বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি যখন ক্লাশ ফাইভ এ পড়ি তখনকার ঘটনা।পিকনিকে গিয়ে এক বন্ধুকে হারাইছিলাম।আমার ডায়রীতে তখন যেভাবে লিখেছিলাম ঠিক সেভাবেই তুলে দিলাম।
.
.
২৩ . ০৫ . ২০১৬ ।ঘুম থেকে উঠেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।ওহহ আজকে যে আমাদেল পিকনিকে যাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু বৃষ্টি আর আকাশ খারাপের কারনে মনে হয় যাওয়া হচ্ছে না।একে তো একবার যাই যাই করেও যাওয়া হলো হয়নি।এবারও যদি যাওয়া না হয়তো,তাহলে আর মনে হয় যাওয়াই হবে না।
কিন্তু আস্তে আস্তে বৃষ্টি থেমে গেল,আকাশের অবস্থাও ঠিক হয়ে গেল।মন আনন্দে নেচে উঠল।
অবশেষে আমরা সকাল ৯.০০টার সময় তিস্তা ব্যারেজ থেকে 40/50 কি.মি. সামনে তিস্তার তীরে পিকনিকে যাওয়ার জন্য বেড়িয়ে পড়লাম।
আমরা (ছেলেরা) সাইকেলে আর মেয়েরা ভ্যানে। আমাদের সাথে স্যারেরাও ছিলেন।রাস্তা ছিলো খুবই খারাপ। আমাদের সাইকেল চালাতে কষ্ট হলেও মনে আনন্দ ধরে না। পাগল পাড়া বাজার থেকে আমরা হাঁটতে শুরু করলাম। হাঁটতে হাঁটতে এক সময় শিমুল (রাস্তার মধ্যে যে কাদা ছিল তা বোঝা যাচ্ছে না) প্রায় এক হাঁটু তলিয়ে যায়। কাঁদায় তলাতে দেখে সবার সে কি হাঁসি। প্রায় ২/৩কিলোমিটার হাঁটার পর আমরা পৌঁছালাম আমাদের গন্তব্যে।
আমরা ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, বল,ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন নিয়ে গিয়েছিলাম। পৌঁছেই ফুটবল খেলতে শুরু করলাম। কেউ কেউ ক্রিকেট খেলতে লাগল। ফুটবলে আসাদ স্যারের ( Asad Jaman) দল ২:০ গোলে রাব্বানী স্যারের ( Golam Robbani)দলকে পরাজিত করে। খেলার পর আমরা নাস্তা করে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম।মেয়েরা কি যেন খেলতে লাগল।
আমি ( Muhammd Zobayer Islam) ও সাকিব শফিকুল ( Safiqul Islam)স্যারের সাইকেল নিয়ে # লাভলুস্যারের অনুমতি নিয়ে ঘুরতে বেড়ালাম। সাকিব বলল চল, কলোনী বাজার থেকে ঘুরে আসি। আমিও বললাম চল। আমরা কলোনী বাজারে কিছুক্ষণ থেকে ফিরে আসলাম। কাছে ( ব্যাগ,সাইকেল,স্যারেরা যেখানে ছিল) আসতেই # জাকারিয়াস্যার বলল সবাই গোসল করতে গেছে। তোমরাও গোসল করে নাও। আমরা বললাম,স্যার, আমাদের তো অতিরিক্ত কাপড় নাই। শাকিল ( Sakil Hossain)স্যার বলল, এখানে একটি ভেজা প্যান্ট আর তোয়ালে ( গামছা ) আছে। এগুলো দিয়ে গোসল করে নাও। আমরা বললাম ঠিক আছে।
আমরা (সাকিব ও আমি)কাছেই নদীতে গোসল করলাম। আমরা দু'জনেই বুদ্ধি করলাম যে,আমরা তাড়াতাড়ি গোসল করেই তাদের সবাইকে চমকে দিব যে, আমরা পরে এসে আগেই গোসল করেছি। কিন্তু আমরা তাদের চমকাতে পারলাম না কারণ আমরা গড়িং (বাধ) এর পাড়ে তাদের দেখতে পেলাম না। আমরা মনে করলাম ঐ যে দূরে পাহাড় এর মতো বালুর স্তুপের কাছে হয়ত আছে। তারপর আমরা সেখানে গেলাম।ম।কিন্তু সেখানেও নেই।আমি ঐখানে থেকে দেখতে পেলাম পাশের বালুর স্তুপে দু তিন জন ছেলে। তখন আমরা সেখানে গেলাম কিন্তু সেখানে তারা নেই। যাদের দেখেছি তারা স্থানীয় ছেলে। পাথর কুরাচ্ছে। আমরা যেতে লাগলাম পাশের বালুর স্তুপে।।বহু কষ্টে সেখানেও গেলাম। এবার তাদের সবাইকে দেখতে পেলাম।
তাদের সাথে রাব্বানী স্যার, আসাদ স্যার,ও শফিকুল স্যার ও ছিলো সেখানে কেউ সাঁতার কাটছে ,কেউ লাফাচ্ছে, কেউ বল দিয়ে খেলছে, কেউ কেউ একে অপরকে কাঁদা ছুড়ে মারছে। সবাই খুব আনন্দ করতেছিল তাই আমরাও আবার গোসল করতে নামলাম। আগে # নাজমুল, # শাহানশাহনদীতে নামেনি। পড়ে আমাদের দেখে তারাও নামে। শুধু নামমেনি ধীমান। কারণ সে ফুটবল খেলেই গোসল করছিল।সবাই অনেকক্ষন ধরে গোসল করলাম। আমি সবার আগেই উঠে পোশাক পাল্টে নিলাম। শফিকুল স্যারের মোবাইলে লাভলু স্যার ফোন দিয়ে বলল যে রান্না হয়ে গেছে সবাই চলে এসো।
এদিকে, # মিরাজেরপ্যান্ট-শার্ট কোথায় যেন রেখেছিল কিন্তু এখন পাওয়া যাচ্ছে না ! আমরা বললাম, আরে এভাবেই চল,কেউ হয়তো নিয়ে গেছে।
সে দিন বাতাস ছিল। তাই আমি ডাকছি তো কেউ শুনতে পাচ্ছিল না। এক সময় শুনতে পায় এবং সবাই ফিরতে শুরু করে।লাভলু স্যার আবার ফোন করে খেতে যেতে বলল।
আমরা আসলাম।রাব্বানী স্যার গুনলেন।একজন কম।কে নেই ? # মিমনেই।
প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম কোথাও আছে বুঝি।কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম সত্যিই মিম নেই তখন আমাদের আনন্দ যেন মুহূর্তেই মাটিতে মিশে গেল।সবাই চারদিকে খোঁজাখুজি,কিন্তু তোত্থাও নেই।তাহলে কি যেখানে গোসল করেছিলাম সেখান . . . .
(আমরা গোসল করেছিলাম নদীর সাথে লাগানো একটা অংশতে যেখানে স্রোত ছিল না)
এদিকে স্যারেরা আর আমাদের কোথাও যেতে দিচ্ছি না।খুঁজতে খুঁজতে সবাই হয়রান কিন্তু কোথাও পাওয়া গেল না।খিদেয় আমরা হাঁটতে পারছি না।কিন্তু আমাদের খিদের কথা মনে নেই।অবশেষে হালকা করে খেয়ে নিলাম।ততক্ষণে খবর পেয়ে অনেকে এসেছে।আমরা ভাবতেই পারিনি এরকম একটা দুর্ঘটনা ঘটবে।আমাদের স্কুলের এম ডি বললেন 'তোমরা লাভলু ও নূর এসলাম কে নিয়ে বাড়ি যাও।'
আমরা লাইন ধরে হাঁটতে লাগলাম।স্যার আমাদেরকে সাইকেলে যেতে দিচ্ছে না।কথা বলতে দিচ্ছে না।হাঁটতে হাঁটতে একসময় # সাকিব, # তামিম, # রিতু, # রোজোয়ানা, # ঐশীচলে গেল (ওদের বাড়ি কাছে ছিল)।মিরাজকে ওর আব্বু এসে নিয়ে গেল।একটা অটোতে খগারহাঁটের মেয়েরা চলে গেল।পাকা রাস্তার কাছে এসে স্যার বলল তোমরা যারা সাইকেলে যেতে পারবে তারা যাও।সাবধানে যাবে।
আমরা (ছেলেরা)সাইকেলেচলে আসলাম।বাকিরা ভ্যানে আসল।
আমাদের ভ্রমণ শুরু হয়েছিল হেসেকিন্তু শেষ হলো কেঁদে।
পরে,বাড়ি এসে,রাতে শুনলাম #মিম কে পাওয়া গেছে।ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পেয়েছে।কিন্তু হায়, ততক্ষণে দেহে প্রাণ ছিল না . . . .
এ ঘটনায় আমরা খুবই ব্যথিত।যার সাথে আমরা এতো দিন পড়লাম,খেললাম তাকে আমরা হারালাম,চিরতরে হারালাম।"
.
.
এ ঘটনার আজ প্রায় # চারবছর হয়ে গেল।ওকে এখনও আমরা সবাই মনে রেখেছি।ওর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।আল্লাহ যেন ওকে জান্নাত নসীব করে।আমিন।
.
.
.
লেখা : Muhammd Zobayer Islam(24.05.2013)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now