বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাশে যখন সুন্দরী মেয়ে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান asraf (০ পয়েন্ট)

X জুরাইন থেকে বাসে উঠেছি বসুন্ধরা বারিধারা আবাসিক এলাকায় যাওয়ার জন্য। বাসে তেমন ভীড় নাই। যাত্রাবাড়ী যাওয়ার পর অসম্ভব সুন্দরী একটা মেয়ে এসে আমার পাশের সীটে বসলো, যদি ও পেছনের সীটে খালি যায়গা ছিল। এমন সুন্দরী মেয়ে সচরাচর চোখে পড়ে না। হায় আল্লাহ! আজ কার মুখ দেখে বের হয়েছি!! নিজেকে হিরো হিরো মনে হতে লাগলো। মনে মনে আল্লাহ কে ধন্যবাদ দিলাম এমন সুন্দরী মেয়ে পাশে বসার জন্য ।মোবাইল বের করে মোবাইলের আয়নায় নিজের চেহারা দেখে নিলাম।নাহ! চেহারা ছবি একেবারে খারাপ না।মেয়েরা আগ্রহ নিয়ে বসার মতোই চেহারা। নিজেকে নিয়ে এক ধরনের গর্ব বোধ করলাম। গা ঝাড়া দিয়ে শার্টের কলার ঠিক করলাম।স্মার্ট হতে হবে না! সুন্দরী মেয়ে পাশে বসলে শরীরে আলাদা একটা ফিলিংস তৈরি হয়,আমারও হলো। আমি নড়েচড়ে বসলাম। আশেপাশের সীট থেকে দূ,একটা ছেলে আমার দিকে হিংসার দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। একজন আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে, মনে হলো সে আমাকে পারে তো গাড়ি থেকে ঘাড় ধরে নামিয়ে দেয়! দু,একজনের আচরণ দেখে মনে হলো সুন্দরী মেয়ের পাশে বসা আমার মতো একজন গাধার জন্য বিশাল অপরাধ! মেয়েটা বোধহয় চুলে শেম্পু করেছে, মিষ্টি একটা ঘ্রাণ নাকে এসে লাগছে। দুই কানে এয়ারফোন ঢুকানো, গান শুনছে বোধ হয়। আমার সামনের সীটে একজন বৃদ্ধ লোক বসা,সাথে তার দশ বছরের নাতি। নাতি আপন মনে খেলা করছে। বৃদ্ধ বারবার নাতিকে সাবধান করছে, বাইরে যেন হাত না দেয়। গাড়ি এখন পুরো ভর্তি।কমলাপুর রেলস্টেশনে কাছে এসে গাড়ি জ্যামে আটকে গেলো। অসহ্য গরমে যাত্রীদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। মেয়েটা পিছনে হেলান দিয়ে চোখ বুঝে আছে। হঠাৎ একটা তীব্র গন্ধ পাওয়া গেলো। এমন বিকট গন্ধ যে বমি এসে যাওয়ার অবস্হা।গন্ধ আর গরমে ভিতরে পরিবেশ নাজুক হয়ে গেলো। মেয়েটা একবার চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে আবার চোখ বুঝে গান শুনতে লাগলো। বুঝলাম অপকর্মটা এই মেয়েই করেছে। দুনিয়ার সবাই এই কাজটা করে থাকে, সুন্দরী মেয়ে বলে এই কাজ করতে পারবে না, এমন কথা কোথাও লেখা নাই। সুন্দরী মেয়েদের সব অপকর্ম ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে হয় এই বিশ্বাস নিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে দেখি, অনেকেই আমার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বুড়ো দাদু আমার দিকে একবার তাকায় আবার নাতির দিকে তাকায়।তবে সন্দেহের তীর আমার দিকে। মর জ্বালা! গাড়ি চলতে শুরু করেছে। আমি ফেসবুকে ঢু মারছি। রামপুরা টিভি ষ্টেশনে এসে আবার জ্যামে আটকে যেতে হলো। গরমে হা পিত্যেশ করছি, আবার সেই তীব্র গন্ধ নাকে এসে লাগলো। গন্ধ মেয়ের কাছ থেকেই আসছে।মনে মনে বললাম,এই মেয়ে বাসা থেকে কি খেয়ে বের হয়েছে রে বাপ! নাড়িভুড়ি উল্টে আসতে চাইছে! নিশ্চয় পেটে অসুখ আছে। একবার মনে হলো ধমক দিয়ে বলি,অপকর্ম যখন করবি,গাড়ি চালু অবস্থায় কর, জ্যামে আটকানোর পর করার দরকারটা কী? পরে মনে হলো, এই সব কাজ কবে কে কোথায় সময় ধরে করতে পেরেছে?তাছাড়া এই কাজের জন্য কারও জেল মামলা হয়েছে বলেও শুনিনি।কিছু বলতে গেলে উল্টো গন পিটুনি খাওয়ার সম্ভাবনা এক,শ পারসেন্ট!পৃথিবীর কোন ছেলেকেই বিশ্বাস করানো যাবে না যে কোন সুন্দরী মেয়ে এই কাজ করতে পারে! উল্টো আমাকেই ফেঁসে যেতে হবে। ছেলে হলে না হয় একটা ধমক দেওয়া যেতো। পৃথিবীর কারও শক্তি নাই এই কাজের জন্য কোন সুন্দরী মেয়েকে ধমক দেওয়ার।মেয়েটা চোখ বুঝে গান শুনেই যাচ্ছে। দূই একজন ওয়াক থু করে বাইরে থুথু ফেলে আমার দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে আছে। বুড়োকে যাতে কেউ সন্দেহ না করে এই জন্য সে সবচেয়ে কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবখানা এমন, শালা, অপকর্ম করে বয়সের কারনে তুই তো আমাকে ফাঁসাবি! বুঝলাম না,সবাই কেন আমাকেই সন্দেহ করছে? মেয়েটাকে কেউ সন্দেহ করছে না। তারা ধরেই নিয়েছে, পৃথিবী উল্টে গেলেও এই কাজ সুন্দরী মেয়ে করতে পারে না! ভাবখানা এমন,হারামজাদা! তোর চেহারা দেখেই বুঝেছি আসল কালপ্রিট কে!! ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে এসে মেয়েটা নেমে গেলো। নামার আগে আমার দিকে তাকিয়ে এমন একটা চোখের ভংগী করে গেল,যার অর্থ দাড়ায়,ছিঃ! আপনি এতো খারাপ!! মেয়ের চোখের ইশারা অনেকেই পড়ে ফেললো। বুড়ো আরও কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। নাতি বারবার বাইরে থুথু ফেলতে লাগলো। এক মধ্য বয়স্ক লোক বললো, ভাইজান কি মরা গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে এসেছেন নাকি? ওয়াক থু! পাশের ছেলেটা বললো, আবার মেয়েদের পাশে বসেছে। শালা বোধ হয় বাথরুম সেরে বের হয় নাই! কলেজে পড়ুয়া একটা ছেলে বললো, উফ,পুরো গাড়ি গন্ধে ভরে গেছে। কেন যে এসব ফালতু লোক গাড়িতে উঠে! আমি মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, হায় সুন্দরী!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৫২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পাশে যখন সুন্দরী মেয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now