোহার্থ খুজতে থাকে কিন্তু আসে পাশে সুধুই অন্ধকার । হটাৎ পিছন থেকে ১টা পিচাশ এসে কিছু ১টা দিয়ে আঘাত করে সোহার্থের মাথা । অজ্ঞ্যান হয়ে যায় সে । কুৎসিত হাসিতে হেসে উঠে ১টা পিচাশ । এখনি সে সোহার্থের রক্ত দিয়ে রক্ত স্নানে মেতে উঠবে , শরীরের কাচা মাংশ ছিরে খাবে । কাচা গিলবে সোহার্থের কলিজা । চলবে…………………………………………


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পিশাচ দম্পতি পর্ব – ২
→ পিশাচ দম্পতি পর্ব ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now