বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পেন ড্রাইভ

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "পেন ড্রাইভ" রজত ঘোষ ------------- রাস্তার একপাশে গাড়িটাকে দাঁড় করিয়ে হঠাত্‌ স্টার্ট বন্ধ করে দিল জিওয়ান। দরজা খুলে বেরতে-বেরতে বলল, “পতা নেহি, কিসকা মু দেখকে আজ নিকলা থা!” সিটে সোজা হয়ে বসলাম, “আবার কী হল?” জিওয়ান কাঁচুমাচু মুখ করে বলল, “আগে রাস্তা বন্ধ হ্যায়। উধর লাল ফ্ল্যাগ দেখিয়ে। ডিনামাইট ব্লাস্টিং চল রহা হ্যায়।” “ডি-ডি-ডিনামাইট!” চমকে উঠলাম আমি, “কেন?” গাড়ির হুডটা খুলে কাচ ঢাকা দিতে-দিতে জিওয়ান বলল, “ইধর অ্যায়সা হোতা হ্যায়। পত্থর নিকালনে কে লিয়ে ডিনামাইট ব্লাস্টিং চলতা হ্যায়।” “হুড খুলে কাচ ঢাকা দিলে কেন?” জিওয়ান মুচকি হেসে বলল, “অগর কুছ নিকলকে আ যায়ে তো শিসা টুট যায়েগা।” জিওয়ান ঠিকই বলেছে। সত্যি, কার মুখ দেখে যে বেরিয়েছিলাম আজ! রানিপুল থেকে মংগন আসতে ছ’ঘণ্টা লেগে গেল। প্রথমে টায়ার পাংচার, তারপর ল্যান্ডস্লাইড। গাড়ি এগোবে কী করে? ভাগ্য ভাল, ধসটা তেমন বড় রকমের হয়নি। ড্রেজার এসে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রাস্তা সাফ করে ফেলেছে। যদিও বা গাড়ি এগোচ্ছিল, ভেবেছিলাম, সন্ধের মধ্যে লাচুং পৌঁছে যাব। এখন আবার ডিনামাইট বিস্ফোরণ! আজ আদৌ পৌঁছতে পারব তো লাচুং? না, লাচুং আমি বেড়াতে যাচ্ছি না। কোম্পানির কাজে যাচ্ছি। তবে ইচ্ছে আছে, সুযোগ পেলে ইয়ুমথাং ভ্যালিটা দেখে আসব। শুনেছি, উত্তর সিকিমের এই উপত্যকাকে প্রাচ্যের সুইজ়ারল্যান্ড বলে। নামকরা একটি সিমেন্ট উত্‌পাদন সংস্থা লাচুংয়ে খরস্রোতা ‘লাচুং-ছু’ নদীর উপর বাঁধ বানাচ্ছে, যে বাঁধের লক গেটে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুত্‌ উত্‌পাদিত হবে। উত্তর সিকিমের এই অঞ্চলটা হাই অলটিটিউডে থাকায় বিদ্যুতের সমস্যা আছে। তাই প্রজেক্টটা শেষ হলে বিদ্যুত্‌ সমস্যা দূর হবে উত্তর সিকিমে। কারণ, বাঁধ বানানো অথবা বিদ্যুত্‌ তৈরির মতো প্রজেক্টগুলোকে যদি রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয় তা হলে, আমাদের কোম্পানির ভূমিকা সেখানে কাঠবিড়ালীর পাথর বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো। নামকরা ওই সিমেন্ট সংস্থাটি লাচুংয়ে যে সেটআপ বসিয়েছে, তার নেটওয়র্কিং কাজের বরাত পেয়েছে আমাদের কোম্পানি। সেই নেটওয়র্কিং দেখভাল করতেই আমার লাচুং যাত্রা। এই মুহূর্তে বিশাল একটা পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি। পাহাড় আর আমার মাঝখানে শুয়ে আছে কয়েকহাজার মিটার গভীর একটা গিরিখাত, যেদিকে তাকালে ধোঁয়া ছাড়া আর কিছুই নজরে আসে না। আকাশে সকাল থেকেই সূর্যের দেখা নেই আজ। কাছাকাছি কোনও ঝরনা থেকে একনাগাড়ে ভেসে আসছে জল পড়ার শব্দ। জিওয়ান আঙুল তুলে ইশারা করল, “উধর দেখিয়ে। এশিয়া কী দুসরি উঁচি ব্রিজ। কুছ সময় বাদ হম ভি উস ব্রিজ ক্রস করেঙ্গে।” অবাক হয়ে দেখলাম, আমাদের আঁকাবাঁকা রাস্তাটা আরও কয়েকটা বাঁক পর উপরদিকে উঠে মিশে গিয়েছে কাঠের ব্রিজটায় (যদিও ব্রিজটা আর কাঠের নেই, কংক্রিটের হয়ে গিয়েছে)। জিওয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, “ব্রিজের নামটা কী?” উত্তর দিল, “রংরং ব্রিজ।” এর কয়েকমিনিট পরই বিকট শব্দ হল। জিওয়ানকে জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলাম, এটা কি ডিনামাইট ব্লাস্টিংয়ের শব্দ? কিন্তু তার আগেই ও আমার হাত ধরে হেঁচকা টান মারল। চিত্‌কার করে বলল, “ভাগ আইয়ে!” ঘটনাটা কী বোঝার আগেই দেখলাম, প্যাসেঞ্জার ভর্তি আস্ত একটা মিনিবাস রংরং ব্রিজের রেলিং ভেঙে ভাসতে-ভাসতে এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে। জিওয়ান সরিয়ে নিয়েছিল তাই, না হলে বাসটা আছড়ে পড়ত আমাদেরই উপর। কারণ, যে জায়গাটায় আমরা দাঁড়িয়েছিলাম, ডিউস বলের মতো বাসটা ঝনঝন শব্দ করে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। তারপর পাথরে আর গাছে ধাক্কা খেতে-খেতে হারিয়ে গেল কয়েকহাজার ফিট গভীরে। মুহূর্তের মধ্যে জায়গাটা গুঁড়ো কাচ আর রক্তে ভরে গেল। কিছুক্ষণ পর খাতের ভিতর মারাত্মক একটা বিস্ফোরণ হল। দেখলাম, সেই বিশাল গিরিখাতটার মুখ থেকে উঠে আসছে দলা পাকানো কালো ধোঁয়া। ঘটনার আকস্মিকতায় কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আমার। এতবড় দুর্ঘটনা দেখার পর নিজেকে জড় বস্তু মনে হচ্ছিল। হাত-পা অসাড় হয়ে গিয়েছিল। কানের মধ্যে ভাসছিল, বাসের ভিতরের মানুষের আর্তনাদ। পরে জিওয়ান এসে মুখে, হাতে জল দিয়ে ধাতস্থ করেছিল আমায়।স্বাভাবিক হতে কত সময় লেগেছিল খেয়াল নেই। গাড়িতে ওঠার আগে দেখেছিলাম, আমার পা থেকে কয়েক ফিট দূরে পড়ে আছে একটা পেন ড্রাইভ! ।।১।। রিসেপশনে পা দিতেই সংবাদটা পেশ করল মধুজা। কনফারেন্স রুমের দিকে ইশারা করে বলল, “ওদিকে চলে যান, পল্লবদা। গুপ্তস্যার অপেক্ষা করছেন।” ভুরু কুঁচকে বললাম, “গুপ্তস্যার, মানে, সমুদ্র গুপ্ত?” মধুজা মাথা দোলাল, “গুপ্তস্যার ন’টা থেকে এসে বসে আছেন।” “কেন?" মধুজা ঠোঁট ওলটাল। আমাদের কোম্পানির ডিরেক্টরের নাম সমুদ্র গুপ্ত। গুপ্ত যাঁদের পদবি, কোন আক্কেলে তাঁরা ছেলের নাম সমুদ্র রেখেছিলেন! যাই হোক, গুপ্তস্যার কোনওদিন এত সকালে অফিসে আসেন না। আজ কাউকে কিছু না জানিয়ে সকালবেলায় মিটিং কল করার উদ্দেশ্য কী? বড়সড় বাম্বু? মুচকি হেসে বলল, “তাড়াতাড়ি চলে যান।” মিটিং না বলে র্যাপিড ফায়ার কুইজ় বলা উচিত। এই তিনঘণ্টা যেন গুপ্তস্যার কনফারেন্স রুমে কুইজ়মাস্টার হয়ে বসেছিলেন। লাস্ট তিনটে টেন্ডারে আমরা কেন ‘এল-ওয়ান’ হতে পারিনি? রাজারহাটে দু’টো ক্লায়েন্ট কেন আমাদের কাজের কমপ্লেন করল? কল্যাণী প্রজেক্টে সামান্য গাফিলতির জন্য কোম্পানিকে কেন বিশহাজার টাকা গাঁটগচ্চা দিতে হল? এককথায় হাজার প্রশ্নের বন্যা বইয়ে দিলেন। তারউপর বোনাস প্রাপ্তি, বিলিং ডিপার্টমেন্টের অনিন্দ্য! স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সে আজও অফিসে ঢুকেছে সাড়ে দশটার পর। অ্যাটেনড্যান্স নিয়ে সমুদ্র গুপ্ত যে মিসাইলগুলো আজ ছেড়েছেন, তার একটা হল, “এটা অফিস, না ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি? যার যখন খুশি আসছ, কী ব্যাপার?” মিটিং শেষ হয়েছে দশমিনিট আগে। সমুদ্র গুপ্ত বেরিয়ে গিয়েছেন। পাসওয়র্ড টাইপ করে সবেমাত্র লগ ইন করেছি, রিসেপশন থেকে মধুজার ফোন, “পল্লবদা, আপনার সঙ্গে একজন দেখা করতে এসেছে। নাম বলেছে, মনবাহাদুর রাই। আপনি কি সময় দিতে পারবেন?” মনবাহাদুর রাই? অচেনা নাম, আগে শুনিনি। জিজ্ঞেস করলাম, “কোথা থেকে এসেছে জিজ্ঞেস করেছ?” “হ্যাঁ, নর্থ বেঙ্গলের কার্সিয়ং।” নর্থ বেঙ্গলে এই মুহূর্তে আমাদের তিনটে প্রজেক্টের কাজ চলছে। শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার আর গঙ্গারামপুর। তাদের দায়িত্বে আমি নেই। তা হলে কে আসতে পারে? রিসেপশনে এসে দেখলাম মনবাহাদুরকে। মাঝারি উচ্চতা, ছোট-ছোট চোখ, কোঁকড়া চুল। বয়স পঁচিশের আশপাশে। জিন্স আর কালো টি শার্ট পরা ছেলেটা হাত বাড়িয়ে বলল, “হ্যালো, স্যার।” “হ্যালো,” হাত বাড়ালাম আমি। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই টানা-টানা বাংলায় মনবাহাদুর বলল, “আমি কি আপনার মূল্যবান সময় থেকে কয়েক মিনিট পেতে পারি?” “কী ব্যাপার বলুন তো?” “বলব। তার আগে বলি, আমার একটা নিকনেম আছে। পো। আপনি আমাকে পো বলতে পারেন।” “ঠিক আছে। কিন্তু…” “অ্যাকচুয়ালি,” হঠাত্‌ মুখটা থমথমে হয়ে গেল পো-র। “কিছুদিন আগে নেট সার্চ করার সময় আমি আপনার ‘অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ ফোল্ডারটা দেখতে পেলাম। তাতে…” থেমে গেল পো। “কী আছে তাতে?” ভুরু কোঁচকালাম আমি। “মিন্ডা…” পো আর কথা বলতে পারল না। ওর ঠোঁটদু’টো কাঁপছে। ওর ছোট-ছোট দু’টো চোখ থেকে নেমে এল জলের ধারা। পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মুছল পো। আমি কী করব বুঝতে পারলাম না। ।।২।। আজ রবিবার। পো এসেছে আমার বাড়িতে। আমিই আসতে বলেছিলাম। সেদিন অফিসে ওর সব কথা শোনা হয়নি। শোনা সম্ভবও হয়নি। মধুজা তাকাচ্ছিল বারবার। তা ছাড়া কাজও ছিল প্রচুর। ‘অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ ফোল্ডারটায় সেই অর্থে কোনও অ্যাকসিডেন্টের ছবি নেই। কারণ, পাঁচবছর আগে আমার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অ্যাকসিডেন্টটা ফ্রেমবন্দি করা কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না। প্রথমত, ঘটনার আকস্মিকতায় হাত-পা অসাড় হয়ে গিয়েছিল আমার। ফোটো তোলা দূরের কথা, কী করব সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। দ্বিতীয়ত, সঙ্গে কোনও ক্যামেরা ছিল না আমার। এমনকী, তখন যে মোবাইল সেটটা ব্যবহার করতাম, সেটাতেও কোনও ক্যামেরা ছিল না। কুড়িয়ে পাওয়া পেন ড্রাইভটায় শুধু ছবি ছিল একটা। ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা একটি মেয়ের ছবি। আর ছিল কিছু ডকুমেন্টের সফ্ট কপি। পড়ে দেখেছিলাম, মাস কমিউনিকেশনের উপর লেখা নোটস। ছবিটা আমার সোশ্যাল নেটওয়র্কিং সাইটে একটা ফোল্ডার বানিয়ে তার মধ্যে রেখেছিলাম। ফোল্ডারটার নাম দিয়েছিলাম, ‘অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’। শুনে সেদিন অবাক হয়েছিলাম, পো সোশ্যাল নেটওয়র্কিং সাইটে ওই ফোল্ডারটা দেখার পর থেকেই যোগাযোগের চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত না পেরে প্রোফাইল থেকে অফিসের ঠিকানা পেয়ে চলে এসেছে সরাসরি। সত্যি কথা বলতে কী, একটা সময় ছিল যখন অফিস থেকে ফিরে প্রতিদিনই একবার খুলে বসতাম সাইটটা। চ্যাট করতাম, ছবি আপলোড করতাম। নিজের ভাবনাচিন্তা শেয়ার করতাম অন্যদের সঙ্গে। এখন আর সময় পাই না। তা ছাড়া পুরো ব্যাপারটা কেমন একঘেয়ে লাগে এখন। বিয়ের পর দিতিকে দেখিয়েছিলাম আমার অ্যাকাউন্টটা। ফ্রেন্ডলিস্টে অজস্র বান্ধবীর ছবি দেখে দিতি চোখ কপালে তুলে বলেছিল, “তুমি তো দেখছি, ছুপা রুস্তম! এত বান্ধবী তোমার?” গুনগুন হওয়ার পর আর একদমই সময় হয় না। অফিস থেকে ফিরে এখন গুনগুনের সঙ্গেই কেটে যায়। দেড়বছরের গুনগুন ছোট্ট-ছোট্ট হাত দিয়ে এমনভাবে গলাটা জড়িয়ে ধরে থাকে যে, সেটাকে ছাড়িয়ে আর অন্যকিছু ভাল লাগে না। পো বলল, “আমি আপনাকে বেশ কয়েকবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি, দেখেননি?” “আসলে…” পো বলেই চলেছে, “অ্যাক্সিডেন্টটা হওয়ার পর আমি গিয়েছিলাম ওখানে। একবার নয়, বহুবার। তন্নতন্ন করে খুঁজেছি, যদি মিন্ডার কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়। পাইনি। প্রতিবারই ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছি। পুলিশও পারেনি কোনও হদিশ দিতে। পুড়ে যাওয়া, তোবড়ানো যে বাসটা উদ্ধার হয়েছিল, তাতে শনাক্ত করার মতো কিছু ছিল না। পোড়া মাংসের টুকরো দেখে কি মানুষ চেনা যায়?” কী বলব বুঝতে পারলাম না। জিজ্ঞেস করলাম, “মিন্ডা কি কলকাতাতেই পড়াশোনা করত?” পো ঘাড় নাড়ল, “আমি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চান্স পেয়ে কলকাতায় এসেছিলাম। মিন্ডা এসেছিল মাস কমিউনিকেশন নিয়ে পড়তে। পরিচয় হয়েছিল হাজরায় এক বন্ধুর বাড়িতে। আমার ওই বন্ধুর বোন ছিল মিন্ডার ক্লাসমেট।” “মিন্ডার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলে?” প্রশ্নটা করে মনে হল, ওদের সম্পর্কটা ঠিক কতদূর এগিয়েছিল, সেটা না জেনে এই প্রশ্নটা করা উচিত হয়নি আমার। ওরা দু’জনে কি দু’জনের কথা বাড়ির লোককে বলেছিল? লম্বা একটা শ্বাস ফেলে পো বলল, “মিন্ডার বাবা ছিল না। খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছিল। ওর মা একাই থাকতেন লাচুংয়ে। একটা ছোট্ট গ্রসারি শপ ছিল ওর মায়ের। ওই দোকানটার উপর ভরসা করে মেয়েকে লেখাপড়া করতে কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন।” “এখন তিনি কোথায়? লাচুংয়ে?” পো চোখ বন্ধ করল। মাথা নিচু করে বলল, “জানি না। অ্যাক্সিডেন্টটা হওয়ার পর লাচুং গিয়েছিলাম। দেখা করেছিলাম মিন্ডার মায়ের সঙ্গে। আমি মিন্ডার বন্ধু বলে পরিচয় দেওয়ায় শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছিলেন। কোনও কথা বলতে পারেননি।” “অ্যাক্সিডেন্টটা ঘটেছিল পাঁচবছর আগে। তারপর…” “হ্যাঁ, গিয়েছিলাম। তারপরও গিয়েছি দু’বার,” পো মাথা তুলল, “মিন্ডার মাকে আর দেখতে পাইনি। দোকানটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, একটা এনজিও মিন্ডার মাকে মেন্টাল অ্যালাইলামে ভর্তি করে দিয়েছে।” অনেকদিন পর হঠাত্‌ আবার যেন দেখতে পেলাম, দু’টো পাহাড়কে জুড়ে রাখা ছোট্ট সেই কাঠের ব্রিজটাকে। পাহাড়দু’টোর মাঝে আকাশের দিকে হাঁ করে থাকা কয়েকহাজার ফিট গভীর একটা খাত। ব্রিজটা ভেঙে হুড়মুড় করে পড়ছে একটা মিনিবাস। হারিয়ে যাচ্ছে ওই গভীর খাতটায়। দৃশ্যগুলো কি সত্যি ছিল? মিন্ডা নামে একটা মেয়ে সত্যিই কি ছিল ওই মিনিবাসটায়? জানি না। চোখের সামনে এবার ভেসে উঠল এমন কিছু দৃশ্য, যেগুলো আমি কোনওদিন দেখিনি। কাঠের ছোট-ছোট বাড়ি দিয়ে সাজানো একটা পাহাড়ি গ্রাম। তার মাঝে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটা ছোট্ট গ্রসারি শপ আর মেন্টাল অ্যাসাইলামের আলো-আঁধারি ঘরে স্থির চোখে তাকিয়ে থাকা এক বৃদ্ধা। যাঁর চোখ থেকে হারিয়ে গিয়েছে সব স্বপ্ন। দেখতে পেলাম, ‘অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ ফোল্ডারের সেই মিষ্টি মেয়েটার মুখটাও। পো-র কাছ থেকে যার নাম জেনেছি, মিন্ডা। পো বলল, “ভেবেছিলাম, মিন্ডা সত্যিই হারিয়ে গিয়েছে। ওকে আর খুঁজে পাব না। পুলিশ হদিশ দিতে পারেনি। আমিও তো কম খুঁজিনি। নিজেকে বোঝাতে শুরু করেছিলাম, মিন্ডা হয়তো ছিল না ওই বাসটায়। এতবড় পৃথিবীতে হারিয়ে গিয়েছে অন্য কোথাও। কিন্তু…" ছেলেটা থামল কিছুক্ষণ। সোজা হসে বসে ফের বলল, “আপনার অ্যাকাউন্টে মিন্ডার ছবিটা দেখে বুঝলাম, ও হারিয়ে যায়নি, পাহাড়েই আছে। আমি ঠিক খুঁজে বের করব ওকে। শুধু আপনার একটু হেল্প দরকার।” “আমার হেল্প?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আমি তোমায় কীভাবে হেল্প করব?” কথার মাঝে চায়ের ট্রে হাতে ঘরে ঢুকল দিতি। রান্নাঘর থেকে ও এতক্ষণ আমাদের কথাবার্তা শুনেছে। সেন্টার টেব্লে ট্রেটা রেখে বলল, “তোমরা দু’জনেই থাকতে পাহাড়ে। অথচ আলাপ হল সমতলে এসে। কি অদ্ভুত ব্যাপার, না?” পো হাসল দিতির কথা শুনে। তারপর কাকুতির সুরে বলল, “মিন্ডার পেন ড্রাইভটা আমায় দেবেন, স্যার?” ।। ৩ ।। ডিসিশনটা পুরোপুরি দিতির। সেদিন রাতে খেতে বসে ও হঠাত্‌ বলল, “তোমার অফিসে এখন কাজের চাপ কেমন? নর্থ বেঙ্গলে একটা প্রজেক্ট চলছে না?” ঘাড় ঘুরিয়ে বললাম, “হঠাত্‌ এ প্রশ্ন? আমার অফিস প্রজেক্ট নিয়ে তোমার মাথাব্যথা! ব্যাপার কী?” “না, মানে,” দিতি আঙুল দিয়ে ভাত নাড়াচাড়া করতে-করতে বলল, “বিয়ের পর মন্দারমণি ছাড়া কোথাও যাইনি আমরা। ক’টা দিন যদি…” “তার জন্য নর্থ বেঙ্গলের প্রজেক্টের খোঁজ নিচ্ছ কেন? এমনিই তো ঘুরে আসা যায় ক’টা দিন।” “যাবে?” দিতি প্রায় আনন্দে লাফিয়ে উঠল। “অফিসে কথা বলে দেখছি। যদি ছুটি ম্যানেজ করা যায়, তা হলে ঘুরে আসা যেতেই পারে।” দিতি ঘোষণা করল, “শুধু নর্থ বেঙ্গল নয়, সিকিমও যাব আমরা।” সত্যি কথা বলতে কী, আজ পেন ড্রাইভটা পো-কে দেওয়ার পর থেকে কেন জানি না, মিন্ডার মুখটা মনে পড়ছে বারবার। এতদিন জানতাম না যে, মেয়েটার নাম মিন্ডা। পো এল, তাই জানলাম। আমার সোশ্যাল নেটওয়র্কিং সাইটে এতদিন ও ছিল ‘অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ ফোল্ডারের একটা অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে। পো বলছিল, ও পাহাড়েই আছে। তার মানে মিন্ডা বেঁচে আছে? এটা সম্ভব? পো-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “যদি তাই হয়, তা হলে ও ফিরে আসছে না কেন?” “হয়তো রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে,” সঙ্গে-সঙ্গে জবাব দিয়েছিল পো। আত্মবিশ্বাসী গলায় বলেছিল, “স্মৃতি হারিয়ে যাওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।” পো-র যুক্তিগুলো খুব একটা মজবুত ছিল না। তবু শুনছিলাম মন দিয়ে। ওর আত্মবিশ্বাসী মুখটার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সব যুক্তিগুলোকে একদিকে সরিয়ে মিন্ডার বেঁচে থাকাটা খুব জরুরি। দিতি হঠাত্‌ বলে উঠল, “আচ্ছা, তোমার কি মনে হয়, ছেলেটা সাকসেসফুল হবে? খুঁজে পাবে ওর প্রেমিকাকে?” অবাক চোখে তাকালাম দিতির দিকে। যে প্রশ্নগুলো আমি মনে-মনে নাড়াচাড়া করছি, সেই একই প্রশ্ন দিতির মনেও ঘুরপাক খাচ্ছে! মাথা নেড়ে বললাম, “জানি না।” দিতি হঠাত্‌ কাকুতির সুরে বলল, “প্লিজ়, একটু চেষ্টা করো। যদি ছুটি পাও, তা হলে…” “তা হলে কী?” প্রশ্ন করলাম। “ছেলেটাকে ফোন করে বলো, আমরাও যাব ওর সঙ্গে।” “তোমার মাথা খারাপ?” ধমক দিলাম দিতিকে। “পাঁচবছর আগে ঘটে যাওয়া একটা দুর্ঘটনায় কেউ যদি নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে এতদিন পর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়?” দিতি উত্তর দিল না। নিজের মনে বিড়বিড় করল, “শুনেছি, পাহাড় সব আগলে রাখে। একটা ছেলে যে তার ভালবাসাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে, পাহাড় পারবে না তার ভালবাসাকে ফিরিয়ে দিতে?” ছুটির কথা সমুদ্র গুপ্তকে বলতেই রাজি হয়ে গেলেন। ল্যাপটপের ডিসপ্লে থেকে মুখ তুলে বললেন, “সাতদিন কেন, ইচ্ছে করলে আরও ছুটি নাও। কিন্তু একটা কন্ডিশন। সময় করে শিলিগুড়ির প্রজেক্টটা একবার চক্কর মেরে এসো। ওখানকার ম্যানেজমেন্ট নাকি আমাদের কাজে সন্তুষ্ট নয়, সমস্যাটা মিটিয়ে আসতে পারলে খুব ভাল হয়।” না করিনি আমি। রাজি হয়ে গিয়েছি সমুদ্র গুপ্তর প্রস্তাবে। ।। ৪ ।। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমেই মোবাইলের বোতাম টিপলাম। নাহ্, ধরতে পারলাম না পো-কে। সুইচ্ড অফ। কাল রাতে শিয়ালদা থেকে ট্রেনে ওঠার সময় থেকে আজ সকাল অবধি কম করে কুড়িবার চেষ্টা করেছি ওর সঙ্গে যোগাযোগ করার। প্রত্যেকবার সুইচ্ড অফ! ব্যাপার কী? ও কি এড়িয়ে যেতে চাইছে আমায়? দিতি বলল, “ফোন করার দরকার কী? ও তো তোমাকে বাড়ির ঠিকানা দিয়েছে।” হ্যাঁ, পো ওর বাড়ির ঠিকানা দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার জন্য মোবাইল বন্ধ রাখবে কেন? সেদিন ফোন করে যখন বলেছিলাম, আমরা নর্থ বেঙ্গল যাচ্ছি, পো-র আনন্দের সীমা ছিল না। বলেছিল, “ওই ক’দিন আপনারা আমার বাড়ির গেস্ট। গাড়ির ব্যবস্থা করে দেব। ওখান থেকেই ঘুরে দেখবেন সব।” আমি ইতস্তত করে বলেছিলাম, “না, আমরা হোটেলে উঠব। তোমাকে ব্যস্ত হতে হবে না।” নাছোড় পো বলেছিল, “না, তা কিছুতেই হবে না। কার্সিয়ং থেকে দার্জিলিং বেশি দূর নয়।” পো-কে থামিয়ে বলেছিলাম, “আমরা দার্জিলিং দেখতে যাচ্ছি না। যাচ্ছি অন্য একটা কাজে।” “কী কাজ?” জানতে চেয়েছিল পো। “আসলে…” ইতস্তত করে বলেছিলাম, “তুমি একা নও, আমরাও তোমার সঙ্গে খুঁজতে যেতে চাই মিন্ডাকে।” কথাটা শুনে ও নীরব হয়ে গিয়েছিল। বেশ কিছুক্ষণ পর নীরবতা ভেঙে বলেছিল, “ভাবতে পারিনি, আপনাদের কাছ থেকে এতটা হেল্প পাব। থ্যাঙ্কস!” অথচ পো আজ মোবাইল অফ করে রেখেছে! ও কি ভুলে গিয়েছে, আজ আমরা আসছি? সমুদ্র গুপ্তর কন্ডিশন অনুযায়ী, প্রথম দিনটা আমরা থেকে গেলাম শিলিগুড়িতে। দিতি আর গুনগুনকে হোটেলে রেখে সেদিন দুপুরেই চলে গেলাম প্রজেক্টের কাজ দেখতে। না, তেমন কিছু গুরুতর সমস্যা নয়। আমাদের যে দু’জন টেকনিশিয়ান শিলিগুড়ির প্রজেক্টে কাজ করছে, তারা একেবারেই নতুন। সামান্য গন্ডগোল করে ফেলেছিল। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মিটে গেল সমস্যা। সমুদ্র গুপ্তকে রিপোর্ট করার পর আবার চেষ্টা করলাম পো-কে ধরতে। এবারেও সুইচ্ড অফ। পরদিন হোটেল থেকে আমরা রওনা হলাম দশটা নাগাদ। দু’ঘণ্টার মধ্যে কার্সিয়ং পৌঁছে গেলাম। ঠিকানা দেখে ড্রাইভারই খুঁজে দিল বাড়িটা। তখনও আন্দাজ করতে পারিনি, আমাদের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে একটা মারাত্মক দুঃসংবাদ। পাহাড়ের গায়ে ছোট্ট বাড়িটা দেখে মনে হচ্ছিল যেন ক্যালেন্ডারের ছবি। সামনে বাগান, তাতে ফুটে আছে নানা রঙের গোলাপ আর পাহাড়ি ফুল। আমাদের গাড়িটা বাগানের সামনে দাঁড়াতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন একজন। মাঝবয়সি ছোটখাটো চেহারার সেই ভদ্রলোক নিচু গলায় বললেন, “আপনারা কি কলকাতা থেকে আসছেন?” মাথা নেড়ে বললাম, “হ্যাঁ, আমার নাম পল্লব মিত্র। এটা মনবাহাদুরের বাড়ি? একটু ডেকে দেবেন ওকে?” ভদ্রলোক ডুকরে কেঁদে উঠলেন। ফোঁপাতে-ফোঁপাতে বললেন, “মনবাহাদুর আর নেই।’’ “মানে?” রীতিমতো চিত্‌কার করে উঠলাম আমি। মনে হল, এতবড় বিশাল পাহাড়টা লিফ্টের মতো দুলতে-দুলতে নেমে যাচ্ছে নীচের দিকে। তার মধ্যেই শুনতে পেলাম, “আমি পুনিত। মনবাহাদুরের দাদা।” ।। ৫ ।। এখন রাত একটা। আমি তাকিয়ে আছি মনিটরের দিকে। দিতি পাশের ঘরে ঘুমোচ্ছে গুনগুনকে নিয়ে। আমিও শুয়েছিলাম। কিন্তু ঘুম আসছে না একদম। বাধ্য হয়ে উঠে এসেছি ড্রয়িংরুমে। কম্পিউটার অন করে লগ ইন করেছি সোশ্যাল নেটওয়র্কিং সাইটে। এখানেই আপলোড করা আছে ‘অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ ফোল্ডারটা। নর্থ বেঙ্গল থেকে ফেরার পর অভ্যেসটা যেন আবার নতুন করে পেয়ে বসেছে আরও। এতদিন যে সাইটটা খোলার কথা মনেও থাকত না, এখন সেটাই আমায় সবসময় টানে। অতবড় একটা শোকের ধাক্কা নিয়েও পুনিত সেদিন অতিথি আপ্যায়নের কথা ভোলেননি। যেহেতু আমরা ওঁর ভাইয়ের অতিথি, তাই যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছিলেন আমাদের সঙ্গ দেওয়ার। বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। বসতে দিয়েছিলেন যত্ন করে। “এবার পো কলকাতা থেকে ফিরেছিল জ্বর গায়ে। ব্যাপারটা যে এরকম ভয়ংকর দিকে চলে যাবে ভাবতে পারিনি। লোকাল ডাক্তার দেখানো হয়েছিল। দু’দিনের মধ্যে সুস্থও হয়ে গিয়েছিল খানিকটা। তখনই ও বলেছিল আপনাদের কথা। বলেছিল, কলকাতা থেকে আমাদের এক গেস্ট ফ্যামিলি নিয়ে আসবে,” কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে পুনিত আবার বলেছিলেন, “সেদিন রাত থেকে আবার টেম্পারেচার বাড়তে থাকে। এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, একসময় পো জ্ঞান হারিয়ে ফ্যালে। সময় নষ্ট না করে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকি সঙ্গে-সঙ্গে। ওই রাতেই শিলিগুড়ির এক নামকরা নার্সিহোমে ভর্তি করি। কিন্তু কী লাভ হল?” পুনিতের গলাটা ভারী হয়ে আসছিল, “ডাক্তারকে চিকিত্‌সার সুযোগ দিল না। তার আগেই…” কথার মাঝে দিতির চোখ হঠাত্‌ চলে গিয়েছিল সেন্টার টেব্লের এককোণে পড়ে থাকা পেন ড্রাইভটায়। আমাকে খোঁচা মেরে বলেছিল, “ওই দ্যাখো, তোমার পেন ড্রাইভ।” শুনতে পেয়ে পুনিত ওটা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “এটা আপনার?” “না মানে…” আমি ইতস্তত করছিলাম। দিতি বলে ওঠে, “হ্যাঁ, পো নিয়ে এসেছিল।” পুনিত পেন ড্রাইভটা আমার হাতে দিয়ে বলেছিলেন, “নিয়ে যান এটা। যার প্রয়োজন ছিল সে-ই যখন নেই, কী হবে এটা রেখে?” তখনও জানতাম না পেন ড্রাইভটার মধ্যে কী ঘটে গিয়েছে! খেয়াল করলাম নর্থ বেঙ্গল থেকে ফেরার পর। অফিসে কাজ করতে-করতে হঠাত্‌ কী মনে করে পেন ড্রাইভটা লাগালাম কম্পিউটারে। মিন্ডার ফোটোটায় ক্লিক করতেই পরদা জুড়ে যে ছবিটা ভেসে উঠল, সেটা দেখে রীতিমতো চমকে উঠলাম আমি। আরে, এই ছবিটায় পো এল কোথা থেকে! এতে তো মিন্ডার সিঙ্গল ছবি ছিল! পাশের কিউবিক্ল থেকে পার্থ উঁকি মেরে বলল, “নর্থ বেঙ্গলের অ্যালবাম? কেমন ঘুরলে? কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়েছিলে, না কুয়াশায় ঢাকা ছিল?” পার্থ আরও কিছু বলছিল, কানে ঢুকছিল না আমার। কাঞ্চনজঙ্ঘা নয়, পুরো মনিটরটাই ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল কুয়াশায়। চমক আরও বাকি ছিল। বাড়ি ফিরে দিতিকে ব্যাপারটা বলতে ও বিশ্বাস করতে চায়নি। কম্পিউটার অন করে দেখাতে দিতির মুখ দিয়ে আর কথা সরল না। শুকনো গলায় বলল, “এটা কী করে সম্ভব? পেন ড্রাইভটা নিয়ে পো কি তা হলে ফোটোটা এডিট করার চেষ্টা করেছিল?” না, সে যুক্তিও টিকল না। সোশ্যাল নেটওয়র্কিং সাইটটা খুলে ‘অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ ফোল্ডারটাতেও দেখলাম, একই ছবি। পো-মিন্ডা পাশাপাশি! একই ফ্রেম থেকে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। দিতি আমার হাত চেপে ধরল। টের পেলাম, একটু-একটু কাঁপছে ওর হাত। ঢং-ঢং করে দু’টো ঘণ্টা পড়ল ঘড়িতে। আমি মনিটরের দিকেই তাকিয়ে আছি। অপেক্ষায় আছি, এই বুঝি কেউ চ্যাট করে জিজ্ঞেস করবে, ‘অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ ফোল্ডারের ছবিটা আপনি কোথায় পেলেন? এদের কি আপনি চেনেন? এদের সঙ্গে কী সম্পর্ক আপনার? বলব। সব বলব। সেই পাঁচবছর আগে থেকেই আবার শুরু করব। ঠিক যেমন শুরু হয়েছিল গল্পটা। (সমাপ্ত) --------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পেন ড্রাইভ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now