বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-- মা,, আমার ল্যাপটপ কই? (রাহসান)
.
-- দেখ রাতে কোথায় রেখে ঘুমিয়েছিস,,, (মা) ( রান্না ঘর থেকে)
.
-- মা, আমি তো রাতে ফেসবুক চালাতে ঘুমিয়ে পড়েছি, এখন ল্যাপটপ পাচ্ছি না।
.
-- দেখ তো ঐ ফাজিল মেয়েটা নিয়েছে নাকি।
.
-- ও বুঝতে পারছি। আজ ঐ মেয়ের খবর আছে। এতো অল্প বয়সে বেশি পাকনা হয়ে গেছে।
.
রাহসান দ্রুত বিছানা থেকে উঠে ড্রয়িং রুমে যেতেই দেখে ফাজিল মেয়েটা সোফায় বসে কফি খেতে খেতে ল্যাপটপে কি যেন মনোযোগ দিয়ে দেখছে।
.
-- ঐ তোমার তো সাহস কম বড় না, তুমি আজ আবার ল্যাপটপে হাত দিয়েছ?
.
-- ঐ তুমি,,,, এতো তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে। প্লিজ আবার গিয়ে শুয়ে পড়। আমি ঐ বজ্জাত মেয়েগুলোর মেসেজ চেক করে তোমার ল্যাপটপ সসম্মানে তোমার রুমে দিয়ে আসব। (সামিয়া)
.
-- ঐ তুমি আজ আবার আমার আইডি তে ঢুকছ। তোমার মতো ফাজিল মেয়ে আমি কখনো দেখিনি।
.
-- ঐ তুমি যাও তো ডিস্টার্ব করো না বলছি। এতো রাত পর্যন্ত এই মেয়েদের সাথে চ্যাট করো তাই না? সব গুলোর আবার ব্লক মারব।
.
-- ঐ তোমার জন্য আমি এই পর্যন্ত ১৪ বার আমার ভার্সিটির বান্ধবীদের আনব্লক করছি।
.
--আরো ১০০ বার ব্লক মারব।
.
-- ঐ তুমি ল্যাপটপ দাও। আর হ্যাঁ মা তুমি এইটা পুচকি পেত্নি টাকে কফি দিয়েছ কেন?
.
-- ঐ তুই রাগ করিস কেন? এটা তো তোরই হবে ( মা)
.
-- কি বউ? এই পিচ্চি কে বিয়ে করবে?
.
-- ঐ আমাকে বলছি না পিচ্চি বলবা না,, কতো বড় হয়ে গেছি,,, কতো ছেলে আমার পেছনে ঘুরে জানো?
.
-- যাও ঐ ছেলেদের সাথে প্রেম করো গিয়ে। যত্তসব।
.
এই বলে রাহসান সামিয়ার হাত থেকে ল্যাপটপ টা নিয়ে রুমে চলে গেল। আর মেয়েটা কফির মগ টা ভেঙে ফেলল। যেটা সপ্তাহে দুই তিন দিন হয়ে থাকে।
.
ও হ্যাঁ রাহসান এবার বুয়েট থেকে বিএসসি করে বের হবে। আর মেয়েটা মানে সামিয়া কেবল ক্লাস ১০ এ পড়ে। তাদের নিচের তলায় থাকে। তার মার বান্ধবীর মেয়ে। তাদের স্বপ্ন রাহসান কে দিয়ে সামিয়া কে বিয়ে দিবে। এতে করে তাদের বন্ধুত্ব টা আরো দৃঢ় হবে। কিন্তু রাহসান ও মেয়েটাকে একটু একটু পছন্দ করে। পাঁচ টা বছর থেকে তাকে জালাচ্ছে।
.
সামিয়াকে বাসায় কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই চিন্তিত রাতে আবার গেল কোথায়। কিন্তু রাহসান জানে মেয়েটা কোথায় আছে। ছাদের এক কোণে বসে বসে চাঁদ দেখছে আর কাঁদছে। যেদিন রাহসান মেয়েটা কে বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলে সেদিন খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়। যে পর্যন্ত রাহসান না খাইয়ে দেয় ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু খাইনা।
.
-- কিরে পুচকি পেত্নি ছাদে বসে আছিস কেন? (রাহসান)
-- তোমার সাথে আমার কথা নেই। (সামিয়া)
-- আচ্ছা,,, আমি জ্বীন কে ডাকছি তোমার সাথে কথা বলবে। আর আজকাল নাকি ঢাকা তে জ্বীনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
-- এসব কি বলো,, আমি এগুলোতে ভয় পাই না।
-- আচ্ছা তুমি থাকো আমি যাই। জ্বীন তোমাকে অনেক ভালোবাসে।
.
রাহসান আস্তে আস্তে চলে গেল আর মেয়েটা কেমন জানি এখন ভয় পাচ্ছে। হঠাৎ গিটারের টুংটাং শব্দ বাতাসে ভেসে উঠে। আর সামিয়া দৌড়ে খুঁজতে থাকে রাহসান কোথায়। কারণ সে জানে এই গিটার রাহসান ছাড়া আর কেউ বাজাচ্ছে না।
.
হঠাৎ...
-- কিরে গান শুনবি( রাহসান)
-- ঐ তুমি, আমাকে ভয় দেখিয়ে এখানে বসে আছ? (সামিয়া)
--হা হা হা হা তুই আবার ভয় পাস নাকি।
-- ঐ তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাস না?
-- নারে,, তুই তো পিচ্চি, আমি কতো বড়।
-- ও তুমি ঐ ফেসবুকের কুটনি গুলারে ভালোবাস?
-- সব গুলোরে না,, তাদের মধ্যে একটা কে।
-- ঐ একদম মেরে ফেলব তোমাকে যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাস।
-- তোর ভাবী বিধবা হবে রে।
-- তোর ভাবীর গুষ্টি কিলাই।
এই বলে মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে আবার চলে গেল। রাহসান জোরে জোরে হাসছে। কিন্তু আজ একটু বেশি হয়ে গেছে।
চলবে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now