বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ড্রাগনের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে নীল বিদ্যুৎ ছিটকে বেরুল। এর শরীর আর সেখানে লেগে থাকা পিঁপড়াগুলোর মধ্য দিয়ে বয়ে গেল বিপুল পরিমাণে বিদ্যুৎ। কিছু পিঁপড়া ছিটকে দুরে গিয়ে পড়ল। আর বাকিগুলো পুড়ে কয়লা হয়ে খসে পড়ল মাটিতে। ওগুলোর পা নড়ল কিছুক্ষণ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দেখা গেল আশেপাশে কোন পিঁপড়া নেই। তারপরও যেগুলো বেঁচে গেছে ওগুলো পিছু হটে তাদের ভাঙা পর্বতে ছুট লাগাল। কেননা সেগুলোর পশ্চাৎদেশে বিদ্যুতের খোচা দিতে ড্রাগনটা খুব আগ্রহী ছিল।
ড্রাগন বিজয়ের একটা হুংকার ছাড়ল। এরপর আচমকা এর জ্বলজ্বলে চোখ তাক করল আমাদের দিকে।
"এখন", বেকেনডর্ফ বলে উঠল, "আমরা দৌড় দিব।"
এইবার আমরা 'হেফাস্টাসের জন্য!' বলে চেচালাম না। বরং সবাই মিলে চিৎকার করে বললাম, "বাঁআচাআওও!"
ড্রাগনটা ধাওয়া করল আমাদেরকে। আমাদের মাথার ঊপর দিয়ে ছুড়ে মারল আগুন আর বর্জ্র। ড্রাগনটা তার মধুর সময় পার করছে।
"এটাকে কিভাবে থামাতে হয়?" অ্যানাবেথ জিজ্ঞেস করল।
বেকেনডর্ফের পা এখন ভালোই কাজ করছে। পা ভাল করার জন্য বিশাল দানবের ধাওয়া খাওয়ার চেয়ে ভাল কিছু আর সম্ভবত নেই। সে জোরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে বলল, "এটাকে চালু করা উচিৎ হয় নি তোমার। এগুলো অস্থির প্রকৃতির। অটোমেটনগুলো কিছু বছর পরেই পুরো বন্য হয়ে পড়ে।"
"জেনে ভাল লাগল", আমি চেচালাম, "তো তুমি এটাকে কিভাবে বন্ধ করবে?"
বেকেনডর্ফ মরিয়া দৃষ্টিতে চারপাশে তাকাল। "ঐ যে ওখানে!"
আমি বিভ্রান্ত বোধ করলাম। এরপর তাকালাম সামনের দিকে। একটা বিশালাকার পাথর বেরিয়ে আছে মাটি থেকে। গাছের চুড়া পর্যন্ত উঁচু। বেরিয়ে থাকা অংশটা উঁচু স্কেটবোর্ডের কিনারার মত এবং সেটা ক্রমান্বয়ে অন্যদিকে ঢালু হয়ে গেছে।
"তোমরা চুড়াটার নিচে চলে যাও। ড্রাগনটাকে বিভ্রান্ত করে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা কর", বেকেনডর্ফ বলল।
"তুমি কি করবে?"জিজ্ঞেস করল সিলেনা।
"সেটা সময় হলেই দেখবে। এখন যাও!"
বেকেনডর্ফ একটা গাছের আড়ালে হারিয়ে গেল। আর আমি ঘুরে ড্রাগনের দিকে ফিরে চিৎকার করে উঠলাম, "ঐ টিকটিকি! তোর মুখে গ্যাসোলিনের গন্ধ।"
ড্রাগন তার নাক দিয়ে ফোস করে কালো ধোয়া ছাড়ল। এরপর মাটি কাঁপিয়ে তেড়ে আসল আমার দিকে।
"চল!" অ্যানাবেথ আমার হাত ধরে টান দিল। আমরা দৌড়ে গেলাম বিশাল পাথরটার নিচে। ড্রাগনটাও অনুসরণ করল।
চুড়ার উঁচু অংশটার নিচে দাঁড়িয়ে অ্যানাবেথ বলল, "ওটাকে এখানেই আটকে রাখতে হবে।"
অতঃপর আমরা তিনজনই তলোয়ার নিয়ে প্রস্তুত হলাম। ড্রাগনটা আমাদের কাছাকাছি পৌছে থেমে গেল অনেকটা, জোর করেই। সে তার মাথাটা ঝাকাল। সে সম্ভবত বিশ্বাস করতে পারছে না আমরা তার সাথে যুদ্ধ করার মত বোকামী করছি। ড্রাগনটা যেহেতু আমাদেরকে ঘিরে ধরেছে, তাই এখন সে হাজারটা উপায়ে আমাদেরকে মারতে পারবে। সম্ভবত কোন উপায়ে কাজ সারা যায় সেই সিদ্ধান্তটাই সে নিতে পারছে না।
অবশেষে ড্রাগনটা আগুনের বিষ্ফোরন ছুড়ে দিল। আমরা লাফিয়ে সরে গেলাম। যেখানটায় ছিলাম সেখানটায় ছাইয়ের গর্ত হয়ে গেছে।
তখনই বেকেনডর্ফকে পাথরের চূড়াটার উপরে দেখতে পেলাম। সাথে সাথে বুঝে গেলাম সে কি করতে চাইছে। তার নিখুঁত একটা লক্ষ্যভেদের প্রয়োজন। যেভাবেই হোক ড্রাগনের মনোযোগটা রাখতে হবে আমাদের দিকে।
"ইয়ায়াহহ!" আমি আক্রমণ করলাম। আমার তলোয়ার রিপটাইড গিয়ে আঘাত করল ড্রাগনের নখরে। এর মাথা নিচে আমার দিকে ঘুরে গেল। তাকে রাগন্বিত হবার পরিবর্তে দ্বিধান্বিত বলেই বেশি মনে হচ্ছে। যেন বলছে তুমি আমার আঙ্গুল কাটতে চাইছ কেন?
অবশ্য দ্রুতই তার দ্বিধান্বিত ভাব কেটে গেল। সে মুখটা খুলে বের করল তার হাজারটা ধারালো দাঁত।
"পার্সি!" অ্যানাবেথের সতর্কতামূলক কন্ঠ শুনতে পেলাম। আমি নড়লাম না জায়গা ছেড়ে। "দাঁড়াও আরেক সেকেন্ড...."
"পার্সি!"
ড্রাগনটা আমাকে আঘাত করার ঠিক মুহুর্ত আগে বেকেনডর্ফ পাথর থেকে লাফিয়ে পড়ল। একদম ড্রাগনের ঘাড় লক্ষ্য করে। ড্রাগনটা চমকে গিয়ে হেলে পড়ল পিছনে। এরপর আগুন ছুড়ে মারল। চেষ্টা করল বেকেনডর্ফকে ছুড়ে ফেলতে। কিন্তু সে কাঊবয়দের মত আকড়ে রাখল ড্রাগনটার কাধ। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখলাম সে ওভাবেই ড্রাগনের মাথার নিচের একটা প্যানেল খুলে ফেলল। শুধু তাই না, তারগুলোও দিল কেটে।
সাথে সাথেই ড্রাগনটা জমে গেল যেন। নিভে গেল এর চোখগুলোও। হঠাৎই ভয়ংকর একটা দানব পরিণত হল হাস্যকর একটা মূর্তিতে। মুখটা হা করা আকাশের দিকে। আর বিকট দাঁতগুলো দেখা যাচ্ছে মুখ ভেদ করে।
বেকেনডর্ফ ড্রাগনের ঘাড় থেকে পিছলে নামল। এর লেজের কাছে গিয়ে বসে পড়ল ধপাস করে। গভীরভাবে হাপাচ্ছে সে।
"চার্লি!" সিলেনা দৌড়ে গেল তার দিকে। গালে জোরালো একটা চুমু দিয়ে বসল। "তুমি ড্রাগনটাকে বাঁচিয়েছ!"
অ্যানাবেথ এগিয়ে আসল আমার দিকে। ঘাড়ে চাপ দিয়ে জিজ্ঞেস করল, "সীউইড ব্রেইন, ঠিক আছ তুমি?"
"মনে হচ্ছে.....ভালই আছি।" অবশ্য আমি ভিন্ন জিনিস ভাবছিলাম। আরেকটু হলেই ড্রাগনের দাঁতের নিচে টুকরা টুকরা হয়ে যেতে বসেছিলাম আমি।
"দারুণ দেখিয়েছ তুমি।" অ্যানাবেথ হেসে বলল। ওর হাসিটা স্টুপিড ড্রাগনটার চেয়ে সহস্রগুণ চমৎকার। উষ্ণতায় ভরা।
"তুমিও", আমি কাপা কন্ঠে বললাম। "তো...এখন আমরা অটোমেটনটা দিয়ে কি করব?"
বেকেনডর্ফ তার কপালটা মুছল। সিলেনা এখনো গভীরভাবে তার কাটা ছেড়া পরীক্ষা করে দেখছে। এই মনোযোগে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলছে বেচারা বেকেনডর্ফ। অন্যদিকে ঠিক মনোযোগ দিতে পারছে না।
"আমরা...আহ...জানি নাহ", সে কোনভাবে বলল, "আমরা এটাকে হয়তো ঠিক করে ক্যাম্প গার্ড দেয়ায় ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু তাতে বহু মাস লেগে যেতে পারে।"
"হয়তো একটা চেষ্টা করা যাবে," আমি বললাম। আমি অন্য ব্যাপারে ভাবছিলাম। টাইটান লর্ড ক্রনস পুণরিজ্জীবিত হয়ে পৃথিবী দখল করতে চাইছে। এই ব্রোঞ্চ ড্রাগনটা ক্রনসের বিরূদ্ধে যুদ্ধে যদি ব্যবহার করা যায়...। তার সৈন্যরা ক্যাম্প আক্রমণ করার আগে অন্তত দ্বিতীয়বার ভাববে। অন্য দিকে, ড্রাগনটা যদি বন্য হয়ে আবার ক্যাম্পারদেরকেই আক্রমণ করে বসে, তবে বাজে একটা অবস্থার সৃষ্টি হবে। "তোমরা কি পিপীলিকা পর্বতের গুপ্তধনগুলো দেখেছ? জাদু অস্ত্র? বর্মগুলো? এগুলো কিন্তু আমাদের ব্যাপক কাজে আসতে পারে", বলল বেকেনডর্ফ।
"আর ব্রেসলেটগুলোও", সিলেনা স্বপ্নালু কন্ঠে বলল, "নেকলেসগুলোও।"
টানেলগুলোর গন্ধের কথা মনে হতেই আমি আতঙ্ক বোধ করলাম। "আমার মনে হয় ওটা অন্য কোন সময়ের অ্যাডভেঞ্চার। একদল ডেমিগড সৈন্য ছাড়া গুপ্তধনগুলোর কাছাকাছিও যাওয়া যাবে না।"
"হয়তো", বেকেনডর্ফ বলল। "কিন্তু গুপ্তধনগুলো সত্যিই খুব দারুণ।"
স্থবির ড্রাগনটাকে ভালভাবে পরীক্ষা করল সিলেনা। "চার্লি এটা ছিল আমার দেখা সবচেয়ে সাহসী কাজ। তুমি ড্রাগনটার উপর স্রেফ লাফিয়ে পড়লে।"
বেকেনডর্ফ ঢোক গিলল একটা। "ও হ্যাঁ। তো....তুমি কি আতশবাজি উৎসবে আমার সাথে যাবে?"
সিলেনার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। "অবশ্যই যাব, ঢেঙ্গা ছেলে! আমি ভেবেছিলাম তুমি শেষ পর্যন্ত বলবেই না।"
বেকেনডর্ফ হঠাৎ করেই চাঙা হয়ে উঠল যেন। "তাহলে চল এবার ফেরা যাক। ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ নিশ্চয়ই শেষ হয়ে গেছে ইতোমধ্যে।"
.
শেষ পর্যন্ত আমাকে যেতে হল খালি পায়ে। এসিড আমার জুতো পুরো ফুটো করে দিয়েছে। জুতাটা ছুড়ে ফেলার পর খেয়াল করলাম এসিড লেগে গেছে আমার মোজাতেও। পাটাও ফুলে গেছে লাল হয়ে। অতঃপর আমাকে অ্যানাবেথের উপর ভর দিয়ে খুড়িয়ে যেতে হল।
বেকেনডর্ফ আর সিলেনা হাত ধরাধরি করে আমাদের সামনে সামনে হাঁটছে। আমরাও তাদেরকে কিছুটা জায়গা দিয়েছি।
অ্যানাবেথের কাঁধে ভর দিয়ে ওদেরকে দেখে আমি কেমন অপ্রস্তুত বোধ করছি। আমি মনে মনে এত সাহসী হবার জন্য বেকেনডর্ফকে গালি দিলাম। মাত্র তিন বছর পর অবশেষে সে সিলেনা বোরগার্ডকে ডেটে যাবার প্রস্তাব দিতে পেরেছে! এত সাহসী হওয়াটা একদমই ন্যায়সঙ্গত না!
অ্যানাবেথ হাঁটতে হাঁটতে বলল, "ওটা আমার দেখা সবচেয়ে সাহসী ব্যাপার ছিল না।"
আমি চমকে তাকালাম। ও কি আমার চিন্তা পড়তে পারে নাকি? "মম....মানে?"
অগভীর খাড়িটা পেরোনোর জন্য অ্যানাবেথ শক্ত করে আমার হাত ধরল। "বেকেনডর্ফ যেন ঠিকঠাক লাফ দিতে পারে সেজন্য তুমি ড্রাগনটার সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলে। সেটা ছিল সাহসী।"
"কিংবা ছিল খুবই স্টুপিড।"
"পার্সি, কাজটা সত্যিই সাহসী ছিল। প্রশংসাটা নাও। এটা কি খুব কঠিন?"
আমি ওর দিকে তাকালাম। আমার চোখ আটকে গেল ওর চোখে। আমাদের মধ্যকার দুরত্ব বড়জোর দু'ইঞ্চি।
আমার হৃৎপিন্ডে কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। যেন লাফিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
"তো....মনে হচ্ছে সিলেনা আর চার্লি আতশবাজিতে একসাথে যাচ্ছে।"
"আমারও তাই মনে হয়", অ্যানাবেথ সম্মত হল।
"হ্যাঁ", আমি বললাম, "মমম....তো...."
জানি না কি বলতাম আমি। কিন্তু ঠিক ঐ মুহুর্তেই এথেনা কেবিনের অ্যানাবেথের তিন সহোদর তলোয়ার বাগিয়ে ছিটকে বেরিয়ে আসল ঝোপ থেকে। আমাদেরকে দেখে তারা দাঁত বের করে হাসা শুরু করল।
"অ্যানাবেথ!" তাদের একজন বলল। "দারুণ! এবার এ দুটোকে জেলে নেয়া যাক।"
আমি তার দিকে হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকালাম। "খেলা শেষ হয় নি এখনও?"
এথেনা ক্যাম্পাররা আরেকপ্রস্থ হাসি দিল। "এখনও না....তবে খুব শিঘ্রই হবে। যেহেতু তোমাদের দুজনকে ধরে ফেলেছি।"
"আহা", বেকেনডর্ফ বিদ্রোহী সুরে বলল, "আমরা অন্য ঝামেলায় পড়ে গিয়েছিলাম। একটা ড্রাগন আর একটা পুরো ঢিবির পিঁপড়া আমাদের উপর চড়াও হয়েছিল।"
"আহ-হাহ", আরেকজন এথেনাপুত্র নিরস কন্ঠে বলল। "গুড জব, অ্যানাবেথ। তাদেরকে বিভ্রান্ত করার বুদ্ধিটা চমৎকার কাজে লেগেছে। তুমি কি চাও এদেরকে এখান থেকে নিয়ে যাই?"
অ্যানাবেথ আমার কাছ থেকে সরে গেল। ভেবেছিলাম সে আমাদের পক্ষে কিছু বলবে। অন্তত বর্ডার পর্যন্ত মুক্তভাবে যেতে দিবে। কিন্তু সে তার ছুরিটা আমার দিকে তাক করে নিষ্ঠুর একটা হাসি দিল।
"নাহ। সিলেনা আর আমিই এটা সামলাতে পারব। চল বন্দীরা। পা চালাও", বলল সে।
আমি হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকালাম ওর দিকে। "সব তোমার প্ল্যান? আমাদেরকে খেলার বাইরে রাখার জন্য সম্পূর্ণটাই তোমার ষড়যন্ত্র?"
"পার্সি, সিরিয়াসলি তোমার মনে হয় এটা আমার প্ল্যান? ড্রাগন, পিঁপড়া....তোমার কি মনে হয় সবগুলোকেই আমি সময়মত সামলাতে পারব?"
অ্যানাবেথ ঠিকই বলেছে। কিন্তু এটা অ্যানাবেথ। তার বিষয়ে কিছু বলা যায় না। সে সিলেনার সাথে দৃষ্টি বিনিময় করল। আমি বলতে পারি তার উভয়ই হাসি আটকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছে।
"ইউ...ইউ লিটল..." আমি বলতে শুরু করলাম। কিন্তু হায়! ওকে অপমান করার জন্য নিখুঁত কোন নাম নেই।
জেলে যাবার সম্পূর্ণ সময়টাই আমি প্রতিবাদ করছিলাম। বেকেনডর্ফও ব্যতিক্রম ছিল না।
এত কিছু ঘটার পর আমাদের সাথে এই বন্দীর আচরণটা একদমই ন্যায়সঙ্গত না।
কিন্তু অ্যানাবেথ শুধু মৃদু একটা হাসি দিয়ে আমাদেরকে কারাগারে ভরে দিল। তবে সামনের দিকে যাবার সময় কি মনে করে থেমে গেল সে। এরপর পিছনে ফিরে তাকাল আমার দিকে। "তো আতশবাজিতে দেখা হচ্ছে?"
সে এমনকি আমার উত্তরের জন্যও অপেক্ষা করল না। খেলা শেষ করার উদ্দেশ্য নিয়ে ঢুকে পড়ল বনে।
আমি বেকেনডর্ফের দিকে হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকালাম। "ও কি এইমাত্র আমাকে....আতশবাজিতে ওর সাথে যেতে বলল?"
সে বিতৃষ্ণভাবে মাথা নাড়ল। "মেয়েদেরকে বোঝা মুশকিল। এর চেয়ে একটা তারছেড়া ড্রাগন দাও। তারও নাড়ি নক্ষত্র বলে দেয়া যাবে।"
এভাবেই শেষ পর্যন্ত উদাস মুখে বন্দীখানায় বসে রইলাম আমরা। আর ওদিকে, মেয়েরা খেলায় জিতে গেল।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now